ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

রাজনীতি

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা দমনে সরকারকে কঠোর হতে হবে: শফিকুর রহমান

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা দমনে সরকারকে কঠোর হতে হবে: শফিকুর রহমান

পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।আজ সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।পোশাকশিল্পের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান লেখেন, এ খাতে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে।তিনি বলেন, কোনো মালিক বা শ্রমিকই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। তাঁর বিশ্বাস, কোনো শ্রমিক এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না।পোশাকশিল্পের অস্থিরতার পেছনে ষড়যন্ত্রকারীদের ভূমিকা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি লেখেন, ‘ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে বলে মনে হয়।’এ পরিস্থিতিতে শিল্প খাতে অস্থিরতা নিরসনে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নতুন দল নয়, ‘সমমনা ইসলামী দল’ ব্যানারে এক হচ্ছে সাত দল

নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন না করে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামে অভিন্ন ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কওমি ঘরানার সাতটি সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দল। একই সঙ্গে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলোও এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করবে বলে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন নেতারা।বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাখযানুল উলুম মাদরাসায় সাত দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।সকাল ১০টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। এতে দলগুলোর ঐক্যপ্রক্রিয়া, অভিন্ন ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরবর্তী কর্মপন্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করা হবে না। বরং ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামটি অভিন্ন ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তবে প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখবে।এদিকে আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলোও বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করবে বলে নেতারা একমত হয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া।এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন ও মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদির ও মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসেন রাজীসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অন্য নেতারাও বৈঠকে অংশ নেন।

নতুন দল নয়, ‘সমমনা ইসলামী দল’ ব্যানারে এক হচ্ছে সাত দল

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপি আঁতাত করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দায় বিরোধী দলের ওপর চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া উচিত সরকারের।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার। সাত মাসে সরকার লেজে-গোবরে জড়িয়ে গেছে।’বিএনপি নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করছে না বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, ৩১ দফার ৯ নম্বর দফার বিপরীতে গিয়ে সরকার সব ক্ষেত্রেই দলীয়করণ করছে।

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো: শফিকুর রহমান

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো। তবে তাঁর অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে নেতিবাচক কিছু দেখছেন না তিনি।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সফরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।পুরান ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ইশরাক হোসেনের হাতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মাদক সমাজ ও মানুষের শরীরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতের আমির বলেন, ‘তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো এতটুকু। তার কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই। তিনি হয়তো ভালো নিয়তেই করেছিলেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নেই। তারা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ইউজ করে।’তিনি আরও বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, নির্মূল করতে চায় জামায়াতমাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাঁদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁরা মাদক নির্মূল করতে চান।মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা।

ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো: শফিকুর রহমান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতায় ফাঁদে পড়েছেন ইশরাক: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার কারণে ফাঁদে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। মাদক নির্মূলের উদ্দেশ্য নিয়ে ইশরাক নতুনভাবে রাজনীতিতে কাজ শুরু করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সোমবার সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ইশরাক ভাই নতুনভাবে রাজনীতিতে নেমেছেন। উনার মতলব ভালো ছিল, মাদকের বিষয়টি যাতে বন্ধ হয়, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতায় ফাঁদে পড়লেন তিনি।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, সমস্যাটা তো হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। গুলি কেন খেলেন ইশরাক ভাই? অর্থাৎ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষ করে। আরেকজন এই পাপে ভোগেন। এটা আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা। মাঝখান দিয়ে ইশরাক ভাই ফাঁদে পড়ে গেলেন।হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নবিএনপি সরকারের আমলে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলা হলেও তাঁরা ভালো নেই। বিএনপি সরকার তাঁদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গত তিন-চার মাসের যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সেখানেও বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনা দেখা গেছে।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নিয়ে সম্প্রীতির আহ্বানজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাইয়ের ঘটনা প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিষয়টি তাঁদের কাছে তুলে ধরার জন্য তাঁকে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষোভ, দুঃখ বা আঘাত পান।তিনি বলেন, আবার এই কথা বলতে গিয়ে আজকে আমাকে শাহবাগী হিন্দুদের নতুন ভার্সন এ ধরনের ট্যাগ দিয়ে দিয়েন না। তারা বিষয়টা বলেছেন আপনাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য। তারাও আপনাদের ভালোবাসেন, আর আপনারাও তাদের ভালোবাসেন। আমি আপনাদের কাছে মেসেজটা পৌঁছে দিয়েছি।দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দূর করতে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রয়োজনে উভয় পক্ষের একসঙ্গে বসা উচিত। তাঁর আশা, আলোচনার মাধ্যমে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতায় ফাঁদে পড়েছেন ইশরাক: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ব্যর্থতার দায় শুধু ইশরাকের নয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: হাসনাত

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে রাস্তায় নামতে হওয়াকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ পরিস্থিতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন। তাঁর মতে, ইশরাক হোসেনকে সরিয়ে দিয়ে মূল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন আড়াল করা হচ্ছে।হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও কেন জনাব ইশরাক হোসেনকে নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো সরকারের কাছে এই প্রশ্নের জবাব চাওয়া জরুরি। এর পেছনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে মাঠে নামতে হতো না। এ পরিস্থিতির দায় শুধু ইশরাক হোসেনের একার নয়; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরও বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রতিমন্ত্রীকে সরালেই কি সমস্যার সমাধান?হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়াকেই যদি সমস্যার সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে?রাষ্ট্রীয় তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শনের প্রসঙ্গও টানেন। তিনি লেখেন, একই ধরনের প্রশ্ন দেখা যায় যখন প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে গিয়ে টয়লেট পরিদর্শন করতে হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীকে কেন সেখানে যেতে হবে?ব্যর্থতার দায় ব্যক্তির ওপর চাপানোর অভিযোগসরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা আড়াল করতে ব্যক্তিকে বলির পাঁঠা বানিয়ে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতে এসব ব্যর্থতার কারণে জনগণ রাস্তায় নেমে এলে সরকার কাকে পদত্যাগ করিয়ে দায় এড়াবে?ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, দিনশেষে ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের ব্যর্থতার বলি হতে হবে জনাব ইশরাক হোসেনদের।

ব্যর্থতার দায় শুধু ইশরাকের নয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: হাসনাত

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি এনসিপির, একদলীয় কমিটি বাতিলের আহ্বান

গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং সরকারের গঠিত একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে দলটি জানিয়েছে, সরকারের একতরফা সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় তারা অংশ নেবে না। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়।দলটির দাবিগুলো হলো—অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে দ্রুত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং ওই একদলীয় কমিটিতে এনসিপির অংশ না নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো।সংবাদ সম্মেলনে দলের বক্তব্য তুলে ধরে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য (এমপি) আখতার হোসেন বলেন, সংসদীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে সব দলের সম্মতিতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের একটি রূপরেখা তৈরি হয়েছিল।কিন্তু সরকার সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এটি গণভোটের রায়ের সঙ্গে চরম প্রতারণা এবং সংস্কার নস্যাৎ করার চক্রান্ত।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি এনসিপির, একদলীয় কমিটি বাতিলের আহ্বান

আদালতে আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আইনজীবী এবং অপরজন একজন আইনজীবীর ভাই। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।বুধবার আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফতুল্লার আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তাঁদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম কাজল, তাঁর ভাই আতিকুল ইসলাম এবং আইনজীবী মাহাবুব রহমান।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে শহরের আল্লামা ইকবাল রোডের বাসা থেকে জিয়াউল ইসলাম কাজল ও তাঁর ভাই আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে দেওভোগের পাক্কা রোড এলাকার গার্মেন্টস গলি থেকে মাহাবুব রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।পুলিশের দাবি, আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দেওয়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, সে বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এর আগে মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা তুহিন হত্যা মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনের বিষয়ে আদালতে শুনানি হয়। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নিম্ন আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানি ও পুনরায় জামিনের আবেদনের জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।আদালতের কার্যক্রম শেষে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় নেতাকর্মীদের বেষ্টনীর মধ্যে ছিলেন আইভী। এ সময় তাঁকে ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, জয় বাংলা’ বলতে শোনা যায়। উপস্থিত নেতাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান।

আদালতে আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

চলে গেলেন বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বড় ছেলে তানভীর আহমেদ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর মৃত্যুর খবরে বিএনপির নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ এবং জানাজা ও দাফনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

চলে গেলেন বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ: হাসনাত আবদুল্লাহ

বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবস্থানের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বিএনপির মুখে জুলাই থাকলেও অন্তরে রয়েছে আওয়ামী লীগ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দলটির কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডের এই দ্বৈত অবস্থান দেশজুড়ে অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।মঙ্গলবার বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনপিতে দুটি ধারা দেখা যাচ্ছে। একটি ধারা গত দেড় থেকে দুই দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং জেল-জুলুম ও মামলার শিকার হয়েছে। অন্য ধারাটি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে বিএনপির পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছে।হাসনাতের অভিযোগ, এই সুযোগসন্ধানী অংশ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জুলাই অভ্যুত্থানের মামলাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ‘মামলা বাণিজ্য’ চালাচ্ছে।মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে না জানিয়ে দুই থেকে আড়াই শ ব্যক্তিকে আসামি করে গণহারে মামলা করা হচ্ছে। পরে আসামিপক্ষের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতা করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত খুনি ও হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলাগুলোর কতটিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। হাসনাতের দাবি, অভিযোগপত্র দেওয়া হলে মামলা বাণিজ্যের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে—এ কারণেই মামলার তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা করা হচ্ছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, বালুমহাল ও সিএনজি স্ট্যান্ড দখল এবং সারের ডিলারশিপের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে একটি পক্ষ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। তা না হলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আঁতাতের দায় বিএনপিকে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ: হাসনাত আবদুল্লাহ

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করলেন সাদিক কায়েম

রাজধানীর চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।এ সময় অগ্নিকাণ্ডে মানুষের সর্বস্ব হারানোর জন্য সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রের উদাসীনতাকে দায়ী করেন সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যথাযথভাবে তদারকি করছে না সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, উন্নত প্রশিক্ষণ ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে।সাদিক কায়েম আরও বলেন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের অভাবে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার ফাইটারদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অনেকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, আবার অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।সোমবার রাতে চকবাজারে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে চারজন ফায়ার ফাইটার আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের অভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই ফায়ার ফাইটাররা আহত ও নিহত হচ্ছেন। বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি ফায়ার সার্ভিসের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রশিক্ষিত কর্মী গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।নগরবাসীর উদ্দেশে সাদিক কায়েম বলেন, আগামীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পেলে ঢাকাকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান, চকবাজার-বংশাল জোনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যক্ষ এস এম আহসান উল্লাহ, চকবাজার দক্ষিণ থানা আমির আনিছুর রহমান, পূর্ব থানা আমির রফিকুল ইসলাম সিকদারসহ চকবাজার থানা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও ব্যবসায়ীরা।

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করলেন সাদিক কায়েম

বিএনপি ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ফিরিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই শক্তির কারণে দেশের মানুষ অধিকার ফিরে পাচ্ছে না। তাঁদের কারণে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও নষ্ট হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দুর্নীতি ও বাণিজ্যের প্রতিবাদে শরীয়তপুর পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। শরীয়তপুর জেলা এনসিপি এ সভার আয়োজন করে।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের এখন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে চাঁদাবাজ ও স্বৈরাচার একাকার হয়ে গেছে। যে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, সেই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে দলটি অনেক দূরে সরে গেছে।তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি বিদেশে আওয়ামী লীগ, দেশে বিএনপি। এই দুই শক্তির কারণে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাচ্ছে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা নষ্ট হয়েছে।’দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগদ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ১ হাজার ২০০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে। অথচ ওই দামেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। একেকটি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে তিনি দাবি করেন।নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে এবং এই সিন্ডিকেট বিএনপি নিয়ন্ত্রণ করছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বানস্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই শরীয়তপুর বার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কাউকে মনোনয়নপত্র তুলতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন পরিস্থিতি হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বৈরাচার, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষায় এগিয়ে আসার কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা রাতের ভোট করেছে, তাদের পরিণতির কথা মনে রাখতে হবে।’সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব। এ ছাড়া আবদুল্লাহ মো. হোসাইন, শরীয়তপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন এবং সদস্যসচিব সবুজ তালুকদারসহ দলের অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।

বিএনপি ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ফিরিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

চীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন নজরুল ইসলাম খান, আরোগ্য কামনায় নেতারা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান চিকিৎসার জন্য বর্তমানে চীনের গুয়াংঝুতে অবস্থান করছেন। সোমবার তিনি সেখানকার সান ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি হন।তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে চীন বিএনপির নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তাঁরা তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।প্রতিনিধিদলে ছিলেন চীন বিএনপির নেতা সাখাওয়াত হোসেন কানন, আশরাফুল ইসলাম ওয়ালী ও শেখ মাহবুবুর রশীদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।সাক্ষাৎকালে নেতারা প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।এদিকে চীন বিএনপির নেতাদের সম্মানে গুয়াংঝুর রাঁধুনি রেস্টুরেন্টে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত নেতাদের আপ্যায়ন করা হয়। এ সময় তাঁদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় হয়।নজরুল ইসলাম খানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার সবার মাঝে ফিরে আসার তৌফিক দেন- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্ট নেতারা।

চীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন নজরুল ইসলাম খান, আরোগ্য কামনায় নেতারা

পুলিশকে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়: জামায়াত নেতা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা খারাপ হলে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি জারি করতে হয়।আসন্ন ৩১ অক্টোবর ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা–খুলনা–যশোর–কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে রোববার যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সারা দেশে খুন, ছিনতাই ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে খুলনা ও যশোর অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি খুলনার পুলিশ সুপার এক নির্দেশনায় পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল করতে নিষেধ করেছেন।তিনি বলেন, একটি দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলাচলের ওপরই যদি এভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে ন্যায়বিচারভিত্তিক পরিবেশ ও স্বাভাবিক নিরাপত্তা ফিরে আসবে বলে জনগণের প্রত্যাশা ছিল উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সার ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।এসব দাবি আদায়ে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে শুরু হয়ে মাওয়া, খুলনা ও যশোর হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।

পুলিশকে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়: জামায়াত নেতা

৫ মিনিট আগে পরীক্ষা ক্যান্সেল- কী নির্মম রসিকতা: হাসনাত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায় প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।শনিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় তিন লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁদের কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, আবার কেউ ধারদেনা করে চাকরির আশায় রাজধানীতে এসেছেন।হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ছিল। অথচ প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী যখন ১০০টি কেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তখন পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীক্ষা বাতিল করা হয়।এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘তিন লাখ মানুষকে ৫ মিনিট আগে জানানো হলো, পরীক্ষা ক্যান্সেল—কী নির্মম রসিকতা!’এত বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অর্থ জনগণের। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর একটি পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হলে চাকরিপ্রার্থীদের আবারও ধারদেনা করে ঢাকায় আসতে হবে। এতে তাঁদের হতাশা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত আমলা, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তাঁর আহ্বান, যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে, গ্রেপ্তার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার শেষে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র নির্মূলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, মন্ত্রী নিজেই যদি এই চক্রের প্রধান হন, তাহলে সেটি নির্মূল হওয়ার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত হবে।

৫ মিনিট আগে পরীক্ষা ক্যান্সেল- কী নির্মম রসিকতা: হাসনাত

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে আলোচনায় আমিনুল-জাহাঙ্গীর

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দলটির ভেতরে চলছে নানা সমীকরণ। গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক ইউনিটের নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত নতুন নেতৃত্বকে জায়গা দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম।সম্প্রতি রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও দলীয় শৃঙ্খলাজনিত কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর থেকেই মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।দলীয় সূত্র জানায়, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাদের ভূমিকা, ত্যাগ, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনপ্রিয়তা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকার গঠনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের কারণে যাতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে চায় দলটি।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আমার দেশকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। যেহেতু পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে, শিগগির নতুন কমিটি গঠন করা হবে। কীভাবে কমিটি দেওয়া হবে, সেটা পার্টি সিদ্ধান্ত দেবে।’দলটির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, শিগগিরই নতুন কমিটি গঠন করা হতে পারে। কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি হবে, নাকি কেন্দ্র থেকে সরাসরি ঘোষণা দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম। নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞ ও অপেক্ষাকৃত নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।ভোটাধিকার আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত ঢাকার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ইউনিটের আগের কমিটি বিলুপ্তির পেছনে নিচের সারির কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের পাশাপাশি নেতাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতাও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রয়েছে দলের ভেতরে।সভাপতি পদে আমিনুল, সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীরের নামনতুন কমিটির সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমিনুল হক। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন।এ ছাড়া শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ড. এমএ কাইয়ুম, মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব এবং আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের নাম।সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা আমিনুল হক বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর যুব প্রশিক্ষণ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্টেডিয়াম ও মিনি মাঠ নির্মাণ, খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া কার্ড এবং মাদকমুক্ত যুবসমাজ গঠনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ও দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছে।ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিতে আমিনুলের দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাও আলোচনায় রয়েছে। ২০২১ সালের ২ আগস্ট গঠিত ৪৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাইফুল আলম নীরব আহ্বায়কের দায়িত্ব পেলে আমিনুল আবারও সদস্যসচিব হন। পরে ৪ নভেম্বর ঘোষিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে আহ্বায়ক করা হয়।মহানগর উত্তরের নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, আমিনুল দায়িত্বে থাকার সময় জ্যেষ্ঠ ও নবীন নেতাদের ঐক্যবদ্ধ রেখে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় রাখতে পেরেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল। সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন থাকায় সংগঠন শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেও মনে করেন তাঁরা।তৃণমূলের নেতাদের কেউ কেউ আমিনুলের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকার কথাও তুলে ধরছেন। তাঁদের দাবি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ৪২টি মামলার মুখোমুখি হন এবং চারবার কারাবরণ করেন। একাধিকবার রিমান্ডে নির্যাতনের শিকারও হন তিনি। তাঁদের মতে, নতুন কমিটি গঠনের সময় এসব ত্যাগ ও রাজনৈতিক ভূমিকা মূল্যায়ন করা উচিত।সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক আমার দেশকে বলেন, ঢাকা মহানগর কমিটি গঠনের পর থেকে আমিনুল জ্যেষ্ঠ ও নবীন নেতাদের একসঙ্গে রেখে আন্দোলন-সংগ্রামে যেভাবে সক্রিয় রেখেছেন, অতীতের কোনো নেতৃত্ব তা পারেনি। এ বিবেচনায় নতুন কমিটিতে আমিনুলকে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।বাড্ডা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বাবু বলেন, বিগত সময়ে যাঁরা রাজপথে ছিলেন, তাঁদের দিয়েই কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। জুলাই বিপ্লবসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মহানগরকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পেছনে আমিনুলের বড় ভূমিকা ছিল। সভাপতি হিসেবে তাঁকে পেলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা খুশি হবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।সাধারণ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীরের অভিজ্ঞতাসাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা জাহাঙ্গীর হোসেনেরও রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা। ১৯৯০ সালে তিনি তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব হন। পরে কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপির দায়িত্ব পালন করেন।এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকার কারণে একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন জাহাঙ্গীর। ২০২৩ সালে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও কারাবাস করতে হয় তাঁকে।আলোচনায় নীরবও, তবে রয়েছে জটিলতাশীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় তাঁকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়। এখনো তিনি দলে ফিরতে পারেননি।এরপরও দলীয় আনুগত্য, জনপ্রিয়তা, সক্রিয় রাজনীতি এবং দলের দুর্দিনে ভূমিকার কারণে শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।তৃণমূলের প্রত্যাশা ত্যাগী নেতৃত্বনতুন কমিটি নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, দলের দুঃসময়ে যাঁরা মাঠে ছিলেন, মামলা-হামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করা হোক। একই সঙ্গে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনার পক্ষে মত দিয়েছেন তাঁরা।দলীয় পর্যায়ে নতুন প্রজন্মের দক্ষ নেতাদেরও কমিটিতে জায়গা দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিলে তৃণমূলে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার শুধু পুরোনো নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংগঠনের সমন্বয় কঠিন হতে পারে। এ কারণে অভিজ্ঞ ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে আলোচনায় আমিনুল-জাহাঙ্গীর