ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

রাজনীতি

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জামায়াতের অঙ্গীকার: শফিকুর রহমান

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জামায়াতের অঙ্গীকার: শফিকুর রহমান

১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণতন্ত্র শুধু সরকার গঠনের সাময়িক কোনো প্রক্রিয়া নয়; মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, বাক্‌স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি বলেন, গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকলে সমাজ স্বৈরাচার, শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে। তাঁর অভিযোগ, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে। জনগণ ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, সামাজিক সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে বিএনপি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।বিবৃতিতে জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বারবার গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। ইতিহাসজুড়ে স্বৈরাচারী মনোভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে বিভিন্নভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত করেছে। এই বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না এবং জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন, ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধনির্ভর বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে গণতন্ত্রকে সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার করছে জামায়াতে ইসলামী। সমতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় দলটি কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জামায়াত আমির আরও বলেন, দেশকে কোনোভাবেই গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মতো অভিশাপের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনকে সংকীর্ণ দলীয়করণ থেকে মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করে শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও গণমুখী করার অঙ্গীকার করতে হবে। বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, ন্যায্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে এলাকায় এলাকায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, একজন মানুষ সারাদিন রোদে পুড়ে ও ঘাম ঝরিয়ে ৫০০ টাকা আয় করেন। এই অর্থ দিয়েই তাঁর সন্তানের দুধ, স্কুলের খাতা কিংবা বৃদ্ধ বাবার ওষুধ কেনার প্রয়োজন মেটানো হয়। সেখান থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা হিসেবে নিয়ে গেলে শুধু টাকা হারায় না, পরিবারের কোনো একটি প্রয়োজনও সেদিন থেমে যায়।তিনি লেখেন, আপনার আমার কাছে ৫০০ টাকা সামান্য হতে পারে। কিন্তু যার সারাদিনের ঘামের মূল্য এই ৫০০ টাকা, তার কাছে এই টাকাই হাজার কোটি টাকার সমান। চাঁদাবাজির বিস্তৃতি তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা লেখেন, দোকান বসাবেন, চাঁদা। ব্যবসা করবেন, চাঁদা। গাড়ি চলবে, চাঁদা। বাড়ি তুলবেন, সেখানেও চাঁদা।চাঁদাবাজির অর্থ রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এতে অপমান আরও গভীর হয়। তাঁর ভাষ্য, এই অর্থ শুধু নিচের পর্যায়েই থেমে থাকে না; ধাপে ধাপে এর ভাগ ওপরের নেতাদের কাছেও পৌঁছে যায়।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও লেখেন, চাঁদাবাজি শুধু টাকা কেড়ে নেয় না, মানুষের ঘাম, সন্তানের ভবিষ্যৎ আর বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেয়। পোস্টের শেষাংশে তিনি নব্য চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নব্য চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। এলাকায় এলাকায় চাঁদাবাজবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।তিনি আরও বলেন, দেশ তখনই বাঁচবে, যখন একজন বাবা নিজের ঘামের ৫০০ টাকা নিরাপদে সন্তানের জন্য ঘরে নিয়ে যেতে পারবেন।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

দেশে আর যেন অন্ধকার ও দুর্দিন ফিরে না আসে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।রোববার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ভোরবাজার মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।রিজভী বলেন, একসময় বিএনপির লাখো নেতাকর্মীকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে। ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী মতের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং রক্তের হোলি খেলেছে।তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর পরিবারের অপেক্ষার এখনো শেষ হয়নি। বিএনপি গণতন্ত্র ও অসহায় মানুষের জন্য রাজনীতি করে। দলটি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে।স্মরণসভায় ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের পরিবারের হাতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি তুলে দেন রুহুল কবির রিজভী।২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনীতে সরকারবিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ।ঘরের চাবি পেয়ে হারুনুর রশিদের স্ত্রী জোহরা বেগম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে তাঁর পরিবারের দুঃখ ঘুচেছে।স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব এবং কেন্দ্রীয় সহ-গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ।সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, সদস্যসচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার।স্মরণসভা শেষে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের কবর জিয়ারত করেন রুহুল কবির রিজভী।  

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

শেখ হাসিনা কবে আসবেন ২০৩০ না ২০৫০ সালের ডিসেম্বর: দুলু

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে নির্দিষ্ট তারিখ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে উত্তরাঞ্চল জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা হুমকি দেন, ডিসেম্বর মাসে আসবেন। আপনি স্পষ্ট করে ঘোষণা দেন, ২০৩০ সালে নাকি ২০৫০ সালের ডিসেম্বর আসবেন?’শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশের ব্যাংকগুলো দুর্বল করে বিপুল অর্থ নিয়ে পালানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা শুধু পালিয়ে যাননি, বরং দেশের ব্যাংকগুলো ফোকলা করে লাখ লাখ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। গত ছয় মাসে আইনবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি দাবি করে দুলু বলেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা পক্ষগুলো প্রতিপক্ষকে বিভিন্নভাবে ঘায়েল করলেও বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে।তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মসজিদের ইমামদের সরকারি ভাতা ও বেতনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। দুলুর ভাষ্য, ‘এই বিধ্বস্ত দেশকে তারেক রহমান সাহেব একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে এসেছেন।’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার সমাধান করার কথা তারেক রহমান বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে দুলু বলেন, ওই আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং সেই রক্ত এখনো শুকায়নি। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি কোন বর্ডার দিয়ে আসবেন ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের পরিবারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অতীতের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ফাঁসি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।দুলু বলেন, আপনি দেশে আসলে এবার আর সংসদের মধ্যে নয়, বরং কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে ইনশাআল্লাহ। বিরোধী দলগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ‘ফ্যাসিস্টদের’ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।আলোচনা সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিন সকাল নয়টার মধ্যে সচিবালয়ে চলে আসেন। এতে সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিচ্ছেন এবং প্রশাসনিক কাজে গতি ফিরেছে বলে দাবি করেন তিনি।সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে মাহমুদা হাবীবা বলেন, গত পাঁচ মাসে ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। হজের ফ্লাইট শেষ হওয়ার পর উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে প্রত্যেক হাজিকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।জনপ্রশাসনের ব্যয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১০০ টাকা বাজেট থাকলে সেখানে জনপ্রশাসনের পেছনে ব্যয় করতে হয় ৬০ টাকা। একটা মাথামোটা জনপ্রশাসন আমরা পুষে যাচ্ছি। এটা থেকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্ত করতে পারব, তত দ্রুত আমরা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হব। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এছাহক আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মো. আব্বাস আলী এবং সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মোমিন সরকার প্রমুখ।

শেখ হাসিনা কবে আসবেন ২০৩০ না ২০৫০ সালের ডিসেম্বর: দুলু

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি বৃহস্পতিবার এ নোটিশ পাঠান।গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম বলেছিলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে আসিফ মাহমুদকে ঘিরে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয় এবং তাঁর সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।পরে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তাঁর ওই বক্তব্য ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে একটি বার্তা দেন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কথাটি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।নোটিশে অভিযোগের তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর বিষয়টিকেও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।আইনি নোটিশ অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি দেওয়া হয় ২০২৬ সালের ১১ মে। অর্থাৎ তাঁর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় ওই পদোন্নতি হয়।নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ

গণতন্ত্র অর্জনে ডিআরইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে: রিজভী

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) বাংলাদেশের গণতন্ত্র অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঢাকার কোথাও নিশ্চিন্ত মনে বসার সুযোগ না থাকলেও ডিআরইউতে এসে তিনি নিশ্চিন্তে চা খেতে পারতেন। নিজের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমি সর্বশেষ গ্রেপ্তার হয়েছিলাম প্রেসক্লাব থেকে। আমি শুনেছি, প্রেসক্লাবের নেতৃত্বের কাছ থেকেই আমাকে গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছিল।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হতো, তারা যদি আরো বেশি দিন থাকতে পারত, তাহলে কী হতো জানি না। মিডিয়া, টেলিভিশন, পত্রিকা ও টকশো সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেখানে কেবল মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকেরা ধুঁকে ধুঁকে গণতন্ত্রের পক্ষে আলো জ্বালিয়ে রেখেছিলেন।তিনি বলেন, জুলাইয়ের আগে হত্যা, খুন ও গুমের ঘটনা ঘটলেও সেগুলো গণমাধ্যমে প্রচার করা হতো না। গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব সত্য তুলে ধরা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আদালত ও সিভিল সোসাইটির পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও ভূমিকা পালন করতে হয়।গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা। একই সঙ্গে গণমাধ্যম যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। অনুষ্ঠানে ডিআরইউর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কমিটির নেতৃবৃন্দ, সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণতন্ত্র অর্জনে ডিআরইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে: রিজভী

বিএনপি সরকার সব নিয়োগ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে: হাসনাত

নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত করার কথা বলে বিএনপি সরকার আরেকটি ‘বাজে’ কাজ করতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। ১০ম গ্রেডের নিয়োগ কার্যক্রম সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছ থেকে সরিয়ে নিজেদের কমিটির মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য ১০ম গ্রেডের পদের মতো এ পদেও দীর্ঘদিন ধরে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ হয়ে আসছে। মন্ত্রণালয় শূন্য পদের সংখ্যা জানায়, পিএসসি পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এবং পরে মন্ত্রণালয় নিয়োগ দেয়। তাঁর দাবি, এ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম ভালোভাবেই চলছে।হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, বিএনপি সরকার সব নিয়োগ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। পিএসসির অধীনে চলা নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবকে নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটিটি নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে কাজ করবে।এ উদ্যোগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, কেন, পিএসসি কি পারছে না? পিএসসি কি কোথাও বলেছে, আমরা পারছি না। তাঁর ভাষ্য, খালি চোখেই বোঝা যাচ্ছে, সরকার নিয়োগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। উদ্দেশ্য হতে পারে, পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ করা কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ করা।সরকারি চাকরিতে নিয়োগে বৈষম্যের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, তারা কি চব্বিশ ভুলে গেছে? সরকারি চাকরির নিয়োগে বৈষম্য করার কারণেই কিন্তু এ দেশের ছাত্ররা আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিল, যা থেকে কালজয়ী অভ্যুত্থান হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা আর সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা ভুলে গেলে সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই, তরুণরা কিন্তু জাগ্রত আছে। নিয়োগে হস্তক্ষেপ করে দুর্নীতির মাধ্যমে লাভবান হওয়ার চিন্তা করলে তা কখনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

বিএনপি সরকার সব নিয়োগ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে: হাসনাত

আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মেঘমল্লার বসু

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গত সোমবার রাতে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের কারণে তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হলে তাকে কেবিনে নেওয়া হয়। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।রাজনীতি, পারিবারিক বিষয়সহ নানা হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন মেঘমল্লার। সেই পোস্ট দেখে তার সহকর্মীরা খোঁজ শুরু করেন।ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ জানান, বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেটের কাছে অচেতন অবস্থায় মেঘমল্লারকে পাওয়া যায়। ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ লেখায় মেঘমল্লার নিজের হতাশা, অপরাধবোধ ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তার সাবেক প্রেমিকা চূড়াকে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী না করার অনুরোধ জানান। তিনি লেখেন, ওই নারী তাকে জীবনে অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন এবং তার মৃত্যুর জন্য তাকে দায়ী করা ঠিক হবে না।

আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মেঘমল্লার বসু

বিএনপির মিডিয়া নীতি নিয়ে মাহমুদুর রহমানের প্রশ্ন

মাহমুদুর রহমানের মতে, বিএনপির সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যাপূর্ণ। তাঁর অভিযোগ, দেশের বড় একটি অংশের সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের প্রতি বৈরী আচরণ করেছে। তবে একই সঙ্গে বিএনপি নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শভিত্তিক কোনো সুসংগঠিত মিডিয়া নীতি গড়ে তুলতে পারেনি বলেও মনে করেন তিনি।তিনি ২০০৪ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, বিএনপির পক্ষে সংবাদপত্র না থাকা নিয়ে তখন দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু এর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুর্বলতার কারণে এক-এগারো থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময় বিএনপিকে গণমাধ্যমে প্রতিকূল প্রচারণার মুখে পড়তে হয়েছে। মাহমুদুর রহমানের অভিযোগ, বর্তমান বিএনপি সেক্যুলার ও সুশীল গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে ‘আমার দেশ’-এর মতো ভিন্নধারার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দলটির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশের পর বিএনপির সাইবার সেলের বয়কটের আহ্বানকে তিনি প্রত্যাশার বাইরে এবং বিদ্বেষমূলক আচরণ হিসেবে দেখেছেন। সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও প্রথম আলোর বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে মাহমুদুর রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, বিএনপির সাইবার সেল শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ নেবে। তাঁর মতে, গণমাধ্যম বিষয়ে বিএনপির বর্তমান অবস্থান ও কৌশল এখনো স্পষ্ট নয়।

বিএনপির মিডিয়া নীতি নিয়ে মাহমুদুর রহমানের প্রশ্ন

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা: রিজভী

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট-সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এমপি।রিজভী বলেন, দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরকেন্দ্রিক সংঘাত, এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা এবং মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার বসে নেই। অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত গ্যাস সংগ্রহের জন্য মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে জানিয়ে রিজভী বলেন, একদিকে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার ও সমুদ্রপথে এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ কারণে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।রাজপথে কর্মসূচির প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের সমালোচনা করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা উচিত। রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।রিজভী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু সরকারের সমালোচনা করা নয়, সংকট সমাধানের পথও দেখানো। একই সঙ্গে সরকারকেও তার উদ্যোগ আরও কার্যকর করতে হবে।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে এমন অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল, যেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছে। জনগণের কোষাগার থেকে এসব কেন্দ্রের মালিকদের বিপুল অর্থ দেওয়া হয়েছে।এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানার সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তাঁর ভাষ্য, জনগণের অর্থ ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল।ব্যাংক খাতের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ব্যাংক থেকেও জনগণের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিতে ইনডেমনিটি আইন করা হয়েছিল, যাতে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সহজে মামলা করা না যায়।রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারেন। উচ্চ আদালত, গণমাধ্যম, পুলিশ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হবে।গণমাধ্যম প্রসঙ্গে রিজভী অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্য, আত্মীয়তা ও ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে গণমাধ্যমের লাইসেন্স দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। এর মাধ্যমে দুঃশাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। শিশু, শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারকে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে, পাশাপাশি নাগরিকদেরও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য চিত্রনায়ক হেলাল খান। বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, জাসাসের সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন, বিএনপির সহসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইদ সোহরাব, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফু এবং গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামিমুর রহমান শামিমসহ অন্যরা।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা: রিজভী

বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় এনসিপির প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি।এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ভেনিসে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একজন যোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। তাঁদের অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নারী ও শিশুকেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।বিবৃতিতে এনসিপির নেতারা বলেন, দেশজুড়ে গণহত্যা ও জুলুমের অভিযোগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এরপর দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থান করছে। তাঁদের অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে থেকেও আওয়ামী লীগের ওই নেতাকর্মীরা জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার চেষ্টা করছেন।এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগের কথিত হিংস্র ও খুনে মানসিকতায়’ কোনো পরিবর্তন আসেনি। জয়ের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগএনসিপির নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে অবস্থান করার সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তাঁদের দাবি, জয়ের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা কয়েকজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ ক্যাডার বাঁধন ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলায় জড়িত। হামলার সময় বাঁধনকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।এনসিপির নেতারা বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদত ও উসকানিতে রাজনৈতিক সহিংসতা পরিচালিত হচ্ছে। ভেনিসের ঘটনাটি তারই প্রমাণ বলে দাবি করেন তাঁরা। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনর্মিলনের সুযোগ নেই।জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিএনসিপির নেতারা বলেন, যারা বিদেশের মাটিতেও জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালায়, তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। তাঁদের ভাষ্য, স্বৈরাচারের পতন ঘটানো জুলাইয়ের যোদ্ধারা জাতীয় সম্পদ। বিদেশের মাটিতে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।এ ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি। ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ফেরত এনে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এনসিপির নেতারা।বিদেশে অবস্থানরত জুলাইয়ের যোদ্ধা, প্রবাসী কর্মী ও সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে এনসিপির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভেনিসের হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করা না হলে বর্তমান সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। তাঁরা আরও বলেন, এনসিপি বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ও বিদেশের সব মঞ্চে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় এনসিপির প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি

ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী বদলাচ্ছে এনসিপি

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটিতে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণ সিটিতে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করা হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা আসতে পারে।এর আগে গত ২৯ মার্চ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের নাম ঘোষণা করেছিল।এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের সর্বশেষ বৈঠকে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সূত্রের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় ঢাকার দুই সিটিতে তাদের প্রার্থীদের বিবেচনায় রেখে নতুন কৌশল নিয়েছে এনসিপি।দলীয় সূত্র জানায়, এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের পরিবর্তে ঢাকা উত্তরের আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উত্তরা থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন।এনসিপির গণমাধ্যমবিষয়ক উপকমিটি জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩ অনুসরণ করে তাঁদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন আবেদন অনুমোদন করেছে।এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির ঘোষিত মেয়র প্রার্থী তারিকুল ইসলামও ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। মুরাদনগর থেকে স্থানান্তর হয়ে তিনি কুমিল্লা সিটির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন। তিনি কুমিল্লা সিটিতে এনসিপির প্রার্থী থাকছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক।

ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী বদলাচ্ছে এনসিপি

জামায়াতের স্থানীয় কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ, শার্শায় বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ সদস্য

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন ২০টি পরিবারের ৬০ সদস্য। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাগআঁচড়ায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।যোগদানকারীদের ভাষ্য, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজেদের চিন্তা-চেতনা বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।অনুষ্ঠানে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাস নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন মনিরুল হক, জাহানারা বেগম, রোজিনা খাতুন, সানজিদা খাতুন, কোহিনূর বেগম, শুকজান, হোসনে আরা, রুপালি, মনিরুজ্জামান মনি, মিনু, ইসমাইল, রুমা, সালমা, আন্না, আবু তাহের, রেবেকা, জোসনা ও ঝরনা।অনুষ্ঠানে মনিরুল হক বলেন, ‘জামায়াতের স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম না। এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করতেই আমরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।’আগামী দিনে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোনায়েম হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি শাহাজান কবির, বাগআঁচড়া শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবু, বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

জামায়াতের স্থানীয় কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ, শার্শায় বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ সদস্য

তিন বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী এমপিদের ওয়াকআউট

তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। রোববার রাতে অধিবেশন থেকে বের হওয়ার সময় তাঁদের কয়েকজন মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ ভবন ত্যাগ করেন।রোববার রাত ৮টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন চলছিল। এ সময় ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাসের বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় এমপিরা।একপর্যায়ে প্রতিবাদ হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির সংসদ সদস্যরা অধিবেশন বর্জন করে বেরিয়ে যান। পরে সংসদ ভবনের টানেলে সংবাদ সম্মেলন করেন তাঁরা।৬ সেপ্টেম্বরকে ‘কালো দিন’ বললেন বিরোধীরাসংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতারা ৬ সেপ্টেম্বরকে সংসদের জন্য ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিতর্কিত তিনটি বিল পাসের মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপেক্ষা করা হয়েছে।একই সঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তোলেন তাঁরা।বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও তাঁকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরং স্পিকার বিষয়টি নিয়ে মশকরা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।স্পিকারের এমন আচরণকে অত্যন্ত হতাশাজনক ও পক্ষপাতমূলক বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।‘তড়িঘড়ি করে বিল পাস’বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের অভিযোগ, বিরোধীদলের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল তড়িঘড়ি করে সংসদে উত্থাপন ও পাস করেছে।তাঁর দাবি, এসব আইনে স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনার ন্যূনতম সুযোগও রাখা হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে আপত্তিজামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমান ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’-এর বিরোধিতা করেন। তিনি বিলটিকে সরাসরি কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী বলে দাবি করেন।এ সময় আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে নজিবুর রহমান বলেন, ইসলামি বিধান সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকায় আইনমন্ত্রী সংসদে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন।স্পিকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, স্পিকারের মূল দায়িত্ব ছিল সংসদে ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।‘কালো আইন’ বললেন নজিবুর রহমাননজিবুর রহমানের অভিযোগ, সরকার মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনকে আরও কার্যকর করার পরিবর্তে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্বল করে সংসদে পাস করেছে।তিনি আইনটিকে ‘কালো আইন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর ফলে জনগণের মানবাধিকার আরও সংকুচিত হবে। ভবিষ্যতে গুম ও হত্যার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।নজিবুর রহমান বলেন, ১৭ বছরের সীমাহীন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা ভুলে গিয়ে সরকার আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনার পথে হাঁটছে।তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী এমপিদের এই ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে বিলগুলোর বিষয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এলো।

তিন বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী এমপিদের ওয়াকআউট

জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর রহমান

জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় জোটের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। জনগণের দাবি আদায়ের জন্যই আমাদের এই কর্মসূচি।জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের আমির।তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে।জনগণের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, গ্যাস নেই, পানি নেই, ইলেকট্রিসিটি নেই, কিন্তু গ্যাসের বিল যথারীতি আছে। বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল আছে। এ ধরনের হয়রানি থেকে জনগণকে রেহাই দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর রহমান

বিএনপির নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে

বিএনপির নেতৃত্বেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তাঁর দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাকশাল থেকে দেশের মানুষকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছিলেন এবং বিএনপির নেতৃত্বেই এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রকে লালন করেছেন।মঙ্গলবার টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। তাঁর নেতৃত্বের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি গণতন্ত্রকামী আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যতবার ষড়যন্ত্র হয়েছে, ততবারই বিএনপি গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তা প্রতিষ্ঠিত করেছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিপক্ষে যায়নি।ছয় মাসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিসরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা, খাল খনন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও পোশাক দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছেদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করার পাশাপাশি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রও চলছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

বিএনপির নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে