ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ইমরান–বুশরাকে একাকী রাখা যাবে না, সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইমরান–বুশরাকে একাকী রাখা যাবে না, সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ
পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবি

পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দী না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাগারের বিধি অনুযায়ী তাঁদের পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো এসব নির্দেশ দেন।

ইমরান খান ও বুশরা বিবি বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তাঁদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ইমরান খানকে কথিতভাবে একাকী কারাবন্দী রাখা হয়েছে-এমন অভিযোগে তাঁর বোন আলিমা খান ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেন। অন্যদিকে বুশরা বিবিকে নিয়ে পৃথক আবেদন করেন তাঁর মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকা।

পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার নির্দেশ

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, কারাগারের বিধি অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে হবে।

এ ছাড়া ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে।

এসব নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

২০২৩ সাল থেকে কারাগারে ইমরান

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই এসব মামলায় দেওয়া সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।

ইমরানের পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বুশরা বিবিও কারাগারে

দুর্নীতির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রথমবার কারাগারে পাঠানো হয় বুশরা বিবিকে। প্রায় নয় মাস পর ওই বছরের ২৪ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

পরে আরেকটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দুর্নীতিসংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে অতিরিক্ত সাজা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনিও আদিয়ালা কারাগারে বন্দী।

ইমরানের চিকিৎসা নিয়েও বিরোধ

ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও সম্প্রতি তাঁর পরিবার ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতাল শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। কয়েক মাস ধরে তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে শনাক্ত হওয়া তাঁর চোখের সমস্যা নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ জানিয়েছিলেন।

তবে ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরে তাঁকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর ইমরান খানের পরিবার আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের অভিযোগ, তাঁকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের লঙ্ঘন। ওই নির্দেশে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি রাখার কথা বলা হয়েছিল।

তবে ইমরান খানকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার পক্ষে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

১৬ সেপ্টেম্বর আদালত অবমাননার শুনানি

এ ঘটনায় করা আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ওই শুনানি করবেন। বেঞ্চে থাকবেন বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদ, নাঈম আখতার আফগান ও ইশতিয়াক ইব্রাহিম।

একই বেঞ্চে ইমরান খানের স্বাস্থ্য এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সুযোগসংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলোরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

বিষয় : পাকিস্তান ইমরান খান আদিয়ালা কারাগার বুশরা বিবি ইসলামাবাদ হাইকোর্ট

দৈনিক নবকাল

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


ইমরান–বুশরাকে একাকী রাখা যাবে না, সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দী না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাগারের বিধি অনুযায়ী তাঁদের পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো এসব নির্দেশ দেন।

ইমরান খান ও বুশরা বিবি বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তাঁদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ইমরান খানকে কথিতভাবে একাকী কারাবন্দী রাখা হয়েছে-এমন অভিযোগে তাঁর বোন আলিমা খান ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেন। অন্যদিকে বুশরা বিবিকে নিয়ে পৃথক আবেদন করেন তাঁর মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকা।

পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার নির্দেশ

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, কারাগারের বিধি অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে হবে।

এ ছাড়া ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে।

এসব নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

২০২৩ সাল থেকে কারাগারে ইমরান

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই এসব মামলায় দেওয়া সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।

ইমরানের পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বুশরা বিবিও কারাগারে

দুর্নীতির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রথমবার কারাগারে পাঠানো হয় বুশরা বিবিকে। প্রায় নয় মাস পর ওই বছরের ২৪ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

পরে আরেকটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দুর্নীতিসংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে অতিরিক্ত সাজা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনিও আদিয়ালা কারাগারে বন্দী।

ইমরানের চিকিৎসা নিয়েও বিরোধ

ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও সম্প্রতি তাঁর পরিবার ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতাল শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। কয়েক মাস ধরে তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে শনাক্ত হওয়া তাঁর চোখের সমস্যা নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ জানিয়েছিলেন।

তবে ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরে তাঁকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর ইমরান খানের পরিবার আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের অভিযোগ, তাঁকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের লঙ্ঘন। ওই নির্দেশে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি রাখার কথা বলা হয়েছিল।

তবে ইমরান খানকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার পক্ষে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

১৬ সেপ্টেম্বর আদালত অবমাননার শুনানি

এ ঘটনায় করা আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ওই শুনানি করবেন। বেঞ্চে থাকবেন বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদ, নাঈম আখতার আফগান ও ইশতিয়াক ইব্রাহিম।

একই বেঞ্চে ইমরান খানের স্বাস্থ্য এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সুযোগসংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলোরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
ইমরান–বুশরাকে একাকী রাখা যাবে না, সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ
0:00 0:00
1.0x