ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করলে পাকিস্তান-তুরস্ককে ‘কঠোর জবাবের’ হুঁশিয়ারি হুথিদের

ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করলে পাকিস্তান-তুরস্ককে ‘কঠোর জবাবের’ হুঁশিয়ারি হুথিদের

ইয়েমেনের সংঘাতে পাকিস্তান ও তুরস্ক সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করলে তাদের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এই সংঘাতে সামরিকভাবে যুক্ত হয়, তাহলে তাদের ‘উপযুক্ত শিক্ষা’ দেওয়া হবে। তবে তাঁর দাবি, এই হুঁশিয়ারি দুই দেশের জনগণের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশ দুটির সরকারের বিরুদ্ধে।মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনাসৌদি আরবের ওপর হুথিদের ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।চুক্তির আওতায় কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তান ও তুরস্ক সামরিকভাবে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।তুরস্কের অবস্থানতুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা গুরুতর হুমকির মুখে পড়লে জোটের অংশ হিসেবে তুরস্ক প্রয়োজনীয় সামরিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।এ বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তানপাকিস্তান শুরু থেকেই সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা রক্ষা করা পাকিস্তানের ধর্মীয় দায়িত্ব। এ জন্য কোনো চুক্তির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীও সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের নিঃশর্ত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।তিনি বলেন, হারামাইন শরিফাইন ও সৌদি রাজ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে পাকিস্তান ‘যেকোনো পর্যায়ে’ যেতে প্রস্তুত।হুথিদের নতুন এই হুঁশিয়ারির পর ইয়েমেন সংঘাতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

ইমরান–বুশরাকে একাকী রাখা যাবে না, সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দী না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাগারের বিধি অনুযায়ী তাঁদের পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো এসব নির্দেশ দেন।ইমরান খান ও বুশরা বিবি বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তাঁদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।ইমরান খানকে কথিতভাবে একাকী কারাবন্দী রাখা হয়েছে-এমন অভিযোগে তাঁর বোন আলিমা খান ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেন। অন্যদিকে বুশরা বিবিকে নিয়ে পৃথক আবেদন করেন তাঁর মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকা।পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার নির্দেশরায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, কারাগারের বিধি অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে হবে।এ ছাড়া ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে।এসব নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।২০২৩ সাল থেকে কারাগারে ইমরান৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই এসব মামলায় দেওয়া সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।ইমরানের পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।বুশরা বিবিও কারাগারেদুর্নীতির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রথমবার কারাগারে পাঠানো হয় বুশরা বিবিকে। প্রায় নয় মাস পর ওই বছরের ২৪ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি।পরে আরেকটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দুর্নীতিসংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে অতিরিক্ত সাজা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনিও আদিয়ালা কারাগারে বন্দী।ইমরানের চিকিৎসা নিয়েও বিরোধইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও সম্প্রতি তাঁর পরিবার ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতাল শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। কয়েক মাস ধরে তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে শনাক্ত হওয়া তাঁর চোখের সমস্যা নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ জানিয়েছিলেন।তবে ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরে তাঁকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।এরপর ইমরান খানের পরিবার আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের অভিযোগ, তাঁকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের লঙ্ঘন। ওই নির্দেশে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি রাখার কথা বলা হয়েছিল।তবে ইমরান খানকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার পক্ষে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়েছে পাকিস্তান সরকার।১৬ সেপ্টেম্বর আদালত অবমাননার শুনানিএ ঘটনায় করা আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ওই শুনানি করবেন। বেঞ্চে থাকবেন বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদ, নাঈম আখতার আফগান ও ইশতিয়াক ইব্রাহিম।একই বেঞ্চে ইমরান খানের স্বাস্থ্য এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সুযোগসংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলোরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

ইমরান–বুশরাকে একাকী রাখা যাবে না, সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে পাকিস্তানি সাবেক সেনা কর্মকর্তার আহ্বান

জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও নিরপেক্ষ করতে সংস্থাটির কাঠামো পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা ও সাবেক সিনেটর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল কাইয়ুম। তাঁর মতে, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি দেশের ভেটো ক্ষমতা এবং বিভিন্ন অঞ্চল ও মুসলিম বিশ্বের সীমিত প্রতিনিধিত্ব জাতিসংঘের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে।ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন (ইউপিএফ) ইউকের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।আবদুল কাইয়ুম বলেন, শান্তি রক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও শরণার্থী সংকট মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘ সনদ ও সংস্থাটির প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করলে এর কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে।সংঘাতের পেছনে নানা কারণবিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, ঘোষণাবিহীন পারমাণবিক অস্ত্র, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরেন কাইয়ুম। এ প্রসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন।তাঁর মতে, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সীমান্ত বিরোধ, দারিদ্র্য, বৈষম্য, জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, ধর্মীয় উগ্রতা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের অন্যতম কারণ।তিনি বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতির বাস্তবতা ও শক্তির ভারসাম্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবভিত্তিক কূটনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এক রাষ্ট্রকে অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নিরাপত্তাআবদুল কাইয়ুমের মতে, ছোট রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা কোনো পরাশক্তির সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে আফগানিস্তানে ন্যাটোর ব্যর্থতা এবং ইরানে সরকার পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা সফল না হওয়ার বিষয় উল্লেখ করেন কাইয়ুম। তিনি বলেন, নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় কিছু দেশ দীর্ঘ সময় অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতেও প্রস্তুত থাকে।সংলাপ ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বানবিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ, মধ্যস্থতা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন আবদুল কাইয়ুম।তিনি আন্তর্জাতিক জলপথে ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার, সহনশীলতা বৃদ্ধি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।কাইয়ুম বলেন, এসব লক্ষ্য জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে জাতিসংঘ কতটা সফল হবে, তা শেষ পর্যন্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর নির্ভর করবে। সূত্র: ডন

জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে পাকিস্তানি সাবেক সেনা কর্মকর্তার আহ্বান

আজাদ কাশ্মীরের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হলেন ইফতিখার গিলানি

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) ব্যারিস্টার ইফতিখার গিলানি। শুক্রবার তিনি আজাদ কাশ্মীরের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।এর আগে মুজাফফরাবাদে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য আইনসভার অধিবেশন বসে। স্পিকার চৌধুরী তারিক ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সদস্যদের ভোটে জয় পান গিলানি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রার্থী সরদার মুখতার খান পান ১৪ ভোট।ভোটগ্রহণের সময় দুই প্রার্থীই আইনসভায় উপস্থিত ছিলেন। ভোট শুরুর আগে ইফতিখার গিলানি ও সরদার মুখতার খান পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় আইনসভায় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখা যায়।পিএমএল-এনের আজাদ কাশ্মীর শাখার সভাপতি শাহ গুলাম কাদির অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। তবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।‘এই সরকার হবে জনগণের সরকার’শপথ নেওয়ার পর ইফতিখার গিলানি বলেন, তাঁর সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এমন একটি আজাদ কাশ্মীর গড়ে তুলতে কাজ করবে, যা বিশ্বের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠবে।তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাব।’আজাদ কাশ্মীরে সুশাসনের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে গিলানি বলেন, তাঁর সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।হাসপাতালগুলোর মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। আজাদ কাশ্মীরের উন্নয়নে তাঁর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ অন্যদের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।গিলানি বলেন, ‘এই সরকার হবে জনগণের সরকার।’তিনি আরও বলেন, এখন থেকে ‘কাশ্মীরের জনগণের যুগ’ শুরু হবে। তাঁর সরকারের সময়ে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মচারীরা পরিবর্তনের সুফল দেখতে পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।আইন ও রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাইফতিখার গিলানি আজাদ কাশ্মীরে পিএমএল-এনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মুজাফফরাবাদের একটি পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারে তাঁর জন্ম। আইন পেশার পাশাপাশি শিক্ষা ও সংসদীয় রাজনীতিতেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।ইসলামাবাদে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান গিলানি। সেখানে তিনি বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে পাকিস্তানে ফিরে ইসলামাবাদে আইন পেশায় যুক্ত হন।দীর্ঘদিন আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি সংসদীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন ইফতিখার গিলানি। এবার তিনি আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের ১৭তম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন।সূত্র: সামা টিভি

আজাদ কাশ্মীরের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হলেন ইফতিখার গিলানি

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামরিক সহযোগিতার কারণে অনেকে এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বললেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ন্যাটোর মতো কোনো সামরিক জোট নয়।তুরস্কের হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষক মুরাত আসলাম বলেন, জোটটিকে আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ। এর কোনো নির্দিষ্ট শত্রু দেশ নেই। একই সঙ্গে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত এড়ানো এবং বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোও এর লক্ষ্য।প্রাথমিকভাবে তিন দেশ নিয়ে চুক্তি হলেও ভবিষ্যতে আরও দেশ এতে যুক্ত হতে পারে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের নামও আলোচনায় এসেছে।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক। তবে এখনো জোটে যোগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান সদস্যরা বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজের মতে, বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হলে যৌথ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়তে পারে। তুরস্ক থেকে বাংলাদেশের বায়রাক্তার ড্রোন ও অটোকার কোবরা ভেহিকেল আমদানির বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।তবে মুরাত আসলাম মনে করেন, মক্কা জোটকে ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ এর কোনো ন্যাটো-ধাঁচের সামরিক কমান্ড কাঠামো বা যৌথ সেনাবাহিনী নেই।তবে জোটটি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান এই জোটের সদস্য হওয়ায় ভারত বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তানের কোনো সংঘাত হলে জোটটির অবস্থান কী হবে এবং বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে কোনো সামরিক পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে কি না- এগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।সূত্র: বিবিসি বাংলা

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার কারাগারে ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে শুক্রবার ভোরে তাকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, চক্ষু, হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দল ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করেন।শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আতাউল্লাহ তারার বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ওই বন্দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে পোস্টে তিনি ইমরান খান বা শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের নাম উল্লেখ করেননি।ইমরানের বোন উজমা খান পুরো স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার সময় উপস্থিত ছিলেন। সব প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়।কড়া নিরাপত্তায় হাসপাতালে নেওয়াবৃহস্পতিবার রাতে ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাকে পাত্রাস বুখারি রোড দিয়ে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং হাসপাতালের ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করানো হয়।হাসপাতালের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। ইসলামাবাদের এইচ-৮ সেক্টরে অবস্থিত হাসপাতালটির আশপাশে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কার্যালয় রয়েছে।কারাগারে ইমরানতোশাখানা উপহারের তথ্য গোপন করার অভিযোগে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। ১৯ কোটি পাউন্ডের দুর্নীতি মামলা হিসেবে পরিচিত আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তিনি ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন।কারাগারে থাকার সময় ইমরানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছেন তার দলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভও রয়েছে।সূত্র: ডন

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার কারাগারে ইমরান খান

পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে: রামদেব

একদিন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের বিতর্কিত যোগগুরু রামদেব। এ জন্য ভারতীয়দের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন রামদেব।তিনি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তা সংবিধান ও নৈতিকতার সীমার মধ্যে থাকা উচিত।রামদেব আরও বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন ও অবিচার মানবসভ্যতার ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ঘটনা। ভবিষ্যতে ধর্মের কারণে কেউ যেন নির্যাতনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।ভারতে হিন্দু, মুসলিম কিংবা খ্রিষ্টান- কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ই হুমকির মুখে নেই দাবি করে রামদেব বলেন, ‘হুমকির মুখে রয়েছে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা।’তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশের কাছ থেকে ভারত সমান সম্মান পাক-এটাই তাঁর প্রত্যাশা।

পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে: রামদেব

পাকিস্তানে টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গুলি করে হত্যা

পাকিস্তানের জনপ্রিয় টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর শামসো বিবিকে (আয়েশা গিলামানা) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মোটরসাইকেলে থাকা দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। ওই সময় গাড়িতে তাঁর ভাই ও বোনও ছিলেন।স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট এ ঘটনা ঘটে। শামসো বিবির বাবা ফজল সাহেবজাদার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যা মামলা করেছে।ডেইলি পাকিস্তানসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন কাশিফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ফোন পান শামসো বিবি। ফোনে তাঁকে বাড়ির বাইরে আসতে বলা হয়। এরপর ১৫ বছর বয়সী বোন আসিমা ও ভাই নেয়ামতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে বের হন তিনি।তাঁরা একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একটি গুলি শামসো বিবির ঘাড়ে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।গুলির পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে শামসো বিবির বোন আসিমা গুরুতর আহত হন।শামসো বিবির বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, কাউসার ও জাভেদ নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর মেয়ের আর্থিক লেনদেন ছিল। অর্থ ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওই দুজন তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনায় এর আগে ইসলামাবাদে তাঁদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল।ফজল সাহেবজাদার সন্দেহ, কাউসার ও জাভেদ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন। তাঁরা অন্য কাউকে দিয়ে হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন বলেও তাঁর সন্দেহ। একই সঙ্গে হত্যার আগে কাশিফের ফোন করার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।নিহতের বাবার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে টিকটকে ভিডিও তৈরি করছিলেন শামসো বিবি। প্ল্যাটফর্মটিতে তাঁর প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী ছিল।

পাকিস্তানে টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গুলি করে হত্যা

করাচিতে স্বাধীনতা দিবসে ফাঁকা গুলিতে শতাধিক আহত, নিহত এক

পাকিস্তানের করাচিতে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের সময় আকাশে ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে টেবিলে রাখা পিস্তল নাড়াচাড়ার সময় অসাবধানতাবশত গুলি বের হয়ে এক নারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।এডহি ফাউন্ডেশনের এক মুখপাত্র জানান, আহতদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ, ১৭ শিশু ও ১০ নারী রয়েছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাধীনতা দিবসের উদ্‌যাপনের সময় আকাশে গুলি ছোড়ার ঘটনায় তাঁরা আহত হন।আহতদের করাচির জিন্নাহ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টার, সিভিল হাসপাতাল ও আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে ২৪ জন, জিন্নাহ হাসপাতালে ৩৫ জন এবং সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ২৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।আকাশে গুলি, গ্রেপ্তার ৩০আকাশে গুলি ছোড়ার অভিযোগে করাচির পূর্ব, পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।উৎসবের সময় আকাশে গুলি ছোড়া থেকে বিরত থাকতে করাচির বাসিন্দাদের আগেই সতর্ক করে আসছিল কর্তৃপক্ষ। পুলিশের ভাষ্য, আকাশে ছোড়া গুলি শেষ পর্যন্ত মাটিতে ফিরে এসে নিরীহ মানুষকে আহত বা নিহত করতে পারে।পিস্তল নাড়াচাড়ায় নারী নিহতস্বাধীনতা দিবসের উদ্‌যাপনের বাইরে পাপোশ নগরের সারাফা বাজারের একটি হোটেলে পিস্তল থেকে দুর্ঘটনাবশত গুলি ছুটে এক নারী নিহত হয়েছেন।পুলিশ জানায়, টেবিলের ওপর রাখা পিস্তলের চেম্বারে গুলি ছিল। অস্ত্রটি নাড়াচাড়ার সময় হঠাৎ গুলি বের হয়ে ওই নারী গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় ইমরান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে ৯ মিলিমিটারের একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নারী ইমরানের চাচাতো বোন।প্রতিবছরই ঘটছে হতাহতকরাচিতে স্বাধীনতা দিবসের উদ্‌যাপনে আকাশে গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনা নতুন নয়। ২০২৫ সালে একই ধরনের ঘটনায় তিনজন নিহত ও অন্তত ৭৫ জন আহত হন। এর আগের বছর, ২০২৪ সালে স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে আকাশে গুলিবর্ষণে প্রায় ৯৫ জন আহত হয়েছিলেন।সূত্র: জিও নিউজ

করাচিতে স্বাধীনতা দিবসে ফাঁকা গুলিতে শতাধিক আহত, নিহত এক

পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যেকোনো হামলা তিন দেশ মোকাবিলা করবে

পবিত্র মক্কা নগরীতে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।মক্কায় অনুষ্ঠিত যৌথ প্রতিরক্ষা সম্মেলনে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান।চুক্তির বিষয়ে এরদোয়ান বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় আগ্রহী অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম দেশও ভবিষ্যতে এতে যোগ দিতে পারবে।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, এ চুক্তি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতার প্রতিফলন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একসঙ্গে কাজ করার রাজনৈতিক সদিচ্ছারও বহিঃপ্রকাশ এটি।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, এটি তিন দেশের জন্য একটি ‘শান্তির ঢাল’ হিসেবে কাজ করবে এবং বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।সূত্র: ডন, জিও নিউজ

পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যেকোনো হামলা তিন দেশ মোকাবিলা করবে