ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

লাইফ স্টাইল

বৃষ্টির দিনে জমবে যেসব খাবার

বৃষ্টির দিনে জমবে যেসব খাবার

বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি। হাতে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা, কিংবা সামনে গরম খিচুড়ির বাটি বর্ষার এমন আবহ অনেকের কাছেই আনন্দের। বৃষ্টির দিনে তাই এমন কিছু খাবার বেছে নিতে পারেন, যা একদিকে স্বাদ বাড়াবে, অন্যদিকে আবহাওয়ার আমেজও উপভোগ করতে সাহায্য করবে।চাবৃষ্টির দিনে এক কাপ গরম চা বা কফি বেশ আরাম দিতে পারে। সঙ্গে রাখতে পারেন শিঙাড়া কিংবা পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও সরষের তেল দিয়ে মাখানো মুড়ি। আদা চা বা গ্রিন টিও বেছে নিতে পারেন। চায়ে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। বৃষ্টির সময় মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছুটা দূরে থেকে প্রিয়জনের সঙ্গে গল্প করতে করতে চা বা কফি খাওয়ার অভিজ্ঞতাও হতে পারে উপভোগ্য।নুডলসবৃষ্টিতে আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হয়ে এলে ঝটপট নুডলস রান্না করে খেতে পারেন। ঝোল করে নুডলস রান্না করলেও স্বাদে ভিন্নতা আসতে পারে। এতে ডিম, পেঁয়াজ, টমেটো ও ধনেপাতা যোগ করলে স্বাদ ও গন্ধ আরও বাড়ে। দ্রুত তৈরি করা যায় বলে বৃষ্টির দিনে নুডলস হতে পারে সহজ একটি খাবার।পপকর্নসিনেমা দেখা কিংবা অবসর সময় কাটানোর সময় হালকা নাশতা হিসেবে পপকর্ন খেতে পারেন। চায়ের সঙ্গেও এটি ভালো মানায়। ভুট্টা থেকে তৈরি পপকর্নে ফাইবারের পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে।পাকোড়াবৃষ্টির সঙ্গে মুচমুচে পাকোড়ারও যেন আলাদা সম্পর্ক। বৃষ্টির দিনে গরম পাকোড়া খেতে পারেন কেচাপ বা চাটনির সঙ্গে। আর সঙ্গে এক কাপ গরম চা থাকলে নাশতার আয়োজন আরও জমে উঠতে পারে।স্যুপবৃষ্টির শীতল আবহে শরীরকে উষ্ণ রাখতে খেতে পারেন এক বাটি গরম স্যুপ। চিকেন, মাশরুম কিংবা বিভিন্ন সবজি দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় স্যুপ। পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি হতে পারে ভালো একটি খাবার।খিচুড়ি বৃষ্টি আর খিচুড়ির কথা যেন একসঙ্গেই মনে আসে। গরম খিচুড়ির সঙ্গে বেগুন ভাজা, বিভিন্ন ধরনের ভর্তা কিংবা ডিম ভাজি রাখতে পারেন। চাল-ডাল দিয়ে নরম খিচুড়ির পাশাপাশি সবজি দিয়ে নিরামিষ খিচুড়িও রান্না করা যায়। আর বাড়িতে ইলিশ থাকলে গরম খিচুড়ির সঙ্গে ইলিশের আয়োজনও হতে পারে বৃষ্টির দিনের বিশেষ খাবার।

পেটের ডান পাশে ব্যথা, হতে পারে পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ

পেটের ডান দিকে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, ওষুধ খেয়েও না কমা-অনেকেই এটিকে গ্যাসের সমস্যা মনে করেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায়, এর কারণ হতে পারে পিত্তথলির পাথর। বিশ্বজুড়ে পরিপাকতন্ত্রের সাধারণ রোগগুলোর একটি হলো পিত্তথলিতে পাথর হওয়া।চিকিৎসকদের মতে, অনেকের ক্ষেত্রে পিত্তথলির পাথর থাকলেও দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এটি তীব্র ব্যথা, সংক্রমণ, জন্ডিস ও প্রদাহের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।পিত্তথলি ও পাথর কীভাবে তৈরি হয়যকৃতের নিচে থাকা ছোট থলির মতো অঙ্গ হলো পিত্তথলি। এর প্রধান কাজ হলো যকৃত থেকে তৈরি হওয়া পিত্তরস সংরক্ষণ করা।পিত্তরসে থাকা কোলেস্টেরল, পিত্ত লবণ ও বিলিরুবিনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ছোট স্ফটিক তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে এগুলো বড় হয়ে পাথরে পরিণত হতে পারে।পিত্তথলির পাথর সাধারণত তিন ধরনের হয়- কোলেস্টেরল পাথর: সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে। পিগমেন্ট পাথর: বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে তৈরি হয়। মিশ্র পাথর: কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম ও বিলিরুবিনের সমন্বয়ে তৈরি। কারা বেশি ঝুঁকিতেচিকিৎসকেরা পিত্তপাথরের ঝুঁকি বোঝাতে ‘৫এফ’ সূত্রের কথা বলেন— নারী ৪০ বছরের বেশি বয়স অতিরিক্ত ওজন গর্ভধারণের সক্ষমতা রয়েছে এমন নারী কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী এ ছাড়া স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, দ্রুত ওজন কমানো, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ, পারিবারিক ইতিহাস ও যকৃতের কিছু রোগেও ঝুঁকি বাড়ে।কী কী লক্ষণ দেখা যায়অনেক সময় আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় হঠাৎ পিত্তথলির পাথর ধরা পড়ে। তবে উপসর্গ দেখা দিলে সাধারণত- পেটের ডান দিকে তীব্র ব্যথা ব্যথা কাঁধ বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া চর্বিযুক্ত খাবারের পর ব্যথা বাড়া বমি, বদহজম ও পেট ফাঁপা গুরুতর অবস্থায় জ্বর, কাঁপুনি, চোখ ও শরীর হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল এবং দীর্ঘস্থায়ী তীব্র ব্যথা দেখা দিতে পারে।রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাপিত্তথলির পাথর শনাক্ত করতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পরীক্ষা হলো আলট্রাসাউন্ড। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, এমআরসিপি, সিটি স্ক্যান বা ইআরসিপিও করা হতে পারে।যাদের কোনো উপসর্গ নেই, অনেক ক্ষেত্রে তাদের শুধু চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তবে বারবার ব্যথা বা জটিলতা দেখা দিলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।বর্তমানে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি পিত্তথলির পাথরের অন্যতম কার্যকর চিকিৎসা। এতে ছোট ছেদ, কম ব্যথা, কম রক্তপাত এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুবিধা রয়েছে।চিকিৎসায় দেরি হলে কী হতে পারেসময়মতো চিকিৎসা না করলে পিত্তথলিতে প্রদাহ, সংক্রমণ, ফোঁড়া, পিত্তনালীতে বাধা, জন্ডিস, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।প্রতিরোধে করণীয়পিত্তপাথরের ঝুঁকি কমাতে- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা নিয়মিত ৩০–৪৫ মিনিট ব্যায়াম করা ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া অতিরিক্ত ভাজা খাবার, ট্রান্স ফ্যাট ও চিনি কমানো পর্যাপ্ত পানি পান করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেটের ওপরের ডান দিকে বারবার ব্যথা হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে আলট্রাসাউন্ড করানো উচিত।সূত্র: চিকিৎসক রচিত স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক নিবন্ধ।

পেটের ডান পাশে ব্যথা, হতে পারে পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