সাইফ হাসানের ঝোড়ো ব্যাটিং, মোসাদ্দেক হোসেনের পাল্টা লড়াই আর বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত স্পেল সব মিলিয়ে জমে উঠেছিল ম্যাচটি। শেষ পর্যন্ত টিম ‘বি’কে ১১ রানে হারিয়েছে টিম ‘এ’।টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন সাইফ হাসান। প্রতিপক্ষের একের পর এক বোলারকে সামলে ৫২ বলে ৭৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ছিল ২টি চার ও ৬টি ছক্কা। তানজিদ হাসান তামিম ১৪ বলে ২৪ রান করে তাঁকে ভালো সঙ্গ দেন।সাইফের ব্যাটিংয়ে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে টিম ‘এ’। টিম ‘বি’র হয়ে রিপন মন্ডল ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন।মোসাদ্দেকের ঝড়েও হয়নি জয়১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি টিম ‘বি’র। সৌম্য সরকার ১৮ বলে ১৭ রান করে ফেরার পর নাঈম শেখ ও মোসাদ্দেক হোসেন মিলে পাল্টা লড়াই গড়ে তোলেন।তাঁদের জুটিতে ৩৮ বলে আসে ৬৭ রান। এর মধ্যে মোসাদ্দেক ছিলেন সবচেয়ে আগ্রাসী। মাত্র ২২ বলে ৪৬ রান করেন তিনি। ১ চার ও ৫ ছক্কার ইনিংসটি থামার পর নাঈমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৩৬ বলে ৪০ রান করেন তিনি।শেষদিকে নুরুল হাসান সোহান ২০ বলে ২৯ রান করলেও টিম ‘বি’কে জয়ের বন্দরে নিতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রানেই থামে তাদের ইনিংস।বল হাতে মুস্তাফিজের দাপটটিম ‘এ’র জয়ে ব্যাটারদের পাশাপাশি বড় অবদান রাখেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই পেসার ৩ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। তাঁর করা ১৮ বলের মধ্যে ১১টিই ছিল ডট বল। শেষ পর্যন্ত সাইফের ব্যাটিং ও মুস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১১ রানের জয় পায় টিম ‘এ’।
এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।জাপানের নাগোয়ার কোরিগি অ্যাথলেটিক পার্কে নির্ধারিত ম্যাচটি মাঠ ভেজা থাকায় শুরু করা সম্ভব হয়নি। আম্পায়াররা তিন দফায় মাঠ পরিদর্শন করেন। তবে প্রতিবারই মাঠ খেলার উপযোগী না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।নিয়ম অনুযায়ী, বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত ২০ ওভারের ম্যাচ আয়োজন সম্ভব না হলে ফল নির্ধারণে সুপার ওভার আয়োজনের চেষ্টা করা হয়। সেটিও সম্ভব না হলে টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই নিয়মেই চীনের বিপক্ষে সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ।বর্তমানে নারী টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ নম্বরে। অন্যদিকে চীনের অবস্থান ৩৭। ফলে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং তারা সেমিফাইনালে উঠে যায়।এদিকে আজ এশিয়ান গেমসে মাঠে নামবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ওসাকায় বাংলাদেশ সময় বেলা ১টায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ।
এশিয়া কাপে ফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়ে দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। তবে গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর বদলে গেছে সেই হিসাব। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে এড়িয়ে যাওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, সেটিই এখন আর সম্ভব নয়। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ সেই ভারতের বিপক্ষেই মাঠে নামছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।বৃহস্পতিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারত সেমিফাইনাল শুরু হবে রাত সাড়ে ৮টায়। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত নিজেদের তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে দারুণ ছন্দে আছে ভারত। বিপরীতে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ। তবে সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে আগের পরিসংখ্যান বা শক্তির ব্যবধান যে শেষ কথা নয়, সেটিই প্রমাণের সুযোগ বাংলাদেশের সামনে।গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১২৯ রান করার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলটি করে ১১৪ রান। শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আরও বড় ধাক্কা খায় ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১০৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।আমিরাতের বিপক্ষে একপর্যায়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন শারমিন আক্তার সুপ্তা। একাদশে ফিরেই ৩১ বলে ৩৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। সপ্তম উইকেটে নাহিদা আক্তারকে নিয়ে তার ৪২ রানের জুটিতে ১০০ রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ।ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব থাকলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে বোলিং। কম পুঁজি নিয়েও ইন্দোনেশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয় এসেছে বোলারদের কার্যকর পারফরম্যান্সে। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষেও তাই বাংলাদেশের প্রধান ভরসা থাকবে বোলিং আক্রমণ।আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। ভারতকে হারাতে পারলে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার সুযোগ তৈরি হবে। আর হারলেই শেষ হয়ে যাবে টুর্নামেন্টের পথচলা। গ্রুপ পর্বের ফল যে হিসাব বদলে দিয়েছে, সেই ভারতের বিপক্ষেই জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে যেতে মরিয়া নিগার সুলতানার দল।নারী এশিয়া কাপের সূচিপ্রথম সেমিফাইনাল বাংলাদেশ–ভারত ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম রাত ৮টা ৩০ মিনিটদ্বিতীয় সেমিফাইনাল শ্রীলঙ্কা–পাকিস্তান ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ফাইনাল সেমিফাইনালের দুই বিজয়ী দল ১৩ সেপ্টেম্বর, রোববার
ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে পাকিস্তান। মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়ে ৭ উইকেটে হেরেছে ফাতিমা সানার দল। এই পরাজয়ের সঙ্গে নারী টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডও গড়েছে পাকিস্তান।১৮.১ ওভার ব্যাট করে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ৫৫ রানে। এর আগে নারী টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ছিল ৫৬ রান। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই রানে অলআউট হয়েছিল তারা।এদিন পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শাওয়াল জুলফিকার। মুনিবা আলি করেন ১৩ রান। দুই ওপেনার মিলে দলের স্কোরে যোগ করেন ২৭ রান। বাকি নয় ব্যাটারের সম্মিলিত সংগ্রহ ২৮ রান।ভারতের বোলারদের মধ্যে শ্রী চরনি ও প্রেমা রাওয়াত তিনটি করে উইকেট নেন। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখেন তাঁরা।জবাবে ৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ৮.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে। শেফালি ভার্মা ১৩ এবং প্রতিকা রাওয়াল ১৮ রানে আউট হন। স্মৃতি মান্ধানাও ফিরে গেলেও জয় পেতে সমস্যা হয়নি ভারতের। ৬৮ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় পায় তারা।বলের হিসাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি ভারতের অন্যতম বড় জয়। অন্যদিকে ভারতের বিপক্ষে ৫৫ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তান নারী টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সবচেয়ে কম দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড করেছে। ভারতের বিপক্ষে এর আগে মালয়েশিয়া ২৭, থাইল্যান্ড ৩৭ এবং বাংলাদেশ ৫১ ও ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল। আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড ৬ রান বাংলাদেশের বিপক্ষে মালদ্বীপ এবং একই সংগ্রহে মালি অলআউট হয়েছিল।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে বিসিবির সাবেক এক পরিচালকসহ তিনজনকে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অ্যান্টি-করাপশন কোডের একাধিক ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট এই পদক্ষেপ নিয়েছে।সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া তিনজন হলেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান (শামীম), সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানি।বিসিবির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ম্যাচের ফলাফল কিংবা খেলার স্বাভাবিক গতিপথ অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে অন্যদের প্ররোচিত করা, ফিক্সিং-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাওয়ার তথ্য গোপন রাখা এবং তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগেরও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।শামীমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগমোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে বিপিএলের ম্যাচ ফিক্সিং কিংবা ম্যাচের কোনো অংশের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা, অন্যকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার পর তা বিসিবির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটকে (আকসু) না জানানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।এ ছাড়া তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলে তদন্তপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।জাকির ও সানির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগসাবেক এসএলও জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করার অপচেষ্টায় সহায়তা করা এবং দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত দলের সঙ্গে সহযোগিতা না করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিবি।অন্যদিকে রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তপ্রক্রিয়ায় অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।১৪ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবেসাময়িক নিষেধাজ্ঞার নোটিশ দিয়ে বিসিবি অভিযুক্ত তিনজনকে কারণ দর্শানোর জন্য ১৪ দিনের সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাঁরা আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।অভিযুক্তদের লিখিত জবাব পর্যালোচনার পর আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের সংশ্লিষ্ট নীতি ও ধারা অনুসরণ করে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সুযোগটা পেয়েছিলেন, এবার তার দুর্দান্ত সদ্ব্যবহার করলেন তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলেছেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার। কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরি।পচেফস্ট্রুমের এনডব্লিউসি ওভালে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে তাওহীদ হৃদয় ২০৪ রানে অপরাজিত। আগের দিনের ৪ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ ‘এ’ দল দিন শেষে ৬ উইকেটে ৪৭১ রান তুলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল প্রথম ইনিংসে ৫১২ রান করেছিল। ফলে এখনো ৪১ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।৭৫ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শুরু করেন হৃদয়। এরপর জাকের আলীকে সঙ্গে নিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে নেন ইনিংস। দুজনের ব্যাটে বাংলাদেশ ‘এ’ দল যেমন ঘুরে দাঁড়ায়, তেমনি ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা।চার মেরে ১৬৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়। সেঞ্চুরিতে যাওয়ার পথে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৩টি চার ও একটি ছক্কা। এরপরও থামেননি। ৩৩৫ বলে ২২টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।জাকেরের আক্ষেপ ৬ রানেরতাওহীদের সঙ্গে দারুণ ব্যাটিং করছিলেন জাকের আলীও। দুজন মিলে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ১৫১ রান। তবে নতুন বল নেওয়ার পর পেসার মোরেকির বলে উইকেটে টেনে বোল্ড হয়ে যান জাকের। ৯৪ রানে থামতে হয় তাঁকে। অর্থাৎ মাত্র ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন এই ব্যাটার।জাকের ফিরে যাওয়ার পর পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন তাওহীদ ও সাইফউদ্দিন। দুজনের জুটিতেও আসে বড় রান- ১৮৫। সাইফউদ্দিন ৮৭ রানে আউট হওয়ার পর দিনের খেলা শেষ হয়।বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিবাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। ২০০৩ সালে পাকিস্তান সফরে প্যাট্রনস ট্রফিতে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন সাবেক ওপেনার বিদ্যুৎ। এরপর ২৩ বছরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে আর কোনো ব্যাটার দ্বিশতকের এত কাছে যেতে পারেননি।এই সময়ে জাকির হাসান ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১৭৩ এবং জাকের আলী অনিক পাকিস্তান শাহিন্সের বিপক্ষে ১৭২ রান করেছিলেন।মুশফিক-সাকিবের পাশে হৃদয়বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের ব্যাটারদের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়।এই তালিকায় তাঁর সঙ্গে আছেন মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। মুশফিক ২০১৩ সালে এবং সাকিব ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জার্সিতে টেস্ট ম্যাচে বিদেশের মাটিতে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। মুশফিকের সর্বোচ্চ ইনিংস ২০০ এবং সাকিবের ২১৭ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের জবাবে তাওহীদের অপরাজিত ২০৪ রানের ইনিংস তাই শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ইনিংসকেও এনে দিয়েছে নতুন গতি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই টেস্টে হারের পর সিরিজের মাঝপথেই টেস্ট দলে বড় পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তৃতীয় টেস্টের আগে পারফরম্যান্স ও দলীয় প্রয়োজন বিবেচনায় স্কোয়াড থেকে সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন এনেছে পিসিবি।বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, আলী ওসমান, আমির জামাল, মুহাম্মদ ওয়াইস জাফর ও খুররাম শাহজাদ।তাঁদের পরিবর্তে সমসংখ্যক নতুন ক্রিকেটারকে তৃতীয় টেস্টের স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে। নতুন সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের এখনো টেস্ট অভিষেক হয়নি। অন্য দুজন এর আগে পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট খেলেছেন।দলে ফিরেছেন ওপেনার সায়েম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফাজল। সায়েম পাকিস্তানের হয়ে আটটি এবং আবদুল্লাহ দুটি টেস্ট খেলেছেন। বাঁহাতি স্পিন-অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনটি ওয়ানডে ও চারটি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়া অন্য চার অনভিষিক্ত ক্রিকেটার হলেন বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, ২০২৫-২৬ মৌসুমের কায়েদ-ই-আজম ট্রফির সেরা খেলোয়াড় ও উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সাদ বেগ, ডানহাতি পেস-অলরাউন্ডার মোহাম্মদ ইমরান (ইমরান রান্ধাওয়া) এবং রেজাউল্লাহ।নতুন ক্রিকেটাররা বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের আগে পাকিস্তান দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরফরাজ আহমেদ ও উমর গুলকে কোচিং স্টাফের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তাঁদের জায়গায় মাইক হেসন ও অ্যাশলে নোফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।বার্মিংহাম টেস্টের জন্য পাকিস্তান স্কোয়াড বাবর আজম (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফাজল, আরাফাত মিনহাজ, আজান ওয়াইস, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটরক্ষক), রেজাউল্লাহ, সাদ বেগ (উইকেটরক্ষক), সায়েম আইয়ুব, সাজিদ খান, সৌদ শাকিল, শান মাসুদ ও উবাইদ শাহ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। হাতের আঙুলের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠলেও নিজেকে ৯০ শতাংশ ফিট বলে জানিয়েছেন তিনি।লর্ডসে বৃহস্পতিবার শুরু হবে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট। গত সপ্তাহে হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে আঙুলের চোটের কারণে খেলতে পারেননি বাবর। তাঁর অনুপস্থিতিতে পাকিস্তান এক ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরে যায়। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড।বুধবার লর্ডসে সংবাদ সম্মেলনে বাবর বলেন, তিনি মঙ্গলবার কয়েকটি অনুশীলন সেশনে অংশ নিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন শেষ করেও তাঁর আরেকটি অনুশীলনে যাওয়ার কথা ছিল। পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছেন বলেও জানান তিনি।পাকিস্তানের নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর জন্য সব সময়ই সম্মানের বলে উল্লেখ করে বাবর বলেন, ‘আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। অধিনায়ক হিসেবে মাঠে থাকি কিংবা ব্যাটিং করি, আমি শুধু আমার স্বাভাবিক খেলাটাই খেলব।’প্রথম টেস্টে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও ইংল্যান্ডকে কৃতিত্ব দিয়েছেন বাবর। তিনি বলেন, পাকিস্তান তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। তবে ইংল্যান্ড যেভাবে খেলেছে, তার জন্য তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে। নিজেদের ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করে এখন পরের ম্যাচে মনোযোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি।সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ড্র হওয়া দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯৩ রান করেছিলেন বাবর। লর্ডসে তিনি চার নম্বরে ব্যাটিং করলে আজান ওয়াইসকে একাদশ থেকে জায়গা ছাড়তে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শান মাসুদ বা আবদুল্লাহ শফিক ওপেনিংয়ে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।বোলিং লাইনআপেও পরিবর্তন আনতে পারে পাকিস্তান। হেডিংলিতে দলের পেস আক্রমণে গতি কম থাকায় ২০ বছর বয়সী উবাইদ শাহকে একাদশে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তিনি খেললে একটি জায়গার জন্য খুররম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আলীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের পেসারদের মধ্যে মোহাম্মদ আব্বাস ছিলেন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। আর বাঁহাতি স্পিনার আলী উসমান টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম পাঁচ উইকেট পাওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়েই লর্ডসে নামবেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে। অনুশীলনে চোট পাওয়া তানজিদ হাসান তামিম ও মুশফিকুর রহিমের খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও দুজনেরই মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।ম্যাকাইয়ে শুক্রবার ম্যাচের আগে শেষবারের মতো অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। আগের দিনের অনুশীলনে আঙুলে চোট পাওয়া তানজিদ হাসান তামিম সকালে স্ক্যান করান। পরে তাঁকে ব্যাটিং করতেও দেখা গেছে। মুশফিকুর রহিমের চোটও গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন শান্ত।সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘মুশফিক ভাই ঠিক আছে। তামিমও আজকে ব্যাট করেছে। আশা করছি কালকে সকালে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’তামিমের খেলার বিষয়ে আরও আশাবাদী শান্ত। তবে ম্যাচের দিন সকালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘তামিম আজকে ব্যাট করেছে। মেডিকেল টার্মস অনুযায়ী, কালকে সকাল পর্যন্ত দেখতে হবে। আমাদের হাতে সব ধরনের অপশন আছে। আমার মনে হয় না খুব বেশি সমস্যা হবে।’এদিকে ম্যাকাইয়ের উইকেটে বোলাররা বাড়তি সহায়তা পেতে পারেন বলে মনে করছেন শান্ত। বিশেষ করে বাতাস কাজে লাগাতে পারলে পেসাররা সুইং আদায় করতে পারবেন বলে তাঁর প্রত্যাশা।শান্ত বলেন, ‘বাতাসের জন্য বোলাররা সাহায্য পাবেই, সুইং কিছুটা পেতে পারে। বাতাস যদি কাজে লাগাতে পারে বোলাররা, অবশ্যই তাদের জন্য ভালো সুযোগ থাকবে।’অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে শনিবার ভোর ৬টায়। তামিম ও মুশফিককে নিয়ে আপাতত বড় কোনো শঙ্কা না থাকলেও তাঁদের খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ম্যাচের দিন সকালে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।জয়ের জন্য চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রান। শুরুতেই প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে ফিরে গেলেও এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।মুমিনুলের ব্যাট থেকে জয়সূচক রান আসার পর বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়েরা ডাগআউটে উদ্যাপনে মেতে ওঠেন। গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগানে আনন্দ প্রকাশ করেন।বাংলাদেশের জয়ের মূল কারিগর ছিলেন বোলাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট। পুরো ম্যাচে তাঁর শিকার ৯ উইকেট।অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন সেঞ্চুরি করলেও দলের সংগ্রহকে বড় লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭ রান।এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে ২২৮ রানের লিড নেয়। ব্যাট হাতে মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসও বাংলাদেশের বড় লিড গড়তে ভূমিকা রাখে।সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়া ছিল টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে, আর বাংলাদেশ ছিল নবম স্থানে। র্যাঙ্কিংয়ের বড় ব্যবধান সত্ত্বেও ডারউইনে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে বাংলাদেশ।২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক জয় নিয়েই ফিরল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজে এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে শান্তর দল। সামনে আরও একটি টেস্ট—সেখানে সিরিজ জয়ের সুযোগ বাংলাদেশের।স্কোর: অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ ও ২৮৪ বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ৫৭/১ ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের লিড দুইশ ছাড়িয়েছে। আর এই লিড গড়ে তোলার পেছনে বড় অবদান রেখেছেন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ। বিশ্বমানের অস্ট্রেলীয় বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে শেষ দিকের ব্যাটারদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে পৌঁছে দেন তিনি।মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪২৬ রানে। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রান করায় বাংলাদেশ পেয়েছে ২২৮ রানের লিড।বাংলাদেশের ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তদের অবদানের পাশাপাশি মিরাজের ইনিংসটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যখন ক্রিজে যান, তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ৩০৬ রান। কিছুক্ষণ পর মুশফিকুর রহিমও ফিরে গেলে দলের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৩০৮ রান।এরপর শেষ দিকের ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে দলের ইনিংস এগিয়ে নেন মিরাজ। ১৫৪ বলে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি।এই ইনিংসের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন একটি রেকর্ড গড়েছেন মিরাজ। সাত নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন তাঁর।শুধু ব্যাটিং নয়, বল হাতেও বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পারফরমার মিরাজ। টেস্টে অভিষেকের পর বাংলাদেশের হয়ে তাঁর উইকেটসংখ্যা ২১৯, যা দেশের বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ব্যাট হাতে তাঁর রান ২ হাজার ২৯৬।টেস্টে অভিষেকের পর ২ হাজারের বেশি রান ও ২০০-এর বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি মিরাজ ছাড়া বিশ্ব ক্রিকেটে আর মাত্র একজন অলরাউন্ডারের রয়েছে। তিনি ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা।ডারউইন টেস্টের এখনও দুই দিন বাকি। ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মিরাজ সামনে আরও কোনো রেকর্ড গড়তে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বেশ শক্ত। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানের জবাবে ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড নেওয়ার পর তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬১ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার লিড এখন ৬৭ রান। ম্যাচের বাকি দুই দিন।তবে এতটা সুবিধাজনক অবস্থানেও এখনই জয়ের কথা ভাবছেন না বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর লক্ষ্য আপাতত একেকটি উইকেট করে এগিয়ে যাওয়া।মারারা স্টেডিয়ামের উইকেট সময় গড়ানোর সঙ্গে ব্যাটিংয়ের জন্য আরও ভালো হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজলউডও মনে করছেন, উইকেটে এখনো ব্যাট করা তুলনামূলক সহজ। ফলে হাতে থাকা ছয় উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে লড়াই জমিয়ে তুলতে পারে।দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, ‘আমরা ওইভাবে চিন্তা করছি না। আমরা চেষ্টা করছি ভালো জায়গায় বল করার জন্য। প্রতিটি উইকেট নিতে গেলে কষ্ট করে বল করতে হবে, কারণ উইকেট অত সহজ নয়।’জয়ের পরিকল্পনা নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘যত কম রান হয়, ততই ভালো। এখনো খেলার দুদিন বাকি। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এখান থেকে দ্রুত তিনটি উইকেট নেওয়া, কারণ ওরা সবাই ভালো ব্যাটিং করে। উইকেট সময়ের সঙ্গে আরও ভালো হচ্ছে। আমরা বড় লক্ষ্য নিয়ে চিন্তা না করে ছোট ছোট পদক্ষেপে এগোনোর চেষ্টা করছি।’অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের উইকেট পাওয়া সহজ হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। মিরাজ বলেন, ‘আমরা যে উইকেটগুলো পেয়েছি, অনেক কষ্ট করেই নিতে হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি রান যতটা আটকানো যায়। এই রানের ভেতরে যদি আরও তিন-চারটা উইকেট নিতে পারি, তখন আমাদের জন্য সহজ হবে। হয়তো রানের লক্ষ্যটাও বেশি থাকবে না।’প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৪২৬ রানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন মিরাজ। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৬৫ রান। মুশফিকুর রহিম আউট হওয়ার পর মূলত লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন তিনি।নিজের ব্যাটিং নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমার জন্য ব্যাটিংটা একটু কঠিন ছিল। আমি যখন নেমেছিলাম, তখন মুশফিক ভাই আউট হয়ে গেছেন। আমি বোলারদের নিয়েই যা রান করার করেছি। ওই সময়ে রান করাটা আমার জন্য একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল।’বল হাতেও অবদান রেখেছেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে দলের অন্যতম ভরসা স্টিভ স্মিথকে নিজের বলে ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালের মিরপুর টেস্টেও স্মিথের উইকেট নিয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার।স্মিথের উইকেটকে নিজের জন্য বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে মিরাজ বলেন, ‘এটি আমার জন্য দারুণ একটি মুহূর্ত ছিল। তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, আর তাঁর উইকেট নেওয়াটা আমার জন্য দারুণ একটি মুহূর্ত।’সাম্প্রতিক ব্যর্থতা পেছনে ফেলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে দলের আত্মবিশ্বাসকে বড় কারণ মনে করছেন মিরাজ। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের সবার বিশ্বাস ছিল যে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করেছি এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মধ্যে বিশ্বাসটা ছিল।’এখন সেই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়তে পারে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার জন্য হতাশার হয়ে উঠেছিল। দিনের শেষভাগে সেই হতাশারই যেন প্রকাশ ঘটল মেহেদী হাসান মিরাজকে ঘিরে। বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয় আম্পায়ার কুমারা ধর্মসেনাকে।ঘটনার সূত্রপাত মিরাজের রান নেওয়া নিয়ে। স্টার্কের করা ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে পয়েন্টের দিকে বল ঠেলে রান নিতে ছুটছিলেন মিরাজ। ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, রান নেওয়ার সময় ব্যাটসম্যানদের পিচের মাঝের সুরক্ষিত অংশ এড়িয়ে চলতে হয়। কিন্তু বলের দিকে নজর রাখতে গিয়ে একপর্যায়ে মিরাজ পিচের মাঝ দিয়েই দৌড়ান।বিষয়টি আম্পায়ার ধর্মসেনার নজরে পড়ে। রান শেষ হওয়ার আগেই তিনি মিরাজকে ডেকে সতর্ক করেন। মিরাজও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বলের দিকে তাকিয়ে থাকায় সামনে কী ছিল, তা তিনি বুঝতে পারেননি।বিষয়টি সেখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু মিরাজের দিকে ইঙ্গিত করে স্টার্ক কড়া ভাষায় বলেন, ‘উইকেট থেকে সরে যাও। তুমি কিন্তু আর বাংলাদেশে নেই এখন, বুঝেছ?’স্টার্কের সঙ্গে মিরাজের এই বাদানুবাদে মাঠের পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আম্পায়ার ধর্মসেনা দুজনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।তবে ঘটনাটি নিয়ে মিরাজের পক্ষেই কথা বলেছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং। চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যে তিনি বলেন, মিরাজ ইচ্ছাকৃতভাবে পিচের মাঝ দিয়ে দৌড়াননি।স্টার্কের হতাশ হওয়ার কারণ অবশ্য ছিল। নতুন বলে তিনটি উইকেট তুলে নেওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। দিনের শেষদিকে মিরাজ ও হাসান মাহমুদও অস্ট্রেলিয়ার হতাশা আরও বাড়িয়ে দেন।দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লিড এখন ১৫৩ রান। হাতে রয়েছে আরও চার উইকেট। মিরাজ ৩২ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। তাঁর সঙ্গে উইকেটে থাকা হাসান মাহমুদ অপরাজিত ১৩ রানে।
ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনের তিন সেশন ও দ্বিতীয় দিনের প্রথম দুই সেশন-টানা পাঁচ সেশন স্বাগতিকদের ওপর আধিপত্য ধরে রেখেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।শুক্রবার চা বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৮ ওভারে ৩ উইকেটে ২৮৬ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ এরই মধ্যে ৮৮ রানের লিড পেয়েছে।দলের এই অবস্থানকে আরও শক্ত করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে এসেছে ৫৫ রান।শতকের কাছাকাছি থাকা শান্ত ৭৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। মুশফিকুর রহিম অপরাজিত আছেন ২৬ রানে। দুজনের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ এখন আরও বড় লিডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।এর আগে হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বোলাররা অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে আটকে দেন। এরপর ব্যাটাররাও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন।টানা পাঁচ সেশন আধিপত্য ধরে রাখার পর ডারউইন টেস্টে এখন জয়ের সম্ভাবনাও দেখছে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এক জয় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে শান্তদের সামনে।
ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলে খেলা উইকেটকিপার-ব্যাটার অভিষেক পোড়েলকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে মঙ্গলবার মগরা থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।অভিযোগকারী কর্ণাটকের এক তরুণী। গত ২৩ জুন মগরা থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। ওই তরুণীর দাবি, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অভিষেকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। তাদের বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল। সম্পর্ক চলাকালে দুজন একসঙ্গে বিদেশে গিয়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে প্রায় দেড় বছর আগে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। বিষয়টি তখন থানায় গেলেও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পরে গত জুনে ফের পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এমন অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। এরপর আদালত পুলিশকে অভিষেককে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।পুলিশের দায়ের করা মামলায় ভারতের নতুন দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। মামলায় বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপন, ভয় দেখানোসহ আরও কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে।তবে অভিষেক পোড়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান।ক্রিকেট মাঠে অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় ছিলেন ২৩ বছর বয়সী অভিষেক। বাংলার হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর আইপিএলে সুযোগ পান তিনি। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়েও খেলেছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচেই বড় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের জন্য বড় হুমকি হয়ে ওঠেন ২২ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসন।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৬৩ রান করে। জবাবে ৩৫৫ রান তুলে ৯২ রানের লিড নেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। সেই লিড পুষিয়ে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২১.৬ ওভারে ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় দলটি।বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর ছিলেন থম্পসন। মাত্র ১১ ওভার বল করে ২৫ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ৮ উইকেট। বাংলাদেশের ১০ ব্যাটারের মধ্যে ৮ জনকেই সাজঘরে ফেরান এই তরুণ পেসার।আগের দিন দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই সাদমান ইসলামকে ৬ রানে আউট করেন থম্পসন। এরপর মুমিনুল হকও তাঁর বলে ৬ রান করে বোল্ড হন।শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ১৯ রান করেছিল। তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেই আবার বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কোনো রান না করেই থম্পসনের বলে এলবিডব্লিউ হন। এরপর সৌম্য সরকার ৫ ও মুশফিকুর রহিম ২ রান করে একই বোলারের শিকার হন।৩৬ রানেই চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ২২ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে অমিত হাসান ৪ রান করে কোরি রকিচোলির বলে আউট হলে আবারও দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।মেহেদী হাসান মিরাজও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৪৫ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংস আর বেশি দূর এগোয়নি। শেষদিকে হাসান মাহমুদ ২ রানে অপরাজিত থাকলেও অন্য প্রান্তে কেউ তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি।তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ করেন থম্পসন। ১১ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বোলিং করেছেন তিনি। রকিচোলি নিয়েছেন ২ উইকেট।দুই টেস্টের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং বিপর্যয় বড় সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ায় সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।