স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রয়াত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলী তার বন্ধু ছিলেন এবং কাশেমপুর কারাগারে তারা একসঙ্গে বন্দি ছিলেন। দেশে ফেরার কারণ জানতে চাইলে মীর কাশেম আলী তাকে বলেছিলেন, তিনি ফিরে না এলে তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হতো।
বুধবার
দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও
জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন
আহমদ বলেন, অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ জানানো ব্যক্তিদের বক্তব্যও তিনি মনোযোগ দিয়ে
শুনেছেন। জুলাই আন্দোলনে সামনে ও পেছনে থেকে যাঁরা সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন,
তাঁদের অবদানও স্মরণ করেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী যদি দীর্ঘদিন নির্বাসনে
না থাকতেন, তাহলে আন্দোলন আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারত। সে সময়
মাঠপর্যায়ের অধিকাংশ নেতৃত্ব কারাগারে, গুম কিংবা আত্মগোপনে ছিলেন। এরপরও জনগণের
ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ স্বৈরাচারের পতন ঘটে।
নিজের
বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি আয়নাঘরে ৬১ দিন
ছিলেন এবং সেখানে ২৪ ঘণ্টাও টিকে থাকা একজন মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন। মীর কাশেম
আলীর পরিবারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচার শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়,
তার পরিবারকেও ধ্বংস করেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার
আহ্বান জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন
আহমদ বলেন, ‘যদি আমরা বলতে শুরু করি—জুলাই কার, তাহলে জুলাই কারও থাকবে না।’
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক জাতি শত বছর সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। এটি আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘ প্রস্তুতি, ত্যাগ ও সংগ্রামের ফল। তাই এ অর্জনকে কোনোভাবেই দলীয়করণ করা উচিত হবে না।