ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি


ফরিদুল আলম ফরিদ
ফরিদুল আলম ফরিদ বিনোদন রিপোর্টার

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি
চিত্রনায়িকা পরীমনি। ছবি: সংগ্রহ

ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন পরীমনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১১ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী। পরে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি এজলাসে প্রবেশ করেন। তাঁর উপস্থিতিতেই জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

বেলা ১২টার দিকে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনির দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। পরে গাড়িতে ওঠার সময় এক সাংবাদিক তাঁর গায়ে হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পরীমনি। এ নিয়ে ওই সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন তিনি। পরে অবশ্য ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।

আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

এর আগে বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হয়ে তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।

তবে এ আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিলের আবেদন করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।

পরে আদালত পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করে তাঁর জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন।

তদন্তে পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা

মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

২০২১ সালে বোট ক্লাবে ঘটনার অভিযোগে মামলা

২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি করেন। পরীমনিসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

মামলার এজাহারে নাছির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। তাঁরা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং পরে ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাছির উদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাঁকে ডাকেন এবং কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে বসতে বলেন। একপর্যায়ে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ করেন নাছির।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমনি একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মুঠোফোন নাছির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। পাশাপাশি তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়।

নাছির উদ্দিনের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে তাঁরসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

তবে মামলার এসব অভিযোগ বিচারাধীন। আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।

বিষয় : আদালত পরীমনি বোট ক্লাব মামলা নাছির উদ্দিন মাহমুদ

দৈনিক নবকাল

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন পরীমনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১১ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী। পরে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি এজলাসে প্রবেশ করেন। তাঁর উপস্থিতিতেই জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

বেলা ১২টার দিকে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনির দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। পরে গাড়িতে ওঠার সময় এক সাংবাদিক তাঁর গায়ে হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পরীমনি। এ নিয়ে ওই সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন তিনি। পরে অবশ্য ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।

আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

এর আগে বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হয়ে তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।

তবে এ আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিলের আবেদন করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।

পরে আদালত পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করে তাঁর জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন।

তদন্তে পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা

মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

২০২১ সালে বোট ক্লাবে ঘটনার অভিযোগে মামলা

২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি করেন। পরীমনিসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

মামলার এজাহারে নাছির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। তাঁরা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং পরে ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাছির উদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাঁকে ডাকেন এবং কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে বসতে বলেন। একপর্যায়ে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ করেন নাছির।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমনি একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মুঠোফোন নাছির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। পাশাপাশি তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়।

নাছির উদ্দিনের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে তাঁরসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

তবে মামলার এসব অভিযোগ বিচারাধীন। আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি
0:00 0:00
1.0x