পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারকে নিয়ে ঢাকাই সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’ নির্মাণের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল। তবে শুটিং শুরুর আগেই সিনেমাটি থেকে মধুমিতার সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টিকে ভিত্তিহীন দাবি করে পরিচালক জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোচ্ছে সিনেমাটির কাজ।মোহাম্মদ ইকবাল জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) দুই নম্বর ফ্লোরে মধুমিতাকে নিয়ে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে। এ জন্য ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশে আসবেন এই অভিনেত্রী। এরই মধ্যে সিনেমার প্রি-প্রোডাকশনের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। চলতি মাসেই এফডিসিতে সেট নির্মাণ শুরু হবে।সিনেমা ছাড়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে মধুমিতা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিনই নানা ধরনের গুজব ছড়ায়। সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়ার পরও তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছিল। এখন আবার সিনেমা ছেড়ে দেওয়ার খবর ছড়ানো হচ্ছে।রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অভিজাত সমাজের অন্ধকার বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘গুলশানের চামেলি’। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন একজন যৌনকর্মী, যিনি কোনো অপরাধ না করেও বারবার ক্ষমতাবানদের নির্মমতার শিকার হন।আবদুল্লাহ জহির বাবুর চিত্রনাট্যে সিনেমাটিতে মধুমিতা ছাড়াও অভিনয় করবেন রোজিনা, আজমেরী হক বাঁধন, ওমর সানী, আমিন খান, বাপ্পারাজ ও মিশা সওদাগর।
১৩ ঘন্টা আগে পড়ুনপোশাকশিল্পে অস্থিরতা দমনে সরকারকে কঠোর হতে হবে: শফিকুর রহমান
পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।আজ সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।পোশাকশিল্পের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান লেখেন, এ খাতে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে।তিনি বলেন, কোনো মালিক বা শ্রমিকই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। তাঁর বিশ্বাস, কোনো শ্রমিক এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না।পোশাকশিল্পের অস্থিরতার পেছনে ষড়যন্ত্রকারীদের ভূমিকা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি লেখেন, ‘ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে বলে মনে হয়।’এ পরিস্থিতিতে শিল্প খাতে অস্থিরতা নিরসনে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।জিএমটি সময় ভোর ৪টা ৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৬৮ ডলার কমে ১০৯ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৪৩ ডলার কমে দাঁড়ায় ১০০ দশমিক ৬৯ ডলারে।এর আগে মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরও অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছিল।কূটনৈতিক অগ্রগতিতে কমেছে উদ্বেগযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যে অক্টোবরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির খবরে পরিস্থিতি নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের দামে এর প্রভাব পড়েছে।তেলের দামে কারিগরি সংশোধনতেলের বাজারের সাম্প্রতিক দরপতনকে আংশিকভাবে কারিগরি সংশোধন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফনের পর আজ সকালে এর কিছুটা কারিগরি দরপতন দেখা যাচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘কূটনৈতিক অগ্রগতির ক্ষীণ আশা এবং সপ্তাহান্তে বড় ধরনের কোনো সামরিক উত্তেজনা না ঘটায়, তেলের দামের ওপর থেকে আপাতত তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমেছে।’বিশ্লেষকদের এই পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সামরিক উত্তেজনা না বাড়ার পরিস্থিতি আপাতত তেলের বাজারে স্বস্তি এনেছে।সূত্র: আলজাজিরা
দুর্যোগের আগাম বার্তায় এআই, কতটা বদলাবে বাংলাদেশের প্রস্তুতি
ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, তাপপ্রবাহ কিংবা শৈত্যপ্রবাহ—প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস দিতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। বিপুল পরিমাণ আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে এআইভিত্তিক মডেল। এর মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।তবে এ প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তাই শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর না করে প্রচলিত আবহাওয়াবিজ্ঞান, বাস্তব পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় তথ্যের সমন্বয় প্রয়োজন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে এই সমন্বয় কার্যকরভাবে করা গেলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও যেসব পূর্বাভাসে এআইআবহাওয়ার পূর্বাভাসে এআইয়ের ব্যবহার শুধু ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নির্ণয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অতিবৃষ্টি থেকে বন্যার আশঙ্কা, তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব, প্রবল বাতাস, শৈত্যপ্রবাহ এবং কৃষিকাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসেও এ প্রযুক্তি কাজে লাগতে পারে।ধরা যাক, কোনো অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে অতিবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এআইভিত্তিক পূর্বাভাসের মাধ্যমে আগাম ধারণা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা, বাঁধের অবস্থা পরীক্ষা করা, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা এবং জরুরি সেবার পরিকল্পনা করার সুযোগ পেতে পারে।একইভাবে, কোনো এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা থাকলে হাসপাতাল, কর্মক্ষেত্র ও জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগেভাগে সতর্ক করা সম্ভব। এতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হতে পারে।তবে শুধু বৃষ্টিপাত বা তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়ে স্থানীয় দুর্যোগের ঝুঁকি পুরোপুরি বোঝা যায় না। বন্যার আশঙ্কা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট এলাকার বন্যার মানচিত্র, নদীর পানির স্তর, জনবসতি এবং অন্যান্য স্থানীয় তথ্যের সঙ্গে পূর্বাভাস মিলিয়ে দেখা জরুরি।সম্ভাব্য বিপদের একাধিক চিত্রএআইভিত্তিক পূর্বাভাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, এর মাধ্যমে কোনো দুর্যোগের সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা যায়।ধরা যাক, একটি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে কোনো মডেল ৫০টি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করল। এর অধিকাংশ পরিস্থিতিতে ঝড়টি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেল। তবে কয়েকটি পরিস্থিতিতে অন্য এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনাও দেখা গেল।এ ধরনের বিশ্লেষণ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝুঁকির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে। এতে শুধু একটি সম্ভাব্য গতিপথের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।তবে সব সম্ভাবনাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া ঠিক নয়। কোন পরিস্থিতি কতটা সম্ভাব্য এবং কোনটির ঝুঁকি কতটা গুরুতর, তা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।এআইয়ের পূর্বাভাসে সীমাবদ্ধতা কোথায়আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এআই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এ প্রযুক্তি এখনো সব পরিস্থিতিতে সমান কার্যকর নয়। আবহাওয়া একটি জটিল ও পরিবর্তনশীল ব্যবস্থা। বায়ুমণ্ডলের সামান্য পরিবর্তনও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি করতে পারে।কোনো অঞ্চলে পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্য পর্যাপ্ত না হলে এআইভিত্তিক মডেলের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। একইভাবে ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিরল বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য কম থাকলে সঠিক পূর্বাভাস দেওয়াও কঠিন হতে পারে।আরেকটি বিষয় হলো, বৈশ্বিক পর্যায়ে ভালো ফল দেওয়া কোনো মডেল স্থানীয় পর্যায়েও একই মাত্রায় নির্ভুল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, স্থানীয় ভূপ্রকৃতি, নদ-নদী, উপকূলীয় পরিবেশ ও আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য পূর্বাভাসের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।তাই এআইয়ের মাধ্যমে পাওয়া পূর্বাভাস স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও আবহাওয়াবিদদের বিশ্লেষণের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।নির্ভুল পূর্বাভাসই শেষ কথা নয়দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু নির্ভুল পূর্বাভাস পাওয়া যথেষ্ট নয়। সতর্কবার্তা কত আগে দেওয়া হলো, তা মানুষের কাছে সময়মতো পৌঁছাল কি না এবং মানুষ সেটি বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারল কি না—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।কোনো মডেল ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ সঠিকভাবে অনুমান করলেও সতর্কবার্তা সময়মতো মানুষের কাছে না পৌঁছালে ক্ষয়ক্ষতি কমানো কঠিন হবে। আবার সতর্কবার্তার ভাষা অস্পষ্ট হলে মানুষ ঝুঁকির মাত্রা বুঝতে ব্যর্থ হতে পারে।অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করলে মানুষ বারবার অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য ঝুঁকি কম করে দেখালে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে না। এ কারণে এআইয়ের পূর্বাভাস যাচাই, অনিশ্চয়তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা এবং দায়িত্বশীলভাবে সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা জরুরি।এআই ও আবহাওয়াবিজ্ঞানের সমন্বয়ই ভবিষ্যৎআবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভবিষ্যৎ এআই ও প্রচলিত আবহাওয়াবিজ্ঞানের সমন্বয়ের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে। এআই দ্রুত বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরতে পারে। অন্যদিকে, আবহাওয়াবিদেরা বাস্তব পর্যবেক্ষণ, বায়ুমণ্ডলের ভৌত প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেই পূর্বাভাস যাচাই করতে পারেন।এই সমন্বয় আরও কার্যকর হলে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ, তীব্রতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন এলাকা সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে বন্যা, তাপপ্রবাহ ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগও বাড়তে পারে।তবে প্রযুক্তির সাফল্য শুধু কত দ্রুত পূর্বাভাস তৈরি করা গেল, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং কত আগে নির্ভরযোগ্য সতর্কতা পাওয়া গেল, কত মানুষের কাছে তা পৌঁছানো সম্ভব হলো এবং এর ফলে কতটা প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি কমানো গেল—সেটিই হবে সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে এআইভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস তাই কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়; এটি দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোরও একটি সম্ভাবনাময় হাতিয়ার। নির্ভরযোগ্য তথ্য, যথাযথ পরিকল্পনা, বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন এবং কার্যকর সতর্কবার্তা ব্যবস্থার সঙ্গে এ প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো গেলে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা নিতে গিয়ে ঋণের চাপে পড়বেন না যেভাবে
ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সহজেই কেনাকাটা করা যায়, পরিশোধ করা যায় বিভিন্ন সেবার মূল্য। অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্ড ব্যবহারে ছাড়, ক্যাশব্যাক ও কিস্তিতে কেনাকাটার সুবিধাও দেয়। তবে এসব সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে আর্থিক ঝুঁকি। ঋণসীমা, সুদের হার, বিল পরিশোধের সময়সীমা ও বিভিন্ন চার্জ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে একপর্যায়ে বাড়তে পারে ঋণের বোঝা।বিশেষ করে ছাড় বা ক্যাশব্যাকের আকর্ষণে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকাটা করলে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের আগে এর কার্যপদ্ধতি, সুবিধা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানা জরুরি।ক্রেডিট কার্ড যেভাবে কাজ করেক্রেডিট কার্ড হলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া একটি পেমেন্ট কার্ড। এর মাধ্যমে গ্রাহক নির্ধারিত ঋণসীমার মধ্যে কেনাকাটা করতে এবং বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক সাময়িকভাবে গ্রাহকের হয়ে অর্থ পরিশোধ করে। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহককে সেই অর্থ ফেরত দিতে হয়।ক্রেডিট কার্ডের সঙ্গে ডেবিট কার্ডের মূল পার্থক্য হলো অর্থের উৎস। ডেবিট কার্ড ব্যবহার করলে সাধারণত গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা টাকা খরচ হয়। অন্যদিকে, ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার অর্থ পরে পরিশোধ করতে হয়। ফলে লেনদেনের সময় নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে সমপরিমাণ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে কেটে নেওয়া হয় না।এই সুবিধা অনেকের জন্য কেনাকাটা সহজ করে। তবে নিজের হিসাব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা না কাটায় কিছু গ্রাহক প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ বুঝতে দেরি করতে পারেন। নিয়মিত খরচের হিসাব না রাখলে মাস শেষে বড় অঙ্কের বিল পরিশোধের চাপ তৈরি হতে পারে।ছাড় ও ক্যাশব্যাকের আকর্ষণে বাড়তে পারে খরচগ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট কার্ডে নানা ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকে। নির্দিষ্ট দোকান, অনলাইন শপিং, বিমান টিকিট, হোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন সেবায় পাওয়া যায় ছাড়। কোথাও ক্যাশব্যাক, কোথাও কিস্তিতে কেনাকাটা, আবার কোথাও রিওয়ার্ড পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকে।তবে এসব সুবিধা পেতে সাধারণত কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য বা সেবা গ্রহণ, সর্বোচ্চ ছাড়ের সীমা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেনদেনের শর্ত থাকতে পারে। ফলে বিজ্ঞাপনে বড় অঙ্কের ছাড়ের কথা বলা হলেও সব গ্রাহক সব ক্ষেত্রে সমান সুবিধা পান না।