মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে দিতে আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। তা না হলে এসব দেশের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো তৎপরতা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ‘চরম প্রতিশোধের’ মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির
রাজনৈতিক উপপ্রধান জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি এ হুঁশিয়ারি দেন।
বিবৃতিতে তিনি
বলেন, আরব দেশগুলোর নিজেদের
ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনাদের
সরিয়ে দিয়ে তাদের ঘাঁটিগুলোর
নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো হবে। বিশেষ
করে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের নাম
উল্লেখ করে তিনি সতর্ক
করেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো দেশ তাদের
ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিলে সেখান থেকেই
পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
এর পরপরই
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে জর্ডান, বাহরাইন
ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে
বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরানের
এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য সর্বাত্মক
যুদ্ধের প্রস্তুতির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের
গবেষক মোহাম্মদ ইসলামি আল জাজিরাকে বলেন,
ওয়াশিংটন কূটনীতিতে বিশ্বাসী নয়—এমন ধারণা
ইরানের মধ্যে তৈরি হয়েছে। এ
কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে
দ্বিতীয় দফায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের
প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান।
তিনি বলেন,
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ
শুরু হলে ইসরায়েলে হামলার
প্রস্তুতি রাখা। আগের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র
ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা দেখা গেছে উল্লেখ
করে তিনি বলেন, তারা
আবার যুদ্ধ চাইলে ইরান আরও শক্তিশালী
জবাব দেবে।
এদিকে
ইরানের কুহেস্তায় একটি বিয়েবাড়িতে মার্কিন
হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন
মোহাম্মদ ইসলামি। ঘটনাটিকে ইরাক ও আফগানিস্তানে
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন,
এখনই তাদের থামানো ও শাস্তি দেওয়ার
উপযুক্ত সময়।