ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

কৃষকের জানালা

কীটনাশকের অতিব্যবহারে মাটির উর্বরতা হারানোর শঙ্কা

কীটনাশকের অতিব্যবহারে মাটির উর্বরতা হারানোর শঙ্কা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে রাসায়নিক কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বারবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও অনেক ক্ষেত্রে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় বাড়ছে কৃষকদের উৎপাদন খরচ। এতে মাটির গুণাগুণ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানসহ বিভিন্ন ফসলের পোকামাকড় দমনে একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করেও আশানুরূপ ফল মিলছে না। দীর্ঘমেয়াদে জমির উর্বরতা কমে যেতে পারে—এমন উদ্বেগও রয়েছে তাঁদের মধ্যে।উপজেলার পাঙ্গাসী এলাকার কৃষক জাকারিয়া শেখ বলেন, ধানের জমিতে পোকামাকড় দমনে একাধিকবার কীটনাশক দিতে হচ্ছে। এতে চাষের খরচ বাড়ছে, অথচ কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।ধামাইনগরের কৃষক জিন্নাহ ফকির বলেন, ফসল ভালো রাখতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে জমির মাটির আগের অবস্থা আছে কি না, তা নিয়ে চিন্তা হচ্ছে।কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ করলে মাটির উপকারী অণুজীব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি এসব রাসায়নিক জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়লে দেশি প্রজাতির মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও কৃষির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতার ওপর।এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ কৃষিচর্চা নিশ্চিত করা জরুরি। কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে নির্ধারিত মাত্রায় তা প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহার, ফসল পর্যায়ক্রমে চাষ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণের মাধ্যমে রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি।

সোনালি আঁশের ভালো ফলনে স্বস্তি পাটচাষিদের

দেশের বিভিন্ন জেলায় এবার পাটের ভালো ফলনে খুশি কৃষকেরা। মে-জুনের খরার পর জুলাই-আগস্টের বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় ফলন প্রত্যাশা ছাড়িয়েছে। কোথাও বাজারদর ভালো থাকলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন পাট উৎপাদন করে এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাট উৎপাদনকারী দেশ। প্রায় ৪০ লাখ কৃষক সরাসরি পাট চাষের সঙ্গে যুক্ত।ফরিদপুর, রাজশাহী, নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলায় এবার আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে। রাজশাহীতে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কয়েকটি এলাকায় কৃষকেরা তুলনামূলক কম দাম পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি প্রায় পৌনে ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে কাঁচা পাটের রপ্তানি ৭৭ শতাংশ কমে ৩৮ হাজার টনে নেমেছে। রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বহুমুখী পাটপণ্যের উৎপাদন ও নতুন বাজার বাড়ানো গেলে রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব। কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় প্রতি মণ পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং সরকারি উদ্যোগে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পাট কেনা হোক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ভালো ফলনের পাশাপাশি ন্যায্য দাম ও রপ্তানি বাজার নিশ্চিত করা গেলে পাট খাতের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

সোনালি আঁশের ভালো ফলনে স্বস্তি পাটচাষিদের