ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার তেল কেনা দেশে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন ট্রাম্প

রাশিয়ার তেল কেনা দেশে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে পাস হয়েছে। সিনেটে অনুমোদনের পর গতকাল ২৬২-১৫৯ ভোটে প্রতিনিধি পরিষদেও বিলটি পাস হয়। এখন বিলটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটিতে রাশিয়ার কর্মকর্তা, দেশটির জ্বালানি খাত এবং তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।বিলের একটি সংশোধনীতে ভারত, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ ১০টি দেশের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব দেশের পণ্যে এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হাতে থাকা ক্ষমতা প্রয়োগ করলেই এমন শুল্ক আরোপ করা সম্ভব হবে।সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি বেড়েছে। ফলে নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা ভারতের অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর শুল্ক এবং এ–সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং ভারতীয় পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়।নতুন আইনে দেওয়া ক্ষমতা ট্রাম্প প্রয়োগ করলে ভারতের ওপর মার্কিন শুল্কের চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে বিলটি আইনে পরিণত হয় কি না এবং আইনটি কার্যকর হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হাতে থাকা ক্ষমতা ব্যবহার করেন কি না, তার ওপর। সূত্র: এনডিটিভি

রাশিয়ার তেল-গ্যাস কিনলে ভারতসহ দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্কের বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানি করা ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়েছে। মঙ্গলবার ২১৪-২১১ ভোটে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের বিলটি পরবর্তী ধাপে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়।বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনার দায়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারণের সুযোগও থাকবে।এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিলটিতে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার প্রধান তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। এসব দেশের মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে।তবে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেবে এই বিল।প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটের পর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার তেল বাণিজ্য অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে এমন অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

রাশিয়ার তেল-গ্যাস কিনলে ভারতসহ দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্কের বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ও সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল সোমবার এ তথ্য জানান।মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক বলেন, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক, তা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। এ জন্য স্পেস ফোর্সের কাছে এখন কক্ষপথে মোতায়েন করা এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে পারে। তাঁর মতে, প্রতিরোধের দিক থেকেও এ সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে মহাকাশে মোতায়েন করা অস্ত্রের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি মেইঙ্ক। তবে তিনি বলেন, বক্তব্যে ব্যবহৃত শব্দগুলো ‘খুব ভেবেচিন্তে’ নির্বাচন করা হয়েছে।ট্রয় মেইঙ্কের বক্তব্যের বরাত দিয়ে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। মেইঙ্ক আরও বলেন, আকাশের পাশাপাশি মহাকাশেও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের কোনো স্যাটেলাইট ধ্বংস করা সম্ভব।মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এসব অস্ত্র গণবিধ্বংসী অস্ত্র হতে পারবে না।গোল্ডেন ডোম ও মহাকাশ প্রতিরক্ষামার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি মহাকাশকে ‘বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখতে বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর একটি অংশ হবে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা।ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা ১৯৮৩ সালে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাকালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের নেওয়া স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভের (এসডিআই) কথা মনে করিয়ে দেয়। কর্মসূচিটি ‘স্টার ওয়ার্স’ নামেও পরিচিত ছিল।রিগ্যানের সেই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি পরে সীমিত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়। এর আওতায় প্রস্তাবিত মহাকাশভিত্তিক অস্ত্রও আর মোতায়েন করা হয়নি।রাশিয়ার আপত্তিগত মার্চে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনার সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই পরিকল্পনা কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’।২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া এই চার দেশ স্যাটেলাইট-বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।২০২১ সালের নভেম্বরে রুশ সামরিক বাহিনী সোভিয়েত আমলের একটি অব্যবহৃত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ধ্বংস করে। তখন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি বলেও জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র

নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, এখনই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাঁর এই আশাবাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় যুদ্ধের অবসানে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।ট্রাম্প যদি সত্যিই এই যুদ্ধের অবসান চান, তাহলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে ইরানের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা উচিত বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যেও যুদ্ধটি ক্রমেই নিন্দনীয় হয়ে উঠছে। এমনকি কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন জেনারেলও উত্তেজনা আরও বাড়ানো নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন। এ পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযানের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানসহ আস্থাভাজন তৃতীয় পক্ষ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে আবারও সংলাপের পথ খুলে দেওয়ার আহ্বান উঠেছে।নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন ঝুঁকিপূর্ণসম্প্রতি আয়ারল্যান্ড সফরে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, তাঁর হিসাব অনুযায়ী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সংঘাত কমে আসবে। তবে এখন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হতে পারে। যুদ্ধ এমন কোনো সরল বিষয় নয়, যা চাইলেই একটি বোতাম চাপ দিয়ে শেষ করে দেওয়া যায়।গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়েছে। ইরানপন্থী এই গোষ্ঠী ইয়েমেনে আরও কিছু এলাকা দখল করেছে এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে সৌদি জাহাজ চলাচল ঠেকাতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করছে।অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হামলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরাকের দিক থেকে হামলাটি চালানো হয়েছে। রিয়াদ জানিয়েছে, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ইরাকি সরকারের’ অনুরোধে তারা তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে জবাব দেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করেছে।ইরাকে শক্তিশালী ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকলেও ওই হামলার দায় তখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।লেবাননেও বাড়ছে সংঘাতএদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার লক্ষ্যে ইসরায়েল ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে। এসব হামলায় হাজারো লেবানিজ নিহত এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত যে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আলোচনার পথ খোলার আহ্বানযুদ্ধের আগ্রাসী পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রথম পদক্ষেপ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করা উচিত বলে মত দেওয়া হয়েছে। একইভাবে তেহরানেরও প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন।হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সোমবার ওমানে আলোচনার কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলে দিতে আঞ্চলিক দেশগুলো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া উচিত। কারণ যুদ্ধের গতিপথ অত্যন্ত অনিশ্চিত। নভেম্বর পর্যন্ত সংঘাতের মাত্রা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে ওয়াশিংটনের এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই এখনই একটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা প্রয়োজন।

নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, এখনই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত ট্রাম্পের

পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার তথ্য নেই: আনোয়ার ইবরাহিম

কাশ্মীরের পেহেলগামে ২০২৫ সালের সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করার ভারতের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ সংঘটিত হয়েছে এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য বা পর্যালোচনা তার কাছে নেই।নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেহেলগাম হামলা এবং এতে পাকিস্তানের কথিত সম্পৃক্ততা নিয়ে আনোয়ার ইবরাহিমকে প্রশ্ন করা হয়। পাকিস্তানের কথিত ভূমিকা ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বিবেচনা করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এতটা দূর যেতে চাই না।’মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি ভারতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তানিদের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ করেছেন এবং মনে করেন, এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তিনি কেন সমালোচনা করছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার বলেন, প্রথমে পাকিস্তানের দায় নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।তিনি বলেন, ‘এটি প্রথমে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। আমি বলছি না যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেনি। কিন্তু নিশ্চিতভাবে দায় নির্ধারণ করতে হবে।’আনোয়ার ইবরাহিম আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে মালয়েশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যোগাযোগের ভিত্তিতে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যাতে বলা যায় পেহেলগামে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ চালানো হয়েছে।পেহেলগাম হামলার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হন। হামলার পরপরই ভারত এর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। তবে ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।হামলাকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ভারত পাকিস্তানের ভূখণ্ডে সামরিক হামলা চালায়।এর জবাবে পাকিস্তানও সামরিক পদক্ষেপ নেয়। দুই দেশের মধ্যে ৮৮ ঘণ্টা ধরে সংঘাত চলার পর শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।সূত্র: ডন

পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার তথ্য নেই: আনোয়ার ইবরাহিম

মোখায় ইয়েমেনি বাহিনীর দুর্বলতা স্পষ্ট, হুথিদের অগ্রযাত্রার আশঙ্কা

ইরান-সমর্থিত হুথিদের দখল ঠেকাতে ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় অবস্থানরত ইয়েমেনি ব্যাটালিয়নগুলো গত বৃহস্পতিবার অনেকটাই অপ্রস্তুত ছিল। বাহিনীর তালিকায় বিপুলসংখ্যক এমন সেনার নাম ছিল, বাস্তবে যাঁদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।‘ঘোস্ট নেম’ বা ভুতুড়ে নামের এসব সেনার নামে নিয়মিত বেতনও দেওয়া হতো। ফলে কাগজে-কলমে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে প্রকৃত শক্তির তুলনায় অনেক বড় দেখাত। বাস্তবে বাহিনীর সদস্যসংখ্যা নথিতে উল্লেখ করা সংখ্যার মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ ছিল। মোখার পতনকে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ভুল হিসেবে দেখছেন অনেকে। তাঁদের মতে, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করার কারণেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে।এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় ইয়েমেনি বাহিনীর ওপর চাপানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, গতকাল পুরো দিন সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বিমান হামলা হয়নি। অথচ মাটির পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের প্রতি মিনিটে তথ্য জানানো হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সৌদি বিমান সহায়তা আসেনি।তবে মোখা রক্ষায় ব্যর্থতার পেছনে ইয়েমেনের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিষয়টি হুথিবিরোধী জোটের আরও বড় একটি দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। ইয়েমেনে হুথিবিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে কার্যকর কোনো ঐক্যবদ্ধ সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও নেই।এ অবস্থায় হুথিরা আরও পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের সেনা ও সামরিক সক্ষমতা আরও সংগঠিত করছে।

মোখায় ইয়েমেনি বাহিনীর দুর্বলতা স্পষ্ট, হুথিদের অগ্রযাত্রার আশঙ্কা

ইয়েমেনে হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা, লোহিত সাগর নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ইয়েমেনের উপকূলীয় সমতলভূমি তিহামাহর দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। কয়েক দিনের মধ্যে হুথিবিরোধী জোট ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স’-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের দখলে চলে যায়।বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, লোহিত সাগরের উপকূলে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার এলাকা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। কয়েক বছরের মধ্যে এটিকে গোষ্ঠীটির সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ১২ বছরের গৃহযুদ্ধ, সৌদি আরবের ব্যাপক বিমান হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানের পরও হুথিরা যে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে আছে, সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা তার প্রমাণ।ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হিশাম আল-ওমেইসি বিবিসিকে বলেন, হুথিদের এখন নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা থেকে সরানো সহজ হবে না। তারা সেখানে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে এবং তাদের সরাতে বড় মূল্য দিতে হবে।বাব আল-মান্দাব ঘিরে উদ্বেগহুথিদের এই অগ্রযাত্রা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাব আল-মান্দাবের কাছে পেরিমসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে গেলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।গাজা যুদ্ধের পর হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে তারা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করেছে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা জাহাজও তাদের হামলার শিকার হয়েছে।ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ আইওনা ক্রেগ বলেন, বাব আল-মান্দাবের ওপর নজরদারির সুযোগ থাকা এলাকা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।ইরানের কৌশলগত সুবিধালন্ডনের চ্যাথাম হাউসের গবেষণা ফেলো ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, ইরান সরাসরি ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাবের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও তেল বাণিজ্যের ৩৫ শতাংশের বেশি এসব পথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক বারাআ শাইবান বলেন, জুলাই থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। তাঁর মতে, এরপর থেকেই লোহিত সাগরে ইরানের আরও বড় উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নহুথিদের অগ্রযাত্রার পর প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি জড়াবে কি না। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নতুন সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চাইলেও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন তাতে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সৌদি আরবকে সমর্থন জোরদার করতে চায়, অন্যদিকে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইছে। এদিকে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও সম্ভাব্য হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইয়েমেনে আবার পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হলে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়বে দেশটির সাধারণ মানুষ। এক যুগের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত ইয়েমেনিদের জন্য নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

ইয়েমেনে হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা, লোহিত সাগর নিয়ে নতুন উদ্বেগ

মন্দিরের ২৮ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ, থাইল্যান্ডে জ্যেষ্ঠ বৌদ্ধভিক্ষু গ্রেপ্তার

থাইল্যান্ডে মন্দিরের জন্য দেওয়া প্রায় ২৮ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগে ৬৬ বছর বয়সী এক জ্যেষ্ঠ বৌদ্ধভিক্ষুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সী এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আয়ুথায়ার ১৪০০ শতকের ঐতিহাসিক মন্দির ওয়াত ফুত্থাইসাওয়ানের প্রধান ভিক্ষু ফ্রা ওয়াচিরায়ান উইয়ের বিরুদ্ধে আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, মন্দির সংস্কারের জন্য পাওয়া প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ বাথ মন্দিরের হিসাবে জমা হয়নি। একইভাবে তাবিজসহ পবিত্র সামগ্রী বিক্রি করে পাওয়া আরও ২৮ লাখ বাথও মন্দিরের হিসাবে জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।পুলিশের অভিযানে প্রায় ২১ কোটি ৫০ লাখ বাথ মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬ কেজি স্বর্ণের বার ও গয়না এবং ২৮টি জমির দলিল। জব্দ করা সম্পদের কোনটি ব্যক্তিগত এবং কোনটি মন্দিরের, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। এদিকে ওই ভিক্ষুর সঙ্গে এক নারীর যৌন সম্পর্কের সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হওয়ার পর তা থাইল্যান্ডের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। দেশটিতে বৌদ্ধভিক্ষুদের ব্রহ্মচর্য পালন এবং বস্তুগত সম্পদ ত্যাগের শপথ নিতে হয়। গ্রেপ্তারের পর ফ্রা ওয়াচিরায়ান উইকে সন্ন্যাসজীবন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মন্দিরের ২৮ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ, থাইল্যান্ডে জ্যেষ্ঠ বৌদ্ধভিক্ষু গ্রেপ্তার

নাইন ইলেভেন: ২৫ বছর পরও যে হামলার প্রভাব বদলে দেয় বিশ্বরাজনীতি

নাইন ইলেভেন দুটি শব্দই যেন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ হামলার সমার্থক। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শব্দ দুটি উচ্চারিত হলেই মানুষের মনে ভেসে ওঠে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিমান হামলার সেই দৃশ্য। ২৫ বছর পরও বিশ্বরাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মুসলিমদের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গিতে ওই হামলার প্রভাব স্পষ্ট।২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবনে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুটি যাত্রীবাহী বিমান আঘাত হানে। একই দিন আরও দুটি বিমান ছিনতাই করা হয়। এর একটি আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে। অন্যটি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিধ্বস্ত হয়।হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার জন্য ইসলামি চরমপন্থি সংগঠন আল-কায়েদা ও এর প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করে।ওয়ার অন টেরর দিয়ে শুরু নতুন অধ্যায়হামলার মাত্র নয় দিন পর, ২০ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আনুষ্ঠানিকভাবে আল-কায়েদা ও ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করেন। একই ভাষণে তিনি ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেন।বুশ সেদিন বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদ্দেশে বলেন, ‘আইদার ইউ আর উইথ আস, অর উইথ দেম’—অর্থাৎ এই যুদ্ধে হয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকতে হবে, নয়তো সন্ত্রাসীদের সঙ্গে।এরপর ২০০১ সালের অক্টোবরেই আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন তালেবান সরকার ওসামা বিন লাদেনসহ আল-কায়েদার নেতাদের হস্তান্তরের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর ওই অভিযান শুরু হয়।আফগানিস্তানের পর ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালে লিবিয়াতেও মার্কিন বাহিনী সামরিক অভিযানে অংশ নেয়।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার বলে আসেন, এসব অভিযান কোনো ধর্ম বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। তবে মুসলিম বিশ্বের অনেক মানুষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়।কেন নাইন ইলেভেন এত গুরুত্বপূর্ণদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের পার্ল হারবারে মার্কিন নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। এরপর নাইন ইলেভেনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এত বড় হামলার ঘটনা আর ঘটেনি।তবে পার্ল হারবার ও নাইন ইলেভেনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। পার্ল হারবার ছিল একটি সামরিক স্থাপনা এবং তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিল। অন্যদিকে নাইন ইলেভেনে হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল এমন স্থাপনা, যেখানে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ কর্মরত ছিলেন।হতাহতের সংখ্যার দিক থেকেও নাইন ইলেভেন পার্ল হারবারকে ছাড়িয়ে যায়। পার্ল হারবারে নিহত হন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। নাইন ইলেভেনে চারটি বিমান ছিনতাই ও বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।১৭ মিনিটেই বদলে যায় পরিস্থিতিসকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৬৭ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ১১০ তলা উত্তর টাওয়ারে আঘাত করে। শুরুতে অনেকে এটিকে দুর্ঘটনা মনে করেছিলেন।কিন্তু মাত্র ১৭ মিনিট পর আরেকটি বোয়িং ৭৬৭ পাশের ভবনে আঘাত করলে পরিষ্কার হয়ে যায়, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়—পরিকল্পিত হামলা।দ্বিতীয় বিমানটির আঘাতের দৃশ্য সরাসরি টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এর পরই পুরো বিশ্ব জানতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নজিরবিহীন হামলার কথা।দুটি বিমানই বোস্টন থেকে লস অ্যাঞ্জেলস যাচ্ছিল। প্রতিটি বিমানে পাঁচজন করে ছিনতাইকারী ছিল। উড্ডয়নের পর তারা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিউইয়র্কের দিকে ঘুরিয়ে দেন।একই সময়ে আরও দুটি বিমান ছিনতাই করা হয়। সেগুলোর একটি পেন্টাগনে আঘাত করে। অন্যটি ক্যাপিটল হিলে হামলার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে সেটি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিধ্বস্ত হয়।মোট ১৯ জন ছিনতাইকারী ওই হামলায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন ছিলেন সৌদি নাগরিক, দুজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের, একজন মিসরের এবং একজন লেবাননের নাগরিক।আফগানিস্তান থেকে ইরাক, বদলে যায় মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গিনাইন ইলেভেনের পর আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযান মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর দুই বছর পর ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন সেই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল। আফগানিস্তান ও ইরাকে সামরিক অভিযান সেই বিরোধিতাকে আরও তীব্র করে।আফগানিস্তানে অভিযানের আগে পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ হয়। তুরস্ক, মিসর, ইয়েমেন ও পাকিস্তানের পাশাপাশি ইতালি, যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়ামেও মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।২০১১ সালে লিবিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযানের সময়ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমেরিকাবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়।নাইন ইলেভেনের পর বাড়ে ইসলামবিদ্বেষনাইন ইলেভেন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতেই পরিবর্তন আনেনি; দেশটির অভ্যন্তরেও মুসলিম ও ইসলামবিদ্বেষী হামলা বেড়ে যায়।এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষী ‘হেইট ক্রাইম’ বা ঘৃণাসূচক অপরাধের ঘটনা ছিল ২৮টি। ১৯৯৯ সালে ছিল ৩২টি।কিন্তু ২০০১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮১-তে। এর ৮০ শতাংশের বেশি ঘটনা ঘটে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর।পরবর্তী বছরগুলোতেও ইসলামবিদ্বেষী হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় কোনো বছরই এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ১০০-এর নিচে নামেনি।নাইন ইলেভেনের ২৫ বছর পরও তাই ওই হামলা শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার স্মৃতি নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তানীতি, বৈদেশিক সামরিক অভিযান, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইসলামবিদ্বেষের আলোচনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

নাইন ইলেভেন: ২৫ বছর পরও যে হামলার প্রভাব বদলে দেয় বিশ্বরাজনীতি

বন্যার ধকল না কাটতেই নেপালে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে নেপাল। মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও তিব্বতে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল।এদিকে ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বরফ ও শিলার ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখনো বিপর্যস্ত বিভিন্ন এলাকা। ভোটেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও যানবাহন ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৫৭ জনে। এখনো নিখোঁজ ৫ হাজার ৩২৬ জন। উদ্ধার করা হয়েছে ১৩ হাজার ৫৮৩ জনকে। চীনের তিব্বত অংশেও অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনা গণমাধ্যম। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

বন্যার ধকল না কাটতেই নেপালে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ঝুঁকি: এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন

অ্যানথ্রপিকে তিন বছর কাজ করার পর পদত্যাগ করেছেন ২৭ বছর বয়সী এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন। বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উন্নত এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন।কক্সনের দাবি, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক দ্রুত নিজে নিজে সক্ষমতা বাড়াতে পারে এমন ‘সেলফ-ইমপ্রুভিং সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু এর সম্ভাব্য ঝুঁকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘জুয়া’ খেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।এআই খাতের অনেক শীর্ষ গবেষক ও নির্বাহী ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আগামী এক দশকের মধ্যেই উন্নত এআই মানবজাতির জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলেও দাবি করেন কক্সন।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের সুপারইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম সাইবার হামলা, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং বাস্তব সম্পদ ও ক্ষমতা অর্জনে মানুষের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম হতে পারে।অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স লিড ইভান হাবিঙ্গারও ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত ধারণা, আগামী দশকে এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার ঝুঁকি ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে। তবে বর্তমান এআই মডেলের ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলে মনে করেন তিনি।কক্সন এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে মডেলের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পদক্ষেপের কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর পদত্যাগ এআই উন্নয়ন থামাবে না, তবে শিল্পের ভেতর থেকেই আসা এই সতর্কবার্তা সুপারইন্টেলিজেন্সের অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ঝুঁকি:  এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন

৪০ বছর পর জাতিসংঘের সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ

আজ ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবে বাংলাদেশ। ৪০ বছর পর এই মর্যাদা পেল দেশটি। ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর এবার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি নির্বাচনে ৯৯ ভোট পান।আগামী এক বছর সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে থেকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তিরক্ষা, গাজাসহ বৈশ্বিক মানবিক সংকট এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবে।২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরবেন। একই সময়ে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ায় নতুন মহাসচিব নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটিও বাংলাদেশের সভাপতিত্বের সময় অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আগামী এক বছর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

৪০ বছর পর জাতিসংঘের সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব আজ মঙ্গলবার নিচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দীর্ঘ চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশ আবারও নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে।দায়িত্ব গ্রহণের আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খলিলুর রহমান। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ এবং অধিবেশন পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।সোমবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বার্তায় খলিলুর রহমানকে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন খলিলুর রহমান। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্বজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ইউএনজিএর ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রায় চার দশক পর আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশ একজন প্রতিনিধি পেল।যেভাবে নির্বাচিত হন খলিলুর রহমানগত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে খলিলুর রহমানকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত করেন।নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। আজ দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী এক বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রমে সভাপতিত্ব করবেন খলিলুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আলোচনা ও সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে খলিলুর রহমান

হরমুজে সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের সতর্কতা

পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েন কিংবা সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, সিউল এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইরান।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে কোরিয়ান ভাষায় এ সতর্কবার্তা দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।বার্তায় বাঘাই বলেন, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক ৬৪ বছরেরও বেশি পুরোনো। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ সম্পর্ককে তেহরান গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং সিউলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের কঠোর জবাব দেওয়ার কথাও বলেন ইরানের এই মুখপাত্র।বাঘাই সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো পক্ষের সামরিক উপস্থিতি বা সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে আগ্রাসী পক্ষকে সরাসরি সহায়তা হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান। এমন পদক্ষেপের ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, কোনো সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল সরকারই ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা ‘ব্ল্যাকমেইলের’ কাছে নতি স্বীকার করে না।ইসমাইল বাঘাইয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শুরু করা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির দায় ও বোঝা অন্য দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

হরমুজে সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের সতর্কতা

দিল্লিতে ছয়তলা ভবন ধসে নিহত ৬, ধ্বংসস্তূপে আরও আটকের শঙ্কা

ভারতের রাজধানী দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মোতিবাগ এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো সম্ভব না হওয়ায় সেখানে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।ধসে পড়া ভবনটি ‘পেইং গেস্ট’ হোস্টেল হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। সেখানে থাকা ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবনটির বয়স অন্তত ৫০ বছর।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগেও ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ভবনটির মালিক হরিরাম বনসাল প্রায় ২০ বছর আগে গুরুগ্রামে চলে যান। সম্প্রতি তিনি পুরোনো ভবনটি সংস্কার করে শিক্ষার্থী ও অন্যদের ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেন।ভবনটির কাছেই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। চলতি বছরের আগস্ট থেকে সেখানে ভাড়াটিয়া উঠতে শুরু করেন। তাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন শিক্ষার্থী। তবে ভবনটির সংস্কার ও নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।ভবন ধসে পড়ার সময়ও শ্রমিকেরা বেসমেন্টে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে। এ কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা।ঘটনার পর ভবনটির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যথাযথভাবে সংস্কার না করেই ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। রোববারের দুর্ঘটনার জন্য তাঁরা ভবন মালিকের আর্থিক লাভের বিষয়টিকেই দায়ী করছেন। সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

দিল্লিতে ছয়তলা ভবন ধসে নিহত ৬, ধ্বংসস্তূপে আরও আটকের শঙ্কা

হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৮২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ০৭ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি। ইরান দাবি করেছে, অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে তারা হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তিনটি মার্কিন জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তেহরান।ইরানের ভাষ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই তারা ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।জাহাজ চলাচল কমেছেহরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। রয়টার্সের তথ্য বলছে, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে। মে মাসের পর এটি সর্বনিম্ন জাহাজ চলাচলের হার।বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। ফলে প্রণালিটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এক সপ্তাহেই বড় উল্লম্ফনযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে।এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম