পাকিস্তানের করাচিতে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের সময় আকাশে ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে টেবিলে রাখা পিস্তল নাড়াচাড়ার সময় অসাবধানতাবশত গুলি বের হয়ে এক নারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এডহি ফাউন্ডেশনের
এক মুখপাত্র জানান, আহতদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ,
১৭ শিশু ও ১০
নারী রয়েছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাধীনতা দিবসের উদ্যাপনের সময় আকাশে গুলি
ছোড়ার ঘটনায় তাঁরা আহত হন।
আহতদের করাচির
জিন্নাহ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টার, সিভিল হাসপাতাল ও আব্বাসি শহীদ
হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের
তথ্য অনুযায়ী, আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে ২৪
জন, জিন্নাহ হাসপাতালে ৩৫ জন এবং
সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ২৬ জনকে চিকিৎসা
দেওয়া হয়েছে।
আকাশে গুলি, গ্রেপ্তার ৩০
আকাশে গুলি
ছোড়ার অভিযোগে করাচির পূর্ব, পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় জেলার
বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩০ জনকে
গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন
ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে
জানা গেছে।
উৎসবের সময়
আকাশে গুলি ছোড়া থেকে
বিরত থাকতে করাচির বাসিন্দাদের আগেই সতর্ক করে
আসছিল কর্তৃপক্ষ। পুলিশের ভাষ্য, আকাশে ছোড়া গুলি শেষ
পর্যন্ত মাটিতে ফিরে এসে নিরীহ
মানুষকে আহত বা নিহত
করতে পারে।
পিস্তল নাড়াচাড়ায় নারী নিহত
স্বাধীনতা দিবসের
উদ্যাপনের বাইরে পাপোশ নগরের সারাফা বাজারের একটি হোটেলে পিস্তল
থেকে দুর্ঘটনাবশত গুলি ছুটে এক
নারী নিহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়,
টেবিলের ওপর রাখা পিস্তলের
চেম্বারে গুলি ছিল। অস্ত্রটি
নাড়াচাড়ার সময় হঠাৎ গুলি
বের হয়ে ওই নারী
গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে
আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে নেওয়া
হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায়
ইমরান নামে এক ব্যক্তিকে
গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে
৯ মিলিমিটারের একটি পিস্তল উদ্ধার
করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নারী ইমরানের
চাচাতো বোন।
প্রতিবছরই ঘটছে হতাহত
করাচিতে স্বাধীনতা
দিবসের উদ্যাপনে আকাশে গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনা নতুন নয়।
২০২৫ সালে একই ধরনের
ঘটনায় তিনজন নিহত ও অন্তত
৭৫ জন আহত হন।
এর আগের বছর, ২০২৪
সালে স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে আকাশে গুলিবর্ষণে প্রায় ৯৫ জন আহত
হয়েছিলেন।
সূত্র: জিও নিউজ