ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৭ জন। পাসের হার মাত্র ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।এ ফলাফলের প্রতিবাদে শিক্ষকদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা।সোমবার সকালে কলেজের কার্যালয়ে গিয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমসহ অন্য শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী, সহসভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা।উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয়ের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এর প্রতিবাদ জানাতেই উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ফুল আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে বিষয়ে ছাত্রদলের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

আধুনিক ও মাদকমুক্ত আরশিনগর গড়তে চান ফরিদ আহাম্মদ বালা

শরীয়তপুরের সখিপুরের আরশিনগর ইউনিয়নকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফরিদ আহাম্মদ বালা। দীর্ঘদিন ধরে মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আরশিনগর ইউনিয়নের চরমহিষখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদ আহাম্মদ। বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত ফরিদ ফুটবল খেলোয়াড় ও সমাজসেবক হিসেবেও পরিচিত।নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন বলে জানিয়েছেন ফরিদ আহাম্মদ। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ, হতদরিদ্র পরিবারকে ছাগল ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া, অসহায় রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করা।ফরিদ আহাম্মদের দাবি, গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে প্রতি রমজানে দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি। পাশাপাশি এলাকার তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করছেন।চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন এই প্রার্থী। ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ‘চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আমার এলাকায় মাদক, ইভটিজিং, হানাহানি, অবৈধ জমি দখল ও সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে কাজ করব। ইউনিয়নের রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আরশিনগরকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’রাজনৈতিকভাবে ফরিদ আহাম্মদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন কর্মী। তিনি শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সফিকুর রহমান কিরণের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।আরশিনগর ইউনিয়নকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন ফরিদ আহাম্মদ। একই সঙ্গে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন ও দোয়া চেয়েছেন তিনি।নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসেবার প্রত্যয় তুলে ধরে ফরিদ আহাম্মদ বালা বলেন, ‘আমি যতদিন বাঁচব, ততদিন গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

আধুনিক ও মাদকমুক্ত আরশিনগর গড়তে চান ফরিদ আহাম্মদ বালা

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা দেশের অন্যতম প্রধান মাদক সরবরাহের রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। পরে সড়ক, নদী ও রেলপথ ব্যবহার করে এসব মাদক ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক জব্দ ও বাহক-খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেও কারবারের মূল নিয়ন্ত্রকদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের কিছু সদস্যের কথিত সহযোগিতায় মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক টিকে আছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের তালিকায় ১৪ জনকে গডফাদার, ৫৪ জনকে পাইকারি কারবারি এবং ১১৬ জনকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় মোট ১৮৪ জনের নাম রয়েছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান আমার দেশ-কে বলেন, তদন্তের স্বার্থে গডফাদারদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।জানা গেছে, তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের মধ্যে ছয়জন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বাকিদের অনেকে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বেশির ভাগই জামিনে আছেন বলে জানা গেছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব কারবারির অনেকে আত্মগোপনে চলে যান।সীমান্তে ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টবিভিন্ন সূত্র ও সরকারি নথির বরাত দিয়ে কুমিল্লা সীমান্তের প্রায় ৪৭টি পয়েন্টকে মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার ও গোলাবাড়ী, ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল, আশাবাড়ী ও হরিমঙ্গল, বুড়িচংয়ের হায়দ্রাবাদ, নগর ও ভবেরমুড়া এবং সদর দক্ষিণের মথুরাপুর ও কনসতলা উল্লেখযোগ্য।স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ওপার থেকে এসব পয়েন্ট দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশের পর স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদক পাচারে জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে নোম্যান্স ল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া শত শত বিঘা জমিতে গাঁজা চাষ করা হয়। জেলার সহস্রাধিক ছোট-বড় মাদক কারবারি এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁদের দাবি।তবে এসব কারখানা, চাষাবাদ ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।নদীতে ভাসিয়ে আসে মাদকের চালানমাদক পাচারে নদীপথেও বিশেষ কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিজিবি সদস্য এনামুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে বিভিন্ন চিহ্নযুক্ত বস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বস্তার সঙ্গে খালি পানির বোতল, মবিলের বোতল, কলাগাছ বা অন্য হালকা বস্তু বেঁধে দেওয়া হয়। চালানের বস্তা ও চিহ্নের ছবি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইলে পাঠানো হয়। পরে ভাটির দিকে থাকা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে চালান সংগ্রহ করেন।কটক বাজার-গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ পেয়ার আহমেদ বলেন, পলিথিনের মধ্যে বালু বা পাথর দিয়ে মাদক পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এর সঙ্গে খালি বোতল বা নির্দিষ্ট সংকেত রাখা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও মাদক পরিবহন করা হয়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবার যানবাহন ব্যবহার করে মাদক বহনের অভিযোগও রয়েছে।প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবামাদক পাচারের বড় একটি চালান ধরা পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জাগুরঝুলি এলাকায়। গত ১৯ আগস্ট একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।তবে এত বড় চালান পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিকের সন্ধান তখনো পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা ডিবির ওসি শাহ আলম শাহ বলেন, গাড়ির মালিককে শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।এই ঘটনা মাদক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি চালানের অর্থদাতা ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগসীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক রয়েছে। কয়েকজন মাদক কারবারির দাবি, আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া আমার দেশ-কে বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কুমিল্লায় মাদক বেড়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, কয়েকজন বিজিবি সদস্য অর্থের বিনিময়ে কারবারিদের তথ্য সরবরাহ করেন। এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।গত মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় একটি মাদকের চালান আটকের পর ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগটির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।তিন বছরে ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দবিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কুমিল্লা ১০ ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন গত তিন বছরে প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আড়াই শতাধিক আসামি পলাতক রয়েছেন।বিজিবির জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা এবং তিন লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা। এ ছাড়া আইপি ইনজেকশন, সেনেগরা, মোসলাইড, সিপ্রোহেপ্টাডিন ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।এসব অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের পরও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় পাচারকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মাদক ঘিরে বাড়ছে সহিংসতার অভিযোগমাদক এখন শুধু সীমান্তকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; কুমিল্লা নগরীতেও মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন কাটাবিল এলাকায় এমন একটি সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়।কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে পাঁচ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মূল হোতাদের শনাক্ত করাই চ্যালেঞ্জমাদকবিরোধী অভিযানে বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার এবং চালান জব্দের পাশাপাশি কারবারের অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী, স্থানীয় সমন্বয়কারী ও মূল ক্রেতাদের শনাক্ত করা জরুরি। নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তরে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা না গেলে শুধু চালান জব্দ করে মাদক কারবার বন্ধ করা কঠিন।কুমিল্লার সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রভাবশালী কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

পটিয়ায় এমপির অভিযোগ বাক্স, এক সপ্তাহে সমাধানের উদ্যোগ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেসব হয়রানির শিকার হন, তা তুলে ধরতে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। প্রাথমিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজারে ৬০টি অভিযোগ বাক্স বসানো হবে। এসব বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে পটিয়া উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে অভিযোগ বাক্সগুলো বিতরণ করেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।তিনি বলেন, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তাঁরা যাতে সহজে ও নির্ভয়ে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগও থাকবে।সংসদ সদস্য বলেন, অভিযোগ বাক্সে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়বে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।এনামুল হক এনাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজারে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে। অভিযোগকারীদের মধ্যে কারও কারও পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।বিতরণ অনুষ্ঠানে যাঁরা ছিলেনঅভিযোগ বাক্স বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দীন বকুল, পৌরসভা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ও আবদুল মান্নান, যুবদল নেতা কাজী আরিফ উল্লাহ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ওবাদুল হক রিকুসহ স্থানীয় নেতারা।পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

পটিয়ায় এমপির অভিযোগ বাক্স, এক সপ্তাহে সমাধানের উদ্যোগ

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গু, হিটস্ট্রোক ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও বায়ুদূষণের কারণে ডেঙ্গু, লেপ্টোস্পাইরোসিসসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক এবং হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে আগাম সতর্কতা এবং আধুনিক রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যে পড়তে শুরু করেছে। সুপার এল নিনোর মতো চরম আবহাওয়াগত পরিস্থিতি এ ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা।মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী দাতুক ডা. জাইনাল আরিফিন ওমর বলেন, তাপমাত্রা বাড়লে এডিস মশার প্রজননচক্র দ্রুত হতে পারে। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, অতিবৃষ্টি ও বন্যার সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব ঝুঁকি আগাম অনুমান করা সম্ভব।ডা. জাইনালের ভাষ্য, মালয়েশিয়ায় বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় গরমের শারীরিক প্রভাব আরও তীব্র হয়। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা হিটস্ট্রোকের বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তীব্র গরমে হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে। আবার ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণে হাঁপানির উপসর্গও তীব্র হতে পারে।রোগ শনাক্তে আধুনিক নজরদারির পরামর্শজলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডা. জাইনাল। তিনি বলেন, ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা (জিআইএস) ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো রোগের সংক্রমণপ্রবণ এলাকা আগেই শনাক্ত করা যেতে পারে। এ জন্য সংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণব্যবস্থার সঙ্গে জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা প্রয়োজন।ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোনো এলাকায় রোগী শনাক্ত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে মশার লার্ভা ধ্বংস ও থার্মাল ফগিংয়ের মতো কার্যক্রম শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে দল গঠনও জরুরি।এ ছাড়া তাপপ্রবাহের বিষয়ে আগাম সতর্কতা জোরদার, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য শীতল আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ডা. জাইনাল। তাঁর মতে, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও রোগীর আকস্মিক চাপ মোকাবিলায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সক্ষমতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা দরকার। স্বাস্থ্যনীতি ও পরিকল্পনা তৈরির সময়ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে।ডেঙ্গুর পাশাপাশি বাড়ছে অন্যান্য রোগের উদ্বেগমালয়েশিয়ার মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স কোয়ালিশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. রাজ কুমার মহারাজা বলেন, ডেঙ্গু এখনো দেশটির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত মশার বেঁচে থাকা, প্রজনন এবং ভাইরাস সংক্রমণে প্রভাব ফেলে।ডেঙ্গুর পাশাপাশি লেপ্টোস্পাইরোসিস, ডায়রিয়াজনিত রোগ, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ, তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ডা. রাজের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগের উপসর্গ বাড়তে পারে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।তিনি আরও বলেন, তাপজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। রোগ নজরদারির সঙ্গে আবহাওয়া ও পরিবেশের তথ্য সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিকল্প বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং চরম আবহাওয়ার মধ্যেও চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে ওষুধ ও টিকা সুরক্ষিত রাখা জরুরি।বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মতো উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের আগেই শনাক্ত করে নিয়মিত চিকিৎসা ও খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আগাম সতর্কতার প্রস্তাবমালায়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ভিক্টর হো আবহাওয়া, পরিবেশ, রোগের বিস্তার ও হাসপাতালসংক্রান্ত তথ্য একত্র করে সমন্বিত জলবায়ু-স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।জরুরি জনসতর্কতা পৌঁছে দিতে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার ‘মাইসেজাতেরা’ অ্যাপকে ব্যক্তিগত জলবায়ু-স্বাস্থ্য সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। এ ব্যবস্থায় তাপপ্রবাহ, ধোঁয়াশা কিংবা বন্যার পানির সংস্পর্শে আসার পর ব্যবহারকারীরা নিজেদের উপসর্গ যাচাই করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা পেতে পারেন।ডা. হোর মতে, এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, তাপজনিত অসুস্থতা এবং বন্যার পর সংক্রমণের ঝুঁকি আগাম অনুমান করতে সহায়তা করবে। ফলে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয় ভিত্তি রয়েছে। তবে জলবায়ুসংক্রান্ত সতর্কবার্তার সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ, শ্রমিকদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটাতে হবে। দেশটিতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।ঝুঁকিতে গিগ অর্থনীতির কর্মীরাডা. ভিক্টর হো বিশেষ করে গিগ অর্থনীতির কর্মীদের সুরক্ষা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। খাবার সরবরাহকারী কর্মী, মোটরসাইকেল চালক ও গাড়িচালকেরা তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও খারাপ বায়ুমানের কারণে বাড়তি ঝুঁকিতে থাকেন।তাঁর পরামর্শ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বায়ুমানের তথ্য যুক্ত করা উচিত। এতে বিপজ্জনক এলাকায় কাজের দায়িত্ব কমানো, নিরাপদ পথের পরামর্শ দেওয়া এবং বিশ্রাম ও পানি পানের বিরতি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, নিয়োগকর্তা ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।সূত্র: দ্য স্টার

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গু, হিটস্ট্রোক ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ মামলায় রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলায় মোট আসামির সংখ্যা জানা যায়নি।শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর আটক রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।শনিবার সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ম্যানেজার সুমনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাঁকে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়।অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা

লালনের টানে ছেঁউড়িয়ায় সাধু-ভক্তদের ঢল

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনের স্মরণোৎসব। শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে সাধু, বাউল ও ভক্তদের সমাগমে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে লালন আখড়াবাড়ি।সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কুষ্টিয়া লালন একাডেমি আয়োজিত এ উৎসব চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। উৎসবের অংশ হিসেবে আখড়াবাড়িতে চলছে লালনসংগীত, সাধুদের ভাববিনিময় এবং ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন সেবা অনুষ্ঠান। শনিবার বিকেলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর উৎসব উদ্বোধনের কথা রয়েছে। পরে লালন মঞ্চে পরিবেশিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।এদিকে আখড়াবাড়ির সামনে মরা কালীগঙ্গা নদীর প্রাঙ্গণে বসেছে গ্রামীণ মেলা। দুই শতাধিক স্টলে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লালন সাঁইয়ের গান ও দর্শন মানবতা, সাম্য এবং জাত-ধর্মের বিভেদ ভুলে মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। তাঁর স্মৃতিকে ঘিরে প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ায় এ আয়োজন বাংলার মরমি সাধনা ও লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরে।

লালনের টানে ছেঁউড়িয়ায় সাধু-ভক্তদের ঢল

কক্সবাজার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন, ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।স্থানীয় সংবাদকর্মী শামিমুল ইসলাম ফয়সাল জানান, ভোরে হঠাৎ রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে উদ্ধারকাজ চালিয়ে সকাল ১০টা পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বর্তমানে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রিমন ঘোষ জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। এখন পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কক্সবাজার টুপটুপ  রিসোর্টে আগুন, ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার

বি-স্ট্রং প্রকল্পে ১৩১ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ, অস্বীকার পরিচালকের

বাংলাদেশ টেকসই পুনরুদ্ধার, জরুরি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া প্রকল্পের (বি-স্ট্রং) কেনাকাটা, দরপত্র, বিল-ভাউচার ও তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কেনা, ভুয়া বিল তৈরি, সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার এবং পরামর্শক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রকল্প পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, কেনাকাটা ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। প্রকল্প পরিচালকের আত্মীয়স্বজন, পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করে পণ্য ও সরঞ্জাম কেনার অভিযোগও রয়েছে। নিরপেক্ষ ঠিকাদারেরা কাজ পেলেও কমিশন না দিলে তাঁদের বিল আটকে রাখা কিংবা দরপত্র কার্যক্রম স্থগিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।প্রতিবেদকের হাতে আসা কিছু নথি পর্যালোচনা করে কেনাকাটা ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দরপত্রের নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কার্যাদেশ এবং অর্থ পরিশোধের কাগজপত্র যাচাই করলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।নিরাপত্তার কারণে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কেউ নাম প্রকাশ করে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কেনার অভিযোগবি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), আসবাব, কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনায় বাজারদরের সঙ্গে ক্রয়মূল্যের বড় ব্যবধান থাকার অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে এসব পণ্য কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, একই ধরনের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়মূল্যের সঙ্গে প্রকৃত বাজারমূল্যের সামঞ্জস্য পাওয়া যাচ্ছে না। নিয়মিত কেনাকাটার বিল-ভাউচার পরীক্ষা করে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।