ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার
রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের
সামনে তিন দফা দাবিতে
আয়োজিত এক পথসভায় এসব
কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল
জাবের।
ইনকিলাব
মঞ্চের তিন দফা দাবি
হলো শহীদ ওসমান হাদি
হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায়
মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং
জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের
বিচার।
পথসভায়
জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর
পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির
হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক
করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ
মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি
করে হাদি হত্যার বিচার
নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।
কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই।
রাষ্ট্র ও সরকার বিচার
নিশ্চিত করতে না পারলে
জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।
সরকারকে
সতর্ক করে তিনি বলেন,
ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি
হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি
না। সরকার সফল হলে তাদের
প্রতি আচরণ এক রকম
হবে, আর ব্যর্থ হলে
আচরণ হবে অন্য রকম।
‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’
আব্দুল্লাহ
আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে
গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের
কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে
আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার
বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত
চিঠির জবাব দেয়নি।
তিনি
আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র।
তাঁদের ভাড়া করে যারা
হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে
যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।
জাবের
বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয়
নিয়েছে, তারা শুধু শুটার।
এদেরকে ভাড়া করে যারা
আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা
করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা
পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই
থামবে না।’
তিনি
বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস
করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে
উন্নত করা যায় এবং
সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা
নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবে
প্রতিমন্ত্রী
নুরুল হক নুরের ‘হু
ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের
আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা
ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন,
তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং
দিল্লির কাছে মাথা নত
করছেন।
জাবেরের
ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের
মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ
বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে
উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন
বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইনকিলাব
মঞ্চের তিন দফা দাবিকে
শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং
বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ
করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি
হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে
ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের
বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন
হয়ে পড়বে।
ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্য
পথসভায়
ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন,
বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত
থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও
অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে
হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি
বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত
না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ
সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জাবের
আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের
মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন,
গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব
দেওয়ার সময় এসেছে বলে
তাঁরা মনে করেন।
পথসভায়
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির
অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত
ছিলেন।
এর
আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়,
রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা
চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ
সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।