ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

জাতীয়

আমার দেশ পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত: মুহিউদ্দীন রব্বানী

আমার দেশ পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত: মুহিউদ্দীন রব্বানী

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী এসব কথা বলেন।বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা। সংবাদ কোনো পক্ষের অনুকূলে যেতে পারে, আবার কোনো পক্ষের বিরুদ্ধেও যেতে পারে। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো সংবাদপত্রকে হেয়প্রতিপন্ন করা কিংবা আক্রোশমূলক আচরণ করা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য সমীচীন নয়। জনগণও তাঁদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করে না।মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রকাশ্যে লাইভে এসে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সরকারের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।তিনি বলেন, কোনো সংবাদ বা সম্পাদকীয় অবস্থান নিয়ে আপত্তি থাকলে তা মোকাবিলার জন্য আইনি প্রতিকার চাওয়া কিংবা প্রতিবাদ জানানোর মতো গণতান্ত্রিক পথ রয়েছে। কিন্তু সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।বিবৃতিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের আচরণের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করবেন এবং আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করবেন যে তাঁরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৫০০ আবেদন

সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটির সুপারিশে নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৫০০ আবেদন জমা পড়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য গুরুতর অনিয়মের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে মন্ত্রণালয়।তবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও আমলাদের তদবির উপেক্ষা করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ডিলার নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ জানাতে বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগীরা মন্ত্রণালয়ে আসছেন। গত রোববার সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত নারী আসনের তিনজন সংসদ সদস্য এবং কৃষক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের অভিযোগ জানান।গত সোমবার ঝিনাইদহে একটি অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আইনি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস গত সোমবারও অনিয়মের অভিযোগে পাঁচ থেকে ছয়টি আবেদন জমা পড়ে। এর আগে একই ধরনের প্রায় ৫০০ আবেদন জমা হয়েছিল।সারের ভরা মৌসুমের আগে সমাধানের তাগিদআগামী নভেম্বর থেকে সারের ভরা মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। আলু, ভুট্টা, গম ও শীতকালীন সবজি চাষের কারণে এ সময় সারের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু ডিলার নিয়োগ নিয়ে জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি। মাঠপর্যায়ে সার না পাওয়ার অভিযোগও উঠছে। এতে উদ্বেগে রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।তবে সার ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে সারের মজুতের ঘাটতি নেই। আমার দেশ–কে তাঁরা বলেন, সৌদি আরব, বেলারুশ, মরক্কো ও কানাডা থেকে সার আমদানির কার্যক্রম চলছে। সারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ার আগেই ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মন্ত্রণালয়।চার বিষয়ে তদন্তডিলার নিয়োগে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এগুলো হলো—উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটির সুপারিশে অনিয়ম, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে ডিলার নিয়োগ, আওয়ামী লীগ সরকারের অনুসারীদের ডিলার নিয়োগের সুপারিশের নেপথ্য কারণ এবং নীতিমালা লঙ্ঘন করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার কারণ অনুসন্ধান।মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি, সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা এবং আমলাদের কেউ কেউ নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে কৃষিমন্ত্রী ও সচিবের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তবে মন্ত্রণালয় এসব তদবির আমলে নেয়নি। বাছাই কমিটির তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল বলে তাঁরা জানান।কৃষি সচিব সেলিম খান আমার দেশ–কে বলেন, নীতিমালা ও জেলার সুপারিশের ভিত্তিতে সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের তদারকি কমিটির সুপারিশে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেলে কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে আমলযোগ্য অভিযোগের সংখ্যা খুবই কম। প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক জেলা বগুড়া থেকেও বেশ কিছু আবেদন এসেছে। গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১০ জনের ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নউপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক (ডিসি)। ডিলার নিয়োগের সুপারিশ ও যাচাই-বাছাইয়ে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আবেদনকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির হয়েছে। কোথাও কোথাও সংসদ সদস্যদের আধা সরকারি চিঠি বা ডিও লেটার ব্যবহার এবং ইউএনও ও ডিসির কাছে তদবিরের জন্য অর্থ লেনদেনের চুক্তির অভিযোগও উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকেরা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।অভিযোগ তদন্তে কয়েকটি জেলার প্রশাসন কমিটি গঠন করেছে। গত ১৩ অক্টোবর যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক এলাহী তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। মনিরামপুর, অভয়নগর ও চৌগাছা উপজেলার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিজস্ব গুদাম নেই এমন ব্যক্তি ও অনভিজ্ঞদের ডিলার হিসেবে সুপারিশ, ইউএনওর তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তিকে ডিসির সুপারিশে প্রথম স্থানে নিয়ে আসা, রাজনৈতিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া।পাইকগাছা, বাঘারপাড়া ও ডুমুরিয়ায় অভিযোগখুলনার পাইকগাছায় সার ডিলার নিয়োগে অস্বচ্ছতা, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলা কমিটির পাঠানো তালিকা পরিবর্তনের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলের কথা বলে চাপ দেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। পরে জেলা বিএনপি ও প্রশাসনের প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে কয়েকটি ইউনিয়নে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তালিকার নিচের দিকে থাকা ব্যক্তিদের চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, কপিলমুনি ইউনিয়নে প্রথম স্থানে থাকা মেসার্স পপি এন্টারপ্রাইজের পরিবর্তে তৃতীয় স্থানে থাকা মেসার্স দৃশান এন্টারপ্রাইজকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ষোলাদানা ইউনিয়নে এসকেআর এন্টারপ্রাইজের পরিবর্তে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসার্স সুমি এন্টারপ্রাইজ এবং গড়াইখালী ইউনিয়নে মেসার্স যাবিন স্টোরের পরিবর্তে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসার্স অর্ণব এন্টারপ্রাইজকে ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ইউএনও ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত তালিকার বাইরে গিয়ে দলীয় বিবেচনা ও অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত আমার দেশ–কে বলেন, কমিটির বিবেচনা ও নীতিমালা অনুযায়ী যাঁকে প্রথম স্থানে রাখার প্রয়োজন, তাঁকেই রাখা হয়েছে। এরপরও সুপারিশে অনিয়ম থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ৮ নম্বর বাসুয়াড়ী ইউনিয়নে হাবিবুর রহমানকে সার ডিলারশিপ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন। তাঁর অভিযোগ, একাধিক প্রতারণা, অস্ত্র ও মাদক মামলার আসামি এবং নিজস্ব গুদামঘর নেই—এমন একজনকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।তবে হাবিবুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় প্রতিপক্ষরা মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। সব নিয়ম মেনেই তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন।খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া বাজারে মেসার্স মোল্ল্যা কৃষি ভান্ডারের নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন বিএনপি নেতার ছেলে রিয়াদ মোহাম্মদ। তাঁর নিজস্ব সার বিক্রির দোকান ও গুদাম নেই—এমন অভিযোগ তুলে ডিলারশিপ বাতিলের আবেদন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সবুজ মোড়ল।অন্যদিকে, ডুমুরিয়ার মাগুরখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সুকৃতি কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে একটি মিষ্টির দোকানকে গুদাম হিসেবে দেখিয়ে ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ অস্বীকার করে সুকৃতি কুমার মণ্ডল আমার দেশ–কে বলেন, দোকানটি অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল এবং দ্রুত খালি করা হচ্ছে। আগে আওয়ামী লীগের পদে থাকলেও বর্তমানে বিএনপির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, নিয়ম মেনেই ডিলারশিপ পেয়েছেন।ডুমুরিয়ায় ডিলার নিয়োগ নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ইউএনও সবিতা সরকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ব্যস্ত থাকায় পরে যোগাযোগ করতে বলেন।অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থাকৃষি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সার ডিলার নিয়োগে জালিয়াতি, প্রতারণা কিংবা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬, দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।মিথ্যা তথ্য দেওয়া, অনুপযুক্ত গুদাম দেখিয়ে ডিলারশিপ নেওয়া কিংবা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। প্রতারণা বা বিশ্বাসভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় এবং সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৫০০ আবেদন

সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগের সুযোগ পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।নির্বাচনের পর সরকারপ্রধানের এ সফর ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন তিনি। সেখান থেকে নৌপথে মোংলা নৌঘাঁটিতে যাবেন। মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাপ্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। অন্যদিকে মোংলা বন্দর দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার। এই দুই সম্ভাবনার সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল যুক্ত হলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।সফর উপলক্ষে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা বন্দর এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর প্রত্যাশাপ্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যান্য উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।স্থানীয়দের আশা, সুন্দরবনের পর্যটন উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মধ্য দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হবে।

সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা এবং জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীদের একটি অংশ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে। আর দেশের ভেতরে থাকা আরেকটি চক্র কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন অপতৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে এবং তাদের দোসররা সেই টাকায় দেশের ভেতরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।’নির্বাচনের আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল এবং টিকিট বিক্রির রাজনীতি করেছিল, জনগণ তাদের কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই পক্ষগুলো আবার এক হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।‘নিজেদেরই ভাগ্য বদলাতে হবে’দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করে নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই বদলাতে হবে।তিস্তা-পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিউত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে শিগগিরই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু ও শেষ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।এ ছাড়া প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া, কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে উন্নয়ন ও দেশ গড়ার কাজে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

নেতাকর্মীদের সংশোধনের নির্দেশ স্পিকারের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলেও বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মঙ্গলবার ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্পিকার বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বলছি, আপনারা নিজেদের সংশোধন করুন। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিয়ে নজির স্থাপন করেছেন।’সম্প্রতি ঢাকায় একটি হাসপাতাল দখলের অভিযোগের পর এক নারী সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া এবং ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ইশরাক হোসেন ভালো কাজ করতে চেয়েছিলেন। মাদকসেবী ও দুর্বৃত্তদের দমন করতেই তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন। তবে একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে বৈধ কিংবা অবৈধ—কোনো ধরনের অস্ত্রই মানায় না। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় মব সৃষ্টি করে চালের বস্তা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রশাসন ও পুলিশকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রকৃত জেলেরা ছাড়া অন্য কেউ জেলেদের জন্য বরাদ্দ চাল পাবেন না বলেও জানান স্পিকার।আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, নির্বাচন এলে অনেকেই সাধু-সন্ত সাজার চেষ্টা করেন। তবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো, ভোটাধিকার থাকার কারণে মানুষ নির্যাতন-অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ পায়।এলাকায় চাঁদাবাজি কমে এসেছে উল্লেখ করে স্পিকার সাধারণ মানুষকে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। কোথাও অনিয়ম দেখা দিলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর অনুরোধও করেন তিনি।

নেতাকর্মীদের সংশোধনের নির্দেশ স্পিকারের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

ঢাকা ডিসি ফরিদা খানমের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে দৃষ্টিনন্দন বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।রোববার আমিনবাজারে নিমগাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে একটি এলাকাকে মানুষের কল্যাণে কীভাবে সুন্দরভাবে পরিবর্তন করা যায়, আমিনবাজারের উদ্যোগ তার বড় প্রমাণ।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা এলাকাবাসী, তারা জানেন দুই মাস আগে এই জায়গাটার কী অবস্থা ছিল। আর আজকে প্রায় দুই মাস পরে এই জায়গাটির কী পরিবর্তন হয়েছে! এই চার কিলোমিটার এলাকার মানুষের কাছে জায়গাটি দেখতে ভালো লাগার পাশাপাশি ভালো পরিবেশে শ্বাস নেওয়াও এখন সহজ হয়েছে।সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব এলাকাবাসীরওপ্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার উদ্যোগ নিয়ে এলাকাটিকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছে। এখন এই সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব এলাকাবাসীকেও নিতে হবে। জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে।আমিনবাজারের এই উদ্যোগ চার কিলোমিটার এলাকার বাইরেও সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন তারেক রহমান। মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মিল-কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের ফাঁকা জায়গাগুলো ভাগ করে সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।স্থানীয় সংসদ সদস্যদের এ কাজে জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে এলাকাটিকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অন্য ৬৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।অন্য জেলার প্রশাসকেরাও এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।দুই দশকের ভাগাড় থেকে সবুজ বাগানপ্রায় দুই দশক ধরে আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে বড় বড় স্তূপ তৈরি করা হয়েছিল। কোনো কোনো জায়গায় এসব বর্জ্যের স্তূপ ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে উঠেছিল।গত ৭ জুলাই মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে আমিনবাজারের এই ভাগাড় ও দুর্গন্ধ প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বর্জ্য অপসারণ ও এলাকাটির সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়।বর্জ্য সরানোর পর জমি প্রস্তুত করা হয়। মাটি সুরক্ষায় প্যালিসেডিং করা হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয় ২০টি সারফেস ড্রেন ও একটি সার্ভিস শেড। মাটির ক্ষয়রোধে লাগানো হয় নেপিয়ার, দুর্বা ও বিন্নাসহ বিভিন্ন ধরনের ঘাস।চার কিলোমিটারজুড়ে ৬ হাজার ৫৮৫টি গাছপ্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ থেকে ২৫ মিটার চওড়া এই বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ৬ হাজার ৫৮৫টি গাছ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৫০টি নিমগাছ, ৩ হাজার ৮১৫টি সুপারি, ৬০টি তালগাছ, ৬৫০টি মাধবীলতা, ৪৫টি সিজিয়াম ও ৭০০টি রঙ্গনগাছ।পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল ও ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার বায়ু টারবাইন। রাতের আলোকসজ্জার জন্য বসানো হয়েছে ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি।দীর্ঘদিনের বর্জ্যের ভাগাড় সরিয়ে গড়ে তোলা এই বাগানের ফলে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ আমিনবাজার এলাকায় নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন ধরে রাখতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পরিচর্যা ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ঢাকা ডিসি ফরিদা খানমের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করলে স্বৈরাচারের পথ খুলবে: তারেক রহমান

সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই দেশের জনগণ দায়িত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে বিরোধী দল বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ তৈরি করা হলে তা জুলাইয়ের শহীদ ও একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে গাদ্দারির শামিল হবে।সোমবার ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা খেয়াল করছি, দেশের মানুষ খেয়াল করছে যে, বিরোধী দল বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করে যাচ্ছে। ঠিক আছে, বিরোধিতা আপনারা করেন, কিন্তু আজকে বিরোধিতা করতে গিয়ে আপনারা যদি স্বৈরাচারকে আসার পথ উন্মুক্ত করে দেন, তাহলে অবশ্যই সেটি দেশের জন্য কোনো ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না। সেটি যেমন জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি করা হবে, একইভাবে ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও গাদ্দারি করা হবে।’বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নজুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের উপস্থিত না থাকার বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দলের নেতারা সরকারের মঞ্চে না বসলেও জুলাইয়ের শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে এসে বসতে পারতেন। কিন্তু অনুষ্ঠানে তাঁদের দেখা যায়নি।তিনি বলেন, ‘এই মঞ্চে বসার দরকার নেই। ঠিক আছে, সরকারের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব আছে, থাকুক দূরত্ব। যদি আপনারা দূরত্ব রাখতে চান, কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু যে মানুষগুলোর জন্য আজকে আপনারা বিরোধী দলের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, যে মানুষগুলোর জীবন উৎসর্গের কারণে, আহত হওয়ার কারণে, চোখ হারানোর কারণে আজ আপনারা বিরোধী দলের নেতা হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন; সেই মানুষগুলোর মাঝেও তো আমরা আপনাদের দেখতে পাচ্ছি না।’প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধী দলের নেতারা জুলাইয়ের শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে বোঝা যেত, তাঁরাও বিএনপির মতো জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেন।মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে সরকারপ্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। জনগণের ভোট নিয়ে বিরোধী দল যেমন সংসদে বসেছে, তেমনি জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে সরকারি দল।তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল মানেই জনগণের প্রতিনিধিত্ব আর সরকারি দল মানে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নয়, সরকারি দল মানেই মনে করা হবে যে তারা মানুষের স্বার্থ দেখছে না’—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।তারেক রহমান বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই এক পক্ষকে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করে অন্য পক্ষকে মানুষের স্বার্থবিরোধী হিসেবে তুলে ধরা ঠিক নয়। দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করলে স্বৈরাচারের পথ খুলবে: তারেক রহমান

৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন, উদ্বোধন হলো ওসমানী উদ্যান ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ

রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন করা অংশ এবং সেখানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার সকাল ১০টায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যান ও স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন।প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়নের পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ওসমানী উদ্যান আবারও নগরবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশ শেষে উদ্যানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা রয়েছে।সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, প্রায় ১০ বছর বন্ধ থাকার পর ওসমানী উদ্যান আবারও নগরবাসীর ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। উদ্যানটির আধুনিকায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিকায়নের মাধ্যমে উদ্যানটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও জনবান্ধব করে সাজানো হয়েছে। এর ফলে নগরবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা, অবসর যাপন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।জুলাই অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিওসমানী উদ্যানের প্রাঙ্গণে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’।স্মৃতিস্তম্ভটির মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক আন্দোলনের ঘটনাবলি ও শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করার সুযোগ পাবেন। উদ্যানের আধুনিকায়নের পাশাপাশি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগকে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর উদ্যানটি চালু হওয়ায় রাজধানীবাসীর জন্য নতুন করে অবসর কাটানোর একটি উন্মুক্ত স্থান তৈরি হলো। আধুনিকায়নের মাধ্যমে উদ্যানটিকে আরও জনবান্ধব করে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন, উদ্বোধন হলো ওসমানী উদ্যান ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ

দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।আজ সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেন এ কথা জানান। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার পর গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লেখেন, কিছু মানুষকে তাঁর পদত্যাগের খবরে উল্লাস করতে দেখেছেন। ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা যেন জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে তাতে অংশ নেন, সেই আশা করেন তিনি।ইশরাক আরও লেখেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করা হবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফর করার সুযোগও থাকবে তাঁর। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’যেভাবে পদত্যাগের নির্দেশসরকারসংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র গতকাল রোববার জানায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পাঠান। সেখানেই পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সূত্রগুলো জানায়।এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও নিয়ে সমালোচনাশনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় ওই অভিযান চালানো হয়। ইশরাকের নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ এ সময় তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে ধরতে দৌড়াচ্ছেন। তাঁদের একজন এক তরুণকে লাথি মারেন। এ সময় কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ইশরাকের নিজের নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। ইশরাকের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। তবে গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।তদন্ত করছে ডিএমপিইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতিও দেন ইশরাক হোসেন। এতে তিনি দাবি করেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে ওই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।এর আগে পদত্যাগ করেন সংসদ সদস্য মিষ্টিইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজনের নাম সামনে আসে। ঘটনাটি নিয়ে সরকার ও দলের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়। মিষ্টির রাজনৈতিক দায় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে।মিষ্টির পদত্যাগের আড়াই সপ্তাহের মধ্যে এবার অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। দুটি ঘটনাতেই দল ও সরকারকে বিব্রত করা কর্মকাণ্ডের পর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।

দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন

অন্যায়-অত্যাচার ও নিপীড়নকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার শিক্ষা: রাষ্ট্রপতি

অন্যায়-অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং এসবকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের অন্য কোথাও আছে বলে তাঁর জানা নেই। বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ চলছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে পারছেন। এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্গাপূজা তাঁদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে, আর এ দেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতিরমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে ১৯৭৩ সালে এটি ধ্বংস করা হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেন, তাঁদের হাতেই এ অপকর্ম হয়েছিল।তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রমনা কালীমন্দির পুনঃস্থাপিত হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিকে পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।সম্প্রীতি নিয়ে অপপ্রচার বন্ধের আহ্বানদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে প্রায়ই অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার চালানো হয়।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্গাপূজার সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান।অনুষ্ঠানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য উপস্থিত ছিলেন।এ সময় রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

অন্যায়-অত্যাচার ও নিপীড়নকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার শিক্ষা: রাষ্ট্রপতি

অর্থ পাচারের মামলায় কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি মামলার আসামি বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ১৫ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করে কাতার পুলিশ। ইন্টারপোলের ই-মেইলের মাধ্যমে দুদককে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।রোববার দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা দুটি করেন।দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ আব্দুল হান্নান জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তাঁর নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।মামলায় বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে তিনি এসব সম্পদ অর্জন করেন। ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়।স্ত্রীর বিরুদ্ধেও সম্পদ অর্জনের মামলাশেখ আব্দুল হান্নানের স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তাহমিদা বেগম ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।দুদকের অভিযোগ, স্বামীর সহায়তায় এসব সম্পদ অর্জন করেন তাহমিদা। এ মামলায় তাঁকে ও শেখ আব্দুল হান্নানকে আসামি করা হয়েছে।বিদেশে সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদকদুদকের অনুসন্ধানে কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে শেখ আব্দুল হান্নানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া কানাডায় তাঁর সন্তানদের নামে বিপুল সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়ার দাবিও করে সংস্থাটি। তবে এসব সম্পদের বিস্তারিত তথ্য মামলার তদন্তে যাচাই করার কথা জানিয়েছিল দুদক।দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যে ২০২৫ সালের ৫ মে শেখ আব্দুল হান্নান, তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগম ও ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।পরদিন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ আব্দুল হান্নানের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন আদালত। ওই বছরের ২৪ মে শেখ আব্দুল হান্নান, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের নামে থাকা মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়।পরে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর তাঁর সহযোগী সানজিদা আক্তারের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ১০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ আড়াল করতে সানজিদার নামে ফ্ল্যাট দুটি কিনেছিলেন শেখ আব্দুল হান্নান।চলতি বছরের ৩০ মার্চ শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেন আদালত। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে দুদকের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় শেখ আব্দুল হান্নানের নামে থাকা ৩৪ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেন আদালত। দুদকের আবেদনে জমিটির দলিলমূল্য ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়।বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন তিন বছরশেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২১ সালের ১২ জুন বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ আব্দুল হান্নান। ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি অবসরে যান।

অর্থ পাচারের মামলায় কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার সকাল ১০টার দিকে সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি হলো শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং জনগণের আস্থা অর্জন।এর আগে অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটের কাছে জাতীয় পতাকা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকাল সোয়া ৯টার দিকে গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান তিনি। এ সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।সেনানিবাসে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। পরে উপস্থিত সেনাসদস্যদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এদিকে, সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শনিবার তিনি দেশে ফেরেন।সফরের প্রথম পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত ‘স্থলবাহিনী প্রধানদের আলোচনা সভা এবং প্রতিরক্ষা আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ২০২৬’-এ অংশ নেন সেনাপ্রধান। এ সময় তিনি মেলবোর্নে অবস্থিত ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে বাংলাদেশের সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘মার্কিন সেনাবাহিনীর বার্ষিক সম্মেলন ও প্রদর্শনী’তে অংশ নেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সফরকালে তিনি অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি দুই দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাও পরিদর্শন করেন।সংশ্লিষ্টদের আশা, সেনাপ্রধানের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিদ্যমান পেশাগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় নজরদারি, বসছে ৩২ সিসিটিভি ক্যামেরা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরের আটটি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ৬৫ ইঞ্চি আকারের ১৮টি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে।শনিবার বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।নতুন ব্যবস্থায় যাত্রীরা লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের বিভিন্ন ধাপ সরাসরি দেখতে পারবেন। উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, নির্ধারিত স্থানে নেওয়া, বাছাই করা এবং লাগেজ বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার দৃশ্য স্থাপিত মনিটরে সরাসরি দেখানো হবে।এর ফলে লাগেজ পরিবহনের কার্যক্রম সম্পর্কে যাত্রীদের ধারণা আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে বেবিচক। একই সঙ্গে লাগেজ সংগ্রহের বিভিন্ন পর্যায়ে কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন তাঁরা।বেবিচকের প্রত্যাশা, এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।সংস্থাটি জানিয়েছে, যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে। বিশেষ করে প্রবাসীসহ দেশি-বিদেশি যাত্রীরা যাতে ভ্রমণ শেষে নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে নিজেদের লাগেজ সংগ্রহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে যাত্রীবান্ধব সেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সেবার মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেবিচক।

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় নজরদারি, বসছে ৩২ সিসিটিভি ক্যামেরা

আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কারে দুই সপ্তাহ সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুরো এলাকা পরিষ্কার করে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছেন তিনি।শনিবার আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।পরিদর্শনকালে কোয়ার্টারের বিভিন্ন এলাকা, চলাচলের পথ ও আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখেন তারেক রহমান। পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এর কারণ জানতে চান তিনি। একই সঙ্গে কোয়ার্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।প্রধানমন্ত্রী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোয়ার্টারের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।এ সময় কোয়ার্টারের বাসিন্দারা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। আবাসিক এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তাঁরা।প্রধানমন্ত্রী বাসিন্দাদের অভিযোগ শোনেন এবং দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে কোয়ার্টারে বসবাসরত শিশুদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন তিনি।এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কারে দুই সপ্তাহ সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী