মার্কিন নৌবাহিনীর একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান (আন্ডারওয়াটার ড্রোন) জব্দ করার দাবি করেছে ইরান। সেটির প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে আইআরজিসির
মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, ইরানি নৌবাহিনীর হাতে আসা মার্কিন
ডুবোযানটির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শুরু করা হবে।
এরপর সেটির প্রযুক্তি অনুসরণ করে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা
চালানো হবে।
মোহেব্বির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে
প্রায় সাত মাস ধরে
চলা সামরিক সংঘাতের সময় ইরানি বাহিনী
বিভিন্ন ধরনের মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এসব
সরঞ্জামের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন ওই ডুবোযানও রয়েছে।
তিনি বলেন, আইআরজিসির
নৌবাহিনীর হাতে আসা এই
পানির নিচের যানে উন্নত প্রযুক্তি
রয়েছে এবং এর রিভার্স
ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে।
কোন ড্রোন এটি?
ইরানের দাবি করা ডুবোযানটি
‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) নামে পরিচিত একটি
স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান বা অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (AUV)।
এ ধরনের যান দীর্ঘ সময়
পানির নিচে থেকে নজরদারি
ও তথ্য সংগ্রহের মতো
বিভিন্ন মিশনে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা
হয়।
মানবচালিত সাবমেরিনের তুলনায় এসব ডুবোযান আকারে
ছোট। একই সঙ্গে মানুষের
সরাসরি নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরতা কম
থাকায় দীর্ঘ সময় পানির নিচে
অবস্থান করে নির্দিষ্ট মিশন
পরিচালনা করতে পারে।
সামরিক ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি
সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ, পানির নিচের অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ এবং
সামুদ্রিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যবহার করা সম্ভব।
প্রযুক্তি
নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতা
মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করে সেগুলোর
প্রযুক্তি বিশ্লেষণের দাবি ইরানের জন্য
নতুন নয়। এর আগেও
বিভিন্ন মার্কিন ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি
নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তেহরান।
এসব সরঞ্জাম বিশ্লেষণ করে নিজস্ব প্রতিরক্ষা
সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও
জানিয়েছে ইরান।
এবার একই ধরনের
উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ডুবোযানটির ক্ষেত্রেও। তবে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের
মাধ্যমে ইরান ড্রোনটির কতটা
প্রযুক্তি পুনর্নির্মাণ করতে পারবে এবং
তা নিজেদের সামরিক ব্যবস্থায় কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার
করা সম্ভব হবে, তা এখনো
স্পষ্ট নয়।
এ ছাড়া সংঘাতে
যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির কিছু অংশ ইরানের
হাতে আসার যে দাবি
আইআরজিসি করেছে, তার স্বাধীন যাচাই
সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা