ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

ভারী বৃষ্টিতে তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে সড়ক, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে, আটকে পড়েছে যানবাহন। বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরজুড়ে উদ্ধারকর্মী, যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।আল-জাজিরার যাচাই করা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলার বালাত এলাকায় একটি গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবেশপথে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে হাঁটছিল কিশোরটি। হঠাৎ সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পানিতে পা দেওয়ার পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়।ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোরটিকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মীদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাভুত গুল। বেসমেন্ট ও নিচতলার ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের রাতে ভবনের ওপরের তলায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে খাল ও ছোট নদীর তীর, আন্ডারপাস এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলেছেন।স্কুল বন্ধ, মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞাঅ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলের স্কুলগুলোতে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচলও নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মচারী এবং ছোট শিশুর মায়েদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ৯টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি প্রদেশে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর ইস্তাম্বুলে প্রায় ৮ হাজার উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।আড়াই হাজারের বেশি জরুরি খবরতুরস্কের আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইস্তাম্বুলে বৃষ্টি শুরু হয়। পরে শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও আন্ডারপাস পানিতে ডুবে যায়। এসেনইউর্ট ও সুলতানগাজিসহ কয়েকটি এলাকায় যানবাহন আটকে পড়ে। বাড়িঘর, দোকানপাট ও বেসমেন্টেও পানি ঢুকে পড়ে।ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবহাওয়াজনিত ঘটনায় জরুরি সেবাকেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি খবর আসে। কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ২৭৭টি বন্যার ঘটনা এবং ১৫টি ভূমিধসের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। বন্যার পানিতে ৪৭ জন আটকা পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০০টির বেশি বাড়ি, ২৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৭৬টি যানবাহন।তুরস্ক টুডের খবরে বলা হয়েছে, শহরের আইয়ুপসুলতান ও গাজিওসমানপাশা জেলায় সড়কের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসেনইউর্ট এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীকে উদ্ধার করেন পথচারীরা।বন্যার পানি দুটি হাসপাতালেও পৌঁছেছে। হাচিওসমান মেট্রো স্টেশনের ছাদ থেকেও পানি ঢুকে পড়ে। সুলতানগাজি এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের ঠেকনাদেয়াল ধসে পড়ে। তবে এতে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি।১২ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিইস্তাম্বুলের এশীয় অংশের বেইকোজ জেলার ওমেরলি এলাকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ডেইলি সাবাহর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত ইস্তাম্বুল মেয়র নুরি আসলান জানিয়েছেন, শহরের কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় কর্মব্যস্ত সময়ে শহরের যানজটের মাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

যুদ্ধ বন্ধে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান ট্রাম্পের

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম এমন একজন নেতার প্রয়োজন ইউক্রেনের।শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, এসব হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বাড়ছে। দেশটিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন।ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পরামর্শ দেব, তারা যেন এমন একজন নতুন নেতা বেছে নেয়, যিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন।’ জেলেনস্কির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কোনো এক কারণে জেলেনস্কি কখনোই তা করেন না।’ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, জেলেনস্কির নেতৃত্বে দেশটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং ৩০ শতাংশ ভূখণ্ড হারিয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন মিলিয়ে এ যুদ্ধে ২০ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, যুদ্ধটি কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না। এখন ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।জেলেনস্কির পক্ষে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্রতা এড়িয়েও জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। তিনি বলেন, জেলেনস্কির প্রতি ইউক্রেনের জনগণের সমর্থন রয়েছে। দেশটির নেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইউক্রেনের জনগণের।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিবিহা বলেন, বিদেশ থেকে আসা এ ধরনের বক্তব্য বরং প্রমাণ করে, জেলেনস্কি তাঁর দায়িত্ব ঠিকভাবেই পালন করছেন। তাঁর সমর্থন পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ঘোষণা ট্রাম্পেরশুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার পরপরই ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। এর অল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে জেলেনস্কিকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্যও তিনি ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করছেন।তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সেই প্রভাবের চেয়ে ইউক্রেনের হামলার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।শনিবার ট্রাম্প আরও বলেন, ২০২২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুই হতো না। তাঁর দাবি, অযোগ্যতার কারণে এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং যুদ্ধটি শুরু হওয়ার কোনো কারণ ছিল না।জাপোরিঝঝিয়ায় হামলায় নিহত অন্তত ২০ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। তাঁদের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন।ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন। মস্কোর পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পরও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দূরপাল্লার বিমান হামলা অব্যাহত থাকলেও স্থলযুদ্ধের সম্মুখসারিতে বড় ধরনের অগ্রগতি নেই।রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেলেনস্কি। শনিবার জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে হামলার পর এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে জাপোরিঝঝিয়ায় আবাসিক ভবনে পাঁচটি গ্লাইড বোমা ফেলে।’জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানো হলে মস্কো সেটিকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং ইউক্রেনের শহরগুলোতে বোমা হামলা অব্যাহত রাখার সুযোগ হিসেবে দেখবে।তিনি বলেন, জ্বালানি রপ্তানি থেকে রাশিয়ার আয় বাড়লে সেই অর্থ অস্ত্রের যন্ত্রাংশ কেনা, ড্রোনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং ভাড়াটে যোদ্ধা নিয়োগে ব্যয় করা হবে। রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা কমানো না গেলে মস্কো যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে তৎপরতারাশিয়ার বাড়তি আয় মোকাবিলায় ইউক্রেন বিভিন্ন পদক্ষেপ সমন্বয় করছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আগামী কয়েক দিনে আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গোলাবারুদ পাবে ইউক্রেন।এদিকে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তিতে ইউরোপের মিত্ররা হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিতে তারা অটল রয়েছে।ট্রাম্পের এ ঘোষণা তাঁর আগের নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। গত মাসেই তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে মস্কো তেল ও গ্যাস থেকে যে আয় করে, তা কমানোই ছিল ওই আইনের লক্ষ্য।যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহতশুক্রবার ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার মিয়ামিতে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।একই দিনে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। একদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার উদ্যোগ এবং জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য সমালোচনা সব মিলিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান ট্রাম্পের

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যুদ্ধ, জলবায়ু ও এআই গুরুত্ব পাচ্ছে

নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এবারের অধিবেশন। সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেবেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এবারের অধিবেশনে ইরান, গাজা, ইউক্রেন, সুদান, কঙ্গো ও মিয়ানমারের সংঘাত গুরুত্ব পাবে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হবে।আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশের বিপরীতে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এখনো সীমিত। এআই নিয়ে বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নেতা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব উদ্বেগকে ‘হোক্স’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।জলবায়ু সংকট নিয়েও থাকছে বিশেষ আয়োজন। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র এবং প্রধান জ্বালানি উৎপাদক ও ভোক্তা দেশগুলোর নেতারা জলবায়ু সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা করবেন।এদিকে জাতিসংঘের সংস্কার ও আর্থিক সংকটও আলোচনায় থাকবে। নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়ে ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্র একটি বিস্তৃত সংস্কার প্যাকেজে সম্মত হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।জাতিসংঘের আর্থিক সংকটের প্রভাব পড়ছে শান্তিরক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও। যুক্তরাষ্ট্র বকেয়া চাঁদার একটি অংশ পরিশোধ করায় চলতি বছর সাধারণ পরিষদে দেশটির ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা আপাতত এড়ানো গেছে। তবে অর্থসংকটের কারণে বিভিন্ন কার্যক্রমে কাটছাঁটের চাপ অব্যাহত রয়েছে।মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বুধবার বক্তব্য দেওয়ার কথা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের। বৃহস্পতিবার ভাষণ দেবেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।তবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতা এবারের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিউইয়র্কের পরিবর্তে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন। তাঁর পরিবর্তে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্ব করবেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও আসছেন না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সফর বাতিল করেছেন।যুদ্ধ-সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি এআই এবং জাতিসংঘের সংস্কার- সব মিলিয়ে এবারের অধিবেশনে বৈশ্বিক নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ আলোচনার কেন্দ্রে থাকছে। সূত্র: এপি নিউজ ও রয়টার্স

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যুদ্ধ, জলবায়ু ও এআই গুরুত্ব পাচ্ছে

ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আটকালেন মার্কিন দুই ডেমোক্র্যাট

ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) মার্কিন ডলারের সামরিক অস্ত্র বিক্রির অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন। একই অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবিত অস্ত্র সরবরাহে বাধা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস।এর ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরের বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল ও সেমাফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে প্রায় ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিটি বোমার ওজন প্রায় এক টন বা ২ হাজার পাউন্ড। গাজায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এসব ভারী বোমার চালান স্থগিত রেখেছিল।সিনেটর জিন শ্যাহিনের অভিযোগ, গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বন্ধে এবং মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। সিরিয়ায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটি এবং প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ সদস্যরা অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ বা ভেটো দিতে পারেন। অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে সাধারণত পররাষ্ট্র দপ্তরকে সংশ্লিষ্ট কমিটির আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের বিষয়টি সমাধান করে সম্মতি নিতে হয়।প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকসও সম্প্রতি এক বিরল প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্রাণঘাতী অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মার্কিন বিধি মেনে ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিন শ্যাহিন বলেন, ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গাজায় তারা যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং সিরিয়ায় যেভাবে বোমাবর্ষণ করছে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি।নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্যাহিন বলেন, নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে পরিষ্কার শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন তা আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না।তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিরা নিহত ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন এবং অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকার এসব ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। নিহতদের বড় অংশ নারী ও শিশু।এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে আবারও ভারী মারণাস্ত্র সরবরাহের মার্কিন উদ্যোগ ওয়াশিংটনেই কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের আপত্তির মুখে পড়েছে।

ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আটকালেন মার্কিন দুই ডেমোক্র্যাট

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ও সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল সোমবার এ তথ্য জানান।মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক বলেন, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক, তা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। এ জন্য স্পেস ফোর্সের কাছে এখন কক্ষপথে মোতায়েন করা এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে পারে। তাঁর মতে, প্রতিরোধের দিক থেকেও এ সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে মহাকাশে মোতায়েন করা অস্ত্রের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি মেইঙ্ক। তবে তিনি বলেন, বক্তব্যে ব্যবহৃত শব্দগুলো ‘খুব ভেবেচিন্তে’ নির্বাচন করা হয়েছে।ট্রয় মেইঙ্কের বক্তব্যের বরাত দিয়ে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। মেইঙ্ক আরও বলেন, আকাশের পাশাপাশি মহাকাশেও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের কোনো স্যাটেলাইট ধ্বংস করা সম্ভব।মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এসব অস্ত্র গণবিধ্বংসী অস্ত্র হতে পারবে না।গোল্ডেন ডোম ও মহাকাশ প্রতিরক্ষামার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি মহাকাশকে ‘বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখতে বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর একটি অংশ হবে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা।ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা ১৯৮৩ সালে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাকালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের নেওয়া স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভের (এসডিআই) কথা মনে করিয়ে দেয়। কর্মসূচিটি ‘স্টার ওয়ার্স’ নামেও পরিচিত ছিল।রিগ্যানের সেই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি পরে সীমিত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়। এর আওতায় প্রস্তাবিত মহাকাশভিত্তিক অস্ত্রও আর মোতায়েন করা হয়নি।রাশিয়ার আপত্তিগত মার্চে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনার সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই পরিকল্পনা কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’।২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া এই চার দেশ স্যাটেলাইট-বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।২০২১ সালের নভেম্বরে রুশ সামরিক বাহিনী সোভিয়েত আমলের একটি অব্যবহৃত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ধ্বংস করে। তখন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি বলেও জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র

নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, এখনই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাঁর এই আশাবাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় যুদ্ধের অবসানে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।ট্রাম্প যদি সত্যিই এই যুদ্ধের অবসান চান, তাহলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে ইরানের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা উচিত বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যেও যুদ্ধটি ক্রমেই নিন্দনীয় হয়ে উঠছে। এমনকি কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন জেনারেলও উত্তেজনা আরও বাড়ানো নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন। এ পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযানের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানসহ আস্থাভাজন তৃতীয় পক্ষ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে আবারও সংলাপের পথ খুলে দেওয়ার আহ্বান উঠেছে।নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন ঝুঁকিপূর্ণসম্প্রতি আয়ারল্যান্ড সফরে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, তাঁর হিসাব অনুযায়ী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সংঘাত কমে আসবে। তবে এখন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হতে পারে। যুদ্ধ এমন কোনো সরল বিষয় নয়, যা চাইলেই একটি বোতাম চাপ দিয়ে শেষ করে দেওয়া যায়।গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়েছে। ইরানপন্থী এই গোষ্ঠী ইয়েমেনে আরও কিছু এলাকা দখল করেছে এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে সৌদি জাহাজ চলাচল ঠেকাতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করছে।অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হামলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরাকের দিক থেকে হামলাটি চালানো হয়েছে। রিয়াদ জানিয়েছে, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ইরাকি সরকারের’ অনুরোধে তারা তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে জবাব দেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করেছে।ইরাকে শক্তিশালী ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকলেও ওই হামলার দায় তখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।লেবাননেও বাড়ছে সংঘাতএদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার লক্ষ্যে ইসরায়েল ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে। এসব হামলায় হাজারো লেবানিজ নিহত এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত যে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আলোচনার পথ খোলার আহ্বানযুদ্ধের আগ্রাসী পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রথম পদক্ষেপ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করা উচিত বলে মত দেওয়া হয়েছে। একইভাবে তেহরানেরও প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন।হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সোমবার ওমানে আলোচনার কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলে দিতে আঞ্চলিক দেশগুলো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া উচিত। কারণ যুদ্ধের গতিপথ অত্যন্ত অনিশ্চিত। নভেম্বর পর্যন্ত সংঘাতের মাত্রা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে ওয়াশিংটনের এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই এখনই একটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা প্রয়োজন।

নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, এখনই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত ট্রাম্পের

পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার তথ্য নেই: আনোয়ার ইবরাহিম

কাশ্মীরের পেহেলগামে ২০২৫ সালের সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করার ভারতের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ সংঘটিত হয়েছে এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য বা পর্যালোচনা তার কাছে নেই।নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেহেলগাম হামলা এবং এতে পাকিস্তানের কথিত সম্পৃক্ততা নিয়ে আনোয়ার ইবরাহিমকে প্রশ্ন করা হয়। পাকিস্তানের কথিত ভূমিকা ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বিবেচনা করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এতটা দূর যেতে চাই না।’মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি ভারতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তানিদের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ করেছেন এবং মনে করেন, এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তিনি কেন সমালোচনা করছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার বলেন, প্রথমে পাকিস্তানের দায় নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।তিনি বলেন, ‘এটি প্রথমে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। আমি বলছি না যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেনি। কিন্তু নিশ্চিতভাবে দায় নির্ধারণ করতে হবে।’আনোয়ার ইবরাহিম আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে মালয়েশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যোগাযোগের ভিত্তিতে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যাতে বলা যায় পেহেলগামে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ চালানো হয়েছে।পেহেলগাম হামলার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হন। হামলার পরপরই ভারত এর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। তবে ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।হামলাকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ভারত পাকিস্তানের ভূখণ্ডে সামরিক হামলা চালায়।এর জবাবে পাকিস্তানও সামরিক পদক্ষেপ নেয়। দুই দেশের মধ্যে ৮৮ ঘণ্টা ধরে সংঘাত চলার পর শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।সূত্র: ডন

পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার তথ্য নেই: আনোয়ার ইবরাহিম

মোখায় ইয়েমেনি বাহিনীর দুর্বলতা স্পষ্ট, হুথিদের অগ্রযাত্রার আশঙ্কা

ইরান-সমর্থিত হুথিদের দখল ঠেকাতে ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় অবস্থানরত ইয়েমেনি ব্যাটালিয়নগুলো গত বৃহস্পতিবার অনেকটাই অপ্রস্তুত ছিল। বাহিনীর তালিকায় বিপুলসংখ্যক এমন সেনার নাম ছিল, বাস্তবে যাঁদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।‘ঘোস্ট নেম’ বা ভুতুড়ে নামের এসব সেনার নামে নিয়মিত বেতনও দেওয়া হতো। ফলে কাগজে-কলমে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে প্রকৃত শক্তির তুলনায় অনেক বড় দেখাত। বাস্তবে বাহিনীর সদস্যসংখ্যা নথিতে উল্লেখ করা সংখ্যার মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ ছিল। মোখার পতনকে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ভুল হিসেবে দেখছেন অনেকে। তাঁদের মতে, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করার কারণেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে।এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় ইয়েমেনি বাহিনীর ওপর চাপানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, গতকাল পুরো দিন সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বিমান হামলা হয়নি। অথচ মাটির পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের প্রতি মিনিটে তথ্য জানানো হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সৌদি বিমান সহায়তা আসেনি।তবে মোখা রক্ষায় ব্যর্থতার পেছনে ইয়েমেনের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিষয়টি হুথিবিরোধী জোটের আরও বড় একটি দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। ইয়েমেনে হুথিবিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে কার্যকর কোনো ঐক্যবদ্ধ সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও নেই।এ অবস্থায় হুথিরা আরও পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের সেনা ও সামরিক সক্ষমতা আরও সংগঠিত করছে।

মোখায় ইয়েমেনি বাহিনীর দুর্বলতা স্পষ্ট, হুথিদের অগ্রযাত্রার আশঙ্কা

হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৮২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ০৭ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি। ইরান দাবি করেছে, অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে তারা হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তিনটি মার্কিন জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তেহরান।ইরানের ভাষ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই তারা ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।জাহাজ চলাচল কমেছেহরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। রয়টার্সের তথ্য বলছে, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে। মে মাসের পর এটি সর্বনিম্ন জাহাজ চলাচলের হার।বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। ফলে প্রণালিটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এক সপ্তাহেই বড় উল্লম্ফনযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে।এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

আজাদ কাশ্মীরের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হলেন ইফতিখার গিলানি

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) ব্যারিস্টার ইফতিখার গিলানি। শুক্রবার তিনি আজাদ কাশ্মীরের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।এর আগে মুজাফফরাবাদে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য আইনসভার অধিবেশন বসে। স্পিকার চৌধুরী তারিক ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সদস্যদের ভোটে জয় পান গিলানি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রার্থী সরদার মুখতার খান পান ১৪ ভোট।ভোটগ্রহণের সময় দুই প্রার্থীই আইনসভায় উপস্থিত ছিলেন। ভোট শুরুর আগে ইফতিখার গিলানি ও সরদার মুখতার খান পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় আইনসভায় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখা যায়।পিএমএল-এনের আজাদ কাশ্মীর শাখার সভাপতি শাহ গুলাম কাদির অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। তবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।‘এই সরকার হবে জনগণের সরকার’শপথ নেওয়ার পর ইফতিখার গিলানি বলেন, তাঁর সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এমন একটি আজাদ কাশ্মীর গড়ে তুলতে কাজ করবে, যা বিশ্বের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠবে।তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাব।’আজাদ কাশ্মীরে সুশাসনের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে গিলানি বলেন, তাঁর সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।হাসপাতালগুলোর মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। আজাদ কাশ্মীরের উন্নয়নে তাঁর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ অন্যদের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।গিলানি বলেন, ‘এই সরকার হবে জনগণের সরকার।’তিনি আরও বলেন, এখন থেকে ‘কাশ্মীরের জনগণের যুগ’ শুরু হবে। তাঁর সরকারের সময়ে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মচারীরা পরিবর্তনের সুফল দেখতে পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।আইন ও রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাইফতিখার গিলানি আজাদ কাশ্মীরে পিএমএল-এনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মুজাফফরাবাদের একটি পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারে তাঁর জন্ম। আইন পেশার পাশাপাশি শিক্ষা ও সংসদীয় রাজনীতিতেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।ইসলামাবাদে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান গিলানি। সেখানে তিনি বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে পাকিস্তানে ফিরে ইসলামাবাদে আইন পেশায় যুক্ত হন।দীর্ঘদিন আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি সংসদীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন ইফতিখার গিলানি। এবার তিনি আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের ১৭তম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন।সূত্র: সামা টিভি

আজাদ কাশ্মীরের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হলেন ইফতিখার গিলানি

ফিলিস্তিনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা নতুন ওআইসি মহাসচিবের

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মৌরিতানিয়ার কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার ওআইসির ৫৭ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাঁকে এ পদে নির্বাচিত করেন।বর্তমানে ওআইসির মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহা। ২০২১ সালের নভেম্বরে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী নভেম্বরে তাঁর মেয়াদ শেষ হলে ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ মহাসচিবের দায়িত্ব নেবেন।ফিলিস্তিনকে অগ্রাধিকারনতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ফিলিস্তিন ইস্যুকে ওআইসির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখার কথা জানিয়েছেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক—তিন ক্ষেত্রেই ফিলিস্তিন ইস্যু ওআইসির আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকবে।ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলায়ও সংস্থাটির কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রতিরোধ, পারস্পরিক সংলাপ ও সম্মান বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিস্তৃত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।আফ্রিকার সমর্থন পেয়েছিলেন শুরুতেইইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের প্রার্থিতা শুরু থেকেই আফ্রিকার সমর্থন পায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ২০২৭ থেকে ২০৩২ মেয়াদের জন্য তাঁকে ওআইসির মহাসচিব পদে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেয়।ওআইসির সনদ অনুযায়ী, মহাসচিবের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই মেয়াদ একবার নবায়ন করা যায়। মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ভারসাম্য, পালাক্রমে দায়িত্ব প্রদান এবং সমান সুযোগের নীতি বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রার্থীর যোগ্যতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সনদে আরব, আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে মহাসচিবের পদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো ধারাবাহিকতা নেই। তবে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় ভৌগোলিক ভারসাম্য ও পালাক্রমের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়।জাতিসংঘে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা৬৬ বছর বয়সী ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অভিজ্ঞতা তিন দশকের বেশি। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কাজ করার পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মৌরিতানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০১৪ সালে লিবিয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-বিশেষ প্রতিনিধি, আবাসিক সমন্বয়কারী ও মানবিক সমন্বয়কারী হিসেবেও কাজ করেছেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিরিয়াতেও একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।দীর্ঘ কূটনৈতিক ও জাতিসংঘের অভিজ্ঞতা নিয়ে আগামী নভেম্বরে বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ওআইসির নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।সূত্র: আনাদোলু

ফিলিস্তিনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা নতুন ওআইসি মহাসচিবের

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো ‘জ্যাভেলিন’ ক্ষেপণাস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ‘জ্যাভেলিন’ কিনতে চুক্তি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ফরেন মিলিটারি সেলস (এফএমএস) প্রক্রিয়ার আওতায় এ চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর চুক্তিটিকে ‘বড় খবর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত জ্যাভেলিন কেনার উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে যৌথ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি জানান।ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০টি জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চুক্তিটির মূল্য প্রায় ২৯২ কোটি রুপি। জরুরি ক্রয়ক্ষমতার আওতায় এ কেনাকাটা করা হয়েছে। তবে চুক্তির সঠিক সংখ্যা ও মূল্য মার্কিন দূতাবাস বা যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।যেভাবে কাজ করে জ্যাভেলিনজ্যাভেলিন কাঁধে বহনযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। একজন সেনাসদস্য এটি বহন ও উৎক্ষেপণ করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে।জ্যাভেলিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তি। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর নিক্ষেপকারীকে আর সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় না। ক্ষেপণাস্ত্র নিজেই লক্ষ্য অনুসরণ করে।এ কারণে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সেনাসদস্য দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন। শত্রুপক্ষ পাল্টা আঘাত করার আগেই নিরাপদ অবস্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।জ্যাভেলিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা হলো ট্যাংকের ওপরের তুলনামূলক কম সুরক্ষিত অংশে আঘাত করা। পাশাপাশি সাঁজোয়া যান ও বাংকারের মতো সুরক্ষিত অবস্থানও এর লক্ষ্য হতে পারে। এ কারণে প্রচলিত যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।কেন জ্যাভেলিন কিনছে ভারতআধুনিক ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা ভারত দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে। একই সঙ্গে দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তিতে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশীয় ব্যবস্থাটি এখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষার পর্যায়ে থাকায় দ্রুত সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি অস্ত্র কেনার পথে এগিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র বলছে, গত বছরের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে জরুরি ক্রয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি সরঞ্জামের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি রুপি পর্যন্ত কেনাকাটার সুযোগ রয়েছে। জ্যাভেলিন কেনার চুক্তিও এই সীমার মধ্যে করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ভারতীয় সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শেষ নাগাদ জ্যাভেলিন সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।এর আগেও অনুমোদন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রভারতকে জ্যাভেলিন বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্র আগেই দিয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতকে জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেয়।মার্কিন প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (ডিএসসিএ) জানিয়েছিল, সম্ভাব্য ওই বিক্রির আনুমানিক মূল্য ছিল ৪৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। প্রস্তাবে ১০০টি এফজিএম-১৪৮ জ্যাভেলিন রাউন্ড, একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিটের কথা ছিল। এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।তবে সেটি ছিল সম্ভাব্য ফরেন মিলিটারি সেলসের অনুমোদন। তাই ২০২৬ সালের নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে ৪৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার বা ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্রকে চূড়ান্ত চুক্তির মূল্য বা সংখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না।প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনাজ্যাভেলিন কেনার চুক্তিকে শুধু অস্ত্র ক্রয় হিসেবে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যতে যৌথ উৎপাদনের পথও খুলতে পারে এই চুক্তি।গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করতে ১০ বছরের একটি কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় জ্যাভেলিন চুক্তিকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সামরিক ব্যয়ের দিক থেকেও ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় দেশ। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য অনুযায়ী, সামরিক খাতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান পঞ্চম। অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রেও দেশটি বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি।ফলে জ্যাভেলিনের মতো আধুনিক ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র সংগ্রহ ভারতের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের অংশ। পাশাপাশি নতুন এই চুক্তি নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকেও আরও দৃশ্যমান করল।সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স, দ্য ইকোনমিক টাইমস ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো ‘জ্যাভেলিন’ ক্ষেপণাস্ত্র

ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা

ইসরায়েলের সামরিক খাতের সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নোভামিল সিস্টেমস লিমিটেডের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ এবং প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে ‘সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট’ নামের একটি ইসরায়েলবিরোধী হ্যাকার গোষ্ঠী।এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, সর্বশেষ অভিযানে নোভামিলের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে তারা।‘সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট’ গত বছর আত্মপ্রকাশ করে। গোষ্ঠীটির ঘোষিত লক্ষ্য ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।গোষ্ঠীটির দাবি, নোভামিল ইসরায়েলের যন্ত্রাংশ সংযোজন, সংবেদনশীল ও অত্যন্ত নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরি এবং রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠান। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।নোভামিল যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার জন্য নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরি করে। পাশাপাশি নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নাইট ভিশন, থার্মাল ক্যামেরা এবং লক্ষ্য নির্ধারণের প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন উন্নত সামরিক ব্যবস্থার বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক ও অপটিক্যাল-যান্ত্রিক যন্ত্রাংশ সংযোজনের কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।এক টেরাবাইট তথ্য সংগ্রহের দাবিসাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট জানিয়েছে, গত ছয় মাসে তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কয়েকটি দলের তৈরি নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে নোভামিলের একটি কারখানার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা হয়।গোষ্ঠীটির ভাষ্য, অভিযানে নোভামিলের প্রায় এক টেরাবাইট সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানার কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত নিখুঁত যন্ত্রপাতি বা সিএনসি এবং নেটওয়ার্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া হয়েছে।এতে নোভামিলের উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তবে তাদের দাবির বিষয়ে নোভামিল বা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্যের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়নি।কর্মীদের সতর্কবার্তা‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট নোভামিলের কর্মীদেরও সতর্ক করেছে।বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, নোভামিলের কর্মীদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।গোষ্ঠীটির দাবি, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে নোভামিলের সহযোগিতার বিষয়ে তারা যে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করেছে, প্রকাশ করা তথ্য তার সামান্য অংশ। তবে এসব তথ্যের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করেনি তারা।আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলার দাবিএর আগে ইসরায়েলের সামরিক খাতের ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোয় হামলা চালানোর দাবি করেছিল সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিজেডএমটি, ইমকো, মায়া ও কার্সোমেটালসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এসব হামলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার দাবিও করেছিল গোষ্ঠীটি।প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘সাইবার অবরোধ’ চালানোকে নিজেদের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করে আসছে সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট। নোভামিলের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযানকে সেই কৌশলের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে গোষ্ঠীটি।

ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ভারী গোলাবর্ষণ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ভোরে কয়েকটি শহর ও গ্রামের ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ)।এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-মানসুরি, বাইত আল-সাইয়াদের আশপাশের এলাকা এবং মাজদাল জৌনের উপকণ্ঠে ভারী কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। রাতভর এসব এলাকায় হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। সংস্থাটির ভাষ্য, কয়েকটি এলাকায় কোনো বাড়িই অক্ষত থাকেনি।এ ছাড়া হাদ্দাথা, বেইত ইয়াহুন ও আইতা আল-জাবাল এলাকাতেও একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। কাছাকাছি উপত্যকাগুলোর দিকে মেশিনগানের গুলিও ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনএনএ।দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহির উচ্চভূমির আশপাশে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামের আকাশে ইসরায়েলি ড্রোনের নিয়মিত উড্ডয়নের খবর পাওয়া গেছে।তবে এসব হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ

কিমের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প, উত্তর কোরিয়ার কঠিন শর্ত

চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়ায় ইঙ্গিত মিলছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকলেও নতুন বৈঠকের জন্য উত্তর কোরিয়া কঠিন শর্ত দিতে পারে। খবর রয়টার্সের।বুধবার ট্রাম্প বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘বৈরী’ বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তাদের আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে আগ্রহী ট্রাম্প।চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে ট্রাম্পের যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পিয়ংইয়ং আলোচনায় আগ্রহী হলে ওই অঞ্চলে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর ভাষায়, ‘উপযুক্ত সময়ে প্রেসিডেন্ট ও কিম জং উন আবার বৈঠক করবেন।’তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক বিষয় নয়।কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনোই উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বা সামরিক সক্ষমতা জোরদারের স্বার্থকে ছাড়িয়ে যাবে না।সদিচ্ছার ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান পিয়ংইয়ংয়েরকিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার উলচি ফ্রিডম শিল্ড সামরিক মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, মহড়া চলমান থাকায় তা এখনো আগ্রাসী পদক্ষেপ এবং উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বৈরীই রয়ে গেছে।কিম ইয়ো জং ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগের কথাও অস্বীকার করেছেন। তবে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের দিকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদ হিসেবেই এই উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে কোনো ধরনের ‘সদিচ্ছার ইঙ্গিত’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়, তাহলে তারা কাঙ্ক্ষিত জবাব পাবে না।

কিমের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প, উত্তর কোরিয়ার কঠিন শর্ত

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার কারাগারে ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে শুক্রবার ভোরে তাকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, চক্ষু, হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দল ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করেন।শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আতাউল্লাহ তারার বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ওই বন্দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে পোস্টে তিনি ইমরান খান বা শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের নাম উল্লেখ করেননি।ইমরানের বোন উজমা খান পুরো স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার সময় উপস্থিত ছিলেন। সব প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়।কড়া নিরাপত্তায় হাসপাতালে নেওয়াবৃহস্পতিবার রাতে ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাকে পাত্রাস বুখারি রোড দিয়ে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং হাসপাতালের ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করানো হয়।হাসপাতালের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। ইসলামাবাদের এইচ-৮ সেক্টরে অবস্থিত হাসপাতালটির আশপাশে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কার্যালয় রয়েছে।কারাগারে ইমরানতোশাখানা উপহারের তথ্য গোপন করার অভিযোগে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। ১৯ কোটি পাউন্ডের দুর্নীতি মামলা হিসেবে পরিচিত আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তিনি ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন।কারাগারে থাকার সময় ইমরানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছেন তার দলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভও রয়েছে।সূত্র: ডন

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার কারাগারে ইমরান খান