ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

আবারও রোগী ও স্বজনদের ভিড় বেড়েছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আবারও রোগী ও স্বজনদের ভিড় বেড়েছে। জরুরি বিভাগ থেকে বহির্বিভাগ- হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে সকাল থেকেই রোগী ও স্বজনদের উপস্থিতি দেখা গেছে। টিকিট কাউন্টার, প্রসূতি ও শিশু বিভাগ, ডায়ালাইসিস ইউনিটসহ বিভিন্ন স্থানে ছিল অপেক্ষমাণ মানুষের দীর্ঘ সারি।ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় ৪৭ দিন হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রমে ছন্দপতন হয়েছিল। লাইসেন্স পুনর্বহালের পর এখন আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে হাসপাতালটি।মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, লাইসেন্স পুনর্বহালের ৩৬তম দিনে সকাল থেকেই হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে রোগীর চাপ রয়েছে। রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নবজাতক, প্রসূতি ও অন্যান্য রোগে চিকিৎসা নিতে মানুষ এখানে আসছেন।রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা পাওয়া এবং চিকিৎসক-নার্সদের পরিচর্যার কারণে হাসপাতালটির ওপর তাঁদের এখনো আস্থা রয়েছে। বিশেষ করে স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন।তবে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতালটির হারানো আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে সেবার মান ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অনেকে।অবকাঠামো ও সেবায় পরিবর্তনের দাবিহাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইসেন্স পুনর্বহালের পর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী অবকাঠামো ও সেবাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থা অনুসরণ করে আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হচ্ছে।চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। হাসপাতালটিতে মোট শয্যা ৭০০টি। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি বিনামূল্যের। শিশু ওয়ার্ডে বিনামূল্যের শয্যা রয়েছে ৬৬টি। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য রয়েছে আরও ১৫টি বিশেষ ফ্রি বেড।এ ছাড়া ১০১ শয্যার এনআইসিইউ রয়েছে। গর্ভবতী সেবাকেন্দ্রে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ জন গর্ভবতী নারী অ্যান্টিনেটাল কেয়ার নিতে আসেন। চেকআপ ও প্রসবের আগে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয় এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে হাসপাতালে সন্তান প্রসবে উৎসাহিত করা হয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ান টু ওয়ান’ সেবায় একজন মায়ের জন্য একজন মিডওয়াইফ দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি স্বাভাবিক প্রসব এবং ৬০ থেকে ৬৫টি সিজারিয়ান প্রসব হয়। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীরাও এখানে প্রসবসেবা নেন।কম খরচের চিকিৎসায় আস্থাঅলাভজনক প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ১৯৯৭ সাল থেকে মানুষের সাধ্যের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে মেডিসিন, জেনারেল সার্জারি, এন্ডোক্রাইনোলজি, চক্ষু, কার্ডিওলজি, নাক-কান-গলা, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, অর্থোপেডিক্স, হেপাটোলজি, শিশু সার্জারি, ডায়াবেটোলজি, নেফ্রোলজি, নিউরোমেডিসিন, ইউরোলজি, মনোরোগ, রেডিওলজি ও ইমেজিংসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সেবা দেন।স্বল্প খরচে চিকিৎসার পাশাপাশি ঢাকায় ৩৮০ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালু রয়েছে। গরিব ও অসহায় রোগীদের জন্য বিনামূল্যে এবং নামমাত্র মূল্যে বিভিন্ন সেবাও সারা বছর চালু থাকে।যে ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর যে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সরেজমিনে সেখানে পরিবর্তনের চিত্র দেখা গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে ওয়ার্ডটিতে ‘পজিটিভ এয়ার প্রেসার’ বা পজিটিভ অক্সিজেন প্রেসারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়ার পাশাপাশি ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে।শিশু ওয়ার্ডের বাইরে কেরানীগঞ্জ থেকে আসা হাবিব হোসেন বলেন, তাঁর প্রথম সন্তান এই হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবে এবং দ্বিতীয় সন্তান চার দিন আগে সিজারের মাধ্যমে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ‘কম খরচে ভালো সেবা পেয়েছি।’আদ্-দ্বীন হাসপাতালসমূহের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল একটি অলাভজনক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ঢাকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৭০০ বেডের মধ্যে ২০০টি বেড বিনামূল্যের। ফ্রি বেডের রোগীদের থাকা-খাওয়া সবকিছুই বিনামূল্যে।’তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন, আলো-বাতাস চলাচল এবং অক্সিজেনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ নার্স ও কর্মীদের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। স্বল্প খরচে মানসম্মত ও উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন।ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর লাইসেন্স বাতিলগত ২৭ মে সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে।সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং দায়িত্বে থাকা নার্স ও স্টাফদের চরম অবহেলার কথা উল্লেখ করে।পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৫ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।৭ জুন মধ্যস্থতাকারী আইনজীবী শিশির মনির জানান, মৃত ছয় নবজাতকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দিতে সম্মত হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আইন পর্যালোচনার পর ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। প্রায় ৪৭ দিন চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ২৭ জুলাই তিনটি শর্তে হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহাল করে সেবা চালুর অনুমতি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট আইন ও লাইসেন্সের নির্দেশনা মেনে চলা, দ্রুত ডিউটি ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ এবং শর্ত ভঙ্গ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

আবারও রোগী ও স্বজনদের ভিড় বেড়েছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে

বাংলাদেশকে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকরণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।সোমবার সকালে পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ মডেল হস্তান্তর করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সহায়তার মধ্যে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখা ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তার সরঞ্জাম, গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপিউটিক ফুড এবং টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে এফএইচআই ৩৬০, ঝিপাইগো, জেএসআই ও ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ সহায়তার আওতায় রাখা হয়েছে।মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। এসব সহায়তার মূল লক্ষ্য সংক্রামক রোগ ও তা প্রতিরোধ করা হলেও মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য খাতেও কিছু সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, বাস্তবভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ সহায়তা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাতের উদ্ভাবন এগিয়ে নিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়নেও এটি সহায়ক হবে। মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তেঁতুলিয়া উপজেলার চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা ও মহানন্দা নদী পরিদর্শন করেন। পরে পঞ্চগড় জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে পঞ্চগড় সার্কিট হাউসে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁর আমন্ত্রণে দুপুরের খাবারেও অংশ নেন রাষ্ট্রদূত।এ সময় পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন ও পুলিশ সুপার আবু সাঈম উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২৪ লাখ মার্কিন ডলার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশকে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বগুড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ

অর্থের অভাবে সময়মতো চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না নিম্নআয়ের অনেক মানুষ। বিশেষ করে ছানি ও দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভুগলেও চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পারায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। এমন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বগুড়ায় আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ও পরামর্শ ক্যাম্প।শুক্রবার বগুড়া পৌর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এ ক্যাম্পে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ৫ হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু চিকিৎসাসেবা নেন। সেখানে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ, ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিনামূল্যে দেওয়া হয়।আয়োজকেরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ক্যাম্পটি বাস্তবায়ন করে আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন।সকাল থেকেই রোগীরা ক্যাম্পে আসতে শুরু করেন। শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকেরা চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র দেন এবং পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়।ক্যাম্পে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ছানি ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত প্রায় ৫০০ জনকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জন্য বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে লেন্সসহ বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচার করা হবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন এবং আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর আহমেদ তাহের হামিদ আলী। তাঁরা চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।আয়োজকেরা বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে ছানি আক্রান্ত নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বগুড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ

চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে পেট সিটি স্ক্যান, কমবে ক্যানসার রোগীদের ঢাকামুখী ভোগান্তি

ক্যানসার রোগীদের জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পাশে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে (ইনমাস) চালু হচ্ছে আধুনিক পেট সিটি স্ক্যানের সুবিধা।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ল্যাব স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে পরীক্ষা চালু হতে পারে।এতদিন চট্টগ্রামে পেট সিটি স্ক্যানের সুবিধা না থাকায় ক্যানসার রোগীদের পরীক্ষা করাতে ঢাকায় যেতে হতো। এতে পরীক্ষার খরচের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অসুস্থ রোগীকে নিয়ে চলাচলের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হতো স্বজনদের।চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ। প্রতিদিন গড়ে ১২০ জনের মতো ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে আসেন।চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বেসরকারিভাবে পেট সিটি স্ক্যান করতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা চালু হলে খরচ অর্ধেকেরও কম হতে পারে।ইনমাসে পেট সিটি স্ক্যানের পাশাপাশি স্থাপন করা হচ্ছে সাইক্লোট্রন মেশিন। এতে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রেডিও আইসোটোপ উৎপাদন করা হবে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে এসেছে এবং স্থাপন ও সংযোজনের কাজ চলছে। জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।পেট সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে শরীরে ক্যানসারের অবস্থান, অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা এবং চিকিৎসায় রোগী কতটা সাড়া দিচ্ছেন, তা মূল্যায়ন করা যায়। ক্যানসারের সক্রিয়তা শনাক্ত করতেও এ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।ইনমাস চট্টগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ডা. পবিত্র কুমার ভট্টাচার্য বলেন, সাইক্লোট্রনসহ পেট সিটি ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। যন্ত্রপাতি স্থাপন ও অন্যান্য কাজ শেষ হলেই পরীক্ষা শুরু করা হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সুবিধা স্থাপনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রায় ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা ভবন, মলিকুলার ল্যাব, সাইক্লোট্রন ও পেট সিটি মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে পেট সিটি স্ক্যান, কমবে ক্যানসার রোগীদের ঢাকামুখী ভোগান্তি

ক্যানসার চিকিৎসায় আশার আলো

ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে ব্যক্তিগতকৃত এমআরএনএ ভ্যাকসিন। মের্ক ও মডার্নার যৌথভাবে তৈরি এই ভ্যাকসিন মেলানোমা রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।এক হাজারের বেশি মেলানোমা রোগীকে নিয়ে বড় পরিসরের গবেষণায় অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের ছয় সপ্তাহ পরপর সর্বোচ্চ নয়টি ডোজ ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিনের পাশাপাশি মের্কের ইমিউনোথেরাপি ওষুধ কিট্রুডা দেওয়া হয়।গবেষণার পাঁচ বছরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু কিট্রুডার তুলনায় ভ্যাকসিন যুক্ত করলে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ এবং শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রায় ৫৯ শতাংশ কমেছে।এই ভ্যাকসিন রোগীর টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট জেনেটিক পরিবর্তন শনাক্ত করে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষিত করে। ফলে ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করার সুযোগ তৈরি হয়।গবেষকদের দাবি, কিট্রুডার সঙ্গে ভ্যাকসিন ব্যবহারে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে ফ্লু বা কোভিড টিকার পর দেখা দেওয়া হালকা উপসর্গের মতো প্রতিক্রিয়াই প্রধানত দেখা গেছে।মেলানোমার পাশাপাশি ফুসফুস, মূত্রথলি, কিডনি, অগ্ন্যাশয় ও পাকস্থলীর ক্যানসার নিয়েও এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। রোশ ও বায়োএনটেকও কোলন ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় এমআরএনএ ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মেলানোমার এই ফলাফল ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার ভ্যাকসিনের গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্যানসার চিকিৎসায় আশার আলো

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান সেলিম উদ্দিনের

সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। অর্থের অভাবে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকার ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী সেলিম উদ্দিনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘পয়সা দিলে সব ঠিক, পয়সা নাই তো চিকিৎসা পাবেন না’—এমন পরিস্থিতি থেকে মানুষকে বের করে আনতে হবে। চিকিৎসাকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি বলেন, জামায়াতের উদ্যোগে সারা বছর বিভিন্ন স্থানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়, যাতে অসচ্ছল ও নিম্নআয়ের মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।দায়িত্ব পেলে ঢাকা উত্তর সিটির হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং কম খরচে সরকারি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান সেলিম উদ্দিন। হাসপাতালগুলোকে দ্রুত সার্জারি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তুলতে চাই।’ উন্নত চিকিৎসার জন্য যাতে দেশের মানুষকে বিদেশে যেতে না হয়, সে ধরনের পরিবর্তন চিকিৎসাক্ষেত্রে আনার কথা জানান তিনি।চিকিৎসার নামে অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম ও উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান।ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির উন্নয়ন ও আধুনিক নগরায়নে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বের বিকল্প নেই।দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্পে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চিকিৎসাসেবা নেন।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান সেলিম উদ্দিনের

হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই পূর্ণ ছয় মাস বুকের দুধ পায়নি

হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের বড় একটি অংশ জীবনের প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি। একই সঙ্গে মারা যাওয়া শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ ছিল তীব্র অপুষ্টিতে এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি অপুষ্টিতে।বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিহাই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে শিশুদের হাম নিয়ে করা গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাশিহাইয়ের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।৩৫৪ শিশুকে নিয়ে গবেষণাগবেষণায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ৩ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। এসব শিশুর ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি।মারা যাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৮২ শতাংশে। অর্থাৎ হামে মারা যাওয়া শিশুদের বড় একটি অংশ জীবনের প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি।গবেষণায় আরও দেখা যায়, মারা যাওয়া শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র অপুষ্টি এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি অপুষ্টিতে আক্রান্ত ছিল।টিকা নেওয়ার তথ্যেও পার্থক্যগবেষকেরা বয়স ও টিকা নেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন।নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি—এমন ৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়।টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের বা ৯৭ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের বা ৯২ শতাংশ এবং দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে।তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হওয়ার এই তথ্যকে টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে হাম আক্রান্ত হওয়ার সাধারণ হার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।কারণ, গবেষণায় অংশ নেওয়া সব শিশুই সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ফলে দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১৬ জনের হাম শনাক্ত হওয়ার হিসাব শুধু এই হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।আরও গবেষণার প্রয়োজনগবেষকেরা বলেন, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও ওই শিশুদের হাম শনাক্ত হওয়ার কারণ জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। টিকা নেওয়ার পর পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্য কোনো কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে।তবে এসব সম্ভাব্য কারণের কোনটি সংক্রমণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে, তা বর্তমান গবেষণায় নির্ধারণ করা হয়নি।সভায় বাশিহাই পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই পূর্ণ ছয় মাস বুকের দুধ পায়নি

হামের উপসর্গে ৫ মাসে প্রাণ গেল ৯০৮ জনের, আজ ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১০১ শিশু। রোববার (১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ১ হাজার ২১ শিশু হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৯ জন। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম ও সংশ্লিষ্ট উপসর্গে ৯০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৯৬৩ শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৫০ জন। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এদের মধ্যে ১৭ হাজার ৮৮০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।এ সময়ে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার এখনো বেশি। বিশেষ করে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্য খাতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

হামের উপসর্গে ৫ মাসে প্রাণ গেল ৯০৮ জনের, আজ ৬ শিশুর মৃত্যু

নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সম্প্রসারিত ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভবনটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।১৫ তলা ভবনটির নিচের তিন তলা বেজমেন্ট হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখানে পার্কিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সার্ভিস সেকশনের ব্যবস্থা রয়েছে। ওপরের ১২ তলায় রোগীদের জন্য ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক ইউনিট রাখা হয়েছে।নতুন ভবনে রয়েছে ৪০টি আইসিইউ শয্যা, ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ শয্যা এবং ১১২টি কেবিন। এর মাধ্যমে নিউরোলজিক্যাল রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী। এরপর রয়েছে দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া রোগীরা।এ ছাড়া পার্কিনসন্স, ডিমেনশিয়া, গিলেন-বারে সিনড্রোম (জিবিএস), মৃগী ও হাইড্রোকেফালাসসহ বিভিন্ন ধরনের নিউরোলজিক্যাল রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সব বয়সী রোগীর নিউরোলজিক্যাল চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে।

নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে পুরোনো ব্যবস্থায় ফেরছে সরকার, বাড়ছে উদ্বেগ

খাবারের খরচ কমানো যায়, কিন্তু ওষুধ তো কম খাওয়া যায় না। রাজধানীর কাজীপাড়ার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মিজানুর রহমানের কথায় উঠে এসেছে চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে থাকা একটি পরিবারের চিত্র। মা-বাবার চিকিৎসা ও ওষুধ বাবদ প্রতি মাসে তাঁর ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা ও সংসারের অন্যান্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে তিনি এখন হিমশিম খাচ্ছেন।মিজানুর রহমানের মা-বাবা দুজনই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাঁর বাবার হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসাও চলছে। নিয়মিত চিকিৎসক দেখানো, ওষুধ কেনা এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রতি মাসে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আয় বাড়ার তুলনায় চিকিৎসা ব্যয় দ্রুত বাড়ায় সংসারের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁর।মিজানুর রহমানের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত পরিবারের সংখ্যা কম নয়। মূল্যস্ফীতির চাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক পরিবার সঞ্চয় ভাঙছে, ঋণ করছে। কেউ কেউ চিকিৎসা কিংবা ওষুধ কেনা কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।এর মধ্যেই অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণের নীতিতে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।পুরোনো ব্যবস্থায় ফেরার সিদ্ধান্তগত ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়।সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সে সময়ের সরকারি মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে নতুন করে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করা হবে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরির আগে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ নেওয়ার বিধান রয়েছে। নতুন তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে এ বিধান অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণেই সেগুলো বাতিল করা হয়েছে।তবে ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশই মানুষের পকেট থেকেবাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা অনুযায়ী, দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়। চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার সঞ্চয় হারাচ্ছে এবং ঋণগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ কেউ নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতেও পড়ছেন।বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর ওপর এর চাপ বেশি। চিকিৎসার ব্যয়ের আশঙ্কায় অনেকে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। আবার আর্থিক সংকটের কারণে কেউ কেউ চিকিৎসার মাঝপথে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে গেলে উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের দাম, বিপণন ব্যয় ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির মতো কারণ দেখিয়ে ওষুধের দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।তিন দশকেও বড় পরিবর্তন হয়নিঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রথম জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়ন করা হয় ১৯৮২ সালে। ওই নীতিতে ১৫০টি ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। ১৯৯৪ সালের নীতিতে সংখ্যা কমিয়ে ১১৭ করা হয়।তালিকার বাইরে থাকা অধিকাংশ ওষুধের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। এরপর প্রায় তিন দশক এই ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর হাইকোর্টের এক রায়ে পুরোনো ১১৭টি ওষুধের তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৯৭ করা হয়। নতুন তালিকায় যুক্ত হয় আরও ১৭৮টি ওষুধ।গত ৩ ফেব্রুয়ারি গেজেটের মাধ্যমে নতুন তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে ৮ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তালিকাটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান এ উদ্যোগকে ‘ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।বিশেষজ্ঞদের ভিন্নমতনতুন তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি। গত বছরের ১৩ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের ওষুধ খাতের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নীতিটিকে ‘অস্বচ্ছ ও একপেশে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ৩২ বছর আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, ১৯৯৪ সালের তালিকায় থাকা অনেক ওষুধ বর্তমানে অকার্যকর হয়ে গেছে। আবার প্রযুক্তির উন্নতির কারণে কিছু ওষুধ উৎপাদনের খরচ কমেছে। তাই পুরো ব্যবস্থা বাতিল না করে প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ নীতি সংশোধন করা উচিত ছিল।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, শুধু ওষুধ নয়, রোগ শনাক্তকরণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসার প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে ওষুধ উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। দীর্ঘদিন জেনেরিক ওষুধের তালিকা পর্যালোচনা না হওয়ায় তা হালনাগাদ করা প্রয়োজন।তাঁর মতে, নতুন তালিকা তৈরির সময় এমন নীতি দরকার, যাতে ওষুধ ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেও ওষুধের দাম রাখা যায়।ওষুধশিল্প সমিতির স্বস্তিতবে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি। সংগঠনটির মহাসচিব মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত নীতিটি তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করেই করা হয়েছিল। এর ফলে প্রায় দুই বছর ধরে ওষুধশিল্পে এক ধরনের স্থবিরতা ছিল।তাঁর দাবি, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই অচলাবস্থা কাটবে এবং বাজারে স্বস্তি ফিরবে। নতুন নীতিমালা বাতিলের কারণে ওষুধের দাম বাড়ার আশঙ্কাও তিনি নাকচ করেছেন।ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আকতার হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক আদেশ পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।দেশে উৎপাদিত হয় ৯৭ শতাংশ ওষুধসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশের চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানিও হচ্ছে।দেশে বর্তমানে ৩১০টি অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ৪ হাজার ১৮০টি জেনেরিকের ৩৫ হাজার ২৯০টি ব্র্যান্ডের ওষুধ উৎপাদন করে। এর মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ ওষুধের খুচরা মূল্য বা এমআরপি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর নির্ধারণ করে। বাকি প্রায় ৯৭ শতাংশ ওষুধের দাম নির্ধারণ করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের জাতীয় তালিকা রয়েছে। ওষুধ কেনা, সরকারি সরবরাহ, ব্যয় পরিশোধ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে এসব তালিকা গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।ফলে বাংলাদেশে নতুন করে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি কীভাবে করা হবে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের ভবিষ্যৎ।

ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে পুরোনো ব্যবস্থায় ফেরছে সরকার, বাড়ছে উদ্বেগ

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৮৬৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৭৭৬ শিশু। এর মধ্যে ৯৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর ৬৭৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে।গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় হামে আক্রান্ত হয়ে দুজন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৭৬৯স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৮ জন।চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২ জনের। এ সময়ে ১৭ হাজার ৪০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭২।হাসপাতালে ভর্তি ১ লাখ ১৭ হাজারের বেশিস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন।এ সময়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন।

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়: তারেক রহমান

সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন কোনোভাবে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যনীতির অন্যতম লক্ষ্য হলো ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’। অর্থাৎ রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুরু থেকেই মানুষকে রোগের কারণ, প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতন করা গেলে অনেক রোগের প্রকোপ কমানো সম্ভব।এ প্রসঙ্গে মার্কিন উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী টমাস এডিসনের একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চিকিৎসকের কাজ শুধু ওষুধ দেওয়া নয়; রোগীর শরীরের যত্ন, খাদ্যাভ্যাস এবং রোগের কারণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করাও চিকিৎসাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এমন ধারণা এডিসনের বক্তব্যে পাওয়া যায়।তারেক রহমান বলেন, এই চিন্তার সঙ্গে সরকারের বর্তমান স্বাস্থ্যনীতির মিল রয়েছে। রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়ে সরকার আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকর্মী সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে সহযোগিতা করবেন।তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, দেশের জ্বালানি খাত অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।এর আগে ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে তিনি একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি গাছের চারা রোপণ করেন।জাতীয় সংগীত শেষে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি শুরু হয়। চিকিৎসক সমাবেশ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী শান্তির প্রতীক হিসেবে দুটি পায়রা উড়ান।অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়: তারেক রহমান

পেটের ডান পাশে ব্যথা, হতে পারে পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ

পেটের ডান দিকে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, ওষুধ খেয়েও না কমা-অনেকেই এটিকে গ্যাসের সমস্যা মনে করেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায়, এর কারণ হতে পারে পিত্তথলির পাথর। বিশ্বজুড়ে পরিপাকতন্ত্রের সাধারণ রোগগুলোর একটি হলো পিত্তথলিতে পাথর হওয়া।চিকিৎসকদের মতে, অনেকের ক্ষেত্রে পিত্তথলির পাথর থাকলেও দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এটি তীব্র ব্যথা, সংক্রমণ, জন্ডিস ও প্রদাহের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।পিত্তথলি ও পাথর কীভাবে তৈরি হয়যকৃতের নিচে থাকা ছোট থলির মতো অঙ্গ হলো পিত্তথলি। এর প্রধান কাজ হলো যকৃত থেকে তৈরি হওয়া পিত্তরস সংরক্ষণ করা।পিত্তরসে থাকা কোলেস্টেরল, পিত্ত লবণ ও বিলিরুবিনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ছোট স্ফটিক তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে এগুলো বড় হয়ে পাথরে পরিণত হতে পারে।পিত্তথলির পাথর সাধারণত তিন ধরনের হয়- কোলেস্টেরল পাথর: সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে। পিগমেন্ট পাথর: বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে তৈরি হয়। মিশ্র পাথর: কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম ও বিলিরুবিনের সমন্বয়ে তৈরি। কারা বেশি ঝুঁকিতেচিকিৎসকেরা পিত্তপাথরের ঝুঁকি বোঝাতে ‘৫এফ’ সূত্রের কথা বলেন— নারী ৪০ বছরের বেশি বয়স অতিরিক্ত ওজন গর্ভধারণের সক্ষমতা রয়েছে এমন নারী কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী এ ছাড়া স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, দ্রুত ওজন কমানো, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ, পারিবারিক ইতিহাস ও যকৃতের কিছু রোগেও ঝুঁকি বাড়ে।কী কী লক্ষণ দেখা যায়অনেক সময় আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় হঠাৎ পিত্তথলির পাথর ধরা পড়ে। তবে উপসর্গ দেখা দিলে সাধারণত- পেটের ডান দিকে তীব্র ব্যথা ব্যথা কাঁধ বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া চর্বিযুক্ত খাবারের পর ব্যথা বাড়া বমি, বদহজম ও পেট ফাঁপা গুরুতর অবস্থায় জ্বর, কাঁপুনি, চোখ ও শরীর হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল এবং দীর্ঘস্থায়ী তীব্র ব্যথা দেখা দিতে পারে।রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাপিত্তথলির পাথর শনাক্ত করতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পরীক্ষা হলো আলট্রাসাউন্ড। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, এমআরসিপি, সিটি স্ক্যান বা ইআরসিপিও করা হতে পারে।যাদের কোনো উপসর্গ নেই, অনেক ক্ষেত্রে তাদের শুধু চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তবে বারবার ব্যথা বা জটিলতা দেখা দিলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।বর্তমানে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি পিত্তথলির পাথরের অন্যতম কার্যকর চিকিৎসা। এতে ছোট ছেদ, কম ব্যথা, কম রক্তপাত এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুবিধা রয়েছে।চিকিৎসায় দেরি হলে কী হতে পারেসময়মতো চিকিৎসা না করলে পিত্তথলিতে প্রদাহ, সংক্রমণ, ফোঁড়া, পিত্তনালীতে বাধা, জন্ডিস, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।প্রতিরোধে করণীয়পিত্তপাথরের ঝুঁকি কমাতে- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা নিয়মিত ৩০–৪৫ মিনিট ব্যায়াম করা ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া অতিরিক্ত ভাজা খাবার, ট্রান্স ফ্যাট ও চিনি কমানো পর্যাপ্ত পানি পান করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেটের ওপরের ডান দিকে বারবার ব্যথা হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে আলট্রাসাউন্ড করানো উচিত।সূত্র: চিকিৎসক রচিত স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক নিবন্ধ।

পেটের ডান পাশে ব্যথা, হতে পারে পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা: বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো- রোগ জটিল আকার ধারণ করার আগেই স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। দেশের অধিকাংশ মানুষ অসুস্থতা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। এর ফলে একদিকে চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যায়, অন্যদিকে হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ওপর চাপও ক্রমাগত বাড়তে থাকে।একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি হওয়া উচিত প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবার ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো থাকলেও উন্নত চিকিৎসার আশায় এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ বড় শহরের হাসপাতালমুখী হন।এ বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ইন্টেলিজেন্ট জেনারেল প্র্যাকটিশনার (আইজিপি) মডেলের মতো উদ্যোগ দেখিয়েছে, কীভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় আরও কার্যকরভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।এই মডেলের মূল দর্শন হলো-রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, বরং রোগ প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। একজন মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব। এতে রোগী সময়মতো প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা পাবেন, একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপও কমবে।বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা এখন দ্রুত তথ্যনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে। আগে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করত রোগীর বর্ণনা ও চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার ওপর। এখন রোগীর আগের স্বাস্থ্যতথ্য, পরীক্ষার ফলাফল ও জীবনযাপনের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এআইভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এখনো দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন, তাহলে স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান বৈষম্য অনেকটাই কমানো সম্ভব।আইজিপি মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্পৃক্ততা। বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাঁদের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো গেলে তাঁরা আরও দক্ষতার সঙ্গে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পারবেন।তবে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। প্রথমত, শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো অপরিহার্য। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল সীমিত থাকবে।দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যতথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল। তাই ডিজিটাল স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ, ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।তৃতীয়ত, এআইভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি করা জরুরি। এখনো অনেকের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই জনসচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া অপরিহার্য।একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই চিকিৎসকের বিকল্প নয়। চিকিৎসা একটি মানবিক পেশা, যেখানে রোগীর শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি তাঁর মানসিক চাহিদা ও সামাজিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হয়। এআই মূলত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে, যাতে তাঁরা আরও দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের বিস্তার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় শুধু হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ালেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, যেখানে মানুষ গুরুতর অসুস্থ হওয়ার আগেই নিজের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জানতে পারবেন।এই পরিবর্তন বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি খাত, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা–সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরীক্ষিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা মডেলগুলো ধীরে ধীরে সারা দেশে সম্প্রসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের জন্য আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে মানুষের কল্যাণে আমরা প্রযুক্তিকে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারি তার ওপর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো অলৌকিক সমাধান নয়, তবে এটি একটি শক্তিশালী সহায়ক প্রযুক্তি। যথাযথ পরিকল্পনা, জবাবদিহি এবং মানুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা গেলে এআইভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পথে প্রযুক্তি হবে একটি কার্যকর সহায়ক। আর সেই সম্ভাবনাকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানোই এখন আমাদের অন্যতম বড় দায়িত্ব।  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা: বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

চোখের স্ট্রোকের জন্য কি হাইপারটেনশন দায়ী?চোখের চিকিৎসক ডা. সুমন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘হাইপারটেনশনের কারণে চোখের একাধিক ক্ষতি হতে পারে।’ উচ্চ রক্তচাপে চোখের রেটিনার শিরায় ব্লকেজ তৈরি হয়। এর ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এই অবস্থাকে ‘সেন্টাল রেটিনাল ভেইন অকুলেশন’ বলা হয়। এটি শিরার পাশাপাশি ধমনীতেও হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডা. মুখোপাধ্যায়। আসলে চলতি ভাষায় এই অবস্থাকেই চোখের স্ট্রোক বলা হয়।সিআরভিও-এ কি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন?সিআরভিও-এর একাধিক উপসর্গ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমন হলো- হঠাৎ করে একটা চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া। এছাড়া চোখে রক্তপাত হলে চোখের ভিতর কালো ঝুলের মতো অংশ দেখা যায়।‘সিআরভিও-এর চিকিৎসা হলো ইনজেকশন বা রেটিনাল লেজার’ বলেন ডা. মুখোপাধ্যায়। সিআরভিও হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কতটা ক্ষতিকর?ডা. মুখোপাধ্যায়ের সংযোজন, ‘প্রেশার খুব বেশি থাকলে চোখের ভিতর যে অপটিক নার্ভ থাকে, তারও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।’ এই অবস্থায় চোখে রক্তপাতও হতে পারে। একে চিকিৎসার ভাষায় হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি বলা হয়।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কি গর্ভবতীদেরও হয়?হাইপারটেনশনে ভয় রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের ব্লাড প্রেশার অত্যধিক বেড়ে যায়। যাকে বলে প্রেগন্যান্সি হাইপারটেনশন বা ‘একলাম্পসিয়া’। এই অবস্থা তৈরি হলে মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়। এই পর্যায়ে পৌঁছনোর ঠিক আগে চোখের উপর প্রভাব পড়ে। দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। এই লক্ষণ দেখে বোঝা যায় যে, ‘একলাম্পসিয়া’ খারাপ দিকে এগোচ্ছে ‘অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার কন্ট্রোলে রাখা দরকার কেন?এছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার বারবার যাচাই করা দরকার। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকা অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে চোখে রক্তপাত হতে পারে এবং চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি