ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।জিএমটি সময় ভোর ৪টা ৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৬৮ ডলার কমে ১০৯ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৪৩ ডলার কমে দাঁড়ায় ১০০ দশমিক ৬৯ ডলারে।এর আগে মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরও অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছিল।কূটনৈতিক অগ্রগতিতে কমেছে উদ্বেগযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যে অক্টোবরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির খবরে পরিস্থিতি নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের দামে এর প্রভাব পড়েছে।তেলের দামে কারিগরি সংশোধনতেলের বাজারের সাম্প্রতিক দরপতনকে আংশিকভাবে কারিগরি সংশোধন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফনের পর আজ সকালে এর কিছুটা কারিগরি দরপতন দেখা যাচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘কূটনৈতিক অগ্রগতির ক্ষীণ আশা এবং সপ্তাহান্তে বড় ধরনের কোনো সামরিক উত্তেজনা না ঘটায়, তেলের দামের ওপর থেকে আপাতত তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমেছে।’বিশ্লেষকদের এই পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সামরিক উত্তেজনা না বাড়ার পরিস্থিতি আপাতত তেলের বাজারে স্বস্তি এনেছে।সূত্র: আলজাজিরা

ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা নিতে গিয়ে ঋণের চাপে পড়বেন না যেভাবে

ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সহজেই কেনাকাটা করা যায়, পরিশোধ করা যায় বিভিন্ন সেবার মূল্য। অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্ড ব্যবহারে ছাড়, ক্যাশব্যাক ও কিস্তিতে কেনাকাটার সুবিধাও দেয়। তবে এসব সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে আর্থিক ঝুঁকি। ঋণসীমা, সুদের হার, বিল পরিশোধের সময়সীমা ও বিভিন্ন চার্জ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে একপর্যায়ে বাড়তে পারে ঋণের বোঝা।বিশেষ করে ছাড় বা ক্যাশব্যাকের আকর্ষণে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকাটা করলে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের আগে এর কার্যপদ্ধতি, সুবিধা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানা জরুরি।ক্রেডিট কার্ড যেভাবে কাজ করেক্রেডিট কার্ড হলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া একটি পেমেন্ট কার্ড। এর মাধ্যমে গ্রাহক নির্ধারিত ঋণসীমার মধ্যে কেনাকাটা করতে এবং বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক সাময়িকভাবে গ্রাহকের হয়ে অর্থ পরিশোধ করে। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহককে সেই অর্থ ফেরত দিতে হয়।ক্রেডিট কার্ডের সঙ্গে ডেবিট কার্ডের মূল পার্থক্য হলো অর্থের উৎস। ডেবিট কার্ড ব্যবহার করলে সাধারণত গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা টাকা খরচ হয়। অন্যদিকে, ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার অর্থ পরে পরিশোধ করতে হয়। ফলে লেনদেনের সময় নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে সমপরিমাণ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে কেটে নেওয়া হয় না।এই সুবিধা অনেকের জন্য কেনাকাটা সহজ করে। তবে নিজের হিসাব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা না কাটায় কিছু গ্রাহক প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ বুঝতে দেরি করতে পারেন। নিয়মিত খরচের হিসাব না রাখলে মাস শেষে বড় অঙ্কের বিল পরিশোধের চাপ তৈরি হতে পারে।ছাড় ও ক্যাশব্যাকের আকর্ষণে বাড়তে পারে খরচগ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট কার্ডে নানা ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকে। নির্দিষ্ট দোকান, অনলাইন শপিং, বিমান টিকিট, হোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন সেবায় পাওয়া যায় ছাড়। কোথাও ক্যাশব্যাক, কোথাও কিস্তিতে কেনাকাটা, আবার কোথাও রিওয়ার্ড পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকে।তবে এসব সুবিধা পেতে সাধারণত কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য বা সেবা গ্রহণ, সর্বোচ্চ ছাড়ের সীমা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেনদেনের শর্ত থাকতে পারে। ফলে বিজ্ঞাপনে বড় অঙ্কের ছাড়ের কথা বলা হলেও সব গ্রাহক সব ক্ষেত্রে সমান সুবিধা পান না।কেনাকাটার আগে অফারের শর্তগুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বিজ্ঞাপনে দেখানো ছাড়ের পরিমাণ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে প্রকৃত সুবিধা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।প্রয়োজনের বদলে অফারের জন্য কেনাকাটা নয়ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে একটি বড় ঝুঁকি হলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করা। অনেক সময় ছাড় বা ক্যাশব্যাক পাওয়ার আশায় গ্রাহকেরা এমন পণ্য কিনে ফেলেন, যা কেনার পরিকল্পনা আগে ছিল না।ধরা যাক, কোনো পণ্যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পণ্যটি প্রয়োজন না থাকায় কেনার পরিকল্পনাই ছিল না। শুধু ছাড় পাওয়ার জন্য সেটি কিনলে কিছু অর্থ সাশ্রয় হলেও সামগ্রিক ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।আবার একাধিক অফার কাজে লাগাতে গিয়ে কেউ কেউ নিজের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে খরচ করেন। ফলে সাময়িক সুবিধা নিতে গিয়ে পরবর্তী সময়ে বিল পরিশোধের চাপ তৈরি হয়।এ কারণে ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার আগে পণ্যটি সত্যিই প্রয়োজন কি না এবং নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধের সামর্থ্য আছে কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি।ব্যবহারের আগে নিয়মকানুন জানা জরুরিক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা পেতে হলে এর ঋণসীমা, সুদের হার, বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ও বিভিন্ন চার্জ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ছাড়, ক্যাশব্যাক ও কিস্তির সুবিধা নেওয়ার শর্তগুলোও বুঝে নেওয়া উচিত।কার্ডের মাধ্যমে খরচের হিসাব নিয়মিত পর্যালোচনা করা এবং নিজের সামর্থ্যের মধ্যে ব্যয় সীমিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্রেডিট কার্ড তাৎক্ষণিক অর্থ পরিশোধের সুবিধা দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ গ্রাহককেই পরিশোধ করতে হয়।সুতরাং, ক্রেডিট কার্ডকে শুধু কেনাকাটার সুবিধা হিসেবে না দেখে আর্থিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পরিকল্পিত ব্যবহার ও সময়মতো বিল পরিশোধের অভ্যাসই পারে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ঝুঁকি কমাতে।

ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা নিতে গিয়ে ঋণের চাপে পড়বেন না যেভাবে

বিনিয়োগে স্থবিরতা, ১০ ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি

দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে উদ্বৃত্ত তারল্য। ঋণের চাহিদা কম থাকায় আমানত হিসেবে সংগ্রহ করা অর্থের বড় অংশ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। ফলে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড, কলমানি এবং অন্য ব্যাংকে আমানত রাখার মতো বিকল্প খাতে অর্থ খাটিয়েও উদ্বৃত্ত তারল্যের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কয়েকটি ব্যাংক।গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০টি ব্যাংকের কাছেই ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে একাধিক ব্যাংক আমানতের সুদহার কমিয়ে দিয়েছে। নতুন আমানত সংগ্রহে নিরুৎসাহিত করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।সোনালী ব্যাংকের উদ্বৃত্ত সবচেয়ে বেশিঅতিরিক্ত তারল্যের দিক থেকে ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। আগস্ট শেষে ব্যাংকটির উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা।দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পূবালী ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য ৩২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যার উদ্বৃত্ত তারল্য ২৯ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের ২৯ হাজার ৪০৫ কোটি এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ২৮ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।এ ছাড়া সিটি ব্যাংকের ২৩ হাজার ৯৮৪ কোটি, ব্যাংক এশিয়ার ২৩ হাজার ৫১৮ কোটি, যমুনা ব্যাংকের ২২ হাজার ৪৬৯ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১৭ হাজার ৫৪৪ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংকের ১৬ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।নিরাপদ খাতে অর্থ রাখছে ব্যাংকগুলোব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ওপর নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর সেই সীমা তুলে দিয়ে সুদহার বাজারভিত্তিক করা হয়।এরপর দুর্বল ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ভালো ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম সুদে আমানত পাচ্ছে। কারণ, আমানতকারীরা বেশি সুদের পাশাপাশি প্রয়োজনে তাঁদের জমা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।তবে ভালো ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়লেও সেই অর্থ বিনিয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে জমছে উদ্বৃত্ত অর্থ।এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, উদ্বৃত্ত তারল্যের পুরো অর্থই ট্রেজারি বিল ও বন্ড, অন্য ব্যাংকের চালু করা বন্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রি-ফাইন্যান্স প্যাকেজ এবং ভালো ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিটে প্লেসমেন্টের মতো খাতে লাভজনক ও নিরাপদভাবে বিনিয়োগ করা আছে।তিনি বলেন, এসব বিনিয়োগ থেকে আয় হওয়ায় আমানতকারীদের সুদ পরিশোধে বাড়তি চাপ নেই। তাঁর ভাষ্য, অতিরিক্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের ব্যালান্সশিটও ভারসাম্যপূর্ণ।অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য ঋণ হিসেবে বিতরণ না হলেও তা অলস পড়ে নেই। এসব অর্থের বড় অংশ বিভিন্ন সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, অতীতে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ দেওয়ার কারণে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে ব্যাংকগুলো এখন সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করছে। আগামী বছর থেকে ব্যাংকগুলো নতুন করে বিনিয়োগে ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।কিছু ব্যাংকে উল্টো তারল্যসংকটব্যাংক খাতে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য থাকলেও সব ব্যাংকের পরিস্থিতি এক নয়। কয়েকটি ব্যাংক প্রয়োজনীয় তারল্য ধরে রাখতে পারছে না।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য ঘাটতি ছিল ৪ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এবি ব্যাংকের ঘাটতি ৩ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা।এ ছাড়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৮৮ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৭৬৭ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৬২৫ কোটি, পদ্মা ব্যাংকের ৬০০ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৫২৫ কোটি, গ্লোবাল ব্যাংকের ৩৮৭ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩১৯ কোটি এবং আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৮ কোটি টাকা তারল্য ঘাটতি রয়েছে।অর্থাৎ, ব্যাংক খাতের একদিকে বিপুল অর্থ উদ্বৃত্ত থাকলেও অন্যদিকে কিছু ব্যাংক তারল্যসংকটে ভুগছে। ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার এই বৈপরীত্য খাতটির সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।আমানতের সুদহার কমাচ্ছে ব্যাংকগুলোঅতিরিক্ত তারল্যের চাপ সামলাতে শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি ব্যাংক গত দুই মাসে দুই দফায় আমানতের সুদহার কমিয়েছে। একাধিক ব্যাংক মেয়াদি আমানতের সুদহার ৫০ থেকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়েছে।গত জুলাইয়ে এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার ছিল ৯ থেকে ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগস্টে তা কমে সাড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশে নেমে আসে। সম্প্রতি সুদহার আরও কমে সাড়ে ৭ থেকে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।ব্যাংকভেদে সুদহার কমানোর চিত্রেও পার্থক্য রয়েছে। পূবালী ব্যাংকে এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার গত জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে সুদহার ছিল ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আগস্টে তা কমে যথাক্রমে ৮ দশমিক ২১ ও ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ হয়।ব্র্যাক ব্যাংকে এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে সুদহার ছিল ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। পরে তা কমে যথাক্রমে ৮ দশমিক ১৭ ও ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ হয়।ব্যাংক এশিয়ায় এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার জুলাইয়ের ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে আগস্টে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশে নেমে আসে। যমুনা ব্যাংকে একই মেয়াদের আমানতের সুদহার ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ হয়। এ ছাড়া এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে সুদহার ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়েছে।ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, আমানত সংগ্রহ এখন অনেক ব্যাংকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমানতের সুদ ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে ব্যাংকের মুনাফা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিনিয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্রও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার আমানতকারীদের টাকা রাখতে এলে ফিরিয়ে দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে আমানতের সুদহার কমাচ্ছে।বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচেব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য বাড়ার অন্যতম কারণ বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের মন্থর গতি। টানা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই চিত্রে। ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য ও ভালো গ্রাহক না পাওয়ায় তাদের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ জমে থাকছে।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে তারল্য নিয়ে একধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। কিছু দুর্বল ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক তীব্র তারল্যসংকটে ভুগছে। অন্যদিকে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্বৃত্ত রয়েছে।তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে উচ্চ সুদ দিলেও সেই অর্থ বিনিয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্র পাচ্ছে না। বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে আমানত ব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়ছে, পাশাপাশি উদ্বৃত্ত তারল্য থেকেও কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো।সামগ্রিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগের মন্থর গতি, ঋণের চাহিদা কমে যাওয়া এবং ব্যাংকগুলোর সতর্ক ঋণনীতি উদ্বৃত্ত তারল্য বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত না হলে ব্যাংকগুলোর হাতে জমে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত করা কঠিন হতে পারে।

বিনিয়োগে স্থবিরতা, ১০ ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি

ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক

আর্থিক সংকটে থাকা বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ শতাংশ সুদে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ গ্যারান্টির বিপরীতে তিন মাসের জন্য এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে তা পরিশোধ করবে।সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, মেয়াদ শেষে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত অনুযায়ী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে টাকা ফেরত দেবে। ফলে এ অর্থায়নে সোনালী ব্যাংকের কোনো ঝুঁকি নেই। এর আগে একই পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল।সংকটে ন্যাশনাল ব্যাংকএকসময় বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর একটি ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে বড় পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ সিকদার পরিবারের হাতে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবারও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে।তবে সিকদার পরিবারের সময়কার অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যাংকটি। উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে আর্থিক সূচক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ধারাবাহিক লোকসানের পাশাপাশি আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকটি।ব্যাংকটির আর্থিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও বড় অঙ্কের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চার আমানতকারী জমা টাকা তুলতে না পেরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে তাঁদের সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা উত্তোলন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।আমানতকারীদের টাকা ফেরতের নির্দেশএমন পরিস্থিতিতে গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক।সাক্ষাৎকালে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে।গভর্নর ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানান। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখা এবং কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের সব আমানতকারী যাতে চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাওনা ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকাএর আগে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৯৮৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে দায় মেটাতে হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ হিসেবে ওই অর্থ দায় তৈরি হয়েছে।বর্তমানে ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। এ অর্থের পুরোটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন টাকা সৃষ্টি করে সরবরাহ করেছে।ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে অন্য ব্যাংক থেকে অর্থ ধার নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ তাৎক্ষণিক অর্থসংকট মোকাবিলায় সহায়ক হলেও ঋণ আদায় বাড়ানো এবং আর্থিক অবস্থার টেকসই উন্নতি নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘ মেয়াদে সংকট কাটানো কঠিন হবে।

ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক

ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এগিয়ে নেওয়া এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা বজায় রাখতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে কৃষি, পাটশিল্প, জ্বালানি, বন্দর ও পানি ব্যবস্থাপনায় ডাচ প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। প্রচলিত বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও বাজারের সম্ভাবনার সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো গেলে উভয় দেশ লাভবান হবে।ইউরোপের বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখার উদ্যোগএলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। এ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সহযোগিতা প্রয়োজন।এ জন্য ইইউর সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।কৃষি ও পাটশিল্পে ডাচ প্রযুক্তির সম্ভাবনাকৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডসের উন্নত বীজপ্রযুক্তি, গবেষণা ও আধুনিক কৃষিব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।আলু ও অন্যান্য সবজির উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মান বাড়ানো, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং নতুন বাজার তৈরিতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করতে পারে। এ ছাড়া সিলেটসহ দেশের সম্ভাবনাময় অঞ্চলে বিশেষায়িত সবজি চাষ সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।পাটশিল্পের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। উন্নত পাটবীজ উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণাগার স্থাপন এবং বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে ডাচ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ও মিশ্র তন্তুর কাপড় উৎপাদনের মাধ্যমেও এ খাতে বাড়তি মূল্য সংযোজন সম্ভব।জ্বালানি, বন্দর ও পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতানেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমা বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কৃষিপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিল্পের আধুনিকায়ন, সামুদ্রিক পরিবহন ও পানি ব্যবস্থাপনায় তাঁর দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।বৈঠকে বাংলাদেশের সার কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ডাচ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্ট্যামিকার্বনের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় ও জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।বন্দর ও সামুদ্রিক পরিবহন খাতে লালদিয়া টার্মিনালসহ বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশগ্রহণ নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।এ ছাড়া নদী ও খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের গবেষণা সংস্থা ডেল্টারেসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।বিনিয়োগ পরিবেশ ও দক্ষতা উন্নয়নবাংলাদেশে ডাচ বিনিয়োগ বাড়াতে মেধাস্বত্ব ও পেটেন্ট সুরক্ষা, শুল্ক বিভাগের কার্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলোও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষতা বৃদ্ধি, তরুণ ও নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলসহ উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ভারতের ধনীদের চেয়েও বেশি আয় উন্নত দেশের দরিদ্রদের

ভারতের ধনীদের আয়ও উন্নত দেশের দরিদ্রদের চেয়ে অনেক কমবিশ্বব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণবিশ্বের কয়েকটি উন্নত দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ মানুষের দৈনিক আয় বা ভোগব্যয় ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের তুলনায়ও বেশি। বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের ‘পোভার্টি অ্যান্ড ইনইকুয়ালিটি প্ল্যাটফর্ম’-এর তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এতে ভারতের অর্থনীতিতে শুধু ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য নয়, সামগ্রিকভাবে মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার মানের ঘাটতিও স্পষ্ট হয়েছে।বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে দরিদ্রতম ১০ শতাংশ মানুষের মাথাপিছু দৈনিক আয় বা ভোগব্যয় প্রায় ৩ ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে এই পরিমাণ ২৫ ডলার, কানাডায় ৩১ ডলার এবং জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় ২৮ ডলার।অর্থাৎ, এসব উন্নত দেশের সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দৈনিক আয় বা ভোগব্যয় ভারতের দরিদ্রতম মানুষের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।অন্যদিকে, ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের মাথাপিছু দৈনিক আয় বা ভোগব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১০ ডলার। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রে এই অঙ্ক ১৭৩ ডলার, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় ১২৯ ডলার এবং জার্মানিতে ১২৮ ডলার।ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, মাসে ৮০ হাজার রুপি আয় করেন—এমন ব্যক্তিও দেশটির শীর্ষ ১০ শতাংশ আয়ের মানুষের মধ্যে পড়েন।এই তুলনা বলছে, ভারতের সবচেয়ে সচ্ছল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানও উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর দরিদ্রতম মানুষের তুলনায় অনেক নিচে। অর্থাৎ, ভারতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কেবল সম্পদের অসম বণ্টনে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের মানুষের সামগ্রিক আয়ও উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম।ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট অহনা দত্তগুপ্ত এনডিটিভিকে বলেন, এই তুলনা ভারতের একটি গভীর সমস্যাকে সামনে এনেছে। দেশটির সংকট শুধু দারিদ্র্য নয়, বরং সামগ্রিকভাবে মানুষের আয় কম থাকা।অহনা দত্তগুপ্তের মতে, ভারতে দৈনিক ১০ ডলার খরচ বা ভোগ করার সামর্থ্য থাকলে একজন ব্যক্তি দেশের ধনী ১০ শতাংশ মানুষের তালিকায় জায়গা পেতে পারেন। অথচ কানাডা, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে একই পরিমাণ অর্থ একজন মানুষকে সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ফেলতে পারে।তিনি বলেন, দরিদ্র ভারতীয়দের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে শুধু দরিদ্র মানুষের অবস্থার উন্নতি করলেই দেশকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে না। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বাড়িয়ে তাঁদের বর্তমানের তুলনামূলক সচ্ছল জনগোষ্ঠীর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া গেলেও উন্নত দেশগুলোর মানুষের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে বড় ব্যবধান থেকে যেতে পারে।এ পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য শুধু ধনী-দরিদ্রের আয়বৈষম্য কমানোই যথেষ্ট নয়। বরং সমাজের সব শ্রেণির মানুষের আয় বাড়ানো এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে না পারলে আয়বৈষম্য কমলেও উন্নত দেশগুলোর জীবনযাত্রার মানের কাছাকাছি পৌঁছানো কঠিন হবে।সূত্র: এনডিটিভি

ভারতের ধনীদের চেয়েও বেশি আয় উন্নত দেশের দরিদ্রদের

সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে প্রস্তাবিত সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রকল্পটি স্থগিত না হলে বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পাঠানো একটি ই-মেইলে এসব উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান মেটাকোরের দাবি, প্রযুক্তি সরবরাহকারী পরিবর্তন এবং নোকিয়া ও ইনফার্নার প্রযুক্তি গ্রহণের পর আগের বাধা কেটে গেছে।গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের ইকোনমিক মিনিস্টার ফজলে রাব্বি তৎকালীন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীকে একটি ই-মেইল পাঠান। বর্তমানে আশিক চৌধুরী ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। ই-মেইলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আপত্তি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।দৈনিক আমার দেশ-এর হাতে আসা নথি অনুযায়ী, চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে মেরিনের নির্মিত এবং মিয়ানমার থেকে সিঙ্গাপুরগামী সিগমা ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি ছিল। মার্কিন পক্ষের আশঙ্কা, প্রকল্পটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।বর্তমান সরকারের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা এবং গুগল, ফেসবুক ও অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।এডিবির ঋণ প্রস্তাব নিয়ে আপত্তিই-মেইলটি পাঠিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা এন্ডারসন। এর সঙ্গে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের লাইসেন্স পাওয়া মেটাকোরের প্রকল্পে মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে চাওয়া ঋণ প্রস্তাবের নথি সংযুক্ত ছিল।ই-মেইলে বলা হয়, প্রকল্পটির জন্য প্রস্তাবিত ঋণ নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি এডিবির বোর্ডে ভোট হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, প্রকল্পটি নিয়ে তাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। ঢাকায় কর্মরত মার্কিন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে প্রকল্পটির বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেছে ওয়াশিংটন।মার্কিন পক্ষের মতে, প্রকল্পটি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, ক্যাবলটির আয়ুষ্কাল সীমিত এবং এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।ই-মেইলে আরও বলা হয়, ঢাকায় অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, অন্তর্বর্তী সরকারও প্রকল্পটির প্রতি সমর্থনশীল নয়। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে ঢাকায় ও ম্যানিলায় এডিবির প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের আপত্তির কথা জানাতে এবং প্রকল্পটি এডিবির বোর্ডের বিবেচনা থেকে প্রত্যাহারের অনুরোধ করতে বলা হয়।প্রকল্পটির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এডিবির কাছে তুলে ধরতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এডিবির কাছে বার্তাটি পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।ই-মেইলটি পরে ফজলে রাব্বি আশিক চৌধুরীর কাছে পাঠান। এর অনুলিপি দেওয়া হয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এডিবির প্রতিনিধিদেরও।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগমার্কিন ই-মেইলে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচএমএন টেকনোলজিসকে (সাবেক হুয়াওয়ে মেরিন নেটওয়ার্কস) ‘আনট্রাস্টেড’ বা অবিশ্বস্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের এন্টিটি লিস্টে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এটিকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সঙ্গে সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে ই-মেইলে দাবি করা হয়।যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে হুয়াওয়ে ও চীনভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সাইবার নজরদারি, অননুমোদিত তথ্য সংগ্রহ এবং গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোয় হস্তক্ষেপের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।সাবমেরিন ক্যাবল আন্তর্জাতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা থাকায় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ কারণে চীন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের আপত্তি রয়েছে।খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে আমার দেশ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির মুখে বিভিন্ন দেশে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের চুক্তি বাতিল বা ক্যাবলের রুট পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে সিমিউই-৬ এবং চিলি ও অস্ট্রেলিয়াকে যুক্ত করা ট্রান্স-প্যাসিফিক ক্যাবল প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।সিগমা ক্যাবলের সঙ্গে সংযোগ নিয়েও প্রশ্নমার্কিন ই-মেইলে বলা হয়েছে, মেটাকোরের প্রস্তাবিত ক্যাবলটি পুরোনো ও ‘আনট্রাস্টেড’ ইউএমও ট্রাংক ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং নতুন ক্যাবলের দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ইউএমও ক্যাবলটি বর্তমানে সিগমা ক্যাবল নামে পরিচিত, যা সিঙ্গাপুর ও মিয়ানমারকে যুক্ত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে এর স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ওই বছরের সেপ্টেম্বরে এটি চালু করা হয়। ফলে প্রস্তাবিত বাংলাদেশি সংযোগটি এমন একটি আন্তর্জাতিক ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা, যার কার্যক্রম শুরু হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে।যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, এই সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ডিজিটাল যোগাযোগ অবকাঠামো এমন একটি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে, যার প্রযুক্তিগত সরবরাহকারী নিয়ে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে।মার্কিন প্রযুক্তি বিনিয়োগ হারানোর আশঙ্কাই-মেইলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হলো—প্রকল্পটি চলমান থাকলে বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে।খাতসংশ্লিষ্ট একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ডিজিটাল বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগজনক। সরকারের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা, দেশে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা এবং ফেসবুক, গুগল ও অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশে বড় আকারের ডেটা সেন্টার ও অন্যান্য ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আস্থা প্রয়োজন। হুয়াওয়ে মেরিন-নির্মিত সিগমা ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপিত হলে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রশ্ন উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন।এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উপেক্ষা করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে সিঙ্গাপুর প্রান্তে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব শুধু সাবমেরিন ক্যাবল খাতেই সীমিত না থেকে ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং, ব্যাংকিং, ই-কমার্স, সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা রপ্তানির মতো খাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।মেটাকোরের বক্তব্যমেটাকোরের অন্যতম মালিক ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিমের কাছে প্রকল্পটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে সতর্কবার্তা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।জবাবে তিনি বলেন, মেটাকোরের কার্যক্রম নিয়ে আগে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু উদ্বেগ বা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও হুয়াওয়ের পরিবর্তে নোকিয়া ও ইনফার্নার প্রযুক্তি গ্রহণ এবং মার্কিন ওয়ার্ক অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর সেই বাধা কেটে গেছে।আমিনুল হাকিমের ভাষ্য, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে সমঝোতার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি দল মেটাকোরের কার্যালয় পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তি সইয়ের সময় ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই চুক্তির পর পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক ও সহজ হয়ে আসে বলে দাবি করেন তিনি।প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে আমিনুল হাকিম বলেন, প্রয়োজনীয় মোট নয়টি অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) মধ্যে সাতটি পাওয়া গেছে। বাকি রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) অনুমতি। এনএসআই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আপত্তি বা মতামত জানায়নি বলে জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ শুরু হলেও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির কার্যক্রম চূড়ান্ত অগ্রগতি লাভ করে।নথির সময়ক্রমে ভিন্ন চিত্রতবে মেটাকোরের বক্তব্যের সঙ্গে আমার দেশ-এর হাতে আসা নথির সময়ক্রমে অসংগতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।নথি অনুযায়ী, মেটাকোর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নোকিয়ার সঙ্গে টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট সরবরাহের চুক্তি করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট ই-মেইলটি বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো হয় ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি—নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তির প্রায় দুই মাস পর।অর্থাৎ নোকিয়ার কাছ থেকে টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট কেনার পর যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি বা কথিত নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে বলে আমিনুল হাকিম যে দাবি করেছেন, নথির সময়ক্রম তার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। বরং নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তির পরও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি জানানোর বিষয়টি নথিতে উঠে এসেছে।বক্তব্য জানতে যোগাযোগএ বিষয়ে জানতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ফজলে রাব্বি, লরা এন্ডারসন ও আশিক চৌধুরীকে ই-মেইল করে আমার দেশ। আশিক চৌধুরী ও ফজলে রাব্বিকে হোয়াটসঅ্যাপেও বার্তা পাঠানো হয়।পরে ৫ অক্টোবর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় প্রশ্ন পাঠাতে বলা হয়। সেদিনই ই-মেইল করা হলেও পরদিন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ইনভেস্ট বাংলাদেশের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাসনিম সিকদার ৬ অক্টোবর প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৭ অক্টোবরের মধ্যে হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার কথা জানান। ৮ অক্টোবর পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁরা ইকোনমিক মিনিস্টার ফজলে রাব্বির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁর সাড়া পেলেই জানাতে পারবেন।অন্যদিকে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় থাকা একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছিলেন, তবে এ-সংক্রান্ত কোনো নথি তখন দেখেননি। সব মিলিয়ে মেটাকোরের সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, প্রকল্পের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগের প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে প্রকল্পটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান এবং মেটাকোরের দাবি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ

৩৫ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, প্রস্তুতি কতটা?

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ। এরই মধ্যে বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে আরও ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এত বড় বহর পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অর্থায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে আগামী তিন থেকে ১০ বছরের মধ্যে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও ৩৫টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে ২৫টি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের এবং ১০টি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের। বর্তমানে বিমানের বহরে উড়োজাহাজ রয়েছে ১৯টি।এত বড় বহর পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও প্রস্তুতি ছাড়া এতগুলো উড়োজাহাজ কেনা হলে তা শেষ পর্যন্ত বিমানের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে সরকারের দাবি, যাত্রী চাহিদা ও ভবিষ্যৎ নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।একসঙ্গে ৩৫ উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তগত এপ্রিল মাসে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এর বাইরে বুধবার এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, একসঙ্গে এতগুলো উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা বিমানের আগে ছিল না। বরং ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়া নিয়ে বহর বাড়ানোর কথা ভাবা হয়েছিল। এ কারণে এত বড় ক্রয়ের আগে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, গত ৫৪ বছরে বিমান নিজেকে লাভজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে পারেনি। এটি এখনো সরকারি করপোরেশন হিসেবেই পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর মতে, যথাযথ বাণিজ্যিক সক্ষমতা তৈরি না হলে নতুন উড়োজাহাজগুলো বিমানের জন্য বোঝা হয়ে উঠতে পারে। তবে যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে এই ক্রয় বাংলাদেশের জন্য লাভজনকও হতে পারে।খরচ লাখ কোটি টাকা ছাড়ানোর আশঙ্কাআনুষ্ঠানিকভাবে উড়োজাহাজগুলোর দাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রাথমিক তথ্যমতে, ২৫টি বোয়িং কিনতে প্রায় ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৭৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। ১০টি এয়ারবাসের দাম যোগ হলে মোট ক্রয়মূল্য লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।তবে এসব উড়োজাহাজের অর্থ এখনই পরিশোধ করতে হবে না। প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে এবং শেষটি ২০৩৫ সাল বা তার পর আসার কথা। উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ফলে এর বড় অংশের আর্থিক চাপ বর্তমান সরকারের মেয়াদের বাইরে গিয়ে পরবর্তী সরকারের ওপর পড়তে পারে।রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ নিয়েও প্রশ্নবিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এই বড় ক্রয়ের পেছনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণও ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর আলোচনার মধ্যে বোয়িং কেনার বিষয়টি এসেছে। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার ও ভারসাম্য রক্ষার অংশ হিসেবে এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, বাজার বিবেচনায় বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তবে চাহিদা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পুরো কৌশল কী, তা পরিষ্কার করা দরকার। তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় প্রকৌশলী ও পাইলট তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে।বিমানের কারিগরি সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগনতুন উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি বিমানের বর্তমান বহরের কারিগরি সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বোয়িংয়ের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বোয়িংয়ের অন্য বহরের তুলনায় বিমানের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটির হার বেশি এবং মেরামতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি সময় লাগে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানের ৭৮৭ উড়োজাহাজে ব্রেক সিস্টেম কন্ট্রোল ইউনিটে ত্রুটির হার একই মডেলের বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি। ৭৭৭ উড়োজাহাজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটির হার বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ছয় থেকে সাত গুণ বেশি। পণ্য পরিবহনের দরজাতেও ত্রুটির হার প্রায় ১৪ গুণ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এত উড়োজাহাজের জন্য পাইলট কোথায়?বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য বিমানে ২১৮ জন পাইলট ও ৬০০ কেবিন ক্রু রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বর্তমান বহরের জন্যই প্রয়োজন অন্তত ৩০০ পাইলট ও ৯০০ কেবিন ক্রু।নতুন ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে প্রয়োজন হতে পারে ৭০০ থেকে ৮৫০ জন পাইলট এবং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কেবিন ক্রু। একই সঙ্গে বাড়বে পার্কিং, মেইনটেন্যান্স, যাত্রী, লাগেজ, কার্গো ও টার্নঅ্যারাউন্ডের চাপ।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়োজাহাজ কেনার আগেই পাইলট, প্রকৌশলী ও কেবিন ক্রু তৈরির কার্যকর প্রশিক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির মতো পুরোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিকায়নেরও পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।সরকারের যুক্তি, বিদেশি এয়ারলাইনসের দখলে ৮০ শতাংশ যাত্রীসরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের মোট বিমানযাত্রীর মাত্র ২০ শতাংশ বহন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বাকি ৮০ শতাংশ যাত্রী বিদেশি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যাতায়াত করেন। তাই বহর বাড়িয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা প্রয়োজন।বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতেই নতুন উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। নেটওয়ার্ক ফ্লিট প্ল্যানিং, উড়োজাহাজের রেঞ্জ, যাত্রী ধারণক্ষমতা, ফ্লাইটপ্রতি সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্রিকোয়েন্সি বিবেচনা করে ওয়াইড-বডি ও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।তিনি বলেন, বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের বিমানে রয়েছে ১৯টি। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে যাত্রী চাহিদা বেশি এবং উড়োজাহাজের স্বল্পতা দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক চাপ নেই: তথ্য উপদেষ্টাপ্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর রহমান বলেছেন, নতুন উড়োজাহাজ কেনার কারণে অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক চাপ পড়বে না। তাঁর বক্তব্য, উড়োজাহাজগুলো হাতে পেতে অনেক সময় লাগবে এবং অর্থও দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে পরিশোধ করা যাবে।তবে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যে সরকার ও বিমানকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তফা মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার গত ৭ সেপ্টেম্বর এ নোটিশ পাঠান।শুধু উড়োজাহাজ কিনলেই হবে নাবিশেষজ্ঞদের মতে, বহর বাড়ানোর পাশাপাশি বিমানের ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সক্ষমতায় বড় ধরনের সংস্কার দরকার। দক্ষ ও অভিজ্ঞ এভিয়েশন পেশাজীবীদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, আইটি অবকাঠামো ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, পাইলট-প্রকৌশলী-কেবিন ক্রু প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের লাইসেন্সিং নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।এ ছাড়া টিকিটিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করা, রুটভিত্তিক যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শও রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান শুধু একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠান নয়; এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচয়েরও অংশ। তাই বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

৩৫ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, প্রস্তুতি কতটা?

দুই ব্যাংকের চেয়ারম্যান ভাই-বোন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বেড়েছে খেলাপি ঋণ

মেঘনা ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পর দুই ব্যাংকেই বেড়েছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। বর্তমানে ব্যাংক দুটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী এবং গ্রুপটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী। তাঁরা সম্পর্কে ভাই-বোন।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক দুটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সরকার পতনের পর পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে। এরপর মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন উজমা চৌধুরী এবং মিডল্যান্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন আহসান খান চৌধুরী। তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংক দুটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে।মেঘনা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৪৩৩ কোটি টাকা২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা মেঘনা ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন উজমা চৌধুরী। ব্যাংকটি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক মন্ত্রী আশিকুর রহমানের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এরপর ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ উজমা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, উজমা চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার আগে মেঘনা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।এ বিষয়ে জানতে মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান উজমা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলে নম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।মিডল্যান্ড ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৪১২ কোটি টাকামিডল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় ২০১৩ সালে উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন আহসান খান চৌধুরী। তবে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। সর্বশেষ তাঁর স্ত্রী নিলুফার জাফরউল্লাহ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিলুফার জাফরউল্লাহ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুপস্থিত থাকতে শুরু করেন। এ পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ পরিচালনা পর্ষদের ১৬৫তম সভায় আহসান খান চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, আহসান খান চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার আগে মিডল্যান্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৩৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ।এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমতিয়াজ ইউ আহমেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।একই পরিবারের দুই সদস্য দুই ব্যাংকের চেয়ারম্যানব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, একই পরিবারের দুই ভাই-বোনের দেশের দুটি তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে প্রথম। তাঁদের মতে, পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রবণতা আগেও দেখা গেছে। তবে মেঘনা ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে দুই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর খেলাপি ঋণ বাড়লেও, এই বৃদ্ধির সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা প্রদত্ত তথ্যে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দুই ব্যাংকের চেয়ারম্যান ভাই-বোন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বেড়েছে খেলাপি ঋণ

অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় শতাধিক গ্রাহকের টাকা গায়েব

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামান সোহাগ পলাতক হওয়ার পর শতাধিক গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রাহক অর্থ লোপাটের লিখিত অভিযোগ করেছেন। ব্যাংকের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত শতাধিক হিসাব থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাটের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব হিসাব যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোট অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।রোববার সকাল থেকে শ্রীনগর প্লাজার দ্বিতীয় তলায় থাকা অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার সামনে গ্রাহকদের ভিড় বাড়তে থাকে। ব্যাংকের মূল ফটক থেকে বাইরে পর্যন্ত গ্রাহকেরা নিজেদের হিসাব যাচাই করতে জড়ো হন। একপর্যায়ে কয়েকজন গ্রাহক শ্রীনগর প্লাজার গেটের কাচ ভাঙচুর শুরু করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।হিসাব যাচাইয়ের সময় কয়েকজন গ্রাহক তাঁদের হিসাবে থাকা লাখ লাখ টাকা দেখতে পাননি। এ ঘটনায় কেউ কেউ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। একের পর এক হিসাব থেকে টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ও আহাজারি দেখা দেয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, রোববার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক হিসাব থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আরও অনেক গ্রাহক অভিযোগ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীনগর শাখায় আমানত লোপাটের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রাহক ব্যাংকে ভিড় করেন। তবে এর দুই দিন আগ থেকেই ব্যাংকটির ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামান সোহাগ পলাতক ছিলেন। বৃহস্পতিবার ১৪টি হিসাব থেকে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা গায়েব হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এতে ব্যাংকটির প্রবাসী ও নারী গ্রাহকসহ প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ জেলার ডিজিএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় ব্যাংকের পলাতক ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামানের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শরীফুজ্জামান ও ক্যাশিয়ার মো. জিন্নাহকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।’শরীফুজ্জামানের ব্যক্তিগত সিন্ডিকেটে নেওয়া টাকা গ্রাহকেরা ফেরত পাবেন কি না—জানতে চাইলে ডিজিএম মিজানুর রহমান বলেন, ব্যাংকের অডিট টিম কাজ করছে। পাশাপাশি পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি বিষয়টি যাচাই-বাছাই করবে। এরপর গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কতজন গ্রাহকের কত টাকা লোপাট হয়েছে, সব হিসাব যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। অভিযোগ গ্রহণ শুধু রোববারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো গ্রাহকের হিসাবে অসংগতি ধরা পড়লে পরবর্তী সময়েও তিনি অভিযোগ করতে পারবেন।

অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় শতাধিক গ্রাহকের টাকা গায়েব

পিকেএসএফের ৭,২৪৫ কোটি টাকার অর্থায়ন উদ্যোগ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ, কুটির ও মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, স্যানিটেশন এবং অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য মোট ৭ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে দেওয়া হবে ৫০০ কোটি টাকা।রোববার পিকেএসএফ ভবন-১-এ সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় পিকেএসএফ।সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া অর্থে কুটির ও মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ খাতে উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদন, সেবা এবং বিভিন্ন ভ্যালু চেইনভিত্তিক কর্মকাণ্ডে এই অর্থায়ন করা হবে।পিকেএসএফ জানিয়েছে, স্বল্পআয়ের মানুষের দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ অর্থায়নের অন্যতম লক্ষ্য।ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতেও ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের ভিত্তিতে নেওয়া এ কার্যক্রমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের জন্য ‘সৌরশক্তি’ নামে একটি বিশেষায়িত ঋণ নীতিমালা অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ।এ ছাড়া পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থাগুলোর জন্য ক্লাস্টারভিত্তিক মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ, সাধারণ সেবা, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদেরসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

পিকেএসএফের ৭,২৪৫ কোটি টাকার অর্থায়ন উদ্যোগ

মালাইকার নাচে জমবে আপন জুয়েলার্সের ওয়েডিং মুনসুন

বিয়ের মৌসুমের আনন্দ, ঐতিহ্য ও উৎসবের আবহকে সামনে রেখে নতুন ক্যাম্পেইন নিয়ে এসেছে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্স। ‘আপন ওয়েডিং মুনসুন’ নামের এ আয়োজনে কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হিসেবে রয়েছেন অভিনেত্রী মালাইকা চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মডেল রাজ মানিয়া।বাংলাদেশের মানুষের বিয়ে, উৎসব ও জীবনের নানা বিশেষ মুহূর্তের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আপন জুয়েলার্স। প্রায় চার দশকের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি জুয়েলারি পণ্য ও সেবার পাশাপাশি আস্থা, ঐতিহ্য ও রুচির একটি পরিচিত নাম হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। সময়ের সঙ্গে আধুনিক নকশা ও নতুন ভাবনা যুক্ত হলেও দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি গুরুত্ব ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।‘আপন ওয়েডিং মুনসুন’কে সেই ধারাবাহিকতারই নতুন আয়োজন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিয়েকে শুধু সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাঙালির সংস্কৃতি, পারিবারিক বন্ধন, আবেগ ও উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে ক্যাম্পেইনে।বিশেষ জিঙ্গেল, নৃত্য ও কোরিওগ্রাফির সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে ক্যাম্পেইনের থিমেটিক বিজ্ঞাপন। এটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক মেহেদি হাছিব। বিজ্ঞাপনে মালাইকা চৌধুরীর উপস্থিতি আয়োজনটিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। নৃত্য, সংগীত ও উৎসবের আবহে নির্মিত বিজ্ঞাপনে বিয়ের মৌসুমের প্রাণবন্ততা এবং নতুন প্রজন্মের উদযাপনের সঙ্গে আপন জুয়েলার্সের ঐতিহ্যকে একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।এ আয়োজন শুধু বিজ্ঞাপন প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে ‘আপন ওয়েডিং মুনসুন—Dance Challenge’। বিজ্ঞাপনে প্রদর্শিত নাচ অনুসরণ করে আগ্রহীরা নিজেদের পরিবেশনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করতে পারবেন। অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভিডিওতে Apon Jewellers-কে ট্যাগ করতে হবে। নির্বাচিত সেরা ১০ জন অংশগ্রহণকারীর জন্য থাকছে আপন জুয়েলার্সের পক্ষ থেকে আকর্ষণীয় উপহার।নতুন এ ক্যাম্পেইনের মধ্য দিয়ে আপন জুয়েলার্সের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও গ্রাহকসম্পর্কের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল অংশগ্রহণের সুযোগও তৈরি হয়েছে। দেশীয় সংস্কৃতি ও উৎসবের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখার ধারাবাহিকতায় ‘আপন ওয়েডিং মুনসুন’কে আধুনিক এক সংযোজন হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। চার দশকের পথচলায় মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাকে সঙ্গে নিয়ে এবার বিয়ের মৌসুমের আনন্দকে নতুনভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে আপন জুয়েলার্স। ঐতিহ্য, আধুনিকতা ও নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণের সমন্বয়ে সাজানো এ ক্যাম্পেইনের অন্যতম মুখ মালাইকা চৌধুরী।

মালাইকার নাচে জমবে আপন জুয়েলার্সের ওয়েডিং মুনসুন

নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়ছে ডিম-মাছ-সবজির দাম

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে স্বস্তি নেই সাধারণ মানুষের। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিম, মাছ, মুরগি, আটা ও ময়দার দামও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। গতকাল শুক্রবার নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও কেরাণীগঞ্জের বউবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।নয়াবাজারে খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। এক মাস আগে আটা ছিল ৪৫ ও ময়দা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেট ময়দা এখন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, ৫০ কেজির ময়দার বস্তার দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে।ময়দার দাম বাড়ায় বনরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তা আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সব পণ্য আগের দামে মিলছে না।সবজির বাজারেও বেড়েছে দাম। কাঁচামরিচ ১০০-১২০, পটোল ৭০-৮০, লম্বা বেগুন ৮০-৯০, গোল বেগুন ১১০-১৪০, করলা ৮০-১০০, শিম ১৮০-২০০ এবং পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।ডিমের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রতি ডজন ডিম এখন ১৫০-১৬০ টাকা, যা ছয় মাস আগে ছিল ১১০-১২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০, সোনালি ৩৪০-৩৬০ এবং হাইব্রিড মুরগি ৩০০-৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮০০ এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজিতে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।মাছের বাজারেও বাড়তি চাপ রয়েছে। রুই ৪০০-৪২০, কাতলা ৪২০-৪৪০, পাঙাশ ২৫০-৩০০, পাবদা ৪০০-৪৫০, তেলাপিয়া ২৫০-২৬০, চিংড়ি ১ হাজার-১ হাজার ৩০০ এবং দেশি কৈ ৭০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহ বাড়ায় ইলিশের দাম কিছুটা কমে আকারভেদে ৮৫০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে চাল, আটা, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ ৬৩টি নিত্যপণ্যে কর কমানো হলেও এর সুফল খুচরা বাজারে মিলছে না বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, কর কমানোর পরও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম কমেনি। বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়ছে ডিম-মাছ-সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চাপে জনজীবন, বাড়ছে পরিবহন ও পণ্যের খরচ

জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রভাব পড়েছে দেশের পরিবহন, বাজার ও শিল্প খাতে। বেড়েছে বাস, ট্রাক ও লরির ভাড়া। পরিবহন ব্যয় বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এতে চাপে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাত্রী ও শিল্পোদ্যোক্তারা।গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণপরিবহনের চালক-হেলপার, ক্রেতা-বিক্রেতা ও নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভ ও হতাশার চিত্র পাওয়া গেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহনশ্রমিকদের বাগ্‌বিতণ্ডাও বাড়ছে।বাসভাড়া বেড়েছে, পথে পথে বিতর্কজ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বড় বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা এবং মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫৯ পয়সা হয়েছে।দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রাজধানীর বিভিন্ন রুটে যাত্রীপ্রতি ৫ থেকে ২০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে দূরত্ব ও বাসভেদে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।ফার্মগেট থেকে মালিবাগ পর্যন্ত আগে ১০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ফার্মগেট থেকে সাইনবোর্ড রুটেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।কাঁচাবাজারে বাড়তি খরচজ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারেও। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। ৬০–৭০ টাকার সবজি এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০–৮০ টাকায়। আলু ও পেঁপের দামও কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। কিছু সবজির দাম ছাড়িয়েছে ১০০ টাকা।পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সংগ্রহে পরিবহন খরচ দূরত্ব ও ট্রাকভেদে ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের বাড়তি দামের মধ্যে নতুন করে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।কারওয়ান বাজারের টং দোকানি বাবলু শেখ বলেন, ‘তেলের দাম বাইড়া যাওয়ায় গত দুইদিন ধইরা বিক্রি অনেক কোইমা গ্যাছে। মানুষ মনে হয় চা খাওয়াও ছাইড়া দিছে!’ট্রাকভাড়া বেড়েছে, পণ্য পরিবহনে সংকটজ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ট্রাকভাড়াও বেড়েছে। দূরত্ব, পণ্য ও ট্রাকের আকারভেদে প্রতি ট্রিপে ২ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বেনাপোল থেকে ঢাকায় আগে ট্রাকভাড়া ছিল ২০–২১ হাজার টাকা। গতকাল তা বেড়ে ২৫–২৬ হাজার টাকা হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধি ও ট্রাকসংকটের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে আমদানি করা পণ্য খালাসে সমস্যায় পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, প্রতিদিন ৪০০–৬০০ ট্রাক পণ্য লোড-আনলোড হলেও এখন তা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।রাইড শেয়ারকারীদের আয় কমছেপেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং করা কর্মীরা। তাঁদের দাবি, জ্বালানির খরচ বাড়লেও যাত্রী পরিবহনের ভাড়া সে অনুযায়ী বাড়েনি। যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় অনেক সময় একটি ট্রিপের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।রাইড শেয়ারার আলাউদ্দিন বলেন, সব খরচ বাদ দিয়ে দিনে ৮০০–৯০০ টাকা আয় করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থানে শঙ্কাগার্মেন্টস, টেক্সটাইল, সিমেন্ট, স্টিল ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভর্তুকি কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চাপ থাকায় ভবিষ্যতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবিজ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে গবেষণা ও নীতি সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আদিল খান এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা ও রাজস্ব চাপের অজুহাতে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। তিনি অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এমনিতেই নিম্ন আয়ের মানুষ তীব্র অর্থনৈতিক চাপে রয়েছেন। নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়ায় তাঁদের পরিবারের ব্যয় আরও বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও বৈষম্য বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, দারিদ্র্য ও জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চাপে জনজীবন, বাড়ছে পরিবহন ও পণ্যের খরচ

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দিতেই হবে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দিতেই হবে। হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেননি চেম্বার আদালত। এর আগে সোমবার হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ কর্তৃপক্ষ।এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের রুল বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। ফলে গ্রামীণ কল্যাণের ওপর ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবির পক্ষে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল থাকল।

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দিতেই হবে

কারখানা বন্ধ, তবু গ্যাস বিল: বিসিআইসির বাড়তি ব্যয় ৬২ কোটি টাকা

সার কারখানাগুলো বছরের উল্লেখযোগ্য সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলেও প্লান্ট সংরক্ষণ বা ‘প্রিজারভেশন’ কাজে গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। উৎপাদন বন্ধের সময়ে ব্যবহৃত সেই গ্যাসের জন্যও বর্তমানে উচ্চমূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে (বিসিআইসি)। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির ওপর প্রায় ৬২ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।বিসিআইসির দাবি, সার কারখানাগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের শর্ত বাস্তবে পূরণ হয়নি। তাই উৎপাদন বন্ধ থাকা অবস্থায় প্লান্ট সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ২৯ টাকা ২৫ পয়সার পরিবর্তে আগের মতো ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হোক। এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংস্থাটি।বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের মূল্য ও সরবরাহ নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ইউরিয়া সার কারখানাকে ঘিরেই মূলত এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। গ্যাস-সংকটের কারণে এসব কারখানায় বছরের বড় একটি সময় উৎপাদন বন্ধ থাকে। তবে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানার যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত রাখতে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্লান্ট সংরক্ষণ করতে হয়। এ কাজে কিছু পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হয়।বিসিআইসি জানিয়েছে, ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস। সরবরাহ-সংকটের কারণে পেট্রোবাংলা বিভিন্ন সময়ে সার কারখানাগুলোয় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয় বা পুরোপুরি বন্ধ রাখে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হলেও প্লান্ট পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে রাখা সম্ভব হয় না।বিসিআইসির চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুর রহমান ‘আমার দেশ’কে বলেন, গ্যাসের মূল্য কমানোর দাবি জানানো হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার প্রিজারভেশনের কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করবে বলে তিনি আশা করেন।কেন প্রিজারভেশনে গ্যাস লাগেবিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, সার উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও অন্যান্য উপাদান কারখানার যন্ত্রপাতিতে ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকার সময়ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় প্লান্ট সংরক্ষণ করতে হয়। এই সংরক্ষণ কার্যক্রমে গ্যাস প্রয়োজন হয়। ফলে উৎপাদন না হলেও কারখানাগুলোর গ্যাস ব্যবহার এবং এর বিল পরিশোধ অব্যাহত থাকে।চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা থেকে বছরে ন্যূনতম ১৮ লাখ টন সার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ জন্য বছরে ৩৩০ দিন ৭০ শতাংশ লোডে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অতিরিক্ত সাত কার্গো এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং গ্যাসের মিশ্রিত মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়।পেট্রোবাংলা প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২৮ টাকা ৭৮ পয়সা প্রস্তাব করেছিল। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মূল্যায়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মিশ্রিত গড় ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২১ টাকা ১৫ পয়সা। শেষ পর্যন্ত সার কারখানার জন্য গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ২৯ টাকা ২৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয় এবং বছরে ৩৩০ দিন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়।বিসিআইসির আপত্তি মূলত এখানেই। সংস্থাটির বক্তব্য, গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে শর্তের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের বিষয়টি যুক্ত ছিল, তা বাস্তবে পূরণ হয়নি।গণশুনানিতেও বিসিআইসির আপত্তিগ্যাসের মূল্য বাড়ানোর আগে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছিল বিসিআইসি। সংস্থাটি জানিয়েছিল, প্রতিদিন ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হলে এবং বছরে ৩৩০ দিনের হিসাব ধরে গ্যাসের দাম যৌক্তিকভাবে বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু সরবরাহ এর চেয়ে কম হলে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১৬ টাকা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।বিসিআইসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার সময়ে চারটি সার কারখানার প্লান্ট প্রিজারভেশনের কাজে প্রায় ৪ কোটি ৬৬ লাখ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার হয়েছে। বর্তমান ২৯ টাকা ২৫ পয়সা দরে ওই গ্যাসের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আর প্রতি ঘনমিটার ১৬ টাকা হিসাবে একই গ্যাসের দাম হতো প্রায় ৭৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।দুই দরের ব্যবধান হিসাব করলে শুধু প্লান্ট সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত গ্যাসেই প্রায় ৬২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল কারখানাবিসিআসির তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে চারটি সার কারখানাই উল্লেখযোগ্য সময় উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। এর মধ্যে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানা ৩২ দিন, শাহজালাল সার কারখানা ৪৪ দিন, যমুনা সার কারখানা ১৬৪ দিন এবং চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কারখানা ১৭৩ দিন বন্ধ ছিল।অর্থাৎ উৎপাদন বন্ধ থাকার সময়ও এসব কারখানার পরিচালন ব্যয় এবং প্লান্ট সংরক্ষণের খরচ অব্যাহত ছিল।বিসিআইসি জানিয়েছে, ২০২২ সালে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের শর্তে সার কারখানার গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৪ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও প্রত্যাশিত মাত্রায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলে আবারও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। এ অবস্থায় উৎপাদন বন্ধ থাকা অবস্থায় প্লান্ট প্রিজারভেশনের জন্য ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য আগের ১৬ টাকা হারে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বিসিআইসি।

কারখানা বন্ধ, তবু গ্যাস বিল: বিসিআইসির বাড়তি ব্যয় ৬২ কোটি টাকা