ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
মার্কিন ডুবো ড্রোন জব্দ, প্রযুক্তি অনুকরণের উদ্যোগ ইরানের

মার্কিন ডুবো ড্রোন জব্দ, প্রযুক্তি অনুকরণের উদ্যোগ ইরানের

মার্কিন নৌবাহিনীর একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান (আন্ডারওয়াটার ড্রোন) জব্দ করার দাবি করেছে ইরান। সেটির প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, ইরানি নৌবাহিনীর হাতে আসা মার্কিন ডুবোযানটির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শুরু করা হবে। এরপর সেটির প্রযুক্তি অনুসরণ করে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা চালানো হবে।মোহেব্বির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে প্রায় সাত মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাতের সময় ইরানি বাহিনী বিভিন্ন ধরনের মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন ওই ডুবোযানও রয়েছে।তিনি বলেন, আইআরজিসির নৌবাহিনীর হাতে আসা এই পানির নিচের যানে উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে এবং এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে।কোন ড্রোন এটি?ইরানের দাবি করা ডুবোযানটি ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) নামে পরিচিত একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান বা অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (AUV)। এ ধরনের যান দীর্ঘ সময় পানির নিচে থেকে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের মতো বিভিন্ন মিশনে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়।মানবচালিত সাবমেরিনের তুলনায় এসব ডুবোযান আকারে ছোট। একই সঙ্গে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরতা কম থাকায় দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করে নির্দিষ্ট মিশন পরিচালনা করতে পারে।সামরিক ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ, পানির নিচের অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ এবং সামুদ্রিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যবহার করা সম্ভব।প্রযুক্তি নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতামার্কিন সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করে সেগুলোর প্রযুক্তি বিশ্লেষণের দাবি ইরানের জন্য নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন মার্কিন ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তেহরান। এসব সরঞ্জাম বিশ্লেষণ করে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইরান।এবার একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ডুবোযানটির ক্ষেত্রেও। তবে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ইরান ড্রোনটির কতটা প্রযুক্তি পুনর্নির্মাণ করতে পারবে এবং তা নিজেদের সামরিক ব্যবস্থায় কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।এ ছাড়া সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির কিছু অংশ ইরানের হাতে আসার যে দাবি আইআরজিসি করেছে, তার স্বাধীন যাচাই সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

মার্কিন ঘাঁটি সরানোর হুঁশিয়ারি ইরানের, না হলে হামলা

মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে দিতে আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। তা না হলে এসব দেশের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো তৎপরতা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ‘চরম প্রতিশোধের’ মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির রাজনৈতিক উপপ্রধান জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি এ হুঁশিয়ারি দেন।বিবৃতিতে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোর নিজেদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে দিয়ে তাদের ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো হবে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের নাম উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিলে সেখান থেকেই পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।এর পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরানের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ ইসলামি আল জাজিরাকে বলেন, ওয়াশিংটন কূটনীতিতে বিশ্বাসী নয়—এমন ধারণা ইরানের মধ্যে তৈরি হয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান।তিনি বলেন, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি রাখা। আগের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা আবার যুদ্ধ চাইলে ইরান আরও শক্তিশালী জবাব দেবে। এদিকে ইরানের কুহেস্তায় একটি বিয়েবাড়িতে মার্কিন হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মোহাম্মদ ইসলামি। ঘটনাটিকে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এখনই তাদের থামানো ও শাস্তি দেওয়ার উপযুক্ত সময়।

মার্কিন ঘাঁটি সরানোর হুঁশিয়ারি ইরানের, না হলে হামলা

ওমানকে ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর প্রচেষ্টায় ওমান বাধা দিলে দেশটিতে ‘ভয়াবহ বোমা হামলা’ চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরান ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, তাঁর প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি গোপন ‘ব্যাকচ্যানেল’ চালু করেছে। তবে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না বলে জানান।আইআরজিসি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ভালো পোকার খেলোয়াড়, কিন্তু তারা মারা যাচ্ছে।’ সংঘাত শেষ করার বিষয়ে তাঁর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই বলেও জানান তিনি।এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমান একটি সমঝোতা চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।এমন পরিস্থিতিতে ওমানকে ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ওমানকে ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি