ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

জন দুর্ভোগ

উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে ইকোভা ফাউন্ডেশন

উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে ইকোভা ফাউন্ডেশন

উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইকোভা ফাউন্ডেশন। দীর্ঘদিন ধরে বরগুনা, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, দুর্যোগের সময় করণীয় এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি।ইকোভা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই কৃষি নিয়েও সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।ইকোভা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মতিন সাগর বলেন, সংগঠনের সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন ছাড়াই সদস্যদের সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।মতিন সাগর বলেন, আমরা পৃথিবীকে ভালোবেসে কাজ করি। আমাদের লক্ষ্য হলো উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ যেন অন্য সবার মতো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার পায়।তিনি বলেন, উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগঝুঁকি কমাতে শুধু দুর্যোগের সময় সহায়তা দেওয়াই যথেষ্ট নয়। দুর্যোগের আগেই মানুষকে প্রস্তুত করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। এ কারণে ইকোভা ফাউন্ডেশন সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছে।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সংগঠনের প্রয়োজনইকোভা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ইকোভার মতো আরও সংগঠন গড়ে উঠা প্রয়োজন।তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর মানুষ যে প্রভাব ভোগ করছে, তার বড় একটি অংশই মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সচেতন মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত সংগঠন খুবই প্রয়োজন।মো. বেলাল হোসেন আরও বলেন, ইকোভা ফাউন্ডেশন নিজেদের অর্থায়নে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, ইকোভা ফাউন্ডেশন নিজেদের অর্থায়নে কাজ করছে। তাই আমি আশা করছি, খুব দ্রুত তারা সরকার অথবা কোনো বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে অর্থায়ন নিয়ে আরও শক্তিশালী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।কৃষি ও জলবায়ু বিষয়ে পরামর্শইকোভা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি একজন বিজ্ঞানী। কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সংগঠনটিকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।সংগঠনটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে কৃষি, পানি ও পরিবেশের বিষয়গুলো সরাসরি সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন তৈরি হচ্ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হচ্ছে।ইকোভা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে দুর্যোগ মোকাবিলা ও সচেতনতার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই কৃষির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাবর্তমানে বরগুনা, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে পরিচালিত কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইকোভা ফাউন্ডেশন। বিশেষ করে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্যোগের প্রস্তুতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করতে চায় সংগঠনটি।ইকোভা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি এবং জনগণকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করার কাজ অব্যাহত রাখতে চায় সংগঠনটি।নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হওয়া কার্যক্রমকে ভবিষ্যতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে ইকোভা ফাউন্ডেশনের।  

৬ জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যেই শনিবার রাতের মধ্যে ছয় জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত ১টার মধ্যে যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।এসব জেলার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।ভোলায় সর্বোচ্চ ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিআবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ভোলায়।এ ছাড়া নেত্রকোনায় ৫৫ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ৩৭, বরিশালে ৩৬, চট্টগ্রামে ২৭, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ২৬ এবং কুমিল্লায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও বৃষ্টি হয়েছে।আরও পাঁচ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনাআবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণও হতে পারে।

৬ জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

চিলমারী-রাজিবপুরসহ জেলার ভাঙনকবলিত এলাকায় পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রামের চিলমারী ও রাজিবপুরসহ পুরো জেলার নদীভাঙন রোধে সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।শনিবার বেলা ১১টার দিকে চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, নদীভাঙনে মানুষের বাড়িঘর, অবকাঠামো, মসজিদ-মাদরাসা, মন্দির-শ্মশানঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাটবাজার যেন আর বিলীন না হয়, সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রামের প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। অনেক কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পরিদর্শনের সময় নতুন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পাওয়া গেলে সেখানেও জরুরি ভিত্তিতে কাজের নির্দেশনা দেওয়া হবে।তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করা হচ্ছে। নদীতে বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে কে বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপি করেন, তা বিবেচনা করা হবে না। এসব উদ্যোগে সবাই উপকৃত হবেন।তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এ বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। মহাপরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।পরে প্রতিমন্ত্রী নৌপথে চিলমারীর কাঁচকোল বাঁধ, উলিপুর উপজেলার নামাজের চর, রৌমারী উপজেলার সুখেরববাঁতি এবং রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি এলাকার নদীভাঙন পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি গাইবান্ধার উদ্দেশে রওনা হন।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এমপি মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান, সংরক্ষিত আসনের এমপি সুরাইয়া জেরিন রনি, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।

চিলমারী-রাজিবপুরসহ জেলার ভাঙনকবলিত এলাকায় পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী