ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

অর্থনীতি

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দিতেই হবে

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দিতেই হবে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দিতেই হবে। হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেননি চেম্বার আদালত। এর আগে সোমবার হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ কর্তৃপক্ষ।এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের রুল বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। ফলে গ্রামীণ কল্যাণের ওপর ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবির পক্ষে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল থাকল।

কারখানা বন্ধ, তবু গ্যাস বিল: বিসিআইসির বাড়তি ব্যয় ৬২ কোটি টাকা

সার কারখানাগুলো বছরের উল্লেখযোগ্য সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলেও প্লান্ট সংরক্ষণ বা ‘প্রিজারভেশন’ কাজে গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। উৎপাদন বন্ধের সময়ে ব্যবহৃত সেই গ্যাসের জন্যও বর্তমানে উচ্চমূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে (বিসিআইসি)। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির ওপর প্রায় ৬২ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।বিসিআইসির দাবি, সার কারখানাগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের শর্ত বাস্তবে পূরণ হয়নি। তাই উৎপাদন বন্ধ থাকা অবস্থায় প্লান্ট সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ২৯ টাকা ২৫ পয়সার পরিবর্তে আগের মতো ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হোক। এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংস্থাটি।বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের মূল্য ও সরবরাহ নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ইউরিয়া সার কারখানাকে ঘিরেই মূলত এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। গ্যাস-সংকটের কারণে এসব কারখানায় বছরের বড় একটি সময় উৎপাদন বন্ধ থাকে। তবে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানার যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত রাখতে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্লান্ট সংরক্ষণ করতে হয়। এ কাজে কিছু পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হয়।বিসিআইসি জানিয়েছে, ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস। সরবরাহ-সংকটের কারণে পেট্রোবাংলা বিভিন্ন সময়ে সার কারখানাগুলোয় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয় বা পুরোপুরি বন্ধ রাখে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হলেও প্লান্ট পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে রাখা সম্ভব হয় না।বিসিআইসির চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুর রহমান ‘আমার দেশ’কে বলেন, গ্যাসের মূল্য কমানোর দাবি জানানো হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার প্রিজারভেশনের কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করবে বলে তিনি আশা করেন।কেন প্রিজারভেশনে গ্যাস লাগেবিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, সার উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও অন্যান্য উপাদান কারখানার যন্ত্রপাতিতে ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকার সময়ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় প্লান্ট সংরক্ষণ করতে হয়। এই সংরক্ষণ কার্যক্রমে গ্যাস প্রয়োজন হয়। ফলে উৎপাদন না হলেও কারখানাগুলোর গ্যাস ব্যবহার এবং এর বিল পরিশোধ অব্যাহত থাকে।চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা থেকে বছরে ন্যূনতম ১৮ লাখ টন সার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ জন্য বছরে ৩৩০ দিন ৭০ শতাংশ লোডে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অতিরিক্ত সাত কার্গো এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং গ্যাসের মিশ্রিত মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়।পেট্রোবাংলা প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২৮ টাকা ৭৮ পয়সা প্রস্তাব করেছিল। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মূল্যায়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মিশ্রিত গড় ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২১ টাকা ১৫ পয়সা। শেষ পর্যন্ত সার কারখানার জন্য গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ২৯ টাকা ২৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয় এবং বছরে ৩৩০ দিন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়।বিসিআইসির আপত্তি মূলত এখানেই। সংস্থাটির বক্তব্য, গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে শর্তের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের বিষয়টি যুক্ত ছিল, তা বাস্তবে পূরণ হয়নি।গণশুনানিতেও বিসিআইসির আপত্তিগ্যাসের মূল্য বাড়ানোর আগে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছিল বিসিআইসি। সংস্থাটি জানিয়েছিল, প্রতিদিন ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হলে এবং বছরে ৩৩০ দিনের হিসাব ধরে গ্যাসের দাম যৌক্তিকভাবে বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু সরবরাহ এর চেয়ে কম হলে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১৬ টাকা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।বিসিআইসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার সময়ে চারটি সার কারখানার প্লান্ট প্রিজারভেশনের কাজে প্রায় ৪ কোটি ৬৬ লাখ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার হয়েছে। বর্তমান ২৯ টাকা ২৫ পয়সা দরে ওই গ্যাসের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আর প্রতি ঘনমিটার ১৬ টাকা হিসাবে একই গ্যাসের দাম হতো প্রায় ৭৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।দুই দরের ব্যবধান হিসাব করলে শুধু প্লান্ট সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত গ্যাসেই প্রায় ৬২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল কারখানাবিসিআসির তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে চারটি সার কারখানাই উল্লেখযোগ্য সময় উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। এর মধ্যে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানা ৩২ দিন, শাহজালাল সার কারখানা ৪৪ দিন, যমুনা সার কারখানা ১৬৪ দিন এবং চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কারখানা ১৭৩ দিন বন্ধ ছিল।অর্থাৎ উৎপাদন বন্ধ থাকার সময়ও এসব কারখানার পরিচালন ব্যয় এবং প্লান্ট সংরক্ষণের খরচ অব্যাহত ছিল।বিসিআইসি জানিয়েছে, ২০২২ সালে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের শর্তে সার কারখানার গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৪ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও প্রত্যাশিত মাত্রায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলে আবারও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। এ অবস্থায় উৎপাদন বন্ধ থাকা অবস্থায় প্লান্ট প্রিজারভেশনের জন্য ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য আগের ১৬ টাকা হারে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বিসিআইসি।

কারখানা বন্ধ, তবু গ্যাস বিল: বিসিআইসির বাড়তি ব্যয় ৬২ কোটি টাকা

স্বামীর মৃত্যুর পর চিংড়িঘেরই রত্নার ভরসা, এখন বদলাচ্ছে চাষের ধরন

স্বামী হারানোর পর দুই মেয়েকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে নামেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার পার মাগুরাখালি গ্রামের রত্না মণ্ডল। ২০১৩ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠেন তিনি। চিংড়ির ঘেরই হয়ে ওঠে তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। নিজের হাতে চাষ করা মাছ স্থানীয় ডিপোতে বিক্রি করে চলত সংসার। বড় মেয়ে পায়েল অনার্স শেষ করার পর তাঁর বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে দীপু মণ্ডল এখন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।রত্নার মতো পার মাগুরাখালি গ্রামের আরও প্রায় ৫০ জন চিংড়িচাষি সম্প্রতি একত্রিত হয়েছেন। উৎপাদক পর্যায়ের চাষিদের সংগঠিত করার এই উদ্যোগ চলছে প্রায় দেড় বছর ধরে। টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি এ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।আন্তর্জাতিক সি-ফুড মনিটরিং সংস্থা মনটেরি বে অ্যাকুয়ারিয়াম, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। লক্ষ্য, দায়িত্বশীল ও টেকসই চিংড়ি চাষে কৃষকের সক্ষমতা বাড়ানো।পার মাগুরাখালি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বংশপরম্পরায় চিংড়ি চাষের সঙ্গে যুক্ত। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভাংগাড়িয়া নদীর নোনা পানি চিংড়ি চাষের জন্য উপযোগী। বছরের বেশির ভাগ সময় নোনা পানিতে চিংড়ি চাষ হলেও বর্ষার কয়েক মাস মিষ্টি পানিতে ধান চাষ করেন স্থানীয় কৃষকেরা।তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নন অধিকাংশ চাষি। নিরাপদ পোনা নির্বাচন, মাছের খাবার ও ওষুধের সঠিক ব্যবহার, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ঘাটতি।সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদিত চিংড়ির ন্যায্য দাম পাওয়া। কৃষকদের অভিযোগ, তাঁদের উৎপাদিত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিদেশের বাজারে গেলেও লাভের বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী ও ডিপো মালিকদের হাতে।মাগুরখালি গ্রামের চিংড়িচাষিদের টিম লিডার সুমন গোলদার বলেন, এত দিন তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সার ও ওষুধ ব্যবহার করে, বাজার থেকে কেনা খাবার দিয়ে মাছ চাষ করতেন। এরপর ডিপোতে মাছ বিক্রি করতেন। তিন-চার হাত ঘুরে সেই মাছ কোম্পানিতে যেত। তাঁর ভাষায়, আমাদের পরিশ্রমের লাভ চলে যেত ফড়িয়াদের পকেটে।সুমন বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে টোটালফুডের কর্মকর্তারা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ পর্যন্ত ৫ থেকে ৬টি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এখন তাঁরা অর্গানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ শিখছেন।প্রশিক্ষণের পর মৃন্ময় মণ্ডল, সনৎ সিংহ মণ্ডল, দীপঙ্কর মণ্ডল, চিন্ময় মণ্ডলসহ অন্য চাষিরা খামারে রেকর্ড বই ব্যবহার করছেন। সেখানে পোনা মজুত, খাদ্য প্রদান, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, সার ও ওষুধের ব্যবহার, প্রোবায়োটিক, পানির গুণগত মান পরীক্ষা এবং মাছ ধরার তথ্যসহ ১২টি ক্যাটাগরির তথ্য রাখা হচ্ছে। সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নিচ্ছেন তাঁরা।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. অলকেশ কুমার ঘোষ প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম বড় খাত হলেও চিংড়ি খাতে সংকটের শেষ নেই। বিশেষ করে রপ্তানির মূল কাঁচামাল যে কৃষকের কাছ থেকে আসে, এত দিন তাঁর দিকে যথেষ্ট নজর ছিল না।ড. অলকেশের ভাষ্য, এবার প্রথম কৃষকদের সরকারিভাবে নিবন্ধিত করা হয়েছে। উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি মাছ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগাক্রান্ত মাছ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গবেষণাগারেও কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ি রেড জোনে আছে। ক্রেতারা এখন অর্গানিক খাবার চান এবং খাবার কোথা থেকে ও কার কাছ থেকে আসছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা চান। বাংলাদেশ এখন সেই পথেই যাত্রা শুরু করেছে।খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রামে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড। এক বছর পর উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছর জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এ মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে অবদানের জন্য স্বর্ণপদক পেয়েছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটি প্রায় ৪৪৫ টন হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে ৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আয় করেছে। প্রতিদিন ৬০ টন উৎপাদনক্ষমতার পাশাপাশি তিনটি হিমাগারে ৩ হাজার টন মাছ মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে তাদের।কোম্পানির পরিচালক মেহেদী হাসান মো. হেফজুর রহমান বলেন, মাছ ও চিংড়িকে শুধু কাঁচামাল হিসেবে রপ্তানি না করে ভ্যালু অ্যাডেড, রেডি টু কুক ও রেডি টু ইট খাদ্যপণ্যে রূপান্তর করা হচ্ছে। এসব পণ্য দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পৌঁছেছে।তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়িচাষিদের নিয়ে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও সংগঠিত কৃষকভিত্তিক ভ্যালু চেইন গড়ে তোলা হয়েছে। মাগুরখালির মতো চার এলাকার প্রায় সাড়ে ৬০০ নিবন্ধিত চাষি এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। কৃষক নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, রেকর্ড সংরক্ষণ, পানি ও মাটি পরীক্ষা এবং চিংড়ির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী সরবরাহব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এসকে কামরুল আলম বলেন, কৃষককে বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে টোটালফুড অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। হিমায়িত চিংড়ি খাতে ভালো করতে চাইলে অন্যদেরও এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

স্বামীর মৃত্যুর পর চিংড়িঘেরই রত্নার ভরসা, এখন বদলাচ্ছে চাষের ধরন

প্রায় তিন মাস পর ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে থাকায় প্রায় তিন মাস পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ৫ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে চারটি ব্যাংক থেকে ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ডলার কেনার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ মে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সরবরাহ বাড়ায় কমছিল দামসংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা জানান, মঙ্গলবার সকালে ডলারের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। ওই সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স হাউজ থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ থেকে ১২২ টাকা ৪০ পয়সা দরে কিনছিল। আমদানি দায় বা এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৫০ থেকে ১২২ টাকা ৬০ পয়সা।ব্যাংকারদের মতে, বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলক বেশি। একই সময়ে আমদানি দায় পরিশোধের চাপও কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দুর্বল থাকায় আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও কম। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় ডলারের দর কমছিল।এ পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের দাম আরও কমে যাওয়া ঠেকাতেই বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আগামী মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কিছু অর্থ পরিশোধের সময় হওয়ায় ডলারের চাহিদা আবার বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন একজন ব্যাংকার।দুপুরে জানানো হয় নিলামের তথ্যমঙ্গলবার সকালে বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার কোনো পূর্বাভাস ছিল না। দুপুর ১টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ডলার কেনার বিষয়টি জানায়।সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনলে সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ব্যাংকগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়। ফলে মঙ্গলবার সকালে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম দরে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এলসি নিষ্পত্তি করে। একইভাবে রেমিট্যান্সের ডলারও কম দরে কেনা হয়।পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার কেনার ঘোষণা দিলে বিকেলে বাজারে দর কিছুটা বাড়ে। কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক তখন রেমিট্যান্সের ডলার কেনার পাশাপাশি এলসি নিষ্পত্তিতেও প্রতি ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করে।দুই সপ্তাহে দর ওঠানামা দেড় টাকাব্যাংকারদের ভাষ্য, গত দুই সপ্তাহে ডলারের দরে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রতি ডলারের দর ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল। এর আগে দুই সপ্তাহ আগে দর নেমে এসেছিল ১২২ টাকায়।অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় দেড় টাকা ওঠানামায় ব্যাংকার, আমদানিকারক ও অন্যান্য গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঝুঁকি কমাতে অনেক গ্রাহক ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের মাধ্যমে আগাম ডলার সংগ্রহের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।একজন ব্যাংকার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনার তথ্য আগে জানালে সকালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এত কম দরে রেমিট্যান্সের ডলার কিনত না বা এলসি নিষ্পত্তি করত না। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ডলারের দর আবার কমতে শুরু করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখন বাজারে হস্তক্ষেপ করবে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তাঁর মতে, মঙ্গলবার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৫ কোটি ডলার কেনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলারের একটি সম্ভাব্য নিম্নসীমার ইঙ্গিত দিয়েছে।

প্রায় তিন মাস পর ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই: ব্যবসায়ীরা

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তবে জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান, সরবরাহব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বাজার স্থিতিশীল রাখা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।গতকাল ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) মতিঝিল কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ব্যবসায়ীরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক।সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, আটা ও ময়দাসহ নিত্যপণ্যের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দাম বাড়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে উৎপাদন সচল রাখতে কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।মিল মালিকেরা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে। তবে আমদানি ও মিল পর্যায়ের উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, আমদানি ও মিল পর্যায়ে উৎপাদন সচল না থাকলে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।কারওয়ান বাজার কাঁচামাল আড়ত ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সুজন হকার ও অনিবন্ধিত ব্যবসায়ীদেরও তদারকির আওতায় আনার দাবি জানান। তাঁর মতে, তদারকির বাইরে থাকায় এসব ব্যবসায়ীর বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে বাজারদরের বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। সভায় এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, টিসিবি, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, ক্যাব, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই: ব্যবসায়ীরা

নেতৃত্ব ও সাফল্যে ব্যাংকিং খাতে আলাদা অবস্থান আদিল চৌধুরীর

দীর্ঘ ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে নেতৃত্ব, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সাফল্যের নজির গড়েছেন আদিল চৌধুরী। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছরের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।ব্যাংকিং খাতে তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে ব্যাংক এশিয়া পিএলসিতে দায়িত্ব পালনের সময়। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ব্যাংকটির মুনাফা বৃদ্ধি, ডিজিটাল ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ, পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো এবং সুশাসন জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংক এশিয়া ২০২২ সালের শেষ নাগাদ দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকে পরিণত হয়। ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা রয়েছে ব্যাংকিং অঙ্গনে।আদিল চৌধুরীর পেশাগত অভিজ্ঞতা শুধু বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২০ সালে দেশে ফিরে ব্যাংক এশিয়ায় উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ১৫ বছরের বেশি সময় বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।হংকং ও সিঙ্গাপুরে দ্য ব্যাংক অব নোভা স্কশিয়ায় পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ সময় এশিয়া-প্যাসিফিক ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বিভিন্ন কৌশলগত কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর আগে ঢাকায় ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল ইন্দোসুয়েজ ও আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংকেও কাজ করেছেন।স্কশিয়াব্যাংকের ঢাকা শাখায় ট্রেজারি বিভাগ প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর ভূমিকা ছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ফান্ডিং বুক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারি বিনিয়োগ সংস্থার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংকের সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর বিস্তৃত ধারণা তৈরি হয়েছে।ব্যাংকিং খাতে আদিল চৌধুরীর নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সুশাসন ও নৈতিক মানদণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া। কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, জবাবদিহি এবং কর্মপরিবেশে ভারসাম্য তৈরির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতাও বহুমুখী। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ভিএলএসআই ডিজাইন) স্নাতক এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিওর রিচার্ড আইভি স্কুল অব বিজনেস থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। পাশাপাশি আর্থিক বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও কার্যক্রম বিষয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক সনদ রয়েছে তাঁর।২০২৫ সালের ৭ জুলাই ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন আদিল চৌধুরী। দেশের প্রথম বাংলাদেশি মালিকানাধীন বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল ব্যাংক বর্তমানে আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার ও গ্রাহকদের আস্থা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং জ্ঞান এবং ব্যাংক এশিয়ায় অর্জিত সাফল্যের কারণে ন্যাশনাল ব্যাংকের নেতৃত্বে আদিল চৌধুরীর নিয়োগকে ব্যাংকটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর সামনে এখন অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা, দক্ষতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ।

নেতৃত্ব ও সাফল্যে ব্যাংকিং খাতে আলাদা অবস্থান আদিল চৌধুরীর

ট্রানজিটের আড়ালে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারে ভারতের বিস্তৃত সুযোগ

বাংলাদেশের বন্দর, নৌপথ ও স্থলপথ ব্যবহার করে ভারতের পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি করা তিনটি চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা এসব চুক্তির মাধ্যমে ভারত চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও পানগাঁও বন্দরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নৌ ও স্থলপথ ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছে। তবে এর বিপরীতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুবিধা, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ কতটা নিশ্চিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।চুক্তিগুলো হলো অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউস অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্টস ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া (এসিএমপি), কোস্টাল শিপিং অ্যাগ্রিমেন্ট (সিএসএ) এবং প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি)। পিআইডব্লিউটিটি পুরোনো চুক্তির নবায়ন হলেও এসিএমপি ও সিএসএ নতুন চুক্তি।বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনটি চুক্তিকে আলাদাভাবে না দেখে সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কারণ, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগের পাশাপাশি এসব ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের অবকাঠামো, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থও জড়িত।চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ২০১৫ সালের ৬ জুন বাংলাদেশ ও ভারত চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে। পরে ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর এসিএমপি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক আন্তঃসরকারি কাঠামো তৈরি হয়। ২০১৯ সালে কাস্টমস, পণ্য, যানবাহন, জাহাজ, রুট, নিরাপত্তা ও নথিপত্রসহ বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়। ২০২০ সালে কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আগরতলায় পরীক্ষামূলক কনটেইনার চালান যায়।এসিএমপির আওতায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্য চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের মূল ভূখণ্ডে যাতায়াত করতে পারে। চুক্তিতে চারটি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বা মোংলা থেকে আগরতলা, ডাউকি, সুতারকান্দি ও শ্রীমন্তপুরের রুট রয়েছে।চুক্তির বিভিন্ন ধারায় ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজকে বাংলাদেশের বন্দরে সুবিধা ও অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তির আওতায় পরিবহন করা পণ্য নিয়মিত ফিজিক্যাল কাস্টমস পরিদর্শনের বাইরে রাখার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) এম শাহজাহানের দাবি, চুক্তি করার সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দরকষাকষির সুযোগ সীমিত ছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার চাপের কারণে ভারতের চাহিদা অনুযায়ী চুক্তি করা হয়।চার বন্দরকে কোস্টাল পোর্ট করার প্রশ্নকোস্টাল শিপিং অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও পানগাঁওকে উপকূলীয় বন্দর হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। চুক্তির একটি ধারায় পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে চলাচলকারী জাহাজের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও ড্রাফট নির্ধারণ করা হয়েছে।চুক্তির এসওপিতে ৫০:৫০ কার্গো শেয়ারের কথা থাকলেও কোন পণ্যে, কীভাবে এবং কোন সময়ের ভিত্তিতে এই হিসাব হবে, তার স্পষ্ট কাঠামো নেই বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। পণ্য পরিবহনের সক্ষমতার দিক থেকে ভারত এগিয়ে থাকায় বাস্তবে দেশটি বেশি সুবিধা পেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।আরেকটি বিষয় হলো, চুক্তির আওতায় চলাচলকারী জাহাজে পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল বা পিএসসি কার্যকর না হওয়ার বিধান। সাধারণত বিদেশি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করলে নিরাপত্তা, সনদপত্র, সমুদ্রযাত্রার সক্ষমতা ও দূষণ প্রতিরোধব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়। সমালোচকদের মতে, ভারতীয় জাহাজের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।এ ছাড়া চুক্তির আওতায় চলাচলকারী জাহাজকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়ার বিধান রয়েছে। এতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে জাহাজজট এবং টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বাড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশের নদীপথ রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়পিআইডব্লিউটিটি চুক্তির আওতায় ভারত-বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। ১৯৭২ সালের মূল চুক্তিতে ২০১৫ সালে নতুন ধারা-উপধারা যুক্ত করা হয় এবং পাঁচ বছর পরপর স্বয়ংক্রিয় নবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়। এর ফলে ২০২০ ও ২০২৫ সালে নতুন করে আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি নবায়ন হয়েছে।চুক্তি অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকার নদীপথ জাহাজ চলাচলের উপযোগী রাখার দায়িত্ব দুই দেশের। এ কাজে ভারত বাংলাদেশকে এককালীন ১০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও বাকি ব্যয় বাংলাদেশকে বহন করবে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।সিরাজগঞ্জ-দাইকাওয়া ও শেরপুর-জকিগঞ্জ রুট ভারতীয় ট্রানজিট ট্রাফিকের জন্য রক্ষণাবেক্ষণের কথাও চুক্তিতে রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের নদী অবকাঠামোর অর্থ ও সক্ষমতা ভারতের ট্রানজিটের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে।তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে সমতা কতটা?চুক্তিগুলোর মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশের সড়ক, নৌপথ ও বন্দর ব্যবহার করে সহজে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহন করতে পারছে। কিন্তু বাংলাদেশ ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য পাঠাতে চাইলে ভারতের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সুবিধার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ আহবাবুল ইউসুফ খান মনে করেন, এসব চুক্তির অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। বিশেষ করে ৫০:৫০ কার্গো শেয়ারের ক্ষেত্রে ‘as far as practicable’ এবং ‘expeditious transportation’-এর মতো অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে শর্ত প্রয়োগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।চুক্তি নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্নচুক্তিগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসমক্ষে না থাকা এবং অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও কৌশলগত প্রভাব নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা সহজলভ্য না হওয়াকেও বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দুই দেশের মধ্যে সুবিধা, ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও কৌশলগত ভারসাম্য কতটা বজায় রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক সালেহ শাহরিয়ার এসব ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের কৌশলগত নির্ভরশীলতা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ভারতীয় পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের বন্দর ও নিরাপত্তা কাঠামোকে বিশেষ সুবিধা দিতে হলে দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা স্বার্থও সমান গুরুত্বে বিবেচনা করা প্রয়োজন।পতনের পরও চুক্তিগুলো বহালআওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই বছর পরও চুক্তিগুলো বহাল রয়েছে। ফাইলে থাকা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতীয় কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে থাকলেও পরে আবার এসব চুক্তির ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া এগিয়েছে।রাজনীতি বিশ্লেষক ড. দিলারা চৌধুরীর মতে, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে করা চুক্তিগুলো নিয়ে নির্বাচিত সরকারের উচিত সংসদে আলোচনা করা এবং দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে সেগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা। তার বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের পরও চুক্তিগুলো নিয়ে প্রকাশ্য পর্যালোচনার উদ্যোগ দেখা যায়নি।সব মিলিয়ে, ভারতকে বাংলাদেশের বন্দর, নৌপথ ও স্থলপথ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া তিনটি চুক্তি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও বাংলাদেশের আর্থিক আয়, নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত ব্যয় এবং কৌশলগত সুবিধা কতটা নিশ্চিত হয়েছে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। চুক্তিগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ, সংসদীয় আলোচনা এবং জাতীয় স্বার্থের আলোকে পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রানজিটের আড়ালে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারে ভারতের বিস্তৃত সুযোগ

বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত, কার্যকর হলো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।বৃহস্পতিবার সরকার ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়েছে, আইনের ধারা ১-এর উপধারা (২)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে ২০ আগস্ট থেকে আইনটি কার্যকর করা হয়েছে।রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।বিলুপ্ত বিডার নির্বাহী সদস্য ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, গেজেট কার্যকর হওয়ার পর থেকে সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার জন্য একটি একক ফ্রন্ট ডেস্কের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই প্রয়োজন থেকেই নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিনিয়োগে একক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যনতুন আইন অনুযায়ী, ইনভেস্ট বাংলাদেশ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হবে। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।কর্তৃপক্ষে একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যানই হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।নতুন সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে থাকবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।সম্পদ ও জনবল হস্তান্তরএকীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় ইনভেস্ট বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে কাজ করবেন।নতুন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সেবা আরও সমন্বিত করা এবং বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে তিন প্রতিষ্ঠান একীভূত করার প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।

বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত, কার্যকর হলো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

প্রকল্প পরিচালকদের কেনাকাটায় ক্ষমতা বাড়ল, সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা

সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমাতে মন্ত্রণালয়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প পরিচালকদের আর্থিক ক্ষমতা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্তে কিছু ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ বিভাগ। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়গুলোর উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিচালন খাতে পূর্তকাজ এবং পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে পূর্তকাজ এবং পণ্য, যন্ত্রপাতি ও মালামাল কেনার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় অনুমোদন করতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন প্রকল্পে এসব খাতে মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ক্ষমতা ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পরিচালন বাজেটের আওতায়ও পূর্তকাজে মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের সীমা ১০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে পরিচালন খাতে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সীমা ৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এ খাতে পণ্য ক্রয়ের ক্ষমতা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়নি। পরামর্শক নিয়োগেও বাড়ল সীমা উন্নয়ন বাজেটের কোনো প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের ব্যয়ের ক্ষমতা ১০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের ভৌত সেবা—যেমন ক্যাটারিং, অ্যাম্বুলেন্স, মেরামত ও পরিবহন—সংক্রান্ত কাজে ব্যয়ের সীমা বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, করপোরেশন এবং সরকারি বা যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ বা স্থাপনা কাজে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত নিজস্ব সিদ্ধান্তে ব্যয় করতে পারবে। পরিচালন খাতেও এই সীমা ৩০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও উন্নয়ন ও পরিচালন—দুই খাতেই পরিচালনা পর্ষদের ব্যয়সীমা ৩০ কোটি টাকা করা হয়েছে। পরামর্শক সেবার চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সীমা ৮ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। নির্বাহী প্রধানদের ক্ষমতা বাড়ল পরিবর্তন এসেছে এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধান—যেমন মহাপরিচালক, চেয়ারম্যান বা সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের আর্থিক ক্ষমতায়ও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাহী প্রধান এককভাবে সর্বোচ্চ ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত পূর্তকাজ অনুমোদন করতে পারবেন। আগে এ সীমা ছিল ২০ কোটি টাকা। পণ্য ও যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রধানের ক্ষমতা ৭ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের চুক্তি অনুমোদনের ক্ষমতা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। পরিচালন বা অনুন্নয়ন খাতে নির্বাহী প্রধানের আর্থিক ক্ষমতা ২০১৫ সালের ১৫ কোটি টাকা থেকে সামান্য বাড়িয়ে ১৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে পরিচালন খাতে পণ্য কেনার সীমা আগের মতোই ৮ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকদের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) আর্থিক ক্ষমতা প্রকল্পের আকার অনুযায়ী তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ শ্রেণি: ১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প ·        পূর্তকাজ: সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ·        পণ্য ক্রয়: ১০ কোটি টাকা ·        পরামর্শক সেবা: ৫ কোটি টাকা ‘খ’ শ্রেণি: ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প ·        পূর্তকাজ: সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা ·        পণ্য ক্রয়: ৫ কোটি টাকা ·        পরামর্শক সেবা: ৩ কোটি টাকা ‘গ’ শ্রেণি: ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্প ·        পূর্তকাজ: সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা ·        পণ্য ক্রয়: ৩ কোটি টাকা ·        পরামর্শক সেবা: ১ কোটি টাকা নতুন সিদ্ধান্তে প্রকল্প পরিচালকদের ব্যয়ের অনুমোদন ক্ষমতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ। তবে তাঁর মতে, কেনাকাটার ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে। সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদও সময় বাঁচাতে এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেছেন। তিনি বলেন, বাজেটের আকার বেড়েছে, সেই অনুযায়ী ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভালো। তবে অর্থের অপব্যবহার ও অপচয় ঠেকাতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রয় কমিটির অনুমোদন ব্যবস্থা সরকারি ব্যয়ের ওপর নজরদারির একটি অংশ। ব্যয়ের সীমা বাড়ানোর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসতে পারে। তবে একই সঙ্গে জবাবদিহি ও তদারকি নিশ্চিত না হলে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পরিপত্রের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সরকারি সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি বা যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন পরিপত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের স্ব-অর্থায়নপুষ্ট প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের আর্থিক ক্ষমতায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালকদের কেনাকাটায় ক্ষমতা বাড়ল, সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা

বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

খেলাপি ঋণ আদায়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা প্রায় ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রূপালী ব্যাংক। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে থাকা এসব সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রায় ১৯১ কোটি টাকা ঋণ আদায় করতে চায়।রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের কাছে ব্যাংকটির সর্বশেষ পাওনা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর সঙ্গে অনাদায়ী সুদ যুক্ত নেই। ব্যাংকের পাওনা, অন্যান্য খরচ এবং আদালতের সুদসহ অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে বন্ধক রাখা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বর্তমান অবস্থায় নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে ঋণগ্রহীতা হিসেবে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বেক্সিমকো লিমিটেড) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে বেক্সটেক্স লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে পদ্মা টেক্সটাইল মিলস ও বেক্সিমকো নিটিংয়ের সঙ্গে একীভূত হয়।নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক জমির বিবরণ রয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরের সরাবো মৌজায় ৮ দশমিক ৫৫ একর জমির পৃথক বিবরণ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য তফসিলে ২ দশমিক ১৯ একর, ৩ দশমিক ৬৬ একর এবং বিভিন্ন পরিমাণ শতাংশ জমির উল্লেখ রয়েছে।নারায়ণগঞ্জের তারাবো ও যাত্রামুড়া মৌজার সম্পত্তিও নিলামের তালিকায় রয়েছে। তারাবোর দুটি অংশে মোট ৮ দশমিক ৩৯ একর এবং যাত্রামুড়ায় ৯ দশমিক ২ একর জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের ৮ দশমিক ৫৫ একরসহ তফসিলভুক্ত জমির মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৯৬ একর।নিলামে অংশ নিতে আগ্রহীদের আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার মধ্যে নির্ধারিত কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে হবে। ওই দিন বেলা ২টা ৫ মিনিটে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে।দরপত্রের প্রস্তাবিত মূল্যের ভিত্তিতে জামানত দিতে হবে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর হলে ২০ শতাংশ, ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ এবং ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্পত্তির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম বা অপর্যাপ্ত মনে হলে কর্তৃপক্ষ দরপত্র বাতিল করতে পারবে।এ বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি আসাদ উল্লাহ বলেন, রূপালী ব্যাংকের নিলাম সম্পর্কে তিনি জানেন না। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কোম্পানিটি ঋণখেলাপি ছিল না। এরপর কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।বেক্সিমকোর আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের অংশ ছিল ৪৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে বর্তমান নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকাই এই নিলাম প্রক্রিয়ার প্রাসঙ্গিক পাওনা।অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেবেচিন্তেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিলামে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হওয়াই ভালো।

বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে কমেছে ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে টানা তিন দফা বাড়ার পর এবার স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এতে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।বিভিন্ন মানের স্বর্ণের নতুন দামনতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা ১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে।বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।এক দিন আগেই বেড়েছিল দামএর আগে বৃহস্পতিবার সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে ভ্যাটসহ প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।এ বছর ১০৩ বার দাম সমন্বয়চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৫১ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং সমানসংখ্যক ৫১ দফা কমানো হয়েছে। আর এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে কমেছে ২১৫৮ টাকা

