মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক জসীম উদ্দীন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জসীম
উদ্দীন দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক
প্রতিদিনের কাগজে সাংবাদিকতা করেন। তাঁর অভিযোগ, সংঘর্ষের
সময় ভিডিও ধারণের চেষ্টা করায় মাগুরা জেলা
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি
মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা
তাঁর ওপর হামলা চালান।
তবে মোস্তাকের দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক
পক্ষের হয়ে ঘটনাস্থলে আসায়
তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।
স্থানীয়
ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার
শতখালী বাজারে জব্বারের ইলেকট্রিক দোকান থেকে আজগার, ওবায়দুর,
গোপাল ও জব্বার নামে
চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর
অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুর রহমান
মোস্তাকের বিরুদ্ধে। আটক ব্যক্তিরা যুবদলের
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী বলে জানা গেছে।
এ
ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে
শতখালী নতুন বাজার এলাকায়
বিএনপির নিতাই রায় ও নয়ন
গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে
তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আহত
সাংবাদিক জসীম উদ্দীন জানান,
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদর থেকে মোটরসাইকেলে
বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে শতখালী নতুন
বাজার এলাকায় পৌঁছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী
হিসেবে পরিচিত মোস্তাক ও মিন্টুর সঙ্গে
কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী সিদ্দিকুর রহমান, ওয়াদুদ বিশ্বাস ও আসিফ শিকদারের
বাগ্বিতণ্ডা দেখতে পান।
তিনি
বলেন, মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে রেখে ঘটনাস্থলের
দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে দুই
পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পেশাগত
দায়িত্ব পালনের জন্য মুঠোফোনে ভিডিও
ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় মোস্তাক
ও তাঁর অনুসারীরা তাঁকে
মারধর করেন বলে অভিযোগ
করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন
তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এ
ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শালিখায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। তাঁরা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত
শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিকেরা
বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন গণমাধ্যমকর্মীর
ওপর হামলা নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ
ধরনের ঘটনা শুধু সাংবাদিকের
নিরাপত্তার জন্য নয়, স্বাধীন
সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্যও হুমকি। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের
আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অন্যদিকে,
চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। তিনি বলেন, অভিযোগটি
সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে
তাঁর দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক
গ্রুপের পক্ষ হয়ে ঘটনাস্থলে
আসায় তাঁর ওপর হামলা
হয়েছে।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।