প্রকল্প কার্যালয়ে আবাসিক ব্যবস্থার অভিযোগরাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত বি-স্ট্রং প্রকল্প কার্যালয়ের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে সেখানে রান্নাবান্নার ব্যবস্থা দেখা গেছে। কার্যালয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ও পানি গরম করার জন্য ওয়াটার হিটার ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থে অফিসের বাথরুম সংস্কার করে উন্নতমানের ঝরনা স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, প্রকল্প পরিচালকের অফিসকক্ষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, খাওয়াদাওয়া ও গোসলসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ করা হয়। এতে দাপ্তরিক কক্ষটি কার্যত আবাসিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে প্রকল্প কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ, বিদ্যুৎ বিল ও অফিস ব্যবহারের নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগপ্রকল্পের তিনটি মাইক্রোবাসের মধ্যে একটি দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হলেও অন্যগুলো প্রকল্প পরিচালকের স্বামী, সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গাড়ির লগবুকে দাপ্তরিক সফরের তথ্য থাকলেও বাস্তবে সেগুলো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।একই সঙ্গে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের পাশাপাশি কোনো কোনো মাসে ২৫ হাজার টাকার বেশি ভ্রমণ ভাতা (টিএ-ডিএ) উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় বেশি বিল তৈরি এবং সেসব বিল অনুমোদনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।তাঁদের মতে, সংশ্লিষ্ট সময়ের ভ্রমণসূচি, অফিস আদেশ, গাড়ির লগবুক ও জ্বালানি বিল পরীক্ষা করলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।কৃষকদের জন্য সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির মান নিয়ে প্রশ্নপ্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা যন্ত্রপাতির মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোনো বা নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব যন্ত্রপাতির একটি বড় অংশ কৃষকদের হাতে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যন্ত্রপাতির নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিল, গ্রহণের সনদ এবং মাঠপর্যায়ে সরবরাহের তথ্য যাচাই করা জরুরি।শ্রমিকের বেতন ও পরামর্শক নিয়োগে প্রশ্নপ্রকল্পের অনিয়মিত শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।এ ছাড়া প্রকল্পের ফাইন্যান্সিয়াল কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আগা আজাহারুল ইসলামের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাথমিক মূল্যায়নে নির্ধারিত নম্বরের ভিত্তিতে পিছিয়ে থাকলেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগ অস্বীকার প্রকল্প পরিচালকেরঅভিযোগের বিষয়ে বি-স্ট্রং প্রকল্পের পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন আমার দেশকে বলেন, “আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি অফিসটা সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য। ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে কাজ করি না। প্রকল্প কীভাবে ভালোভাবে চলবে, সেদিকেই সবার ধ্যান-জ্ঞান।”ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর ভালো দক্ষতা রয়েছে। তাই অনিয়ম করার সুযোগ নেই। দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ঠিকাদারকে তিনি চেনেন না। প্রকল্পের কোনো কিছুই তিনি ব্যক্তিগতভাবে বা পরিবারের সুবিধার জন্য ব্যবহার করেন না বলেও দাবি করেন।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিকেনাকাটা, দরপত্র, বিল-ভাউচার, সরকারি গাড়ি ও জ্বালানির ব্যবহার, ভ্রমণ ভাতা, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।তাঁদের মতে, গত কয়েক বছরের দরপত্রের নথি, ক্রয়াদেশ, অর্থ পরিশোধের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, গাড়ির লগবুক এবং মাঠপর্যায়ে সরবরাহের তথ্য নিরীক্ষা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম খান আমার দেশকে বলেন, প্রত্যেকটি প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে অসংগতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিন বছর মেয়াদি বি-স্ট্রং প্রকল্পটি ২০২৫ সালের এপ্রিলে নেওয়া হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের জুনে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অংশে এ প্রকল্পের বরাদ্দ ১৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। জানা গেছে, প্রকল্পটির অগ্রগতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের গড় অগ্রগতির চেয়ে কম।

 বি-স্ট্রং প্রকল্পে ১৩১ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ, অস্বীকার পরিচালকের

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক জসীম উদ্দীন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।জসীম উদ্দীন দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজে সাংবাদিকতা করেন। তাঁর অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় ভিডিও ধারণের চেষ্টা করায় মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁর ওপর হামলা চালান। তবে মোস্তাকের দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার শতখালী বাজারে জব্বারের ইলেকট্রিক দোকান থেকে আজগার, ওবায়দুর, গোপাল ও জব্বার নামে চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে। আটক ব্যক্তিরা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী বলে জানা গেছে।এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় বিএনপির নিতাই রায় ও নয়ন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।আহত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মোস্তাক ও মিন্টুর সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী সিদ্দিকুর রহমান, ওয়াদুদ বিশ্বাস ও আসিফ শিকদারের বাগ্‌বিতণ্ডা দেখতে পান।তিনি বলেন, মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে রেখে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শালিখায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। তাঁরা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সাংবাদিকেরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা শুধু সাংবাদিকের নিরাপত্তার জন্য নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্যও হুমকি। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।অন্যদিকে, চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। তিনি বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তাঁর দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গ্রুপের পক্ষ হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, ভাতিজা আটক

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পারিবারিক কলহের জেরে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে সুধা রানী মন্ডল (৫৫) নামের এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাতিজা রমেশ মন্ডলের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা কমলা রানী মন্ডল (৫০) ও চাচাতো ভাই সমীর কুমার মন্ডল (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর রমেশ মন্ডলকে আটক করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে শ্যামনগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাদঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত সুধা রানী মন্ডল ওই গ্রামের মধুসূদন মন্ডলের স্ত্রী। অভিযুক্ত রমেশ মন্ডল একই গ্রামের শ্রীদাম মন্ডলের ছেলে। আহত সমীর কুমার মন্ডল নিহত সুধা রানীর ছেলে এবং রমেশের চাচাতো ভাই।প্রাথমিক তথ্যমতে, পারিবারিক কলহের জেরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রমেশ মন্ডল তাঁর মা, চাচি ও চাচাতো ভাইকে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপান। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।পরে পরিবারের সদস্যরা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুধা রানী মন্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন।আহত সমীর কুমার মন্ডলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত কমলা রানী মন্ডল শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত সুধা রানীর মরদেহ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত রমেশ মন্ডলকে আটক করা হয়েছে।

দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, ভাতিজা আটক