ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বাসচালকের চোখ হারানোর মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

বাসচালকের চোখ হারানোর মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে বাসচালক মামুনের (২৫) বাম চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক আওলাদ হুসাইন এ মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।আবেদনে বলা হয়, দুই আসামি বর্তমানে অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁরা আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ মামলার তদন্তেও তাঁদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ অন্য আইনজীবীরা গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।যেভাবে চোখ হারান বাসচালক মামুনমামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকাল নয়টা থেকে মামুনের বন্ধু হোসেন, খোকন, আরিফসহ অনেকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। ওই দিন বিকেল তিনটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ফ্লাইওভারের ওপর অবস্থান করছিলেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।গুলিতে মামুনের শরীরের বিভিন্ন স্থান, বাম চোখ ও মাথা জখম হয়। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ইসলামিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বাম চোখের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসার একপর্যায়ে তাঁর বাম চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।আগে যেভাবে গ্রেপ্তার হন আনিসুল হক ও পলক২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে রয়েছেন।অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানীর খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে পল্টন থানায় করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনিও কারাগারে রয়েছেন।

মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল: গোলাম পরওয়ার

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।রোববার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনাটি আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের মূল কারণ নয়, বরং এটিকে উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিমানবন্দরের ঘটনার পরদিন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আলোচনা করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের, বিশেষ করে জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আখতারুজ্জামানের প্রতি বিএনপির যে আক্রোশ ও প্রতিশোধের আগুন ছিল, তা বাস্তবায়নের সুযোগ খোঁজা হচ্ছিল। সেই সুযোগ পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।‘জামিনযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার, তবু জামিন হয়নি’জামায়াতের এই নেতা বলেন, যে ধারায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি জামিনযোগ্য। কিন্তু প্রথম দিন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। রোববার রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়েছে।তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য। আদালতে ডিভিশনের আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে আদেশ না দিয়ে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক অশুভ হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।‘আদালত চত্বরে মব সৃষ্টি ও হামলা’গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, রোববার আদালতে আখতারুজ্জামানকে নিয়ে বিএনপির আইনজীবীরা মব সৃষ্টি ও হাতাহাতি করেছেন। এ সময় আদালত চত্বরে জামায়াতের নেতাকর্মী ও তাঁর স্বজনদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের যুগের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি।’আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে দেশে ও প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিয়েছেন—তাঁকে মুক্তি না দিলে প্রয়োজনে আবারও রেমিট্যান্স শাটডাউন করা হবে।বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নগোলাম পরওয়ার বলেন, এজাহারে আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তুলেছেন, মারপিট করেছেন বা নাজেহাল করেছেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ভিডিওতেও এর দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।বিমানমন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে ‘শতভাগ না, হাজার ভাগ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য বিমানমন্ত্রীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে যখন সংসদ সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, অশ্রুসিক্ত হন এবং ক্ষমা চান। এরপরও তাঁকেই বাদী করে মামলা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক ইঙ্গিতেই এ মামলা করা হয়েছে।অব্যবস্থাপনার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে চারজন সদস্য লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আখতারুজ্জামান কি খুনি-ডাকাত?মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানোরও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, কারাবিধিতে দুর্ধর্ষ আসামি, খুনি-ডাকাত কিংবা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থার কথা বলা আছে। ‘মেজর আখতারুজ্জামান কি খুনি, ডাকাত বা পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো আসামি? তিনি প্রথম শ্রেণির নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে হেলমেট পরানো হয়েছে—আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’‘অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে’জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের প্রতি বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিটি গঠন, বিমানমন্ত্রীসহ দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ৭৫ বছর বয়সী অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।একই সঙ্গে তাঁকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। আদালতের বিধি অনুযায়ী সময়মতো জামিনের আবেদন করা হবে এবং আইনি লড়াইয়ে কোনো কমতি রাখা হবে না বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।গ্যাসের দাম বাড়ানোরও প্রতিবাদসংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গেও কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ছয় মাসে তিনবার তেল, বিদ্যুৎ ও সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে।গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ও মেগা প্রকল্পের নামে আয়ের হাব তৈরি করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, মহানগর উত্তরের আমির সেলিমউদ্দিন এবং উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।

মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল: গোলাম পরওয়ার

ওসমান হাদি হত্যা: ১৯ বার পেছাল অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১৯ বারের মতো পেছাল। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।যেভাবে হত্যাগত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে ঢাকার পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন। গুরুতর আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ ডিসেম্বর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা, অর্থাৎ হত্যার ধারা সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।ডিবির চার্জশিটে ১৭ আসামিএর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।তবে ডিবির দেওয়া ওই চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।ডিবির চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ছয়জন পলাতক বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওসমান হাদি হত্যা: ১৯ বার পেছাল অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন

১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার চেষ্টা, যুবলীগের ১৫ নেতাকর্মীর রিমান্ড

ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে রাজধানীর ভাটারা থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় যুবলীগের ১৫ নেতাকর্মীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।বুধবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত এ আদেশ দেন।রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন যুবলীগ নেতা মোত্তালিব, মো. রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, মো. রমজান, মামুন, মিঠু ওরফে আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ, মো. সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান, শাহীন হোসেন ইমন এবং যুবলীগ নেত্রী মেহজাবিন আক্তার মালা। তাঁদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায়।এর আগে তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান।পুলিশ যা বলছেরিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানায়, ১৩ আগস্ট রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাটারা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ও তদন্তে পাওয়া আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশের দাবি, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ওই ব্যক্তিরা একত্র হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন ও তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যানারগুলোর একটিতে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল আয়োজনের কথা উল্লেখ ছিল। মামলার এজাহারে তাঁদের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে তাঁরা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।আসামিপক্ষের জামিন আবেদনআদালতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী ইসলাম মিয়া রাকিব রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে নাশকতা ও দেশবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ আগস্ট রাতে ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশ সেখানে গেলে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে সেখান থেকে মোট ৫২ জনকে আটক করা হয়।এ ঘটনায় ১৪ আগস্ট বিকেলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার চেষ্টা, যুবলীগের ১৫ নেতাকর্মীর রিমান্ড

যানজটে আদালতে পৌঁছাতে পারেননি পরীমনি, জেরা পিছিয়ে ৩০ নভেম্বর

সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জেরা আবারও পিছিয়েছে। যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় রোববার (৯ আগস্ট) তার জেরা সম্পন্ন করা যায়নি।ঢাকার নবম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহাদাৎ হোসেন শুনানি শেষে আগামী ৩০ নভেম্বর পরীমনির জেরার নতুন দিন ধার্য করেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, সকালে শুনানি শুরু হলে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী আদালতকে জানান, তার মক্কেল পথে রয়েছেন এবং দুপুর ১২টার দিকে আদালতে পৌঁছাতে পারবেন। পরে আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক দুপুর ১২টায় জেরার সময় নির্ধারণ করেন।তবে দুপুর ১২টার পর দুবার ডাকলেও পরীমনি আদালতে পৌঁছাতে পারেননি। এদিকে অন্য মামলার শুনানি শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসামিরাও আদালত ত্যাগ করেন। আদালতের সময়সীমা পার হওয়ার কিছুক্ষণ পর পরীমনি আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান।পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, ‘মারাত্মক যানজটে আটকে পড়ার কারণেই পরীমনি নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে রোববার তার জেরা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।’মামলায় অভিযুক্ত তিন আসামি হলেন ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলম। তারা সবাই বর্তমানে জামিনে আছেন। শহীদুল আলম আদালতে উপস্থিত হতে না পেরে সময়ের আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করেন। নাসিরউদ্দিন ও অমি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।যেভাবে শুরু হয় মামলা২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন পরীমনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ও নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলেন।এরপর সাভার মডেল থানায় মামলা হলে গোয়েন্দা পুলিশ উত্তরা থেকে নাসিরউদ্দিন ও অমিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।২০২২ সালের ১৮ মে আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর পরীমনির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রুদ্ধদ্বার কক্ষে (ক্যামেরা ট্রায়াল) মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

যানজটে আদালতে পৌঁছাতে পারেননি পরীমনি, জেরা পিছিয়ে ৩০ নভেম্বর