ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
পোশাকশিল্পে অস্থিরতা দমনে সরকারকে কঠোর হতে হবে: শফিকুর রহমান

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা দমনে সরকারকে কঠোর হতে হবে: শফিকুর রহমান

পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।আজ সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।পোশাকশিল্পের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান লেখেন, এ খাতে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে।তিনি বলেন, কোনো মালিক বা শ্রমিকই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। তাঁর বিশ্বাস, কোনো শ্রমিক এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না।পোশাকশিল্পের অস্থিরতার পেছনে ষড়যন্ত্রকারীদের ভূমিকা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি লেখেন, ‘ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে বলে মনে হয়।’এ পরিস্থিতিতে শিল্প খাতে অস্থিরতা নিরসনে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নতুন দল নয়, ‘সমমনা ইসলামী দল’ ব্যানারে এক হচ্ছে সাত দল

নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন না করে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামে অভিন্ন ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কওমি ঘরানার সাতটি সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দল। একই সঙ্গে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলোও এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করবে বলে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন নেতারা।বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাখযানুল উলুম মাদরাসায় সাত দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।সকাল ১০টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। এতে দলগুলোর ঐক্যপ্রক্রিয়া, অভিন্ন ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরবর্তী কর্মপন্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করা হবে না। বরং ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামটি অভিন্ন ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তবে প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখবে।এদিকে আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলোও বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করবে বলে নেতারা একমত হয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া।এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন ও মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদির ও মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসেন রাজীসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অন্য নেতারাও বৈঠকে অংশ নেন।

নতুন দল নয়, ‘সমমনা ইসলামী দল’ ব্যানারে এক হচ্ছে সাত দল

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার সকাল ১০টার দিকে সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি হলো শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং জনগণের আস্থা অর্জন।এর আগে অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটের কাছে জাতীয় পতাকা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকাল সোয়া ৯টার দিকে গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান তিনি। এ সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।সেনানিবাসে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। পরে উপস্থিত সেনাসদস্যদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এদিকে, সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করেছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে হামলার বিচার ও ছাত্রদল সভাপতির ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম তুহিন বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হামলায় ক্যাম্পাসের চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত নেওয়া ব্যবস্থাকে যথেষ্ট মনে করছে না প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাব জানায়, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ অক্টোবরের সিন্ডিকেট সভায় এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য কমিটি গঠন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আহসান হাবীবের সনদ বাতিল, হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং অভিযোগের সত্যতা ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রেসক্লাব।ভুল বোঝাবুঝি মন্তব্যে আপত্তিছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর বক্তব্যের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রেসক্লাবের মতে, তাঁর এ বক্তব্য হামলার গুরুত্ব খাটো করে দেখানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বারবার হুমকি দেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাবের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতি তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাননি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কট করবেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ২০ জন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সমমর্যাদার উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ জনে। মন্ত্রিসভায় নতুন পাঁচজন যুক্ত হওয়া এবং একজনের বিদায়ের পর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে। এর আগে শেখ হাসিনার সরকারের এক পর্যায়ে এ সংখ্যা ছিল ৭০ জন।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ। কেউ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, আবার কেউ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বসে দায়িত্ব পালন করছেন।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার এবং সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।কারা কোন দায়িত্বেবর্তমান সরকারে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও জহির উদ্দিন স্বপন।প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম, ড. মাহদী আমিন, রেহান আসিফ আসাদ ও ডা. জাহেদ-উর রহমান।এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিজন কান্তি সরকার, ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও তানভীর গনি। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্বে রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।সচিব পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী হিসেবে রয়েছেন রাশেদ খান, সাইমুম পারভেজ, শাকিরুল ইসলাম খান ও গিয়াস উদ্দিন রিমন। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় যুববিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ।মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দায়িত্বে উপদেষ্টারাপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরামর্শ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের দায়িত্বে রয়েছেন মির্জা আব্বাস। অসুস্থতার কারণে তিনি বর্তমানে কার্যালয়ে যেতে না পারলেও তাঁর জন্য প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে দপ্তর ও প্রয়োজনীয় লোকবল রয়েছে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়াদি দেখভালের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয় তদারক করছেন। সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে তাঁর দপ্তর প্রস্তুতের কাজ চলছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বের পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দপ্তর বরাদ্দ রয়েছে।সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত বিষয়াদি তদারক করছেন। তিনি সচিবালয়ের নতুন ১ নম্বর ভবনে অফিস করেন। অন্যদিকে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দপ্তরে কাজ করছেন।সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নেও তিনি ভূমিকা রাখছেন।প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। ড. মাহদী আমিন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করছেন।রেহান আসিফ আসাদ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। আর ডা. জাহেদ-উর রহমান পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।বিশেষ সহকারীদের দায়িত্ব কীপ্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীরাও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিজন কান্তি সরকার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখভাল করছেন। তানভীর গনি সরকারের বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিষয় তদারক করছেন।ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড. শাকিরুল ইসলাম খান এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে দায়িত্বে রয়েছেন ড. সাইমুম পারভেজ।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে কাজ করছেন রাশেদ খান। যুব কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত দায়িত্বে রয়েছেন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ। সর্বশেষ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত দায়িত্ব পেয়েছেন গিয়াস উদ্দিন রিমন।মন্ত্রিসভার আকার ৫১ জনসরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হয়েছে। সম্প্রতি চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিমান প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। অন্যদিকে, মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন হুমায়ুন কবির।এই পরিবর্তনের পর মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বাইরে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের অন্তর্ভুক্ত করলে সরকারের বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে।অতীতের সরকারের চিত্র২০০১ সালের ১০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। সেই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সংখ্যা ছিল ৬৪ জন।২০০৯ সালে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার আকার বিভিন্ন সময়ে বেড়েছে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে মন্ত্রিসভার আকার ৬১ জনে পৌঁছায়। পরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসে। ওই সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সংখ্যা এক পর্যায়ে ৭০ জন হয়েছিল।বর্তমান সরকারের ৭১ জনের সংখ্যা সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের ক্ষমতা কতটুকুসংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ৩বি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও বিশেষায়িত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা নিয়োগ করতে পারেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, উপদেষ্টারা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন এবং তাঁর নির্দেশে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নিতে পারেন। বিশেষ সহকারীরা প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে সহায়তা, বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং কার্যক্রম তদারক করেন।তবে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা সাধারণভাবে সরকারি ফাইল অনুমোদনের ক্ষমতা রাখেন না। তাঁরা মূলত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করেন।সরকারের দাবি, বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করার মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোই এসব নিয়োগের উদ্দেশ্য। তবে এতসংখ্যক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব বণ্টন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং তাঁদের কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে।

তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ২০ জন

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

কুমিল্লায় জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর মোগলটুলীতে মহানগর জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠক চলাকালে সেই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। নতুন কমিটিতে বর্তমান সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান আমির হতে পারেন—এমন গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।অভিযোগ রয়েছে, মাহবুবুর রহমানের বিরোধী পক্ষের কয়েকজন দলীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করেন। একই সময়ে কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাহবুবুর রহমান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করেন। এ ঘটনায় মহানগর জামায়াতের সহসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও দাওয়াহ ও তথ্য সম্পাদক হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।দলীয় সূত্রের দাবি, বুধবার রাতেই মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনের জন্য ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা ছিল। এ নিয়ে চলমান বৈঠকে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান তাঁর অনুসারীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরোধী পক্ষের কয়েকজন কার্যালয়ে প্রবেশ করে গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।এ বিষয়ে মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা মিডিয়ায় ব্রিফিং দেব। আমাদের মিটিং চলছে।’মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার আমার দেশকে বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়েছি। এই মুহূর্তে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভেতরে জামায়াতের ঊর্ধ্বতন নেতারা আছেন।

কুমিল্লায় জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর

১১ দলীয় জোটের এমপিদের জেলায় সার নিয়ে সমস্যা, অভিযোগ প্রতিমন্ত্রীর

কিছু জেলায় সার নিয়ে সংকট তৈরি করে সরকারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, যেসব জেলায় সার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেসব জেলার সংসদ সদস্যরা ১১ দলীয় জোটের। তবে যেসব জেলায় বিএনপির সংসদ সদস্য রয়েছেন, সেখানে সার নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি।বুধবার দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের গড়াইঘাটে গড়াই নদীর ওপর শহীদ আবরার ফাহাদ সেতুর প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে যেসব সারের ডিলার পেয়েছে, তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আগের স্বৈরাচারী সরকারের আমলে। তাঁদের অসহযোগিতার কারণে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সার নিয়ে যেসব জেলায় সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেখানে সরকারকে বিভ্রান্ত করতে বিরোধী জোটের লোকজন এ সংকট তৈরি করে থাকতে পারেন।ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবেবর্তমান সরকারের সময়ে সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকেরা। বিরোধী দল কোনো অভিযোগ করে থাকলে তারা কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, তা তাঁর জানা নেই।দ্রুত সেতু নির্মাণের আশ্বাসশহীদ আবরার ফাহাদের বাবা গত ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ওই সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি মসজিদ নির্মাণ এবং গড়াই নদীর ওপর শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের দাবি জানান।মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি প্রকৌশলীদের নিয়ে প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনে এসেছেন।তিনি বলেন, ‘আমাদের একটু সময় দিতে হবে। আমরা এখানকার সয়েল টেস্ট করব, স্টাডি করব—তারপর কাজ শুরু করব। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলতে পারি, দ্রুত সময়ের মধ্যে গড়াই নদীর ওপর শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু বাস্তবায়ন হবে, ইনশা আল্লাহ।’পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন যাঁরাএ সময় কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য মেহেদী আহমেদ রুমি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন ও তদন্ত ইউনিট) মো. এবাদত আলী, খোকসা উপজেলায় গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১১ দলীয় জোটের এমপিদের জেলায় সার নিয়ে সমস্যা, অভিযোগ প্রতিমন্ত্রীর

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বলে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান। নাগরিক পরিচয়ে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।বুধবার দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কোনো শব্দ শুনতে চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। এখানে নাগরিক পরিচয়ে ভেদাভেদ করার কোনো সুযোগ নেই।’ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমানেরা তাঁদের ধর্ম পালন করবেন, হিন্দুরা হিন্দু ধর্ম পালন করবেন। বাংলাদেশে প্রধান চারটি ধর্মের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক সময় তাঁদের খোঁজখবর কম রাখা হয়। অথচ অতীতে সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করেছেন।তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাহলে আজ কেন পূজামণ্ডপ পাহারা দিতে হয়? কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এত কষ্ট করতে হয়? আমি তো এই অঞ্চলেরই সন্তান। আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগেও তো এমন পরিস্থিতি শোনা যায়নি।’ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মানুষ নিশ্চিন্তে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছে না, উপাসনালয় পাহারা দিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে নিজের ধর্ম পালন করতে পারেন।ইসলাম অন্য ধর্মের ওপর আঘাত করতে শেখায় নাইসলামের মূল শিক্ষার কথা তুলে ধরে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের মানুষের ওপর আঘাত করতে শেখায় না। তাঁর দাবি, যারা ইসলামকে পছন্দ করে না, তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করে এবং এর দায় ইসলামের ওপর চাপায়।তিনি বলেন, সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ধর্ম পালনের সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ- এই চেতনা ধরে রাখতে হবে।গুজব ছড়ালে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বানসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ফেসবুকে প্রকাশিত সব খবর বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনো বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।তিনি বলেন, এ সতর্কতা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নয়, মুসলমানদের জন্যও প্রযোজ্য। দেশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, মুসলিম বা হিন্দু—কোনো সম্প্রদায়ের মানুষই হানাহানি বা গোলযোগ চান না। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন উপায়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরায় দেশে ফিরে আসার জন্য গোলযোগ তৈরির চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে এ ধরনের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ তুলে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।সভায় উপস্থিত ছিলেন যারাবদরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম এবং বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

৯ নভেম্বর বসছে ত্রয়োদশ সংসদের চতুর্থ অধিবেশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৯ নভেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন শুরু হবে।বুধবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি আগামী ৯ নভেম্বর বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে এবারের অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের দুটি অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতি ৬০ দিনের বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনেই আগামী ৯ নভেম্বর চতুর্থ অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে।

৯ নভেম্বর বসছে ত্রয়োদশ সংসদের চতুর্থ অধিবেশন

সিপিজে নেতাদের কারাগারে পাঠানোয় রাহুল-কেজরিওয়ালের নিন্দা

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সময় জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘটনায় করোচ জনতা পার্টির (সিপিজে) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সময় যন্তর মন্তরে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এ কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষোচিত কাজ।রাহুল আরও বলেন, শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক কিংবা ইন্ডিয়া জোটের পতাকা পতাকা আলাদা হলেও দাবি এক। সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার আদায়ের দাবিতে নাগরিকদের সব প্রতিবাদ একই সূত্রে গাঁথা। যন্তর মন্তর ভারতের জনগণের জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা জায়গাটি ফিরিয়ে নেবেন।সিপিজে নেতাদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেছেন আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিজের দেশে নিজের জাতীয় পতাকা ওড়ানো কি অপরাধ? বিষয়টিকে তিনি একেবারেই হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন।যেভাবে আটক হন তিন নেতাশান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং সম্প্রতি নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের মর্যাদা হারানো যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে বুধবার সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পরে তাঁদের তিহার জেলে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, তৃতীয় নেতা অজিঙ্ক শিন্ডেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।বুধবার সকালে সিপিজের তিন নেতাকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের ব্যারিকেড ভেঙে অনুমতি ছাড়াই বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। এ সময় তাঁরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।পুলিশ সূত্রের দাবি, অনধিকার প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ অমান্য, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সিপিজে নেতাদের কারাগারে পাঠানোয় রাহুল-কেজরিওয়ালের নিন্দা

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজা, অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা অংশ নেন।এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সালাহউদ্দিন আহমেদ।রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার পরিচিত রাজনৈতিক নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৪ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন।তাঁর মৃত্যুতে বিএনপির রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজা, অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

চলে গেলেন বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বড় ছেলে তানভীর আহমেদ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর মৃত্যুর খবরে বিএনপির নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ এবং জানাজা ও দাফনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

চলে গেলেন বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ

যে শর্তে মুক্তি পেলেন সিজেপির তিন নেতা

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রেপ্তারের পর রোববার সকালে তাঁদের দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। পরে নির্দিষ্ট শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।সিজেপির আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিংহ জানিয়েছেন, মুক্তির শর্ত অনুযায়ী, দীপকে, সৌরভ ও আশুতোষ আগামী এক বছর কোথাও ‘শান্তি ভঙ্গ’ করতে পারবেন না।মুক্তি পাওয়ার পর আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তাঁরা সংবাদ সম্মেলন করবেন।তিন নেতার মুক্তির পর এক বিবৃতিতে সিজেপি বলেছে, ‘ককরোচরা কখনো মরে না। অবশেষে দীপকে, সৌরভ ও রাঙ্কাকে ছাড়তে বাধ্য হলো দিল্লি পুলিশ।ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় সতর্কতামূলকভাবে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।দিল্লিতে একটি আন্দোলনে যোগ দিতে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে রাজধানীতে পৌঁছান সিজেপির এই তিন নেতা। বিমান থেকে নামার আগেই পুলিশ তাঁদের আটক করে।সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

যে শর্তে মুক্তি পেলেন সিজেপির তিন নেতা

আওয়ামী লীগের ডেভিলদের সঙ্গে আঁতাত করলে ওসি এক ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না

আওয়ামী লীগের ডেভিলদের সঙ্গে আঁতাত ও মাদকের সঙ্গে আপস করলে মতলব উত্তর থানার ওসি এক ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না’ মন্তব্য করেছেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন।মঙ্গলবার চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা অডিটোরিয়ামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবাগত ওসি মানস বড়ুয়াকে উদ্দেশ করে তিনি এ কথা বলেন।জালাল উদ্দীন বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই। আমার নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল মতলব থেকে মাদক নির্মূল করা। আর এই মাদক নির্মূল করতে আপনার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। আইনের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’নবাগত ওসি মানস বড়ুয়াকে উদ্দেশ করে সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘নতুন ওসি ডেভিলদের সঙ্গে চা খাবে এবং আওয়ামী লীগের ডেভিলদের সঙ্গে আঁতাত করলে আপনি মতলবে এক ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না।’অনুষ্ঠানে চারটি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মধ্যে ১৫৯টি আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মতলব উত্তর থানার ওসি মানস বড়ুয়া, মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সরকার, ছেংগারচর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলম।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী। এ ছাড়া কৃষক প্রতিনিধি মনির হোসেন প্রধান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও যুবদল নেতা বশির মোল্লাও বক্তব্য দেন।

আওয়ামী লীগের ডেভিলদের সঙ্গে আঁতাত করলে ওসি এক ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না