ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে

সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন, হত্যাকাণ্ড ও গুপ্তহত্যার জবাব দিতে তেহরান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সংযম দেখানো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে শুধু সরাসরি হামলাকারীদের নয়, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে তেহরান।ওই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সম্ভাব্য সংঘাতের জবাব ইরান কেবল নিজেদের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। হামলাকারীদের আঞ্চলিক স্বার্থ ও সহযোগীদেরও পাল্টা আঘাতের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে দেশটি।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে একই যুদ্ধশক্তি মনে করে তেহরানইরানের ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তার দাবি, তেহরান মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে ছাড়া ইরানে হামলা চালাবে না, আবার ইসরাইলও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া এমন হামলা চালাতে পারবে না। তাঁর ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশ দুটির যেকোনো একটির এককভাবে অংশ নেওয়ার ধারণা ‘তিক্ত রসিকতার’ মতো।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তাদের ইরানে হামলার প্রকাশ্য হুমকি তেহরানকে আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে বলে দেশটি মনে করে। তবে এসব বক্তব্য ইরানি কর্মকর্তার নিজস্ব অবস্থান; এর স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা ইসরাইলেরইরানের এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের হামলা পুনরায় শুরু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।অক্টোবরের শুরুতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইরানের অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নেতৃত্ব-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তির কারণে সেই পরিকল্পনা এগোয়নি।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় আদায় এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার কৌশল হিসেবেও তেহরান আলোচনার গতি ধীর রাখছে। এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।আলোচনার আগে আস্থা তৈরির শর্তসামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার বলেছেন, ওয়াশিংটন আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তেহরান আলোচনায় বসবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনা শুরু করতে হলে ইরানের সব শর্ত পূরণ করতে হবে।ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। তাঁর দাবি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সংকটে পড়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে।প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের ওপর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং শর্তগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কাইরানের সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেহরানের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, নতুন করে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থ এবং হামলায় সহযোগিতাকারীদের স্থাপনাও পাল্টা আঘাতের লক্ষ্য হতে পারে।এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সেখানে সংঘাত বাড়লে তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।তবে ইরানের যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা থেকেই নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া নিশ্চিত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সামরিক প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া, প্রতিপক্ষকে হামলা থেকে বিরত রাখা কিংবা কূটনৈতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবেও এমন বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।পরিস্থিতির প্রকৃত গতিপথ নির্ভর করবে সামরিক তৎপরতা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের অগ্রগতির ওপর।তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি, রয়টার্স ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে অপেক্ষায় আছি: ইরানের আইআরজিসি কমান্ডার

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে ইরান এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ওজমায়ি। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়ে সন্দেহ থাকলে মার্কিন বাহিনীকে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ওই জলপথের কাছাকাছি আসার চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন তিনি।টেলিভিশনে দেওয়া নিজের প্রথম সাক্ষাৎকারে ওজমায়ি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি মনে করে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত, তাহলে তারা আরও কাছে আসুক। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’আইআরজিসির এই কমান্ডার দাবি করেন, ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির কাছে যাওয়ার সাহস না পেয়ে জাহাজটি ওই জলপথ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে।ওজমায়ি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর আসার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা, যাতে সেগুলো ডুবিয়ে দিতে পারি। এই ঘটনা ঘটার মুহূর্ত গুনছি আমরা।’তথ্যপ্রবাহ বন্ধের অভিযোগসাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন ওজমায়ি। তাঁর দাবি, নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর যাতে বিশ্ববাসী জানতে না পারে, সে জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান, নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়া দুটি জাহাজের ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।তবে ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অকার্যকর হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে যাওয়ার বিষয়ে আলী ওজমায়ির দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।সূত্র: তাসনিম নিউজ

মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে অপেক্ষায় আছি: ইরানের আইআরজিসি কমান্ডার

মার্কিন নির্বাচনের আগে জাহাজে হামলার কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া রাখতে এবং ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কৌশল পরিবর্তন করছে ইরান। দেশটির জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আশপাশের বিস্তৃত জলসীমায়ও হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে তেহরান।বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ দিন আগে ইরান এমন কিছু জাহাজের বিরুদ্ধে হামলার ধরন ও গতি পরিবর্তন করেছে, যেগুলোকে তারা নিজেদের আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারী বলে মনে করে। এর ফলে ওই ধরনের জাহাজে হামলার সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।তাঁদের ভাষ্য, নতুন কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলা। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টায় বাধাইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বৈশ্বিক তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করাই লক্ষ্য।’অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তেলের দাম কমাতে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, ‘যখনই তারা ভাববে, দাম কমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, তখনই আমরা তাদের সেই অবস্থান থেকে দূরে ঠেলে দেব। এটি দাবার খেলা।’ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কৌশল গ্রহণের সিদ্ধান্ত দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে এবং সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এ বিষয়ে সমন্বয় রয়েছে।ছোট নৌকায় নজরদারি, লক্ষ্য চিহ্নিত করছে ইরানএক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের রাডার সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হওয়ার পর দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করতে ছোট নৌকায় নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক ব্যবহার শুরু করেছে। এসব পর্যবেক্ষক মার্কিন নৌযানসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান শনাক্ত করে আইআরজিসিকে তথ্য দিচ্ছেন বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।গত সপ্তাহে এমনই একটি ঘটনায় ইরানি পর্যবেক্ষকেরা একটি ধৌ নৌযান থেকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য পাঠাচ্ছিলেন বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী নির্ধারণ করে। পরে মার্কিন বাহিনী নৌযানটির মুখোমুখি হয়, আরোহীদের নৌযান ছেড়ে যেতে বলে এবং সেটি ধ্বংস করে। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিজেদের অবশিষ্ট দ্রুতগতির নৌযানগুলো ঝুঁকির মুখে ফেলতে না চাওয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না। বিশেষ করে মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।হরমুজের বাইরেও হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির বাইরেও অভিযান বিস্তৃত করতে চায় তেহরান। ওমান উপসাগর এবং আরও দূরের জলসীমাও এর আওতায় আসতে পারে।সামুদ্রিক নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির বাইরেও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় হামলার তথ্যও রয়েছে।এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, সাম্প্রতিক হামলার গতি বেড়েছে এবং তা পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে।গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে অন্তত পাঁচটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) কাছে জানানো তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার মধ্যে ড্রোন হামলাও রয়েছে।জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের তথ্যেও হামলার এই বৃদ্ধি প্রতিফলিত হয়েছে। গত ৩ থেকে ৫ অক্টোবরের হামলার হারের সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির তুলনা করে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।‘শিগগিরই পুরোপুরি বন্ধ’ হতে পারে হরমুজহরমুজ প্রণালিতে নিজেদের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারী কোনো জাহাজকে চলাচল করতে না দেওয়ার পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে ইরান—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির দুই কর্মকর্তা। তাঁদের একজন বলেছেন, ‘শিগগিরই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।’যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তেহরান। চলাচলে বিধিনিষেধ ও জাহাজে হামলার কারণে প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করছে ওয়াশিংটন। সংঘাতের অবসানে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানকে চাপ দেওয়াই এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা বিবেচনা করছেন। তবে নির্বাচনের আগে ইরানে আর হামলা চালাবেন না বলে তিনি জানিয়েছেন।জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তাইরান যুদ্ধ ও এর অর্থনৈতিক ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারণায়ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক ব্যয় প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হামলার হুমকি, জাহাজ চলাচলের বাড়তি খরচ এবং বিমার উচ্চ ব্যয় স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচল পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে।মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) রোববারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকিকে ‘গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছে। এটি তাদের ঝুঁকি মূল্যায়নের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর।সংস্থাটি জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নজরদারি, ড্রোনের উড্ডয়ন এবং ভিএইচএফ রেডিওতে যোগাযোগের মাধ্যমে হয়রানিসহ আইআরজিসির হামলা ও হামলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পেন্টাগন ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স

মার্কিন নির্বাচনের আগে জাহাজে হামলার কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

ইরানে মহানবী (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে তরুণীর মৃত্যুদণ্ড

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে ইরানের ২৩ বছর বয়সী তরুণী নাজমেহ আমিনিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করা ও সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর ছয় মাস এক দিন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ রায়ের বিরুদ্ধে ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে।অ্যাকাউন্টিংয়ের শিক্ষার্থী নাজমেহ আমিনি বর্তমানে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দী রয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে মহানবীকে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইন অনুযায়ী, এ অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিক্ষোভে হাজারো মানুষের নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।আমিনির বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ করা এবং সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর ছয় মাস এক দিন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।কারাগার থেকে ধারণ করা এক অডিও বার্তায় আমিনি জাতিসংঘ, আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে তাঁর মামলাটি তদন্তের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর অনেক আশা ও স্বপ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, তাঁকে হারানোর আশঙ্কায় তাঁর পরিবার প্রতিনিয়ত উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।আদালতে যে যুক্তি দিয়েছিলেন আমিনিইরানের সংবাদপত্র খোরাসানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতে আমিনি দাবি করেন, বন্ধুদের সঙ্গে হ্যালুসিনেশন সৃষ্টিকারী মাশরুম গ্রহণের পর বিভ্রমের মধ্যে তিনি ওই পোস্ট দিয়েছিলেন। তাঁর আইনজীবীও ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।তবে বিচারক এ যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিভ্রমের মধ্যে থাকলে আমিনি কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতো অন্য ব্যক্তি বা সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের মন্তব্য করেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারক।ইরানের ইসলামি দণ্ডবিধির ২৬২ ধারায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ২৬৩ ধারায় অনিচ্ছাকৃত বক্তব্য, ভুলবশত বলা কথা কিংবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্যের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে। আমিনির মামলায় এসব আইনি ব্যতিক্রম কেন প্রযোজ্য হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।মৃত্যুদণ্ড নিয়ে উদ্বেগনরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ইরানে ৬০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে এক তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক নজির তৈরি করতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কঠোর প্রতিক্রিয়া না জানালে শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ আরও বাড়তে পারে।ইরানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। এর আগে ২০২৩ সালের ৮ মে ইউসুফ মেহরদাদ ও সদরোল্লাহ ফাজেলি-জারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত অভিযোগে তাঁদের দণ্ড দেওয়া হয়।আমিনির মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় মামলাটি আপিলের পর্যায়ে রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাঁর সাজা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি এবং মৃত্যুদণ্ডের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।

ইরানে মহানবী (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে তরুণীর মৃত্যুদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আর আগের অবস্থায় ফিরবে না: রেজাই

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্তের কয়েকটি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দিলেও তা তেহরানের দাবির তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নিরাপত্তা প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজাই বলেন, ইরানের কূটনীতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। ইরানের সব শর্ত পূরণে ওয়াশিংটনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।রেজাইয়ের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যর্থতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধইরানের দাবি অনুযায়ী, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের অনুমোদন ও সমন্বয়ের শর্ত রয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান।তবে ইরানের অভিযোগ, সমঝোতা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র সমন্বয় ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে তেহরানইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে দেওয়া সাতটি শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। এই পথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।সূত্র: প্রেসি টিভি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আর আগের অবস্থায় ফিরবে না: রেজাই

ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত সমাধানের দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে না নিলে ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিউইয়র্কের সিরাকিউসে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ হুমকি দেন।ট্রাম্প বলেন, ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের দ্রুত মীমাংসা করবেন তিনি এবং এসব সংঘাতে জয়ী হবেন। ইরান যুদ্ধের অবসানও খুব শিগগির ঘটবে বলে আবারও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।ইরানকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘হয় তারা আমাদের সব দাবি মেনে নেবে, নতুবা তাদের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।’তিনি আরও বলেন, ইরান ও ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে।সূত্র: আল জাজিরা

ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত সমাধানের দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে। অঞ্চলটিতে চলমান সংঘাতের কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৩ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭২ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৩২ ডলারে উঠেছে।মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের বিষয়টি এখনো বাজারে প্রভাব ফেলছে। অঞ্চলটি থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়ার কিছু লক্ষণ দেখা গেলেও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগই আপাতত দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব অপরিশোধিত তেলের দামের ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

মার্কিন ডুবো ড্রোন জব্দ, প্রযুক্তি অনুকরণের উদ্যোগ ইরানের

মার্কিন নৌবাহিনীর একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান (আন্ডারওয়াটার ড্রোন) জব্দ করার দাবি করেছে ইরান। সেটির প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, ইরানি নৌবাহিনীর হাতে আসা মার্কিন ডুবোযানটির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শুরু করা হবে। এরপর সেটির প্রযুক্তি অনুসরণ করে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা চালানো হবে।মোহেব্বির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে প্রায় সাত মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাতের সময় ইরানি বাহিনী বিভিন্ন ধরনের মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন ওই ডুবোযানও রয়েছে।তিনি বলেন, আইআরজিসির নৌবাহিনীর হাতে আসা এই পানির নিচের যানে উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে এবং এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে।কোন ড্রোন এটি?ইরানের দাবি করা ডুবোযানটি ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) নামে পরিচিত একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান বা অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (AUV)। এ ধরনের যান দীর্ঘ সময় পানির নিচে থেকে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের মতো বিভিন্ন মিশনে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়।মানবচালিত সাবমেরিনের তুলনায় এসব ডুবোযান আকারে ছোট। একই সঙ্গে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরতা কম থাকায় দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করে নির্দিষ্ট মিশন পরিচালনা করতে পারে।সামরিক ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ, পানির নিচের অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ এবং সামুদ্রিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যবহার করা সম্ভব।প্রযুক্তি নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতামার্কিন সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করে সেগুলোর প্রযুক্তি বিশ্লেষণের দাবি ইরানের জন্য নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন মার্কিন ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তেহরান। এসব সরঞ্জাম বিশ্লেষণ করে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইরান।এবার একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ডুবোযানটির ক্ষেত্রেও। তবে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ইরান ড্রোনটির কতটা প্রযুক্তি পুনর্নির্মাণ করতে পারবে এবং তা নিজেদের সামরিক ব্যবস্থায় কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।এ ছাড়া সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির কিছু অংশ ইরানের হাতে আসার যে দাবি আইআরজিসি করেছে, তার স্বাধীন যাচাই সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

মার্কিন ডুবো ড্রোন জব্দ, প্রযুক্তি অনুকরণের উদ্যোগ ইরানের

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যুদ্ধ, জলবায়ু ও এআই গুরুত্ব পাচ্ছে

নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এবারের অধিবেশন। সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেবেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এবারের অধিবেশনে ইরান, গাজা, ইউক্রেন, সুদান, কঙ্গো ও মিয়ানমারের সংঘাত গুরুত্ব পাবে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হবে।আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশের বিপরীতে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এখনো সীমিত। এআই নিয়ে বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নেতা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব উদ্বেগকে ‘হোক্স’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।জলবায়ু সংকট নিয়েও থাকছে বিশেষ আয়োজন। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র এবং প্রধান জ্বালানি উৎপাদক ও ভোক্তা দেশগুলোর নেতারা জলবায়ু সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা করবেন।এদিকে জাতিসংঘের সংস্কার ও আর্থিক সংকটও আলোচনায় থাকবে। নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়ে ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্র একটি বিস্তৃত সংস্কার প্যাকেজে সম্মত হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।জাতিসংঘের আর্থিক সংকটের প্রভাব পড়ছে শান্তিরক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও। যুক্তরাষ্ট্র বকেয়া চাঁদার একটি অংশ পরিশোধ করায় চলতি বছর সাধারণ পরিষদে দেশটির ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা আপাতত এড়ানো গেছে। তবে অর্থসংকটের কারণে বিভিন্ন কার্যক্রমে কাটছাঁটের চাপ অব্যাহত রয়েছে।মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বুধবার বক্তব্য দেওয়ার কথা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের। বৃহস্পতিবার ভাষণ দেবেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।তবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতা এবারের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিউইয়র্কের পরিবর্তে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন। তাঁর পরিবর্তে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্ব করবেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও আসছেন না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সফর বাতিল করেছেন।যুদ্ধ-সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি এআই এবং জাতিসংঘের সংস্কার- সব মিলিয়ে এবারের অধিবেশনে বৈশ্বিক নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ আলোচনার কেন্দ্রে থাকছে। সূত্র: এপি নিউজ ও রয়টার্স

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যুদ্ধ, জলবায়ু ও এআই গুরুত্ব পাচ্ছে

শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

ইরানের দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকবে।পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে তাদের অবস্থান ও শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ভালোভাবেই জানে যে প্রতারণা ও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ এখন রুদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের শর্ত পূরণ, দেশটির ‘বৈধ অধিকার’ স্বীকৃতি এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আগের আলোচনার অবস্থায় ফিরে যাওয়া বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে কয়েকটি শর্ত পাঠায় ইরান।শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, আমাদের শর্ত হলো- সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, আমাদের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে হবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। সূত্র: আল-জাজিরা

শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

ইয়েমেনে হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা, লোহিত সাগর নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ইয়েমেনের উপকূলীয় সমতলভূমি তিহামাহর দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। কয়েক দিনের মধ্যে হুথিবিরোধী জোট ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স’-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের দখলে চলে যায়।বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, লোহিত সাগরের উপকূলে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার এলাকা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। কয়েক বছরের মধ্যে এটিকে গোষ্ঠীটির সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ১২ বছরের গৃহযুদ্ধ, সৌদি আরবের ব্যাপক বিমান হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানের পরও হুথিরা যে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে আছে, সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা তার প্রমাণ।ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হিশাম আল-ওমেইসি বিবিসিকে বলেন, হুথিদের এখন নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা থেকে সরানো সহজ হবে না। তারা সেখানে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে এবং তাদের সরাতে বড় মূল্য দিতে হবে।বাব আল-মান্দাব ঘিরে উদ্বেগহুথিদের এই অগ্রযাত্রা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাব আল-মান্দাবের কাছে পেরিমসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে গেলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।গাজা যুদ্ধের পর হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে তারা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করেছে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা জাহাজও তাদের হামলার শিকার হয়েছে।ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ আইওনা ক্রেগ বলেন, বাব আল-মান্দাবের ওপর নজরদারির সুযোগ থাকা এলাকা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।ইরানের কৌশলগত সুবিধালন্ডনের চ্যাথাম হাউসের গবেষণা ফেলো ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, ইরান সরাসরি ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাবের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও তেল বাণিজ্যের ৩৫ শতাংশের বেশি এসব পথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক বারাআ শাইবান বলেন, জুলাই থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। তাঁর মতে, এরপর থেকেই লোহিত সাগরে ইরানের আরও বড় উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নহুথিদের অগ্রযাত্রার পর প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি জড়াবে কি না। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নতুন সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চাইলেও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন তাতে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সৌদি আরবকে সমর্থন জোরদার করতে চায়, অন্যদিকে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইছে। এদিকে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও সম্ভাব্য হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইয়েমেনে আবার পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হলে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়বে দেশটির সাধারণ মানুষ। এক যুগের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত ইয়েমেনিদের জন্য নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

ইয়েমেনে হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা, লোহিত সাগর নিয়ে নতুন উদ্বেগ

হরমুজে সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের সতর্কতা

পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েন কিংবা সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, সিউল এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইরান।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে কোরিয়ান ভাষায় এ সতর্কবার্তা দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।বার্তায় বাঘাই বলেন, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক ৬৪ বছরেরও বেশি পুরোনো। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ সম্পর্ককে তেহরান গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং সিউলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের কঠোর জবাব দেওয়ার কথাও বলেন ইরানের এই মুখপাত্র।বাঘাই সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো পক্ষের সামরিক উপস্থিতি বা সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে আগ্রাসী পক্ষকে সরাসরি সহায়তা হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান। এমন পদক্ষেপের ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, কোনো সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল সরকারই ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা ‘ব্ল্যাকমেইলের’ কাছে নতি স্বীকার করে না।ইসমাইল বাঘাইয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শুরু করা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির দায় ও বোঝা অন্য দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

হরমুজে সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের সতর্কতা

হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৮২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ০৭ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি। ইরান দাবি করেছে, অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে তারা হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তিনটি মার্কিন জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তেহরান।ইরানের ভাষ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই তারা ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।জাহাজ চলাচল কমেছেহরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। রয়টার্সের তথ্য বলছে, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে। মে মাসের পর এটি সর্বনিম্ন জাহাজ চলাচলের হার।বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। ফলে প্রণালিটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এক সপ্তাহেই বড় উল্লম্ফনযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে।এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

মার্কিন ঘাঁটি সরানোর হুঁশিয়ারি ইরানের, না হলে হামলা

মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে দিতে আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। তা না হলে এসব দেশের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো তৎপরতা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ‘চরম প্রতিশোধের’ মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির রাজনৈতিক উপপ্রধান জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি এ হুঁশিয়ারি দেন।বিবৃতিতে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোর নিজেদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে দিয়ে তাদের ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো হবে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের নাম উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিলে সেখান থেকেই পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।এর পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরানের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ ইসলামি আল জাজিরাকে বলেন, ওয়াশিংটন কূটনীতিতে বিশ্বাসী নয়—এমন ধারণা ইরানের মধ্যে তৈরি হয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান।তিনি বলেন, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি রাখা। আগের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা আবার যুদ্ধ চাইলে ইরান আরও শক্তিশালী জবাব দেবে। এদিকে ইরানের কুহেস্তায় একটি বিয়েবাড়িতে মার্কিন হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মোহাম্মদ ইসলামি। ঘটনাটিকে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এখনই তাদের থামানো ও শাস্তি দেওয়ার উপযুক্ত সময়।

মার্কিন ঘাঁটি সরানোর হুঁশিয়ারি ইরানের, না হলে হামলা

ইরানের তেল কিনলে কঠোর ব্যবস্থা, চীনের দিকে ওয়াশিংটনের নজর

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরান থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার চাপ তৈরি করা। তবে কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি মার্কিন কর্মকর্তারা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য চীন।ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনে থাকে। এই তেল বিক্রি থেকে ইরান প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। দেশটির সরকারি ব্যয় ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আকস্মিক বড় ধরনের চাপ তৈরি না করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাদের নীতি পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, এই সুযোগের সময় সীমাহীন নয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।ওয়াশিংটনের হুঁশিয়ারির প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না; বরং এ ধরনের পদক্ষেপ উত্তেজনা আরও বাড়াবে।তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনে ইরানি তেলের আমদানি কমেছে। চলমান সংঘাত এবং কিছু তেল শোধনাগারের কার্যক্রম কমে যাওয়ার কারণে দেশটিতে ইরানি তেলের আমদানি আগে দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল থাকলেও তা কমে প্রায় ৭ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, চীনের পর্যাপ্ত তেল মজুদ থাকায় ইরান থেকে আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম।ইরানি তেলের অন্যতম পুরোনো ক্রেতা ছিল ভারতও। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদার চাপের মধ্যে সীমিত পরিসরে ইরানি তেল কেনার প্রবণতা দেখা গেছে।এদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানি তেল পরিবহনে বিভিন্ন ছায়াবহর বা গোপন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব জাহাজের মালিকানা, অবস্থান ও গন্তব্য গোপন রাখার নানা কৌশলের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের প্রকৃত তেল রপ্তানির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়ছে এবং পেট্রল পাম্পে জ্বালানির দাম বাড়ার চাপ তৈরি হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল বাণিজ্য বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ সফল হলে তেহরানের রাজস্ব আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে চীনের মতো বড় ক্রেতাকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

ইরানের তেল কিনলে কঠোর ব্যবস্থা, চীনের দিকে ওয়াশিংটনের নজর

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ফি নিবে ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ফি আদায়ের বিধান রেখে একটি খসড়া আইনের ধারা অনুমোদন করেছে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশন।রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অগ্রগতি নিশ্চিতকরণে কৌশলগত পদক্ষেপ আইনের তৃতীয় ধারা অনুমোদন করেছে কমিশন।কমিশনের মুখপাত্র হাসান কাশকাভি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাওয়া দেশগুলোর মালিকানাধীন জাহাজ থেকে এসব ফি নেওয়া হবে। ইরানি মুদ্রা রিয়ালে অথবা তেহরান নির্ধারিত অন্য কোনো মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ করতে হবে।তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় সামুদ্রিক, পরিবেশগত, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বীমা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবার জন্য ফি নেওয়া হবে।কাশকাভির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী দেশগুলোর অধিকারও প্রস্তাবিত আইনে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন গ্রহণের পর ওমানের অবস্থানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই প্রণালিটি নিয়ে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে।সূত্র: জিও নিউজ ও আইআরএনএ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ফি নিবে ইরান