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন এবং বহিরাগত মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।কোতোয়ালী থানায় করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট নগদ অর্থ ও ভল্টের হিসাব মেলানোর সময় ওই ঘাটতি ধরা পড়ে। অভিযোগ করা হয়েছে, বড় নোটের বান্ডিলে ছোট নোট ঢুকিয়ে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম রাখা হতো। পরে ঘাটতির অর্থ হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকার ‘ইশরাত এগ্রো’ গরুর খামারে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।গ্রেপ্তার জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ দাবি করেছেন, তাঁর ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর দাবি, জাফরুল্লাহ ব্যাংকের কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন এবং তাঁর কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ডও নেই।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, দুই আসামির মোবাইল ফোন ও একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।এ ঘটনায় এক বছরের বেশি সময় ধরে এত বড় অঙ্কের ঘাটতি ধরা পড়েনি কেন, প্রতিদিনের হিসাব ও ভল্ট কে যাচাই করতেন এবং একজন বহিরাগত কীভাবে ভল্টের অর্থের সঙ্গে যুক্ত হলেন-এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।গ্রাহকদের আমানতের অর্থ জড়িত থাকায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদারকি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব এবং শাখার নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।বাজুস মঙ্গলবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের নতুন দাম ঘোষণা করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে গত ৮ আগস্ট স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা।নতুন দর অনুযায়ী, আগের দামের তুলনায় এবার প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১ হাজার ১০৮ টাকা।চলতি বছরে ১০১ বার দাম সমন্বয়বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫০ বার কমানো হয়েছে। আর একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।স্বর্ণের দামের এই ধারাবাহিক সমন্বয়ের ফলে দেশের জুয়েলারি বাজারে মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে।

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা

আবারও বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে সর্বোচ্চ বেড়েছে ৪,৩৭৪ টাকা

দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সোনার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। এর আগে এ মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। অর্থাৎ ভরিতে দাম বেড়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হবে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।রুপার দাম অপরিবর্তিতসোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রেখেছে বাজুস। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ২৬৬ টাকায় বিক্রি হবে।এর আগে গত ৬ আগস্ট ভ্যাটসহ সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। পরদিন ৭ আগস্ট নতুন দাম নির্ধারণ করে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়। এর এক দিন পরই আবারও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিল সংগঠনটি।

আবারও বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে সর্বোচ্চ বেড়েছে ৪,৩৭৪ টাকা

টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়াতে বিটিএমএ-বিজিএমইএর সমঝোতা

বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।সমঝোতা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি ইভেন্ট অর্গানাইজারের সহযোগিতায় বিশ্বমানের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিটমা) আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রদর্শনীর পরিচালনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিটিএমএ ও বিজিএমইএর পাঁচজন করে প্রতিনিধিকে নিয়ে ১০ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দুই সংগঠনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হবে। প্রথম বছর চেয়ারম্যান হবে বিটিএমএ এবং কো-চেয়ারম্যান হবে বিজিএমইএর প্রতিনিধি।বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্বজুড়ে পোশাকশিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও গ্রিন টেকনোলজির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে রাখাই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, টেক্সটাইল ও পোশাক খাত পরস্পরনির্ভরশীল। এই সমঝোতা শুধু একটি প্রদর্শনী আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।অনুষ্ঠানে উভয় সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতারা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়াতে বিটিএমএ-বিজিএমইএর সমঝোতা

ঈদে আসছে নতুন টাকা, থাকছে না কোনো ব্যক্তির ছবি: গভর্নর

শনিবার (২৪ মে) সকালে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনে দেশের প্রথম ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিম উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।গভর্নর বলেন, ‘নতুন নোটে থাকবে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা। ঈদে বাজারে প্রথমে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট আসবে।’টাঁকশাল থেকে জানা গেছে, ২০ টাকার নোট ছাপা প্রায় সম্পন্ন। আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর পরে ৫০ ও ১০০০ টাকার নোট বাংলাদেশ ব্যাংককে বুঝিয়ে দেবে টাঁকশাল। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে এই টাকা কবে বাজারে আসবে।টাঁকশাল জানিয়েছে, নতুন নকশার নোট ছাপাতে ১ থেকে দেড় বছর সময় লাগে। আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। গত ডিসেম্বরে নতুন নকশার নোট বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নেয় এই সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় টাঁকশাল চলতি মাসে নতুন নকশার নোট ছাপানো শুরু করে।টাঁকশাল আরও জানায়, একসঙ্গে ৩টি নোটের বেশি ছাপানোর সক্ষমতা নেই টাঁকশালের। তাই প্রথম ধাপে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট ছাপানো হচ্ছে।এদিকে গভর্নর জানিয়েছে, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ায় তা ফেরত পাঠাতে চাপ তৈরি হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফ্রিজ করায় অর্থ ফেরত আনার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।’গভর্নর বলেন, ‘স্কিমের আওতায় পিকেএসএফ অংশীদার এমএফআই গুলোকে ২৪০ কোটি টাকার রিজার্ভ তহবিল ভিত্তিতে ব্যাংক ঋণ গ্যারান্টি দেবে। ঋণের গ্যারান্টি অনুযায়ী এককালীন ০.৫ শতাংশ কমিশন আদায় করা হবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ পাওয়া সহজ হবে।’

ঈদে আসছে নতুন টাকা, থাকছে না কোনো ব্যক্তির ছবি: গভর্নর