হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
ব্রিটিশ বার্তা
সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৮২
শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭
দশমিক ০৭ ডলারে উঠেছে।
একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস
ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ০.৮৭
শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২
দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তেলের দামে
এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিতে
সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি। ইরান দাবি করেছে,
অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী তিনটি
তেলবাহী ট্যাংকারে তারা হামলা চালিয়েছে।
পাশাপাশি তিনটি মার্কিন জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের ভাষ্য,
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়
দেশটির তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে
এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের বক্তব্য
ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই তারা
ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।
জাহাজ
চলাচল
কমেছে
হরমুজ প্রণালিতে
সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে
তেল পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। রয়টার্সের তথ্য বলছে, গত
১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে
মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে।
মে মাসের পর এটি সর্বনিম্ন
জাহাজ চলাচলের হার।
বিশ্বের জ্বালানি
সরবরাহব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক। এই নৌপথ দিয়ে
বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায়
এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। ফলে প্রণালিটিতে
দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক
বাজারে তেল সরবরাহে বড়
ধরনের সংকট দেখা দিতে
পারে বলে আশঙ্কা তৈরি
হয়েছে।
এক
সপ্তাহেই বড়
উল্লম্ফন
যুক্তরাষ্ট্র ও
ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের
বাজারে অস্থিরতা চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর
বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে
থাকে।
এরই মধ্যে
গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক
৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের
দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।
হরমুজ
প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হওয়ার
আশঙ্কা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে
অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে
পারে বলে উদ্বেগ দেখা
দিয়েছে।