কেনাকাটার আগে অফারের শর্তগুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বিজ্ঞাপনে দেখানো ছাড়ের পরিমাণ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে প্রকৃত সুবিধা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।প্রয়োজনের বদলে অফারের জন্য কেনাকাটা নয়ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে একটি বড় ঝুঁকি হলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করা। অনেক সময় ছাড় বা ক্যাশব্যাক পাওয়ার আশায় গ্রাহকেরা এমন পণ্য কিনে ফেলেন, যা কেনার পরিকল্পনা আগে ছিল না।ধরা যাক, কোনো পণ্যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পণ্যটি প্রয়োজন না থাকায় কেনার পরিকল্পনাই ছিল না। শুধু ছাড় পাওয়ার জন্য সেটি কিনলে কিছু অর্থ সাশ্রয় হলেও সামগ্রিক ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।আবার একাধিক অফার কাজে লাগাতে গিয়ে কেউ কেউ নিজের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে খরচ করেন। ফলে সাময়িক সুবিধা নিতে গিয়ে পরবর্তী সময়ে বিল পরিশোধের চাপ তৈরি হয়।এ কারণে ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার আগে পণ্যটি সত্যিই প্রয়োজন কি না এবং নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধের সামর্থ্য আছে কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি।ব্যবহারের আগে নিয়মকানুন জানা জরুরিক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা পেতে হলে এর ঋণসীমা, সুদের হার, বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ও বিভিন্ন চার্জ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ছাড়, ক্যাশব্যাক ও কিস্তির সুবিধা নেওয়ার শর্তগুলোও বুঝে নেওয়া উচিত।কার্ডের মাধ্যমে খরচের হিসাব নিয়মিত পর্যালোচনা করা এবং নিজের সামর্থ্যের মধ্যে ব্যয় সীমিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্রেডিট কার্ড তাৎক্ষণিক অর্থ পরিশোধের সুবিধা দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ গ্রাহককেই পরিশোধ করতে হয়।সুতরাং, ক্রেডিট কার্ডকে শুধু কেনাকাটার সুবিধা হিসেবে না দেখে আর্থিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পরিকল্পিত ব্যবহার ও সময়মতো বিল পরিশোধের অভ্যাসই পারে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ঝুঁকি কমাতে।
পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।আজ সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।পোশাকশিল্পের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান লেখেন, এ খাতে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে।তিনি বলেন, কোনো মালিক বা শ্রমিকই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। তাঁর বিশ্বাস, কোনো শ্রমিক এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না।পোশাকশিল্পের অস্থিরতার পেছনে ষড়যন্ত্রকারীদের ভূমিকা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি লেখেন, ‘ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে বলে মনে হয়।’এ পরিস্থিতিতে শিল্প খাতে অস্থিরতা নিরসনে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।জিএমটি সময় ভোর ৪টা ৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৬৮ ডলার কমে ১০৯ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৪৩ ডলার কমে দাঁড়ায় ১০০ দশমিক ৬৯ ডলারে।এর আগে মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরও অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছিল।কূটনৈতিক অগ্রগতিতে কমেছে উদ্বেগযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যে অক্টোবরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির খবরে পরিস্থিতি নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের দামে এর প্রভাব পড়েছে।তেলের দামে কারিগরি সংশোধনতেলের বাজারের সাম্প্রতিক দরপতনকে আংশিকভাবে কারিগরি সংশোধন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফনের পর আজ সকালে এর কিছুটা কারিগরি দরপতন দেখা যাচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘কূটনৈতিক অগ্রগতির ক্ষীণ আশা এবং সপ্তাহান্তে বড় ধরনের কোনো সামরিক উত্তেজনা না ঘটায়, তেলের দামের ওপর থেকে আপাতত তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমেছে।’বিশ্লেষকদের এই পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সামরিক উত্তেজনা না বাড়ার পরিস্থিতি আপাতত তেলের বাজারে স্বস্তি এনেছে।সূত্র: আলজাজিরা
ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, তাপপ্রবাহ কিংবা শৈত্যপ্রবাহ—প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস দিতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। বিপুল পরিমাণ আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে এআইভিত্তিক মডেল। এর মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।তবে এ প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তাই শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর না করে প্রচলিত আবহাওয়াবিজ্ঞান, বাস্তব পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় তথ্যের সমন্বয় প্রয়োজন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে এই সমন্বয় কার্যকরভাবে করা গেলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও যেসব পূর্বাভাসে এআইআবহাওয়ার পূর্বাভাসে এআইয়ের ব্যবহার শুধু ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নির্ণয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অতিবৃষ্টি থেকে বন্যার আশঙ্কা, তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব, প্রবল বাতাস, শৈত্যপ্রবাহ এবং কৃষিকাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসেও এ প্রযুক্তি কাজে লাগতে পারে।ধরা যাক, কোনো অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে অতিবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এআইভিত্তিক পূর্বাভাসের মাধ্যমে আগাম ধারণা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা, বাঁধের অবস্থা পরীক্ষা করা, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা এবং জরুরি সেবার পরিকল্পনা করার সুযোগ পেতে পারে।একইভাবে, কোনো এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা থাকলে হাসপাতাল, কর্মক্ষেত্র ও জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগেভাগে সতর্ক করা সম্ভব। এতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হতে পারে।তবে শুধু বৃষ্টিপাত বা তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়ে স্থানীয় দুর্যোগের ঝুঁকি পুরোপুরি বোঝা যায় না। বন্যার আশঙ্কা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট এলাকার বন্যার মানচিত্র, নদীর পানির স্তর, জনবসতি এবং অন্যান্য স্থানীয় তথ্যের সঙ্গে পূর্বাভাস মিলিয়ে দেখা জরুরি।সম্ভাব্য বিপদের একাধিক চিত্রএআইভিত্তিক পূর্বাভাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, এর মাধ্যমে কোনো দুর্যোগের সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা যায়।ধরা যাক, একটি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে কোনো মডেল ৫০টি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করল। এর অধিকাংশ পরিস্থিতিতে ঝড়টি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেল। তবে কয়েকটি পরিস্থিতিতে অন্য এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনাও দেখা গেল।এ ধরনের বিশ্লেষণ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝুঁকির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে। এতে শুধু একটি সম্ভাব্য গতিপথের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।তবে সব সম্ভাবনাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া ঠিক নয়। কোন পরিস্থিতি কতটা সম্ভাব্য এবং কোনটির ঝুঁকি কতটা গুরুতর, তা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।এআইয়ের পূর্বাভাসে সীমাবদ্ধতা কোথায়আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এআই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এ প্রযুক্তি এখনো সব পরিস্থিতিতে সমান কার্যকর নয়। আবহাওয়া একটি জটিল ও পরিবর্তনশীল ব্যবস্থা। বায়ুমণ্ডলের সামান্য পরিবর্তনও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি করতে পারে।কোনো অঞ্চলে পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্য পর্যাপ্ত না হলে এআইভিত্তিক মডেলের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। একইভাবে ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিরল বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য কম থাকলে সঠিক পূর্বাভাস দেওয়াও কঠিন হতে পারে।আরেকটি বিষয় হলো, বৈশ্বিক পর্যায়ে ভালো ফল দেওয়া কোনো মডেল স্থানীয় পর্যায়েও একই মাত্রায় নির্ভুল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, স্থানীয় ভূপ্রকৃতি, নদ-নদী, উপকূলীয় পরিবেশ ও আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য পূর্বাভাসের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।তাই এআইয়ের মাধ্যমে পাওয়া পূর্বাভাস স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও আবহাওয়াবিদদের বিশ্লেষণের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।নির্ভুল পূর্বাভাসই শেষ কথা নয়দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু নির্ভুল পূর্বাভাস পাওয়া যথেষ্ট নয়। সতর্কবার্তা কত আগে দেওয়া হলো, তা মানুষের কাছে সময়মতো পৌঁছাল কি না এবং মানুষ সেটি বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারল কি না—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।কোনো মডেল ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ সঠিকভাবে অনুমান করলেও সতর্কবার্তা সময়মতো মানুষের কাছে না পৌঁছালে ক্ষয়ক্ষতি কমানো কঠিন হবে। আবার সতর্কবার্তার ভাষা অস্পষ্ট হলে মানুষ ঝুঁকির মাত্রা বুঝতে ব্যর্থ হতে পারে।অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করলে মানুষ বারবার অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য ঝুঁকি কম করে দেখালে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে না। এ কারণে এআইয়ের পূর্বাভাস যাচাই, অনিশ্চয়তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা এবং দায়িত্বশীলভাবে সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা জরুরি।এআই ও আবহাওয়াবিজ্ঞানের সমন্বয়ই ভবিষ্যৎআবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভবিষ্যৎ এআই ও প্রচলিত আবহাওয়াবিজ্ঞানের সমন্বয়ের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে। এআই দ্রুত বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরতে পারে। অন্যদিকে, আবহাওয়াবিদেরা বাস্তব পর্যবেক্ষণ, বায়ুমণ্ডলের ভৌত প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেই পূর্বাভাস যাচাই করতে পারেন।এই সমন্বয় আরও কার্যকর হলে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ, তীব্রতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন এলাকা সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে বন্যা, তাপপ্রবাহ ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগও বাড়তে পারে।তবে প্রযুক্তির সাফল্য শুধু কত দ্রুত পূর্বাভাস তৈরি করা গেল, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং কত আগে নির্ভরযোগ্য সতর্কতা পাওয়া গেল, কত মানুষের কাছে তা পৌঁছানো সম্ভব হলো এবং এর ফলে কতটা প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি কমানো গেল—সেটিই হবে সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে এআইভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস তাই কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়; এটি দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোরও একটি সম্ভাবনাময় হাতিয়ার। নির্ভরযোগ্য তথ্য, যথাযথ পরিকল্পনা, বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন এবং কার্যকর সতর্কবার্তা ব্যবস্থার সঙ্গে এ প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো গেলে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সহজেই কেনাকাটা করা যায়, পরিশোধ করা যায় বিভিন্ন সেবার মূল্য। অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্ড ব্যবহারে ছাড়, ক্যাশব্যাক ও কিস্তিতে কেনাকাটার সুবিধাও দেয়। তবে এসব সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে আর্থিক ঝুঁকি। ঋণসীমা, সুদের হার, বিল পরিশোধের সময়সীমা ও বিভিন্ন চার্জ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে একপর্যায়ে বাড়তে পারে ঋণের বোঝা।বিশেষ করে ছাড় বা ক্যাশব্যাকের আকর্ষণে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকাটা করলে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের আগে এর কার্যপদ্ধতি, সুবিধা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানা জরুরি।ক্রেডিট কার্ড যেভাবে কাজ করেক্রেডিট কার্ড হলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া একটি পেমেন্ট কার্ড। এর মাধ্যমে গ্রাহক নির্ধারিত ঋণসীমার মধ্যে কেনাকাটা করতে এবং বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক সাময়িকভাবে গ্রাহকের হয়ে অর্থ পরিশোধ করে। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহককে সেই অর্থ ফেরত দিতে হয়।ক্রেডিট কার্ডের সঙ্গে ডেবিট কার্ডের মূল পার্থক্য হলো অর্থের উৎস। ডেবিট কার্ড ব্যবহার করলে সাধারণত গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা টাকা খরচ হয়। অন্যদিকে, ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার অর্থ পরে পরিশোধ করতে হয়। ফলে লেনদেনের সময় নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে সমপরিমাণ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে কেটে নেওয়া হয় না।এই সুবিধা অনেকের জন্য কেনাকাটা সহজ করে। তবে নিজের হিসাব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা না কাটায় কিছু গ্রাহক প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ বুঝতে দেরি করতে পারেন। নিয়মিত খরচের হিসাব না রাখলে মাস শেষে বড় অঙ্কের বিল পরিশোধের চাপ তৈরি হতে পারে।ছাড় ও ক্যাশব্যাকের আকর্ষণে বাড়তে পারে খরচগ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট কার্ডে নানা ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকে। নির্দিষ্ট দোকান, অনলাইন শপিং, বিমান টিকিট, হোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন সেবায় পাওয়া যায় ছাড়। কোথাও ক্যাশব্যাক, কোথাও কিস্তিতে কেনাকাটা, আবার কোথাও রিওয়ার্ড পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকে।তবে এসব সুবিধা পেতে সাধারণত কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য বা সেবা গ্রহণ, সর্বোচ্চ ছাড়ের সীমা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেনদেনের শর্ত থাকতে পারে। ফলে বিজ্ঞাপনে বড় অঙ্কের ছাড়ের কথা বলা হলেও সব গ্রাহক সব ক্ষেত্রে সমান সুবিধা পান না।