ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

পরবাস

এনআইডি-পাসপোর্টের তথ্যের গরমিলে গ্রিসপ্রবাসীদের ভোগান্তি

এনআইডি-পাসপোর্টের তথ্যের গরমিলে গ্রিসপ্রবাসীদের ভোগান্তি

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টে থাকা তথ্যের গরমিলের কারণে নানা ধরনের জটিলতায় পড়ছেন গ্রিসে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি। বিশেষ করে বিদেশ যাওয়ার সময় ভুল বা ভিন্ন নাম, জন্মতারিখ কিংবা জন্মসাল দিয়ে তৈরি করা পাসপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে রেসিডেন্স পারমিটসহ বিভিন্ন নথি তৈরি হওয়ায় দেশে ফিরে সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।হবিগঞ্জের মশিউর রহমান মুমিন তাঁদেরই একজন। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, জন্ম ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে। তবে বিদেশ যাওয়ার সময় এক দালালের মাধ্যমে তাঁর নামে তৈরি করা পাসপোর্টে নাম দেওয়া হয় ‘মশিউর মিয়া’ এবং জন্মসাল উল্লেখ করা হয় ১৯৯৯।ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন পথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যান মশিউর। পরে তাঁর রেসিডেন্স পারমিটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথিও ওই পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তৈরি হয়। ফলে বিদেশে থাকার সময় এনআইডির তথ্যের প্রয়োজন হয়নি।সম্প্রতি দেশে ফিরে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গিয়ে নতুন সমস্যায় পড়েন তিনি। লাইসেন্সের জন্য এনআইডি প্রয়োজন হওয়ায় আবেদন করতে গিয়ে দেখা যায়, এনআইডিতে থাকা নাম ও জন্মসালের সঙ্গে বিদেশে ব্যবহৃত পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথির তথ্যের মিল নেই। এ কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে পারেননি তিনি।পরে বিদেশে ব্যবহৃত পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথির তথ্য অনুযায়ী এনআইডি সংশোধনের আবেদন করেন মশিউর। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর সমস্যার সমাধান হয়নি।মশিউর রহমান মুমিন বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার সময় দালালের মাধ্যমে আমার পাসপোর্টে নাম ও জন্মসালের তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছিল। ওই পাসপোর্ট দিয়েই গ্রিসে রেসিডেন্স পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করেছি। এখন দেশে এসে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গিয়েও সমস্যায় পড়েছি। এনআইডি সংশোধনের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু দীর্ঘদিনেও সমাধান হয়নি।’তিনি বলেন, তাঁর মতো যাঁরা একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন, তাঁদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, দেশে ফিরে ই-পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়েও একই ধরনের সমস্যায় পড়ছেন অনেক প্রবাসী। বিদেশে ব্যবহৃত পাসপোর্টে থাকা নাম, জন্মতারিখ বা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে এনআইডির তথ্যের অমিল থাকায় অনেকের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনও আটকে যাচ্ছে।ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার সময় ব্যবহৃত পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তাঁর অন্যান্য নথি তৈরি হয়েছে। দেশে ফিরে পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়ে এনআইডির তথ্যের সঙ্গে গরমিল ধরা পড়ে। এতে নবায়ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।রফিকুল ইসলামের দাবি, বিদেশে বৈধভাবে ব্যবহৃত নথিপত্র যাচাই করে এ ধরনের সমস্যার দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। বিদেশে তৈরি হওয়া বৈধ নথির তথ্যের ভিত্তিতে দেশে এনআইডি সংশোধনের অন্তত একবার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।গ্রিসের কমিউনিটি নেতা জাহিদ ইসলাম বলেন, বিদেশে যাওয়ার সময় অনেক প্রবাসী দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ভুল নাম, বয়স কিংবা জন্মতারিখের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে চলে যান। পরে ওই তথ্যের ভিত্তিতে রেসিডেন্স পারমিট, ব্যাংক হিসাব, চাকরির কাগজপত্রসহ বিভিন্ন বৈধ নথি তৈরি হয়।তিনি বলেন, দেশে ফিরে এনআইডির তথ্যের সঙ্গে এসব নথির গরমিল হলে প্রবাসীরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েন। প্রকৃত পরিচয় ও বিদেশে ব্যবহৃত বৈধ নথিপত্র যাচাই করে প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের জন্য বিশেষ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।প্রবাসীরা জানান, বিদেশে থাকার সময় এনআইডির প্রয়োজন না হলেও দেশে ফিরে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব খোলা, জমি কেনাবেচা, করসংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা নিতে এনআইডি প্রয়োজন হয়। তখনই তথ্যের গরমিলের কারণে তাঁরা নানা বিড়ম্বনায় পড়েন।তাঁদের দাবি, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের বৈধ পাসপোর্ট, রেসিডেন্স পারমিট ও অন্যান্য সরকারি নথিপত্র যাচাই করে বিশেষ ব্যবস্থায় এনআইডির তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হোক। পাশাপাশি প্রকৃত পরিচয় যাচাইয়ের পর সংশোধনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ব্যবস্থা চালুরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রবাসীদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীদের জন্য এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করা প্রয়োজন। বিদেশের বৈধ নথিপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনআইডি সংশোধনের সুযোগ দিতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।

স্পেনে সাইকেল গ্যারেজে আগুন, প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে সাইকেল গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে মো. ইউসুফ হাসান আলিফ (২৬) নামে এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে পালোস দে লা ফ্রন্তেরা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি সাইকেল গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।নিহত ইউসুফ হাসান আলিফ স্পেনে ফুড ডেলিভারির কাজ করতেন। তাঁর জন্ম ঢাকায়। তাঁর বাবার নাম আব্দুল মোতালিব। অগ্নিকাণ্ডের পর তাঁর মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলে হঠাৎ ওই সাইকেল গ্যারেজে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গ্যারেজের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে গ্যারেজের ভেতরে আটকা পড়ায় ইউসুফকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, গ্যারেজে রাখা বৈদ্যুতিক সাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরণ অথবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং গ্যারেজটিতে কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্পেনে সাইকেল গ্যারেজে আগুন, প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের

অবৈধ অভিবাসীদের সুখবর দিল ফ্রান্স

উল্লেখ্য, এবারই প্রথম আবেদনকারীরা নিয়োগকর্তার সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়াই নিজে থেকে আবেদন করতে পারবেন। ভাষা জ্ঞান এখন বড় চ্যালেঞ্জ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পাস হওয়া নতুন অভিবাসন আইনে ভাষা জ্ঞান সংক্রান্ত শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে। বহু বছরের বাসস্থান কার্ড পেতে এখন B1 স্তরের (পূর্বে A2) ফরাসি ভাষা দক্ষতা প্রয়োজন। আর ১০ বছরের রেসিডেন্ট কার্ড ও নাগরিকত্ব পেতেও ভাষার উচ্চতর স্তর (B1 ও B2) আবশ্যক করা হয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ ফ্রান্সে বসবাসরত বহু বাংলাদেশি নাগরিক বর্তমানে নির্মাণ, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিচ্ছন্নতা খাতে কাজ করছেন। এ খাতগুলো নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, তারা বৈধতার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে, ভাষা জ্ঞান ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করাও হবে গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমমন্ত্রী আস্ত্রিদ পানোসিঅঁ-বুভে বলেন, ‘এ তালিকাটি শ্রমবাজারের চাহিদা, মানবিক বাস্তবতা ও জাতীয় স্বার্থকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।’ চাকরি বিষয়ক সরকারি সংস্থা ফ্রঁন্স ত্রাবাই পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৫ সালে কেবল হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতেই তিন লাখ ৩৬ হাজার পদ শূন্য থাকবে, যার অনেকগুলো পূরণে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। ফরাসি ট্রেড ইউনিয়ন সিজিটির মতে, তালিকাটি রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতিফলন হলেও বাস্তব শ্রমবাজার চাহিদা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

অবৈধ অভিবাসীদের সুখবর দিল ফ্রান্স

২১ দিন পর নিথর হয়ে ফিরলেন চঞ্চল

ভাই ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, মঙ্গলবার ভোর রাতে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থেকে কোন ঝামেলা ছাড়ায় লাশ পেয়েছি। তার পিতা ভ্রাম্যামাণ সবজি ব্যবসায়ী। তবে ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা সাথী বেগম।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে শ্রমিকের ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়ায় যান চঞ্চল। সেখানে একটি কোম্পানিতে ভেকু মেশিন চালকের সহকারী (হেলপার) হিসেবে কাজ করতেন। দুই বছরের কঠোর পরিশ্রমে ঋণের টাকা শোধ করেন। আশার মুখ দেখছিল পরিবারটি। এর মাঝেই প্রবাসে লাশ হতে হলো চঞ্চলকে।নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম জফির বলেন, ‘মৃত্যুর আগের দিন রাতেও ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল। ওই সময় সবার কাছে দোয়া চাইছে। এরপর আর কথা হয়নি। ২১ দিন পর ছেলের জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।

২১ দিন পর নিথর হয়ে ফিরলেন চঞ্চল

ফ্রান্সে বাংলাদেশি পরিচয়ে ভারতীয়দের আবেদন, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন

ভুয়া নথিপত্র ও সাজানো পরিচয়ে তারা নিজেদের রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করে মানবিক আশ্রয় দাবি করছেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ প্রবণতা শুধু আইনি নয়, মানবিক ও কূটনৈতিক দিক থেকেও উদ্বেগজনক।ন্যাশনাল কোর্ট অব অ্যাসাইলাম (CNDA) ও ফরাসি গণমাধ্যম লো মন্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার বাসিন্দা বিষ্ণজিৎ দাস ও তার স্ত্রী রিঙ্কু দাস ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন বাংলাদেশি পরিচয়ে। তারা একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে ভুয়া জন্মসনদ, নাগরিকত্ব সনদ ও অন্য নথিপত্র সংগ্রহ করে প্যারিসে পাড়ি জমান। OFPRA (Office Français de Protection des Réfugiés et Apatrides) আশ্রয় মঞ্জুর করে।

ফ্রান্সে বাংলাদেশি পরিচয়ে ভারতীয়দের আবেদন, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন

স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে এক হাজার করে ডলার পাচ্ছেন অভিবাসীরা

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডিএচএস এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলছে, এটি একটি স্বেচ্ছামূলক চার্টার্ড বিমান ছিল।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিজ নিজ দেশে ফেরা অবৈধ অভিবাসীরা সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহার করেছে। তারা ভ্রমণ সহায়তা, এক হাজার করে ডলার ও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সম্ভাবনাও বজায় রেখেছেন।’গত ৫ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের ভ্রমণ ব্যয় বহনসহ এক হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের ঘোষিত এ কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাওয়া অবৈধ অভিবাসীদের প্রায় তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। এ সময় দেওয়া হয় তাদের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্য।

স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে এক হাজার করে ডলার পাচ্ছেন অভিবাসীরা