ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে শেষ হলো এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। দীর্ঘ ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার পাশাপাশি প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি।অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তিন ফরম্যাটেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। বিশেষ করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রতিপক্ষের বোলারদের জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর স্পিন বোলিংয়েও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি।ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ‘দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড’ পডকাস্টে ম্যাক্সওয়েল জানান, দলের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আলোচনা এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি জাতীয় দলে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে তাঁর সিদ্ধান্তে।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর আগে গত বছরের জুনে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ম্যাক্সওয়েলের পরিসংখ্যানও বেশ সমৃদ্ধ। টি-টোয়েন্টিতে ১৩০ ম্যাচ খেলে ২ হাজার ৮৯৭ রান করেছেন তিনি। বল হাতে নিয়েছেন ৫১টি উইকেট। এই ফরম্যাটে তাঁর রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি, যা ভারতের রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব রেকর্ড।ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৪৯ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৩ হাজার ৯৯০ রান। পাশাপাশি শিকার করেছেন ৭৯টি উইকেট। এই ফরম্যাটে তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ২০১ রান। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য ওই ইনিংসটি খেলেছিলেন তিনি। ইনজুরিতে আক্রান্ত অবস্থায় খেলা সেই ইনিংস ওয়ানডে ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হয়ে থাকবে।টেস্ট ক্রিকেটে অবশ্য তাঁর উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক সীমিত। ২০১৭ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সাতটি টেস্ট খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। করেছেন ৩৩৯ রান। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে রাঁচিতে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ১০৪ রানের একটি সেঞ্চুরি।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও এখনই ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন না ম্যাক্সওয়েল। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁকে দেখা যাবে আগের মতোই। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন স্টার্সের সঙ্গে ২০২৭-২৮ মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে তাঁর। ফলে আগামী দিনগুলোতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মাতানোর সুযোগ থাকছে এই তারকা অলরাউন্ডারের।

বাংলাদেশের ক্যাচ মিসে ড্র আবুধাবি টেস্ট

জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাংলাদেশকে। আবুধাবি টেস্টের প্রথম দিন থেকেই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। প্রথম ইনিংসে লিড, দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ—সব মিলিয়ে জয়ের পথও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেদিকুল্লাহ অটলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, আফগানিস্তানের লোয়ার অর্ডারের প্রতিরোধ এবং শেষ দিকে বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারণে ড্র হয়েছে ম্যাচটি।আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করেছে আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় উইকেটের দেখা মেলেনি।ম্যাচে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৩৪৬ রান। জবাবে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২৪০ রানে। ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের কঠিন লক্ষ্য।অটলের প্রতিরোধে বেঁচে যায় আফগানিস্তানপঞ্চম দিনের খেলা শুরু হয়েছিল আগের দিনের ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে। দিনের শুরু থেকেই দৃঢ়তার পরিচয় দেন আফগান ব্যাটসম্যানরা। যদিও রান নেওয়ার সময় ফিল্ডারের থ্রো পায়ে লাগায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হাশমতউল্লাহ শহীদিকে। পরে অবশ্য আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন তিনি।অন্য প্রান্তে সেদিকুল্লাহ অটলকে ভালো সঙ্গ দেন ইকরাম আলিখিল। প্রথম সেশনের বেশির ভাগ সময় উইকেট ধরে রাখলেও মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগে ইবাদত হোসেনের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইকরাম। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান।এরপর ইসমাত আলমকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অটল। একের পর এক বল ঠেকিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেন ইসমাত। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ৪ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ।মিরাজের আঘাতেই পরে বিদায় নেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। চা-বিরতির ঠিক আগে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড-অনে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তাঁর সংগ্রহ ৩৬ রান।ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি অটলেরএক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন সেদিকুল্লাহ অটল। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই কঠিন করে তুলছিলেন তিনি। চা-বিরতির আগেই তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।বিরতির পর অবশ্য তাঁর প্রতিরোধ থামান তাইজুল ইসলাম। শর্ট লেগে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩৩২ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করেন এই আফগান ওপেনার।অটল ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে ম্যাচ জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরপর দুই বলে দুটি রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দলটি।এরপর ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ ওভার ২ বল বাকি থাকতে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন কায়েস আহমেদ। তবে সহজ সেই সুযোগও নিতে পারেননি হাসান মাহমুদ।শেষ বলেও ছক্কা কায়েসেরক্যাচ মিসের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত আফগানিস্তানের হাতেই চলে যায়। যদিও শেষ পাঁচ ওভার বাকি থাকতে অষ্টম উইকেট হারায় তারা, তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি।বরং শেষ দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন কায়েস আহমেদ। ম্যাচের শেষ বলটি ছক্কায় পরিণত করে ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাতেই নিশ্চিত হয় ড্র।প্রথম চার দিন জয়ের স্বপ্ন দেখানো বাংলাদেশ শেষ দিনে অটলের প্রতিরোধ ও নিজেদের সুযোগ হাতছাড়ার কারণে জয় থেকে দূরে সরে যায়। অন্যদিকে, কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান দেখিয়েছে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা।

বাংলাদেশের ক্যাচ মিসে ড্র আবুধাবি টেস্ট

ডি মারিয়ার জোড়া গোলে রোসারিওর ৫-০ ব্যবধানের জয়

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের প্রত্যাশা থাকলেও মাঠে দেখা গেল একতরফা লড়াই। ঘরের মাঠে ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে রিভাদাভিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রোসারিও সেন্ট্রাল। স্বাগতিকদের বড় জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। করেছেন জোড়া গোল।রোববার রাতে আর্জেন্টিনার লিগা প্রফেশনাল ডি ফুটবলের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় গিগান্তে দে আরোইয়িতো স্টেডিয়ামে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা রোসারিও প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে যায়। গোলটি করেন ডি মারিয়া।প্রথমার্ধের শেষ দিকে বড় ধাক্কা খায় সফরকারী ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে রিভাদাভিয়া। গ্যাস্টন আভিলার ওপর কঠোর ফাউলের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন অ্যালেক্স আর্সে। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় মেনডোজার দলটিকে।সংখ্যায় পিছিয়ে পড়ার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি সফরকারীরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াতে থাকে রোসারিও।ম্যাচের ৫৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন ডি মারিয়া। এরপর একে একে গোল করেন জামিন্টন কামপাজ, এনজো কোপেত্তি ও মার্কো রুবেন। তাতে ৫-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় রোসারিও সেন্ট্রালের।এই জয়ে লিগের জোন ‘বি’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে রোসারিও। পাশাপাশি সার্বিক পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান এখন চতুর্থ। চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে দলটির জয় ছয়টি, ড্র চারটি এবং হার দুটি।গত বছরের চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবারও কোপা লিবার্তোদোরেসে জায়গা করে নেওয়াই রোসারিও সেন্ট্রালের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে রিভাদাভিয়ার বিপক্ষে বড় জয় সেই লক্ষ্যে দলটিকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

ডি মারিয়ার জোড়া গোলে রোসারিওর ৫-০ ব্যবধানের জয়

ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড, তবু দিওমান্দের গোলে রিয়ালের জয়

গোল বাতিল, ভিএআরের সিদ্ধান্ত, উত্তেজনা আর লাল কার্ড সব মিলিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নাটকীয় এক ম্যাচ দেখল দর্শকেরা। শেষ পর্যন্ত ইয়ান দিওমান্দের গোলে ভিয়ারিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে ম্যাচ শেষে আলোচনায় উঠে এসেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের চুল টানার ঘটনায় তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।শনিবারের ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। প্রথম দিকে ভিয়ারিয়ালের পাপে গুয়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে রিয়ালকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।পরে আলবার্তো মোলেইরো ও রেনাতো ভেইগার আক্রমণে চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা। এমবাপ্পের আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক পিটার গুলাকসি। ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের কর্নার থেকে ইব্রাহিম কোনাতের হেডও লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। আর্দা গুলারের শটও ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট।দিওমান্দের প্রথম গোলে এগিয়ে রিয়ালবিরতির পর দুই দলই আক্রমণের গতি বাড়ায়। ইয়ান দিওমান্দে শুরুতে একটি সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর ভিয়ারিয়ালের মোলেইরো ও গুয়ে একের পর এক আক্রমণে রিয়ালের রক্ষণকে চাপে ফেলেন। তবে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় গোল পায়নি সফরকারীরা।ম্যাচের এক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর এগিয়ে যায় রিয়াল। ভিয়ারিয়ালের রক্ষণ থেকে বল ফিরে এলে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। প্রতিপক্ষের বাধা কাটিয়ে তাঁর বাড়ানো থ্রু বল পেয়ে নিচু শটে দূরের কোণ দিয়ে জালে পাঠান দিওমান্দে।ক্লাবের হয়ে এটিই দিওমান্দের প্রথম গোল। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। শেষ পর্যন্ত গোলের স্বীকৃতি পায় রিয়াল।গোল বাতিল, সরাসরি লাল কার্ড ভিনিসিয়ুসেরগোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল রিয়াল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে এমবাপ্পের শট ঠেকিয়ে দেন গুলাকসি।এরপর জুড বেলিংহামের আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ভিনিসিয়ুস জালে বল পাঠালে রিয়ালের ডাগআউটে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কিন্তু ভিএআরের পর্যালোচনায় উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। গোলের আগে ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের নাথান সালিবার চুল টেনেছিলেন বলে দেখা যায়।ফলে গোলটি বাতিল করা হয়। একই ঘটনায় ৭২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। এতে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় রিয়ালকে।শেষ মুহূর্তের চাপ সামলে জয়ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ডের পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। রিয়ালের চার খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেন। অন্যদিকে বদলি হিসেবে নামা কার্লোস রোমেরো ও জেরার্ড মোরেনোর আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয় কোর্তোয়াকে।তবে শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয় রিয়াল। নাটকীয় ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।এই জয়ে আট ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। আর ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।

ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড, তবু দিওমান্দের গোলে রিয়ালের জয়

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখে রোনালদো

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় তাঁকে সাময়িকভাবে জাতীয় দল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত মেয়াদ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে ৪১ বছর বয়সী এই তারকার এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বিতর্কের শুরু উয়েফা নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে দীর্ঘ সময় ওয়ার্মআপ করলেও রোনালদোকে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয়নি। রোনালদোর দাবি, কোচ জর্জে জেসুস তাঁকে ৩০ মিনিট খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়ায় কোচের ওপর আস্থা হারান তিনি।এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোচের সঙ্গে তাঁর বিরোধ আরও তীব্র হয়। সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোকে নিয়ে কিছু বিষয় পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও জেসুস তা রাখেননি বলে অভিযোগ করেন এই পর্তুগিজ তারকা। এ ঘটনার পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান তিনি।ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের আচরণের জন্য সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান রোনালদো। তবে কোচের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ জানিয়ে বলেন, শাস্তি দেওয়া হলে তা ভোগ করার পরও পর্তুগালের হয়ে খেলতে প্রস্তুত থাকবেন।পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, যথাযথ অনুমতি ছাড়া জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করলে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না রোনালদো। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের মার্চে নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালেও তাঁর খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।তবে রোনালদোকে শেষ পর্যন্ত কত দিনের শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর ক্ষমা চাওয়া ও ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে শৃঙ্খলা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতার জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ এখন ফেডারেশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখে রোনালদো

বিতর্কের মধ্যেই রোনালদোর ৯৮০তম গোল, জিতল আল নাসর

জাতীয় দলকে ঘিরে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ক্লাবের জার্সিতে মাঠে ফিরেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফিরেই গোল পেয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। সৌদি প্রো লিগে আল দিরিয়াহর বিপক্ষে আল নাসরের ৩-০ গোলের জয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি। পেশাদার ফুটবলে এটি রোনালদোর ৯৮০তম গোল।ম্যাচে রোনালদোর গোলের পেছনে অবদান ছিল কিংসলে কোম্যানের। বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক এই উইঙ্গারের শট ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি আল দিরিয়াহর গোলরক্ষক ওয়ালিদ আলী। ফিরতি বল পেয়ে সহজেই জালে পাঠান রোনালদো।এরপর ম্যাচের ৩৫ মিনিটে পর্তুগালের আরেক ফুটবলার সামু কস্তা গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৭ মিনিটে কোম্যানের গোল আল নাসরের জয় নিশ্চিত করে।পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে আল নাসরআল দিরিয়াহর বিপক্ষে এই জয়ে সৌদি প্রো লিগে আল কাদসিয়ার সমান ১৯ পয়েন্ট হয়েছে আল নাসরের। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রোনালদোর দল।ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গোল উদ্‌যাপনের ছবি পোস্ট করে রোনালদো লিখেছেন, ‘কাজ শেষ। এবার (তাকিয়ে) পরের ম্যাচের দিকে!’জাতীয় দল ঘিরে বিতর্ক এখনো কাটেনিক্লাবের হয়ে গোল পেলেও পর্তুগাল জাতীয় দলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে আসার ঘটনায় আলোচনায় রয়েছেন রোনালদো।রোনালদোর অভিযোগ, কোচ তাঁকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখেননি। উল্লেখ্য, গত মৌসুমে জেসুসের অধীনেই সৌদি আরবের শিরোপা জিতেছিল আল নাসর।পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি একটি রেকর্ড। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, পর্তুগালের হয়ে খেলার জন্য এখনো প্রস্তুত তিনি।তবে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে আসার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।ক্লাবের হয়ে গোল করে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন রোনালদো। তবে জাতীয় দল ঘিরে বিতর্কের নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাঁর আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বিতর্কের মধ্যেই রোনালদোর ৯৮০তম গোল, জিতল আল নাসর

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় হারে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হলো না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের। ব্যাটিংয়ে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর বোলিংয়েও স্বাগতিকদের আটকে রাখতে পারেনি নিগার সুলতানার দল। ৭ উইকেটের বড় জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া।ব্রিসবেনে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৯ ওভার ৪ বলে ১৬৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ২৪ ওভার ২ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।ইনিংসের প্রথম বলেই অভিজ্ঞ ব্যাটার ফারজানা হককে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর ১১ রানে শারমিন সুলতানা এবং দলীয় ৩৩ রানে শারমিন আক্তারকে হারায় সফরকারীরা।শারমিন আক্তার অবশ্য শুরুটা করেছিলেন ভালোই। ২৬ বলে ৫টি চারে ২৪ রান করেন তিনি। তবে অ্যালানা কিংয়ের দারুণ ক্যাচে থামে তাঁর ইনিংস। সোবহানা মোস্তারিও ব্যাট হাতে অবদান রাখতে পারেননি। ১৭ বল খেলে করেন মাত্র ২ রান।পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক নিগার সুলতানা ও রিতু মনি ৩৫ রানের জুটি গড়েন। তবে জুটি থেকে রান এসেছে ধীরগতিতে। পরে রান বাড়ানোর চেষ্টায় আউট হন নিগার। ৮৬ বলে ২৯ রান করে ম্যাকগ্রার বলে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। এক প্রান্তে রিতু মনি দলকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ৬৩ বলে ৪৫ রান করে রানআউট হওয়ার আগে দলের সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। স্বর্ণা আক্তার ২০ এবং নাহিদা আক্তার ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ১৬৬ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড। তিনি নিয়েছেন ৪ উইকেট।সহজ জয়ে অস্ট্রেলিয়া১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া। অভিষিক্ত পেসার হাবিবা ইসলাম পিংকি দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন। অস্ট্রেলিয়ার ৩০ রানে জর্জিয়া ভলকে ফিরিয়ে দেন তিনি।তবে প্রথম উইকেট হারানোর পরও রানের গতি কমেনি স্বাগতিকদের। দ্বিতীয় উইকেটে এলিস পেরি ও ফিবি লিচফিল্ড গড়েন ৮৯ রানের জুটি। ৫৭ বলে ৭৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলা লিচফিল্ডকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন রাবেয়া খান।এরপর ১৩ রান করা মুনিকে আউট করেন পিংকি। তবে ততক্ষণে জয়ের পথ অনেকটাই সহজ করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। বাকি কাজ নির্বিঘ্নে শেষ করেন পেরি ও সাদারল্যান্ড। পেরি ৪৫ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। অন্য প্রান্তে সাদারল্যান্ড অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে। ২৪ ওভার ২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। ফলে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হার দিয়ে শুরু হলো বাংলাদেশের মেয়েদের।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় হারে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

বিদায়ী ম্যাচে মেসির হাতে লাল-হলুদ কার্ড

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দুটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি।তবে ম্যাচ শেষে মেসিকে ঘিরে তৈরি হয় অন্যরকম এক মুহূর্ত। বিদায়ী ম্যাচের স্মৃতি হিসেবে রেফারি তাঁর হাতে তুলে দেন একটি হলুদ ও একটি লাল কার্ড।অবশ্য কার্ড দুটি কোনো শাস্তির প্রতীক ছিল না। মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিকে বিশেষ করে তুলতেই রেফারির এই উদ্যোগ।ম্যাচ শেষে মাঠে মেসিকে ঘিরে সতীর্থ ও সমর্থকদের উদযাপন চলছিল। সেই সময় রেফারি তাঁর হাতে দুটি কার্ড তুলে দেন। ফুটবলে সতর্কতা ও বহিষ্কারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত কার্ড দুটি মেসির বিদায়বেলায় হয়ে ওঠে স্মারক উপহার।ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয় হাস্যরস। অনেকেই মজা করে বলছেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে মেসি শেষ পর্যন্ত ‘লাল-হলুদ’ দুই কার্ডই পেলেন।তবে এই উপহারের পেছনে ছিল প্রতীকী বার্তা। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে মেসিকে একটু ভিন্ন ধরনের স্মৃতি উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রেফারি।কার্ডের চেয়েও অবশ্য বেনিনের বিপক্ষে মেসির পারফরম্যান্সই ছিল বিদায়ের মূল আকর্ষণ। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সে ৩–০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা।এই জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলার ইতি ঘটল। আর বিদায়ের রাতে রেফারির দেওয়া লাল-হলুদ কার্ড জোড়া তাঁর স্মৃতির পাতায় যোগ করল এক অভিনব অধ্যায়।

বিদায়ী ম্যাচে মেসির হাতে লাল-হলুদ কার্ড

মেসির বিদায়, আর্জেন্টিনা শিবিরে আনন্দের সঙ্গে বিষাদ

আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের শিবিরে এখন আবেগঘন পরিবেশ। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ৩৯ বছর বয়সী মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি। বিদায়ের ক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, সতীর্থদের কথায় ততই ফুটে উঠছে আনন্দ, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের বেদনা।কয়েক দিন আগেই বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই জয়ের উচ্ছ্বাসের চেয়েও এখন দলের ভেতরে বড় হয়ে উঠেছে মেসির বিদায়ের মুহূর্ত।মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের কাছে এই সময়টা মেসির সঙ্গে কাটানোর। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে বারবিকিউ খাব, এই দিনগুলো ওর সঙ্গে উপভোগ করব। এটা ওর প্রাপ্য। আমরা চাই, ওর বিদায়টা হোক দারুণ, যেন সে সত্যিই উপভোগ করতে পারে।’তরুণ সান্তিয়াগো কাস্ত্রোর জন্য মুহূর্তটি আরও বিশেষ। ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার প্রথমবারের মতো মেসির সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম আমি মেসির সঙ্গে দেখা করব। আগে কখনো একসঙ্গে ড্রেসিংরুমে থাকা হয়নি। অনুভূতিটা খুবই বিশেষ। তবে একটু দুঃখও আছে... তিনিই আমাকে বলের প্রেমে ফেলেছেন, জাতীয় দলকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন।’রাইটব্যাক অগাস্তিন হিয়াইয়ের অনুভূতিতেও আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের ছাপ। তাঁর ভাষায়, ‘খুব বিশেষ একটা রাত হতে যাচ্ছে, আবেগ থাকবে। দিনটা দুঃখের, আবার আনন্দেরও; কারণ, ও এভাবে বিদায় জানাতে পারছে।’মেসিকে ছোটবেলা থেকে দেখে বেড়ে ওঠা মিডফিল্ডার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি মনে করেন, তাঁর বিদায়ে আর্জেন্টিনা দলে তৈরি হবে বড় শূন্যতা। তিনি বলেন, ‘ওকে দেখে বড় হয়েছি। বিদায়ের সময় উপস্থিত থাকাটা দারুণ ব্যাপার হবে। আবার বিশাল দুঃখেরও। আর ও জাতীয় দলে থাকবে না, এ এক বিশাল শূন্যতা।’২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মাতিয়াস সুলের কাছেও মেসির বিদায় একই সঙ্গে আনন্দ ও কষ্টের। তিনি বলেন, ‘ও সারা বিশ্বের আইডল, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নায়ক। ব্যাপারটা আমার জন্য দুঃখের, আবার একই সঙ্গে চমৎকার।’মেসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। কথা বলার সময় চোখ মুছতে দেখা যায় তাঁকে। মার্তিনেজ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব ও যেন যতটা সম্ভব উপভোগ করতে পারে। তাকে ভালোবাসায় ভাসাবো, চুমুতে ভরিয়ে দেব। সে যাতে খুশিমনে বিদায় নিতে পারে, সব চেষ্টা করব।’আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা, গড়েছেন বহু রেকর্ড, করেছেন অগণিত গোল। তাঁর বিদায়ের আগে সতীর্থদের চাওয়াটা তাই খুব বড় কিছু নয়—শেষ ম্যাচটিতে মেসি যেন উপভোগ করেন মুহূর্তগুলো, আর মাঠ ছাড়েন তাঁর চেনা সেই লাজুক হাসি নিয়ে।তবে সেই বিদায়ের রাতে সতীর্থদের চোখের জল হয়তো মেসিকেও আবেগাপ্লুত করবে। ফুটবলকে বিদায় জানানোর পথে প্রিয় সতীর্থদের সঙ্গে এই কান্নাটুকুও হয়তো তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে।

মেসির বিদায়, আর্জেন্টিনা শিবিরে আনন্দের সঙ্গে বিষাদ

১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ, শেষ সাত ওভারে শ্রীলঙ্কার ঝড়

শুরুটা ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু শেষ দিকে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেল। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ১৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। টস হেরে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে তারা।দুই প্রান্ত থেকে স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে বাংলাদেশ। তাতে প্রথম চার ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে না থাকা আলিস আল ইসলাম এদিন বল হাতে দারুণ কার্যকর ছিলেন। প্রথম স্পেলে ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। তাঁর করা ১৮ বলের ১২টিই ছিল ডট বল।শেখ মেহেদী হাসানও চাপ ধরে রাখেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। আগের ম্যাচে বোলিং না করা সাইফ হাসানকেও এদিন ব্যবহার করেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে প্রথম দুই ওভারে ১৮ রান দেন সাইফ।মোস্তাফিজের ওভারেই বদলে গেল ম্যাচ১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে থাকা শ্রীলঙ্কা এরপর পাল্টা আক্রমণে যায়। ১৪তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনার পরই ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। নিজের প্রথম ওভারেই ২৫ রান দেন বাঁহাতি এই পেসার। বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারে দেন আরও ১১ রান।১৩ থেকে ১৮—এই ছয় ওভারেই ৮৩ রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। ১৮ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রান।এরপর অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ান মোস্তাফিজ। নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ফিফটি করা থারিন্ডু রত্ননায়েকেকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ওই ওভারে দেন মাত্র ৭ রান।শেষ ওভারে বল হাতে নেন সাইফ হাসান। ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে আটকে রাখেন তিনি।বাংলাদেশের হয়ে শেখ মেহেদী ২টি উইকেট নেন। আলিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট পেয়েছেন। এখন এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদক জিততে বাংলাদেশকে ২০ ওভারে করতে হবে ১৬৬ রান।

১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ, শেষ সাত ওভারে শ্রীলঙ্কার ঝড়

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়ার মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ মাঠে গড়াল না। টানা বর্ষণে খেলা শুরুর তিন ঘণ্টা আগেই ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধায় সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ।এর আগে টুর্নামেন্টের কয়েকটি ম্যাচও বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া ম্যাচেও বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল মাঠের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগেই ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।টানা বৃষ্টির কারণে আজকের দুটি কোয়ার্টার ফাইনালের কোনোটিই মাঠে গড়ায়নি। পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল ছিল যে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্টরা।অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের ম্যাচও বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে শ্রীলঙ্কাও সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তবে ওই ম্যাচ নিয়েও রয়েছে বৃষ্টির শঙ্কা। নির্ধারিত সময়ে সেমিফাইনাল ম্যাচ মাঠে না গড়ালে র‍্যাঙ্কিংয়ের নিয়মে বাংলাদেশকে বিদায় নিতে হবে। কারণ বর্তমান টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশের বাঁচা-মরার লড়াই

মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে ফিফা আসিয়ান কাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের পরই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই কঠিন হয়ে গেছে লাল-সবুজের দলের জন্য। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হচ্ছে হামজা চৌধুরী-জামাল ভূঁইয়ারা। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস।মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার নিচে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামা শেখ মোরসালিনও দলের খেলায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেননি। কোচ টমাস ডুলির কয়েকটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।তবে সেই ম্যাচের হতাশা পেছনে ফেলে এখন সিঙ্গাপুর ম্যাচ নিয়েই ভাবছে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়া ম্যাচের পর দুই ভাগে অনুশীলন করেছে দল। মূল একাদশের খেলোয়াড়েরা বিশ্রামে থাকলেও কম সময় খেলা ফুটবলারদের নিয়ে হয়েছে নিবিড় অনুশীলন। মোরসালিনও জানিয়েছেন, পরাজয়ের ধারা ভেঙে জয়ে ফেরাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।বাংলাদেশের মতো সিঙ্গাপুরও প্রথম ম্যাচে হেরেছে। স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে তারা। ফলে দুই দলের কাছেই আজকের ম্যাচটি প্রথম পয়েন্ট ও জয়ের খাতা খোলার সুযোগ। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার সমীকরণে ম্যাচটি তাই দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।তবে পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে নেই। এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে সর্বশেষ দুই দেখাতেই সিঙ্গাপুরের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে ২-১ এবং অ্যাওয়ে ম্যাচে ১-০ গোলে হারের সেই স্মৃতি এবার পেছনে ফেলতে চায় লাল-সবুজের দল। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হার ভুলে আজ জাকার্তায় ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের। টুর্নামেন্টের পরের লড়াইয়ে জায়গা করে নিতে হলে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। তাই গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামের মাঠে আজ বাংলাদেশের সামনে শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, টুর্নামেন্টে টিকে থাকারও বড় পরীক্ষা।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশের বাঁচা-মরার লড়াই

এশিয়ান গেমসে ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশের নতুন মাইলফলক, শেষ ষোলোয় গৌরব-আয়মান

এশিয়ান গেমসে ব্যাডমিন্টনে প্রথম অংশগ্রহণেই নতুন মাইলফলক গড়েছে বাংলাদেশ। পুরুষ দ্বৈত বিভাগের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে কাজাখস্তানকে সরাসরি দুই গেমে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছেন গৌরব সিংহ ও আয়মান ইবনে জামান।শুক্রবার ইচিনোমিয়া সিটি মিউনিসিপ্যাল জিমনেশিয়ামের কোর্ট-২-তে কাজাখস্তানের আরতুর নিয়াজভ ও খাইতমুরাত কুলমাতভ জুটির মুখোমুখি হন বাংলাদেশের গৌরব-আয়মান। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখেন তারা।প্রথম গেমে প্রায় একতরফা আধিপত্য দেখান বাংলাদেশের দুই শাটলার। কাজাখস্তানের জুটিকে মাত্র ৮ পয়েন্টে আটকে রেখে ২১-৮ ব্যবধানে প্রথম গেম জিতে নেন গৌরব ও আয়মান।দ্বিতীয় গেমেও একই ছন্দ ধরে রাখেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। প্রতিপক্ষকে খুব একটা সুযোগ না দিয়ে ২১-১২ ব্যবধানে গেমটি জিতে নেন তারা। ফলে সরাসরি ২-০ গেমে ম্যাচ জিতে রাউন্ড অব ১৬-তে জায়গা করে নেন গৌরব-আয়মান। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টন যাত্রা এবারই প্রথম। অভিষেকেই পুরুষ দ্বৈত বিভাগে শেষ ষোলোতে উঠে গৌরব সিংহ ও আয়মান ইবনে জামান গড়লেন দেশের ব্যাডমিন্টনের জন্য উল্লেখযোগ্য এক মাইলফলক।

এশিয়ান গেমসে ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশের নতুন মাইলফলক, শেষ ষোলোয় গৌরব-আয়মান

এশিয়ান গেমসে হকিতে ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়

এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ। ‘এ’ পুলের ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে রোমান সরকারের দল।আজ জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেছেন আমিরুল ইসলাম। অন্য গোলটি এসেছে রাসেল মাহমুদ জিমির স্টিক থেকে।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম কোয়ার্টারের ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে লাল-সবুজ দলকে এগিয়ে দেন আমিরুল ইসলাম। তাঁর গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথম ১৫ মিনিট শেষ করে বাংলাদেশ।দ্বিতীয় কোয়ার্টারে দুই দলের কেউই গোলের দেখা পায়নি। ফলে বিরতিতে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ায় বাংলাদেশ। ৩১ মিনিটে আবারও পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আমিরুল। এরপর ৩৭ মিনিটে ফিল্ড গোল করে বাংলাদেশের ব্যবধান ৩-০ করেন রাসেল মাহমুদ জিমি।শেষ কোয়ার্টারে অবশ্য একটি গোল পরিশোধ করে ইন্দোনেশিয়া। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে আল আরধ আওলিয়া গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১। এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় এই ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ করে বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পয়েন্ট আরও বাড়ল। এর আগে আসরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল লাল-সবুজের দল। এবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল বাংলাদেশ।

এশিয়ান গেমসে হকিতে ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়

সাইফের ঝড়, মোসাদ্দেকের পাল্টা আঘাতে জিতল টিম ‘এ’

সাইফ হাসানের ঝোড়ো ব্যাটিং, মোসাদ্দেক হোসেনের পাল্টা লড়াই আর বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত স্পেল সব মিলিয়ে জমে উঠেছিল ম্যাচটি। শেষ পর্যন্ত টিম ‘বি’কে ১১ রানে হারিয়েছে টিম ‘এ’।টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন সাইফ হাসান। প্রতিপক্ষের একের পর এক বোলারকে সামলে ৫২ বলে ৭৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ছিল ২টি চার ও ৬টি ছক্কা। তানজিদ হাসান তামিম ১৪ বলে ২৪ রান করে তাঁকে ভালো সঙ্গ দেন।সাইফের ব্যাটিংয়ে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে টিম ‘এ’। টিম ‘বি’র হয়ে রিপন মন্ডল ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন।মোসাদ্দেকের ঝড়েও হয়নি জয়১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি টিম ‘বি’র। সৌম্য সরকার ১৮ বলে ১৭ রান করে ফেরার পর নাঈম শেখ ও মোসাদ্দেক হোসেন মিলে পাল্টা লড়াই গড়ে তোলেন।তাঁদের জুটিতে ৩৮ বলে আসে ৬৭ রান। এর মধ্যে মোসাদ্দেক ছিলেন সবচেয়ে আগ্রাসী। মাত্র ২২ বলে ৪৬ রান করেন তিনি। ১ চার ও ৫ ছক্কার ইনিংসটি থামার পর নাঈমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৩৬ বলে ৪০ রান করেন তিনি।শেষদিকে নুরুল হাসান সোহান ২০ বলে ২৯ রান করলেও টিম ‘বি’কে জয়ের বন্দরে নিতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রানেই থামে তাদের ইনিংস।বল হাতে মুস্তাফিজের দাপটটিম ‘এ’র জয়ে ব্যাটারদের পাশাপাশি বড় অবদান রাখেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই পেসার ৩ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। তাঁর করা ১৮ বলের মধ্যে ১১টিই ছিল ডট বল। শেষ পর্যন্ত সাইফের ব্যাটিং ও মুস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১১ রানের জয় পায় টিম ‘এ’।

সাইফের ঝড়, মোসাদ্দেকের পাল্টা আঘাতে জিতল টিম ‘এ’

বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত, র‍্যাংকিংয়ের সুবিধায় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।জাপানের নাগোয়ার কোরিগি অ্যাথলেটিক পার্কে নির্ধারিত ম্যাচটি মাঠ ভেজা থাকায় শুরু করা সম্ভব হয়নি। আম্পায়াররা তিন দফায় মাঠ পরিদর্শন করেন। তবে প্রতিবারই মাঠ খেলার উপযোগী না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।নিয়ম অনুযায়ী, বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত ২০ ওভারের ম্যাচ আয়োজন সম্ভব না হলে ফল নির্ধারণে সুপার ওভার আয়োজনের চেষ্টা করা হয়। সেটিও সম্ভব না হলে টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই নিয়মেই চীনের বিপক্ষে সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ।বর্তমানে নারী টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ নম্বরে। অন্যদিকে চীনের অবস্থান ৩৭। ফলে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর র‍্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং তারা সেমিফাইনালে উঠে যায়।এদিকে আজ এশিয়ান গেমসে মাঠে নামবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ওসাকায় বাংলাদেশ সময় বেলা ১টায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ।

বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত, র‍্যাংকিংয়ের সুবিধায় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