কেনাকাটার আগে অফারের শর্তগুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বিজ্ঞাপনে দেখানো ছাড়ের পরিমাণ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে প্রকৃত সুবিধা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।প্রয়োজনের বদলে অফারের জন্য কেনাকাটা নয়ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে একটি বড় ঝুঁকি হলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করা। অনেক সময় ছাড় বা ক্যাশব্যাক পাওয়ার আশায় গ্রাহকেরা এমন পণ্য কিনে ফেলেন, যা কেনার পরিকল্পনা আগে ছিল না।ধরা যাক, কোনো পণ্যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পণ্যটি প্রয়োজন না থাকায় কেনার পরিকল্পনাই ছিল না। শুধু ছাড় পাওয়ার জন্য সেটি কিনলে কিছু অর্থ সাশ্রয় হলেও সামগ্রিক ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।আবার একাধিক অফার কাজে লাগাতে গিয়ে কেউ কেউ নিজের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে খরচ করেন। ফলে সাময়িক সুবিধা নিতে গিয়ে পরবর্তী সময়ে বিল পরিশোধের চাপ তৈরি হয়।এ কারণে ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার আগে পণ্যটি সত্যিই প্রয়োজন কি না এবং নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধের সামর্থ্য আছে কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি।ব্যবহারের আগে নিয়মকানুন জানা জরুরিক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা পেতে হলে এর ঋণসীমা, সুদের হার, বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ও বিভিন্ন চার্জ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ছাড়, ক্যাশব্যাক ও কিস্তির সুবিধা নেওয়ার শর্তগুলোও বুঝে নেওয়া উচিত।কার্ডের মাধ্যমে খরচের হিসাব নিয়মিত পর্যালোচনা করা এবং নিজের সামর্থ্যের মধ্যে ব্যয় সীমিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্রেডিট কার্ড তাৎক্ষণিক অর্থ পরিশোধের সুবিধা দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ গ্রাহককেই পরিশোধ করতে হয়।সুতরাং, ক্রেডিট কার্ডকে শুধু কেনাকাটার সুবিধা হিসেবে না দেখে আর্থিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পরিকল্পিত ব্যবহার ও সময়মতো বিল পরিশোধের অভ্যাসই পারে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ঝুঁকি কমাতে।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৭ জন। পাসের হার মাত্র ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।এ ফলাফলের প্রতিবাদে শিক্ষকদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা।সোমবার সকালে কলেজের কার্যালয়ে গিয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমসহ অন্য শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী, সহসভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা।উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয়ের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এর প্রতিবাদ জানাতেই উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ফুল আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে বিষয়ে ছাত্রদলের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৭ জন। পাসের হার মাত্র ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।এ ফলাফলের প্রতিবাদে শিক্ষকদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা।সোমবার সকালে কলেজের কার্যালয়ে গিয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমসহ অন্য শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী, সহসভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা।উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয়ের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এর প্রতিবাদ জানাতেই উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ফুল আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে বিষয়ে ছাত্রদলের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৭ জন। পাসের হার মাত্র ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।এ ফলাফলের প্রতিবাদে শিক্ষকদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা।সোমবার সকালে কলেজের কার্যালয়ে গিয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমসহ অন্য শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী, সহসভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা।উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয়ের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এর প্রতিবাদ জানাতেই উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ফুল আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে বিষয়ে ছাত্রদলের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।