ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ওসমান হাদি হত্যা: ১৯ বার পেছাল অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন

ওসমান হাদি হত্যা: ১৯ বার পেছাল অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১৯ বারের মতো পেছাল। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।যেভাবে হত্যাগত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে ঢাকার পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন। গুরুতর আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ ডিসেম্বর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা, অর্থাৎ হত্যার ধারা সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।ডিবির চার্জশিটে ১৭ আসামিএর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।তবে ডিবির দেওয়া ওই চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।ডিবির চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ছয়জন পলাতক বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার চেষ্টা, যুবলীগের ১৫ নেতাকর্মীর রিমান্ড

ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে রাজধানীর ভাটারা থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় যুবলীগের ১৫ নেতাকর্মীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।বুধবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত এ আদেশ দেন।রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন যুবলীগ নেতা মোত্তালিব, মো. রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, মো. রমজান, মামুন, মিঠু ওরফে আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ, মো. সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান, শাহীন হোসেন ইমন এবং যুবলীগ নেত্রী মেহজাবিন আক্তার মালা। তাঁদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায়।এর আগে তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান।পুলিশ যা বলছেরিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানায়, ১৩ আগস্ট রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাটারা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ও তদন্তে পাওয়া আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশের দাবি, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ওই ব্যক্তিরা একত্র হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন ও তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যানারগুলোর একটিতে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল আয়োজনের কথা উল্লেখ ছিল। মামলার এজাহারে তাঁদের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে তাঁরা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।আসামিপক্ষের জামিন আবেদনআদালতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী ইসলাম মিয়া রাকিব রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে নাশকতা ও দেশবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ আগস্ট রাতে ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশ সেখানে গেলে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে সেখান থেকে মোট ৫২ জনকে আটক করা হয়।এ ঘটনায় ১৪ আগস্ট বিকেলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার চেষ্টা, যুবলীগের ১৫ নেতাকর্মীর রিমান্ড

যানজটে আদালতে পৌঁছাতে পারেননি পরীমনি, জেরা পিছিয়ে ৩০ নভেম্বর

সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জেরা আবারও পিছিয়েছে। যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় রোববার (৯ আগস্ট) তার জেরা সম্পন্ন করা যায়নি।ঢাকার নবম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহাদাৎ হোসেন শুনানি শেষে আগামী ৩০ নভেম্বর পরীমনির জেরার নতুন দিন ধার্য করেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, সকালে শুনানি শুরু হলে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী আদালতকে জানান, তার মক্কেল পথে রয়েছেন এবং দুপুর ১২টার দিকে আদালতে পৌঁছাতে পারবেন। পরে আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক দুপুর ১২টায় জেরার সময় নির্ধারণ করেন।তবে দুপুর ১২টার পর দুবার ডাকলেও পরীমনি আদালতে পৌঁছাতে পারেননি। এদিকে অন্য মামলার শুনানি শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসামিরাও আদালত ত্যাগ করেন। আদালতের সময়সীমা পার হওয়ার কিছুক্ষণ পর পরীমনি আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান।পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, ‘মারাত্মক যানজটে আটকে পড়ার কারণেই পরীমনি নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে রোববার তার জেরা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।’মামলায় অভিযুক্ত তিন আসামি হলেন ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলম। তারা সবাই বর্তমানে জামিনে আছেন। শহীদুল আলম আদালতে উপস্থিত হতে না পেরে সময়ের আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করেন। নাসিরউদ্দিন ও অমি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।যেভাবে শুরু হয় মামলা২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন পরীমনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ও নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলেন।এরপর সাভার মডেল থানায় মামলা হলে গোয়েন্দা পুলিশ উত্তরা থেকে নাসিরউদ্দিন ও অমিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।২০২২ সালের ১৮ মে আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর পরীমনির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রুদ্ধদ্বার কক্ষে (ক্যামেরা ট্রায়াল) মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

যানজটে আদালতে পৌঁছাতে পারেননি পরীমনি, জেরা পিছিয়ে ৩০ নভেম্বর