ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক জসীম উদ্দীন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।জসীম উদ্দীন দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজে সাংবাদিকতা করেন। তাঁর অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় ভিডিও ধারণের চেষ্টা করায় মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁর ওপর হামলা চালান। তবে মোস্তাকের দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার শতখালী বাজারে জব্বারের ইলেকট্রিক দোকান থেকে আজগার, ওবায়দুর, গোপাল ও জব্বার নামে চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে। আটক ব্যক্তিরা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী বলে জানা গেছে।এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় বিএনপির নিতাই রায় ও নয়ন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।আহত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মোস্তাক ও মিন্টুর সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী সিদ্দিকুর রহমান, ওয়াদুদ বিশ্বাস ও আসিফ শিকদারের বাগ্‌বিতণ্ডা দেখতে পান।তিনি বলেন, মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে রেখে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শালিখায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। তাঁরা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সাংবাদিকেরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা শুধু সাংবাদিকের নিরাপত্তার জন্য নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্যও হুমকি। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।অন্যদিকে, চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। তিনি বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তাঁর দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গ্রুপের পক্ষ হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, দুই উপজেলায় বিক্ষোভ

ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মাগুরার মহম্মদপুর ও বাগেরহাটের চিতলমারীতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।গতকাল রোববার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ ও চিতলমারী উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।মহম্মদপুরে ইউএনওর অপসারণের দাবিমাগুরার মহম্মদপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রীর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপির একটি অংশ।বিক্ষোভকারীরা নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, নীতিমালা অনুসরণ না করে একটি পক্ষের সুপারিশে বৈষম্যের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট ও ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করেন তাঁরা।রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব কর্মসূচি চলে। এতে বক্তব্য দেন মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু, সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু মিয়া, সাবেক সদস্যসচিব আকতারুজ্জামান আক্তার, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য সাজ্জাদুল আলম খান নান্নু, যুবদল নেতা শেখ শাহানুর রহমান ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি পারভেজ আলমসহ অনেকে।তবে বিএনপির আরেকটি অংশের নেতা ও মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মৈয়ুর আলী মৃধা দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই হয়েছে। এ দাবিতে তাঁর নেতৃত্বে মিছিল-সমাবেশও করা হয়।অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নীতিমালা অনুসরণ করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।চিতলমারীতে দুই কর্মকর্তার অপসারণ দাবিবাগেরহাটের চিতলমারীতে ফ্যামিলি কার্ডের খানা তথ্যভান্ডারের জন্য লোক নিয়োগে অনিয়ম, বৈষম্য ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।ইউএনও খাদিজা আক্তার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রণজিৎ বিশ্বাসের অপসারণের দাবিতে রোববার উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার, ঝাড়ু ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। এ সময় ইউএনও, সমাজসেবা, শিক্ষা ও মৎস্য অফিসসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের দরজা বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ডিজিটাল জরিপকাজে পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা অনুসরণ না করে বৈষম্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।বিএনপি নেতা ও বাগেরহাট-১ আসনের সাবেক প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বিক্ষোভে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া। এ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।সমাবেশে শরিফুল হাসান অপু, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, শিপন মুন্সি, জাকারিয়া মিলন, নিয়ামত আলী খান ও জবরুল শেখসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, দুই উপজেলায় বিক্ষোভ

সাকিব আল হাসানের বাড়িতে ভাঙচুর, গেটে আগুন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে ভাঙচুর এবং আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন জানান, শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল মিটিংয়ে সাকিব আল হাসান যুক্ত হওয়ার অভিযোগে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আসা বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁর বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বাড়ির স্টিলের গেটে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে তারা চলে যায়।খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওসি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান। এছাড়া জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে ঢাকায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

সাকিব আল হাসানের বাড়িতে ভাঙচুর, গেটে আগুন