ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।জিএমটি সময় ভোর ৪টা ৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৬৮ ডলার কমে ১০৯ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৪৩ ডলার কমে দাঁড়ায় ১০০ দশমিক ৬৯ ডলারে।এর আগে মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরও অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছিল।কূটনৈতিক অগ্রগতিতে কমেছে উদ্বেগযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যে অক্টোবরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির খবরে পরিস্থিতি নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের দামে এর প্রভাব পড়েছে।তেলের দামে কারিগরি সংশোধনতেলের বাজারের সাম্প্রতিক দরপতনকে আংশিকভাবে কারিগরি সংশোধন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফনের পর আজ সকালে এর কিছুটা কারিগরি দরপতন দেখা যাচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘কূটনৈতিক অগ্রগতির ক্ষীণ আশা এবং সপ্তাহান্তে বড় ধরনের কোনো সামরিক উত্তেজনা না ঘটায়, তেলের দামের ওপর থেকে আপাতত তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমেছে।’বিশ্লেষকদের এই পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সামরিক উত্তেজনা না বাড়ার পরিস্থিতি আপাতত তেলের বাজারে স্বস্তি এনেছে।সূত্র: আলজাজিরা

এল নিনোর প্রভাবে পেরুতে দাবানল, জুন থেকে ১২ জনের মৃত্যু

এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় পেরুতে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহহীন হয়েছেন কয়েক শ মানুষ। বুধবার পেরুর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।দেশটির জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র (সিওইএন) জানায়, দাবানলে নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই কৃষক। আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁরা আহত হন। পরে তাঁদের মৃত্যু হয়।দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেরুর কুসকো অঞ্চল। চলতি মাসের শুরুর দিকে ঐতিহাসিক ইনকা সভ্যতার নিদর্শন মাচু পিচুর কাছেও একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৪৫৭টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।লিমার সায়েন্টিফিক ইউনিভার্সিটি অব দ্য সাউথের জীববিজ্ঞানী ড্যানিয়েল ভালে বলেন, এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাবে পুরো পেরুর ওপর প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক বাতাসের বিশাল স্তর তৈরি হয়েছে।’এদিকে ফসল চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতে কৃষকেরা প্রায়ই ঝোপঝাড়ে আগুন দেন। এসব আগুন থেকেও অনেক সময় দাবানলের সূত্রপাত হয়। দাবানলে দেশটিতে এক হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পুড়ে গেছে। পাশাপাশি ধ্বংস হয়েছে প্রায় ১০০টি বাড়ি।সিওইএনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার আন্দিজ পর্বতমালা ও পেরুর আমাজন অঞ্চলে সাতটি দাবানল সক্রিয় ছিল।এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশের উপরিভাগের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে।চলতি বছরের ‘সুপার’ এল নিনো ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে মধ্য আমেরিকাসহ বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে এর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।সূত্র: বিএসএস

এল নিনোর প্রভাবে পেরুতে দাবানল, জুন থেকে ১২ জনের মৃত্যু

তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, মালয়েশিয়ায় সরকারি কর্মীদের জন্য নিষিদ্ধ ওয়েজ

তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে নেভিগেশন অ্যাপ ওয়েজ ব্যবহারে সরকারি কর্মীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মালয়েশিয়া। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ওয়েজের ব্যবহারকারীদের তথ্য নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েজ মোবাইল লিমিটেড ইসরাইলে নিবন্ধিত এবং দেশটির আইনের আওতাধীন। এ কারণে সরকারি তথ্য ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সংবেদনশীল সরকারি তথ্য ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত উপাত্তের সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের তথ্যের অপব্যবহার দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।সরকারি কর্মীদের ওয়েজ ব্যবহার বন্ধে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রধান সচিব শামসুল আজরি আবু বকর গত ২০ অক্টোবরের এক চিঠিতে সরকারি দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা জানান। জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ওয়েজের বিকল্প হিসেবে মালয়েশিয়ায় তৈরি ‘তুজু’ নেভিগেশন অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশটির মহাসড়ক কর্তৃপক্ষের তৈরি এ অ্যাপের মাধ্যমে পথনির্দেশনা, যানজটের হালনাগাদ তথ্য, গন্তব্যে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় এবং টোলসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।ইসরাইলে তৈরি ওয়েজ অ্যাপটি ২০১৩ সালে কিনে নেয় মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান গুগল। স্যাটেলাইট সংকেত ও ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে অ্যাপটি তাৎক্ষণিকভাবে যানজট ও সড়কের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দেয়।মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। দেশটির সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। ফলে ওয়েজের ইসরাইলি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেশটির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গেও সম্পর্কিত।তবে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা সংবেদনশীল সরকারি তথ্য সংগ্রহ করে অপব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওয়েজ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের কঠোর গোপনীয়তা নীতি রয়েছে এবং তারা বৈশ্বিক তথ্য সুরক্ষার মানদণ্ড মেনে চলে।এদিকে, ওয়েজ ব্যবহারের কারণে তথ্যের অপব্যবহার হয়েছে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মালয়েশিয়া সরকার প্রকাশ করেনি। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সরকারি কর্মীদের জন্য অ্যাপটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।সূত্র: দ্য বারনামা ও রয়টার্স

তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, মালয়েশিয়ায় সরকারি কর্মীদের জন্য নিষিদ্ধ ওয়েজ

সৌদি আরবে বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা, নিহত ৪

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একটি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে পৃথক হামলার ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। বুধবার এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির শায়বা তেলক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর একটি প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়। ড্রোনটি প্রতিহত করা হলেও এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত হন। আহত হন আরও দুজন।বৃহস্পতিবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, নিহত ব্যক্তিদের একজন ফিলিপাইনের এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। তেলক্ষেত্রের বাইরে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় তেল উৎপাদন বা স্থাপনাটির কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।আহত দুজনের একজন পাকিস্তানি এবং অন্যজন ভারতীয় নাগরিক।অন্যদিকে, বুধবার দাম্মামের বাদশা ফাহদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ভোরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।এদিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে আরও কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনে বৈধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত জোট। বৃহস্পতিবার ভোরে জোটটি জানায়, পূর্বাঞ্চলের আকাশে চারটি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে।এর আগে বুধবার জোটটি দাবি করেছিল, সৌদি আরবের দিকে ছোড়া সাতটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ড্রোনের মধ্যে মদিনা অঞ্চলের দিকে ছোড়া ড্রোনও ছিল। মদিনায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মসজিদ অবস্থিত।জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সৌদি আরবের দিকে ছোড়া চারটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। পরবর্তী আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, ড্রোনগুলো সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও মদিনা অঞ্চলে ভূপাতিত করা হয়। পরে পূর্বাঞ্চলে আরও একটি ড্রোন প্রতিহত করার কথাও জানান তিনি।বুধবার সন্ধ্যায় জোটটি আরও জানায়, হুথিদের ছোড়া ষষ্ঠ ড্রোনটি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল। সপ্তম ড্রোনটি ছোড়া হয়েছিল দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে। জোটের দাবি, ড্রোন দুটি প্রতিহত করা হয়েছে।

সৌদি আরবে বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা, নিহত ৪

সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন, হত্যাকাণ্ড ও গুপ্তহত্যার জবাব দিতে তেহরান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সংযম দেখানো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে শুধু সরাসরি হামলাকারীদের নয়, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে তেহরান।ওই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সম্ভাব্য সংঘাতের জবাব ইরান কেবল নিজেদের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। হামলাকারীদের আঞ্চলিক স্বার্থ ও সহযোগীদেরও পাল্টা আঘাতের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে দেশটি।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে একই যুদ্ধশক্তি মনে করে তেহরানইরানের ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তার দাবি, তেহরান মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে ছাড়া ইরানে হামলা চালাবে না, আবার ইসরাইলও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া এমন হামলা চালাতে পারবে না। তাঁর ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশ দুটির যেকোনো একটির এককভাবে অংশ নেওয়ার ধারণা ‘তিক্ত রসিকতার’ মতো।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তাদের ইরানে হামলার প্রকাশ্য হুমকি তেহরানকে আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে বলে দেশটি মনে করে। তবে এসব বক্তব্য ইরানি কর্মকর্তার নিজস্ব অবস্থান; এর স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা ইসরাইলেরইরানের এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের হামলা পুনরায় শুরু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।অক্টোবরের শুরুতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইরানের অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নেতৃত্ব-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তির কারণে সেই পরিকল্পনা এগোয়নি।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় আদায় এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার কৌশল হিসেবেও তেহরান আলোচনার গতি ধীর রাখছে। এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।আলোচনার আগে আস্থা তৈরির শর্তসামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার বলেছেন, ওয়াশিংটন আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তেহরান আলোচনায় বসবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনা শুরু করতে হলে ইরানের সব শর্ত পূরণ করতে হবে।ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। তাঁর দাবি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সংকটে পড়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে।প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের ওপর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং শর্তগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কাইরানের সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেহরানের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, নতুন করে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থ এবং হামলায় সহযোগিতাকারীদের স্থাপনাও পাল্টা আঘাতের লক্ষ্য হতে পারে।এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সেখানে সংঘাত বাড়লে তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।তবে ইরানের যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা থেকেই নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া নিশ্চিত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সামরিক প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া, প্রতিপক্ষকে হামলা থেকে বিরত রাখা কিংবা কূটনৈতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবেও এমন বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।পরিস্থিতির প্রকৃত গতিপথ নির্ভর করবে সামরিক তৎপরতা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের অগ্রগতির ওপর।তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি, রয়টার্স ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের নিঃশর্ত সমর্থন, ইরানে নতুন হামলার শঙ্কা

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য ও নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ফলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে চলমান জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং শান্তির জন্য আরও বড় অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে সামরিক ও আর্থিকভাবে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। ইরান তার আচরণ পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বাকি কাজ শেষ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।ট্রাম্প লেখেন, ইসরায়েলের নেতৃত্বে নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাই এই কাজ করতে হবে, যা করতে তিনি আগ্রহী নন। একই পোস্টে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতানিয়াহু শক্ত, সাহসী ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।পোস্টের শেষ দিকে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি ‘সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন’ ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু কখনো আপনাদের হতাশ করবেন না।’নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের মুখে নেতানিয়াহুইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সংবাদমাধ্যম হারেৎজের আসন পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫১। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোনো দল বা জোটই এখন পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অবস্থানে নেই।ট্রাম্পের এই সমর্থন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর আগে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছিলেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে টাইম সাময়িকী তাঁকে দুবার প্রশ্ন করেছিল, নেতানিয়াহুর আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকা উচিত কি না। দুইবারই সরাসরি উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনে নিজের জনপ্রিয়তা এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা বলেন।বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স তাঁকে ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চায়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চায় আমি এতে জড়িত হই। হ্যাঁ, তারা তা-ই চায়।’ নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।’যুক্তরাজ্যের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, দুই নেতার মধ্যে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ট্রাম্পের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।তবে নির্বাচনে এই সমর্থনের প্রভাব অতিরঞ্জিত করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ভাকিল। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ইরান যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ইসরায়েলি ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর বিদ্যমান সমর্থকদের আরও সংহত করতে পারে, কিন্তু তাঁর নেতৃত্বের অতীত রেকর্ড নিয়ে বড় প্রশ্নগুলোর সমাধান করবে না।লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ ট্রাম্পের ঘোষণাকে নেতানিয়াহুর জন্য ‘রাজনৈতিক উপহার’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রচারে চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু এই সমর্থন থেকে সুবিধা পেতে পারেন। তবে এর মাধ্যমে নির্বাচনের ফল পুরোপুরি বদলে যাবে, এমন ধারণাও ঠিক নয়।ক্রিগের ভাষ্য, ডানপন্থী দলগুলোর বিভক্তি, অতি-রক্ষণশীল ইহুদি ভোটারদের হতাশা এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার উত্তরাধিকার নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্পের সমর্থন লিকুদ পার্টির অনাগ্রহী ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে এতে এক বা দুটি আসন বাড়তে পারে। কিন্তু যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতানিয়াহুর নেই, ট্রাম্প তা তৈরি করে দিতে পারবেন না।ইরান যুদ্ধ ঘিরে নতুন হামলার জল্পনানেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরান প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এমন সময় এই অবস্থান সামনে এল, যখন কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অথবা পরে ইরানে আবার হামলার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন ট্রাম্প।গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। বর্তমানে যুদ্ধ কার্যত স্থবির থাকলেও সামরিক উত্তেজনা কমেনি।যুদ্ধ শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। একসময় বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। দুই পক্ষই নিজেদের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়।গত মাসে মার্কিন নৌবাহিনী ক্রমবর্ধমানসংখ্যক তেলবাহী ট্যাংকারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে ইরানের ধারাবাহিক হামলার কারণে এই প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আবার কমে যায়।এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ৫৭ সেন্টে দাঁড়ায়। শুক্রবার দাম সাময়িকভাবে ১১০ ডলারে উঠেছিল, যা গত ১৯ মে-র পর সর্বোচ্চ। পরে সোমবার দাম কিছুটা কমে আসে।হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবগত মাসে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি চালুর প্রস্তাবের সঙ্গে ইরান সাতটি শর্ত দেয়। এর মধ্যে ছিল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। তবে শর্তগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়।রোববার ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর রয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। এরপরের দিন থেকেই আলোচনা আবার শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।তবে একই দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়া এড়াতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে আবার হামলা চালাতে চান।আরাগচি লেখেন, ‘গতবার যখন আপনারা কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন, তখন ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছিল। আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? স্বাগতম। তবে সাবধান, আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে।’তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু নিজের কারাবাস এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন। এর পরিণতি ইসরায়েলের জন্য কী হবে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য কী হবে, তা নিয়েও তিনি ভাবছেন না।সামরিক চাপ, নাকি কূটনীতির পথ?কিংস কলেজের গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি কূটনীতির পরিবর্তে যুদ্ধকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।ক্রিগের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানকে যথেষ্ট চাপে ফেলছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। ট্রাম্পের হিসাব হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে বড় কোনো ছাড় দিতে না হলেও একপর্যায়ে ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হবে।নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এই কৌশলের পেছনে থাকা সামরিক হুমকিকে আরও জোরালো করেছে। তবে কূটনীতির পথ এখনো বন্ধ হয়নি। ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান, যেটিকে তিনি নিজের বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন বলে মনে করেন ক্রিগ।তবে এই কৌশলে ঝুঁকিও রয়েছে। আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে তেহরান সংঘাত আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারে।চ্যাথাম হাউসের সানাম ভাকিলের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের যৌথ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই অবস্থান ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া পক্ষ হিসেবে তুলে ধরা কঠিন করে তুলবে।ভাকিলের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। তবে এই সমর্থনের অর্থ এই নয় যে দুই নেতা ইরানে আরেকটি অভিযান চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর জন্য প্রথমে কে সবচেয়ে বেশি চাপ দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নেরও এখনো মীমাংসা হয়নি।তেহরানের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে কার্যকর কোনো পার্থক্য নেই—এমন ধারণাকে আরও জোরদার করতে পারে বলে মনে করেন ভাকিল। তবে নেতানিয়াহু ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেতে ট্রাম্পের অনাগ্রহকে ওয়াশিংটনের আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার সীমিত আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করতে পারে ইরান।মার্কিন নির্বাচনের পর বাড়তে পারে ঝুঁকিট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না। তবে দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে পেন্টাগন।গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, দুই দেশের নির্বাচনের আগে ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।তবে ইরান এমন কোনো হামলা না চালালে, যার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা এখনো কম বলে মনে করেন ক্রিগ।তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় শুরু হতে পারে ৩ নভেম্বরের পর, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক বাধাগুলো আর থাকবে না। দুই দেশের সামরিক বাহিনীই সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ক্রিগের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে এই সমর্থন থেকেই দুই নেতা নতুন সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী হিসাব এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিই আগামী দিনে সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের নিঃশর্ত সমর্থন, ইরানে নতুন হামলার শঙ্কা

লন্ডনে ধ্রুব রাঠীর বিক্ষোভ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি

ভারতের নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিক্ষোভ করেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীসহ প্রবাসী ভারতীয়দের একটি অংশ। স্থানীয় সময় লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ারে মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের কাছে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।বিক্ষোভকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার কারণে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেসের যুব শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। যুক্তরাজ্যে থাকা কয়েকটি ভারতীয় ছাত্র ও প্রবাসী সংগঠনও এতে সমর্থন জানায়। সমর্থনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল ‘সেভ ডেমোক্রেসি’, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার ব্রিটেন শাখা এবং সাউথ এশিয়া সলিডারিটি গ্রুপ।বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন পোস্টার ও পতাকা দেখা যায়। এ সময় তাঁরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনাও পাঠ করা হয়।লন্ডনে দাঁড়িয়ে অবাধে কথা বলতে পারছিবিক্ষোভে বক্তব্য দিতে গিয়ে ধ্রুব রাঠী বলেন, তাঁরা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ চান না। বরং লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ারে দাঁড়িয়ে ভারতীয় ও প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন তাঁরা।ভারতে প্রতিবাদ করার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধ্রুব রাঠী বলেন, সেখানে প্রতিবাদ করতে না পারলেও লন্ডনে দাঁড়িয়ে অবাধে কথা বলা যাচ্ছে।দিল্লিতে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং বিক্ষোভকারীদের আটকের অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, দিল্লিতে ৩৫ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।বাড়ি থেকে আটকের অভিযোগ ধ্রুব রাঠীরদিল্লিতে সিজেপির কর্মসূচির আগে গুরুগ্রামে নিজের বাড়ি থেকে আটক হওয়ার ঘটনাও বক্তব্যে তুলে ধরেন ধ্রুব রাঠী। তাঁর দাবি, তাঁকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনাকে তিনি অপহরণ বলে অভিহিত করেছিলেন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর মুক্তি পান তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বক্তব্য ও অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।মোদির সমর্থকদের পাল্টা স্লোগানলন্ডনের বিক্ষোভে শুধু ধ্রুব রাঠীর সমর্থকেরাই উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করে আরেকটি দলও সেখানে জড়ো হয়। ওই দলের সদস্যরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থনে স্লোগান দেন।ফলে একই স্থানে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মোদির পক্ষে পাল্টা স্লোগানের ঘটনা ঘটে। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক বিতর্ক যে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও প্রতিফলিত হচ্ছে, এ কর্মসূচি তারই একটি উদাহরণ।

লন্ডনে ধ্রুব রাঠীর বিক্ষোভ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি

ভোট চোর, গদি ছোড় স্লোগানে উত্তাল ভারত, চাপে মোদি সরকার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশটিতে রাজনৈতিক অসন্তোষ ও আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে বিভিন্ন অভিযোগে দাবি করা হচ্ছে। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বড় শহরগুলোতে ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’, ‘মোদি হটাও, ভারত বাঁচাও’ এবং ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’ এ ধরনের স্লোগানকে কেন্দ্র করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন, শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয়করণ, বেকারত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক।দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনে ছাত্র-তরুণদের পাশাপাশি কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও বামপন্থী দলগুলোসহ বিরোধী জোটের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কআন্দোলনের অন্যতম প্রধান বিষয় ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম। অভিযোগ উঠেছে, ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু মুসলমান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও বিরোধী দলগুলোর সমর্থকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।এ ঘটনায় ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও সামনে এসেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। তবে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার সংখ্যা, তার কারণ এবং রাজনৈতিকভাবে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের ইসিআই-নেট (ECINET) নামের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যবস্থার কারণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের কারণে বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।দেওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী গত ১০ মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪টি লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা গেলে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনের সময় নির্বাচন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার যে উদাহরণ তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।ছাত্র-তরুণদের ক্ষোভের কারণআন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত অসন্তোষ। মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা এনইইটি (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, সিবিএসইর মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক এবং শিক্ষাব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির বিরোধিতা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং তরুণদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ। আন্দোলনকারীদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা না হলে তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থেকে যাবে।বামপন্থী ছাত্রসংগঠন এবং কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠন এনএসইউআইয়ের মতো সংগঠনগুলো আন্দোলনে ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক পরিচয়ও আলোচনায় এসেছে। তরুণদের এই উদ্যোগকে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন আন্দোলনের সমর্থকেরা।বিরোধী জোটের সক্রিয়তাছাত্র-তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, দলটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, শারদ পাওয়ারসহ বিরোধী নেতাদের নাম আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়েছে।‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের ব্যানারে বিরোধী দলগুলো গণতন্ত্র রক্ষা, নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে একসঙ্গে কাজ করছে বলে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে। ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই দাবিগুলো সামনে আনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।রাহুল গান্ধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে বিরোধী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে সমর্থকেরা মনে করছেন। তবে আন্দোলনের ব্যাপ্তি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রকৃত ভূমিকা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।দমন-পীড়নের অভিযোগ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নআন্দোলন দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান, বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার এবং মেট্রো স্টেশন বন্ধের মতো পদক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। কিছু বর্ণনায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ ও প্রায় সাত হাজার মানুষকে গ্রেপ্তারের দাবিও করা হয়েছে। এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন যাচাই করা জরুরি।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বিরোধী মতের প্রতি কঠোর অবস্থান গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ সংকুচিত করতে পারে। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপের যৌক্তিকতা মূল্যায়নেও ঘটনার নিরপেক্ষ তথ্য প্রয়োজন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে’ ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ হিসেবে তুলে ধরেছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তবে বিরোধী রাজনীতিক ও আন্দোলনের সমর্থকেরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সঙ্গে এ বক্তব্যের তুলনা করছেন।বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে তুলনাভারতের তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে ২০২৪ সালের বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের তুলনাও টানা হচ্ছে। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন যেভাবে ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে গিয়েছিল, ভারতের আন্দোলনকারীদের মধ্যেও তেমন প্রতিরোধের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে বলে সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করছেন।তবে দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলনের কারণ ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট এক নয়। ফলে দুই আন্দোলনের মধ্যে মিল থাকলেও সেগুলোকে সরাসরি এক করে দেখার সুযোগ নেই।মোদি সরকারের সামনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জদীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও নরেন্দ্র মোদি সরকারকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। বর্তমান আন্দোলনসংক্রান্ত অভিযোগগুলো সত্য হলে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তি নির্ভর করে শুধু নিয়মিত নির্বাচন আয়োজনের ওপর নয়; বরং ভোটাধিকার রক্ষা, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, মুক্ত গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও। তাই ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের জবাব দেওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা বিতর্কের পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করবে আন্দোলনের বাস্তব ব্যাপ্তি, বিরোধী দলগুলোর ঐক্য, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের ওপর।

ভোট চোর, গদি ছোড় স্লোগানে উত্তাল ভারত, চাপে মোদি সরকার

রাশিয়ার জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ঐতিহাসিক মুহূর্ত বললেন পুতিনের দূত

রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের মার্কিন পরিকল্পনা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাজারকে বড় ধরনের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে।শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় লক্ষ্য করে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দিন পর এসব পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দিমিত্রিয়েভ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গ্রাহাম আইন’ স্থগিতের সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক ঘটনা। তাঁর ভাষ্য, আইনটি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাজার।এমন এক সময়ে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিষয়ে মার্কিন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।তবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের বিষয়ে পুতিন কিংবা ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। শুক্রবার সামরিক পোশাক পরা অবস্থায় পুতিন বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের বাকি অংশ দখলের পরিকল্পনা করছে মস্কো।যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রস্তাবিত আইনটিতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি পুতিন এবং দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল।২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর ওপর ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে পশ্চিমা দেশগুলো। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

রাশিয়ার জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ঐতিহাসিক মুহূর্ত বললেন পুতিনের দূত

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও কাঁপছে পানামা, নজরদারিতে উপকূল

মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এসব ভূকম্পন আরও এক থেকে দুই মাস অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভূবিজ্ঞানীরা। এদিকে ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় ভূমির পরিবর্তন, সমুদ্রের পানি সরে যাওয়া এবং পানির রং বদলে যাওয়ার খবরও খতিয়ে দেখছেন গবেষকেরা।পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেসের পরিচালক নেস্টর লুক বলেন, তাত্ত্বিক ধারণা ও অতীতের তথ্য অনুযায়ী, এ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত আফটারশক চলতে পারে।তিনি জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটারেরও কম গভীরে। ভূমিকম্পে নির্গত শক্তির প্রভাবে ভূত্বকের টেকটোনিক ব্লকগুলো এখনো নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে। তবে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, আফটারশকগুলোর মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে।পৃথক ভূচ্যুতির সঙ্গে সম্পর্কিত কম্পননেস্টর লুক আরও বলেন, চিরিকি ও বোকাস দেল তোরো এলাকায় রেকর্ড করা ভূমিকম্পগুলো পৃথক ফল্ট বা ভূচ্যুতি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এসব ভূমিকম্পের সঙ্গে গত ৯ অক্টোবরের শক্তিশালী ভূমিকম্পের সরাসরি সম্পর্ক থাকা আবশ্যক নয়।এদিকে পানামার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভূমির পরিবর্তন নিয়ে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছেন গবেষকেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা উপকূলের কিছু এলাকায় পাথর জেগে ওঠা এবং সমুদ্রের পানি সরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।লুকের ব্যাখ্যা, ভূচ্যুতির কারণে উপকূলীয় ভূমি উঁচু হয়ে উঠতে পারে অথবা নিচে দেবে যেতে পারে। এতে ভূপৃষ্ঠের আকৃতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। এসব পরিবর্তনের পেছনে ভূচ্যুতির ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে ভূতত্ত্ববিদেরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরীক্ষা করবেন।পানির রং পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধানভূমিকম্পের পর কয়েকটি এলাকায় পানির রং ধূসর হয়ে যাওয়ার খবরও পেয়েছেন গবেষকেরা। এ বিষয়ে নেস্টর লুক বলেন, ভূমিকম্পের কারণে ভূগর্ভস্থ পানি বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারে। তবে পানির রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ জানতে রাসায়নিক পরীক্ষা করা প্রয়োজন।দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় লস সান্তোস প্রদেশের ইসলা কানাসের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর তাঁদের কাছে দ্বীপটিকে যেন দুই ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে।এ বিষয়ে লুক বলেন, দ্বীপজুড়ে কোনো ফাটল তৈরি হয়েছে কি না এবং তা সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে কি না, ভূতত্ত্ববিদেরা তা পরীক্ষা করে দেখবেন। এ ধরনের ফাটলের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তা ভূচ্যুতির প্রমাণ হতে পারে।ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণে বাড়বে যন্ত্রপাতিভূমিকম্প পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ১৫০টি যন্ত্র স্থাপন করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেস। এ ছাড়া দেশব্যাপী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ৭০০টি সেন্সর প্রয়োজন হতে পারে।ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মূল্যায়নে এসব যন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।সূত্র: আনাদোলু

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও কাঁপছে পানামা, নজরদারিতে উপকূল

দিল্লিতে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, নোটিশ পুলিশের

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি বন্ধ করতে দলটির নেতা দীপকের কাছে নোটিশও পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ।শুক্রবার নোটিশ পৌঁছে দিতে পুলিশের একটি প্রতিনিধিদল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি-শরদচন্দ্র পাওয়ারের (এনসিপি-এসসিপি) মুখপাত্র অনিশের বাসভবনে যায়। সেখানে দীপক অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে সিজেপি।চলতি সপ্তাহের শুরুতে দলটির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি। শুক্রবারের এ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’, যার অর্থ ‘জাতীয় পতাকা ওড়াও’।কর্মসূচিকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

দিল্লিতে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, নোটিশ পুলিশের

ছয় সপ্তাহে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে ড্রোন হামলার ঘাঁটি গড়ল রাশিয়া

মাত্র ছয় সপ্তাহে ইউক্রেনের কাছাকাছি একটি বড় ড্রোন হামলার ঘাঁটি নির্মাণ প্রায় শেষ করেছে রাশিয়া। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলের মিলেরোভোর কাছে নির্মাণাধীন ঘাঁটিটি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ছিল ফাঁকা মাঠ। বুধবারের স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে প্রায় ১২৬টি ফুটবল মাঠের সমান আয়তনের একটি বড় স্থাপনা দেখা গেছে। প্ল্যানেট ল্যাবস ও এয়ারবাসের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছে রয়টার্স।ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হামলার সক্ষমতা বাড়ানোর সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই ঘাঁটিকে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের ওপর জেটচালিত আক্রমণকারী ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে মস্কো। এসব ড্রোন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে। তুলনামূলক বেশি গতির কারণে ড্রোনগুলোকে প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন।পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ানোর মধ্যে আসন্ন শীতকালে রাশিয়া জেটচালিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কিয়েভ।প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মনিক বলেন, অল্প সময়ে ঘাঁটি নির্মাণের এই গতি দেখাচ্ছে, রাশিয়া এখন প্রতিষ্ঠিত আক্রমণ সক্ষমতা দ্রুত কাজে লাগাতে পারছে। তাঁর মূল্যায়ন, স্থাপনাটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, এমনকি তারও আগে এটি পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে।ন্যাটোর জন্যও বাড়ছে উদ্বেগরাশিয়ার নতুন ঘাঁটি নির্মাণের সময়েই দেশটির সঙ্গে ন্যাটো সামরিক জোটের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটছে।ইউরোপের বিভিন্ন সরকার মস্কোর বিরুদ্ধে নাশকতা, ড্রোন অনুপ্রবেশ ও সাইবার হামলা বাড়ানোর অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, গত মাসে রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, ন্যাটো তাদের কালিনিনগ্রাদ ছিটমহল বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।মনিকের মতে, জেটচালিত ড্রোনের শিল্পভিত্তিক উৎপাদন, এসব অস্ত্রের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং ন্যাটোভুক্ত অনেক দেশে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থার ঘাটতি পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।সূত্র: রয়টার্স

ছয় সপ্তাহে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে ড্রোন হামলার ঘাঁটি গড়ল রাশিয়া

বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ, জি-২০ বৈঠকে গুরুত্ব পাবে জ্বালানি ও ঋণ

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার ও বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা নিয়ে আলোচনায় বসছেন বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা।আজ বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হচ্ছে জি-২০-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পাশাপাশি ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অঞ্চলজুড়ে হামলার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। গত আট মাসের বেশির ভাগ সময় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। এতে বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারি ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটে চাপ বেড়েছে।বৈঠকে থাকছেন না যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীজি-২০-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকে অধিকাংশ সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এতে উপস্থিত থাকবেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা।তবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী এবং জি-২০-এর বর্তমান সভাপতি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা স্কট বেসেন্ট বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যস্ততার কারণে তিনি যোগ দিতে পারছেন না। তাঁর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন উপঅর্থমন্ত্রী ফ্রান্সিস ব্রুক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এরিন ব্রাউন।জি-২০-এর নিয়মিত বৈঠকগুলোর একটি এটি। এখানকার আলোচনা আগামী ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ নেতাদের মূল সম্মেলনের আলোচ্যসূচি নির্ধারণেও ভূমিকা রাখবে।মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধের আহ্বান অস্ট্রেলিয়ারবৈঠকের আগে অস্ট্রেলিয়ার কোষাধ্যক্ষ জিম চালমার্স মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এখন এটিই সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন।এক বিবৃতিতে চালমার্স বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এটি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।’হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর।ঋণের বোঝা নিয়েও উদ্বেগবৈঠকে বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণের বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, ইতালি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর সরকারি ঋণ তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।বুধবার এক বক্তব্যে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেন, ক্রমবর্ধমান ঋণ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। সরকারের কর বাড়ানো বা ব্যয় কমানোর প্রয়োজন এড়ানোর কোনো ‘জাদুকরি’ সমাধান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগজি-২০-এর সদস্যদেশগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আরও কিছু বিষয় বৈঠকে তুলবে। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। এর মধ্য দিয়ে মূলত চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত শিল্পব্যবস্থার সমালোচনা করা হয়।যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত শিল্পব্যবস্থার কারণে দেশটির রপ্তানিকারকেরা কম দামে বিদেশের বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, চীনের বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের ক্রমপুঞ্জীভূত বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৯৩৮ বিলিয়ন ডলার।বুধবার আইএমএফের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্কট বেসেন্ট বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে অ-বাজারভিত্তিক নীতি ও চর্চা এবং বিনিময় হার কীভাবে বৈদেশিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, তা নিয়ে আইএমএফের বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদার করা প্রয়োজন।’বেসেন্ট আরও বলেন, কিছু অর্থনীতির বাজার বিকৃতকারী নীতি প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং কর্মসংস্থানের ক্ষতি করছে। বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, তা নিয়ে বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের কঠিন আলোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভারসাম্যহীনতা—এই বিষয়গুলোই জি-২০-এর এবারের বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ, জি-২০ বৈঠকে গুরুত্ব পাবে জ্বালানি ও ঋণ

ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

ভারী বৃষ্টিতে তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে সড়ক, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে, আটকে পড়েছে যানবাহন। বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরজুড়ে উদ্ধারকর্মী, যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।আল-জাজিরার যাচাই করা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলার বালাত এলাকায় একটি গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবেশপথে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে হাঁটছিল কিশোরটি। হঠাৎ সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পানিতে পা দেওয়ার পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়।ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোরটিকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মীদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাভুত গুল। বেসমেন্ট ও নিচতলার ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের রাতে ভবনের ওপরের তলায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে খাল ও ছোট নদীর তীর, আন্ডারপাস এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলেছেন।স্কুল বন্ধ, মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞাঅ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলের স্কুলগুলোতে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচলও নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মচারী এবং ছোট শিশুর মায়েদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ৯টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি প্রদেশে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর ইস্তাম্বুলে প্রায় ৮ হাজার উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।আড়াই হাজারের বেশি জরুরি খবরতুরস্কের আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইস্তাম্বুলে বৃষ্টি শুরু হয়। পরে শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও আন্ডারপাস পানিতে ডুবে যায়। এসেনইউর্ট ও সুলতানগাজিসহ কয়েকটি এলাকায় যানবাহন আটকে পড়ে। বাড়িঘর, দোকানপাট ও বেসমেন্টেও পানি ঢুকে পড়ে।ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবহাওয়াজনিত ঘটনায় জরুরি সেবাকেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি খবর আসে। কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ২৭৭টি বন্যার ঘটনা এবং ১৫টি ভূমিধসের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। বন্যার পানিতে ৪৭ জন আটকা পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০০টির বেশি বাড়ি, ২৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৭৬টি যানবাহন।তুরস্ক টুডের খবরে বলা হয়েছে, শহরের আইয়ুপসুলতান ও গাজিওসমানপাশা জেলায় সড়কের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসেনইউর্ট এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীকে উদ্ধার করেন পথচারীরা।বন্যার পানি দুটি হাসপাতালেও পৌঁছেছে। হাচিওসমান মেট্রো স্টেশনের ছাদ থেকেও পানি ঢুকে পড়ে। সুলতানগাজি এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের ঠেকনাদেয়াল ধসে পড়ে। তবে এতে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি।১২ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিইস্তাম্বুলের এশীয় অংশের বেইকোজ জেলার ওমেরলি এলাকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ডেইলি সাবাহর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত ইস্তাম্বুল মেয়র নুরি আসলান জানিয়েছেন, শহরের কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় কর্মব্যস্ত সময়ে শহরের যানজটের মাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ১৬ শিশুর মৃত্যু

পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দির কলোনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শিশু ও স্কুলকর্মীদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের (এলআরএইচ) কর্তৃপক্ষ ১৬ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনার পর ২০ শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।এর আগে উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার পর বেশ কয়েকটি শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শিশু ও স্কুলকর্মীদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।সূত্র: জিও নিউজ

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ১৬ শিশুর মৃত্যু

ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নোটিশ, ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিল পুলিশ

বলিউড অভিনেতা আমির খানের ভাগনে ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পর এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত আন্দোলনে অংশ নেন ইমরান। এ সময় পুলিশ তাঁকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়।প্রতিবাদে অংশ নেওয়ায় তদন্তপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিক না হয়েও ইমরান খান কীভাবে এ ধরনের রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নিলেন, তা নিয়ে তদন্ত করে পুলিশ। তদন্তের পর তাঁকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নোটিশ দেওয়ার সঙ্গে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নোটিশ, ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিল পুলিশ