ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

রাজধানী

ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিনিং ডে’, চলবে তিন মাস

ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিনিং ডে’, চলবে তিন মাস

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।ডিএসসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে নগরীর আবাসিক এলাকা, সড়ক, অলিগলি, ড্রেন, নালা, নির্মাণাধীন ভবন, পার্কিং এলাকা, ছাদ ও পরিত্যক্ত স্থাপনায় বিশেষভাবে তদারকি করা হয়।কর্মসূচির আওতায় কোথাও জমে থাকা পানি পাওয়া গেলে তা অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়। পানি জমতে পারে এমন ডাব ও নারকেলের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, পুরোনো টায়ার, ফুলের টবসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রীও পরিষ্কার করা হয়।অভিযানের সময় নির্ধারিত এলাকায় লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়ক, ফুটপাত ও আশপাশের এলাকা থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন।ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে ৭৫টি ওয়ার্ডেই সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মশক নিধনকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয় নাগরিকেরা অংশ নেন। র‌্যালি থেকে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়।ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নগরবাসীকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করা জরুরি। এ কারণে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি আগামী তিন মাস প্রতি শনিবার ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে বিশেষ অভিযান ও মাঠপর্যায়ের তদারকি অব্যাহত থাকবে।ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে ডিএসসিসি। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

খিলক্ষেতের আবাসিক বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানা, আটক ১

খিলক্ষেতের পিংক সিটি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৫০০ ইয়াবা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা তৈরির মেশিন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।রাজধানীর খিলক্ষেতের ৩০০ ফিটসংলগ্ন পিংক সিটি আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোড-২-এর ১২ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানায়, অভিযানে ৩ হাজার ৫০০টি ইয়াবা, ৩০ বোতল ফেনসিডিল, ফেনসিডিলের ৩৫০টি খালি বোতল এবং ইয়াবা তৈরির একটি মেশিন জব্দ করা হয়েছে।অভিযানকালে ইয়াসিন আরাফাত (৩৭) নামের একজনকে আটক করা হয়। তিনি যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ইয়াসিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত জাকারিয়া দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে ঠিক কত দিন ধরে ইয়াবা তৈরির কার্যক্রম চলছিল, কীভাবে মাদক তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম আনা হতো এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাব আল হোসাইন বলেন, আবাসিক এলাকার একটি বাসাকে ব্যবহার করে মাদক তৈরির কারখানা চালানোর বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।ওসি বলেন, অভিযানে তৈরি মাদকের পাশাপাশি ইয়াবা তৈরির মেশিন ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল উদ্ধার হয়েছে। তাই ঘটনাটি শুধু মাদক মজুতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, খিলক্ষেতের মাটিতে মাদক তৈরি, মজুত কিংবা ব্যবসার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিসহ এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।পুলিশ বলছে, জাকারিয়াকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদক তৈরির এই কারখানার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কাঁচামাল কোথা থেকে এসেছে এবং এর পেছনে বড় কোনো চক্র রয়েছে কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।আবাসিক এলাকার একটি বাসার ভেতর মাদক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় এই কারখানার নেপথ্যে কারা এবং মাদকের এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত।

খিলক্ষেতের আবাসিক বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানা, আটক ১

দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও বোর্ড সভা ছাড়াই সিনেমা হলের প্লটে শান্তাকে বাণিজ্যিক অনুমতি

রাজধানীর গুলশান-১–এর সিনেমা হলের জন্য বরাদ্দ করা চারটি প্লট একীভূত করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছে বেসরকারি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান শান্তা হোল্ডিংস। অভিযোগ উঠেছে, এ অনুমোদন দিতে রাজউকের প্রচলিত দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও বোর্ড সভার নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আপত্তি থাকলেও রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে রাজউকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।রাজধানীর গুলশান (দক্ষিণ) বাণিজ্যিক এলাকার ১৪, ৩৭, ৪১ ও ৪৩ নম্বর প্লট ১৯৭৫ সালে ৯৯ বছরের জন্য ‘বাণীচিত্র’ ও ‘চলচ্চিত্র’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বরাদ্দের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, সেখানে সিনেমা হল নির্মাণ করতে হবে। অন্য কোনো কাজে জমিগুলো ব্যবহার করা যাবে না।তবে প্রায় পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও ওই প্লটগুলোতে সিনেমা হল নির্মাণ হয়নি। পরে আম-মোক্তারনামার মাধ্যমে প্লটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় শান্তা হোল্ডিংস। ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি ১৪ নম্বর প্লটসহ চারটি প্লট একীভূত করার আবেদন করে। বড় আকারের একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণই ছিল এর লক্ষ্য।আপত্তি ছিল রাজউকের কর্মকর্তাদেরচারটি প্লট একীভূত করার আবেদনটি রাজউকের বিভিন্ন শাখায় দীর্ঘদিন ঘুরেছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আম-মোক্তারনামা নিয়ে বিরোধ, আদালতের নির্দেশ এবং প্লটের ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়সহ বিভিন্ন আইনি জটিলতা নিয়ে কর্মকর্তাদের আপত্তি ছিল।রাজউকের একাধিক সূত্রের দাবি, শুরু থেকেই ফাইলটি নিয়ে চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের বিশেষ আগ্রহ ছিল। কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও ফাইলটি এগিয়ে নিতে ওপরের মহল থেকে তৎপরতা ছিল বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ফাইলটি পাস করিয়ে নিতে শান্তা হোল্ডিংস রাজউক ভবনে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা খরচ করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।নথি অনুযায়ী, ২১ জুলাই চারটি প্লট একীভূত করার অনুমোদনপত্র জারি এবং প্রয়োজনীয় ফি গ্রহণে আইনগত বাধা আছে কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইমাম হাছানের মতামত চায় রাজউক। জবাবে তিনি জানান, এতে আইনগত বাধা নেই।এর পরদিন, ২২ জুলাই, রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম অনুমতিপত্র জারির নির্দেশ দেন। একই দিনে চারটি প্লট একীভূত করার ফি জমা দেওয়ার অনুমোদনপত্র জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) মো. নজরুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. আশরাফ আলী।চারটি প্লটের মোট আয়তন প্রায় ২২ বিঘা ১৮ কাঠা। এ জমির বিপরীতে একীভূতকরণ ফি রাজউক কোষাগারে জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে শান্তা হোল্ডিংস।আইন শাখা ও বোর্ড সভা নিয়ে প্রশ্নরাজউকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, আইনগত বিষয়ে মতামতের জন্য সংস্থাটির নিজস্ব আইন শাখা রয়েছে। কোনো আবেদনে আইনি জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তা আইন শাখায় পাঠিয়ে মতামত নেওয়ার পর প্রশাসনিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এরপর বিষয়টি বোর্ড সভায় উপস্থাপনেরও বিধান রয়েছে।কিন্তু শান্তা হোল্ডিংসের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট এস্টেট ও ভূমি-১ শাখার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাসুম আলী বেগ লিখিতভাবে আপত্তি জানানোর পরও বিষয়টি বোর্ড সভায় তোলা হয়নি। বরং একজন বেসরকারি আইনজীবীর মতামতের ভিত্তিতে অনুমোদনপত্র জারি করা হয়েছে।চারটি প্লট একীভূত হওয়ায় সেখানে বড় আকারের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গুলশানের বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত বিনোদন সুবিধা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।শান্তা হোল্ডিংসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ভবনটির উচ্চতা ৩৫ থেকে ৪০ তলার বেশি হতে পারে। প্রতি তলায় প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে। শুরুতে প্রতি বর্গফুটের দাম ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ধরা হলে প্রকল্পটির সম্ভাব্য মোট বাণিজ্যিক মূল্য দাঁড়াতে পারে হাজার কোটি টাকার বেশি।রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, অনুমোদনপত্র জারি করার জন্য কে কী করেছে, তা ফাইলেই লেখা আছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বাইরে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।অভিযোগের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখানে কোনো কিছু ব্যক্তিগত না। আইনগত উপায়ে সবকিছু করা হয়েছে।

দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও বোর্ড সভা ছাড়াই সিনেমা হলের প্লটে শান্তাকে বাণিজ্যিক অনুমতি

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

আলহাজ্ব গ্রুপের বিরুদ্ধে হিন্দু মালিকের জমি আত্মসাতের অভিযোগ

ঢাকার নন্দীপাড়া মৌজার ৪১ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের মালিকানা বিরোধ নতুন করে জটিল হয়েছে। ১৯৬০ ও ১৯৭১ সালের দুটি দলিল এবং ২০২৬ সালের নামজারিকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিষয়টি এখন ভূমি আপিল বোর্ডে রিভিশন পর্যায়ে রয়েছে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিএস দাগ ৭৬৯-এর আরএস রেকর্ডীয় মালিক নীরদ বালা দাস ১৯৬০ সালের ১৮ জুলাই ৯২৯২ নম্বর দলিলে জমিটি রূপচাঁদ মন্ডল ও গোপীচাঁদ মন্ডলের কাছে বিক্রি করেন। রূপচাঁদ ১৯৬৭ সালে মারা গেলে তাঁর ছেলে রাম আনন্দ মন্ডল ওয়ারিশসূত্রে জমিটির মালিকানা ও দীর্ঘদিনের দখলের দাবি করেন।পরে তিনি জানতে পারেন, একই জমি ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের নামে নামজারি রয়েছে। ২৪/২৫ নম্বর মিস কেসের মাধ্যমে ওই নামজারি বাতিলের পর ২০২৫–২৬ সনের ১২৬৯১ (IX-I) নম্বর নামজারি ২৯ এপ্রিল ২০২৬ রাম আনন্দের নামে সম্পন্ন হয় বলে তাঁর পক্ষ জানিয়েছে।অন্যদিকে, আলহাজ্ব গ্রুপের মালিক আব্দুল আলী গং ১৯৭১ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের ৭৬৮১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে জমিটির মালিকানা দাবি করছেন বলে অভিযোগ রাম আনন্দের পক্ষের। তাঁদের প্রশ্ন, ১৯৬০ সালে জমি বিক্রি হয়ে থাকলে রূপচাঁদ ও গোপীচাঁদের ভাই লেবুচাঁন মন্ডল ১৯৭১ সালে একই জমি কীভাবে বিক্রি করলেন।লেবুচাঁন জমি বিক্রি করেননি এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দু মালিকদের জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ভুয়া দলিল তৈরির অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই হয়নি।এদিকে নামজারি বাতিল ও জমি দখলের জন্য চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ করেছে রাম আনন্দের পক্ষ। মিস আপিল ৪৩৮/২০২৪-এর পর ভূমি আপিল বোর্ডে রিভিশন মামলা ৩-২১১/২০২৬ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে ১৯৬০ ও ১৯৭১ সালের মূল দলিল, রেজিস্ট্রি রেকর্ড, উত্তরাধিকার, নামজারি এবং ভূমি কর্তৃপক্ষের আদেশ যাচাই করা জরুরি।

আলহাজ্ব গ্রুপের বিরুদ্ধে হিন্দু মালিকের জমি আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে ডেমরার এসিল্যান্ডের প্রতিবাদ

ডেমরা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি)–এর সরকারি দায়িত্ব পালন ও নামজারি কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ডের পক্ষ।একটি জাতীয় দৈনিক ও একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আদালতের স্থগিতাদেশের পরও নামজারি এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগকে একপেশে ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে এসিল্যান্ডের পক্ষ।প্রতিবাদে বলা হয়, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে আসছেন। বিভিন্ন অভিযানে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের পর সেখানে সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও পরে তা সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।সংশ্লিষ্ট পক্ষের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করছে। সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি এবং আর্থিক সুবিধা চাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড বলেন, ভালো কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। সব বাধা অতিক্রম করে রাষ্ট্র ও জনস্বার্থে কাজ করে যাব। প্রতিবাদে আরও বলা হয়, কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নথি, আদালতের আদেশ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকাশিত অভিযোগ ও আর্থিক সুবিধা দাবির বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে ডেমরার এসিল্যান্ডের প্রতিবাদ

ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৪২

রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ১৯টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে একটি দেশীয় রিভলবার, চার রাউন্ড গুলি, ৬ হাজার ৩২৪টি ইয়াবা, ৩৩ পুরিয়া গাঁজা ও নগদ ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।বুধবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩২ জন, লালবাগে ৩৬ জন, ওয়ারীতে ৫০ জন, মতিঝিলে ৫৬ জন, তেজগাঁওয়ে ৫৯ জন, মিরপুরে ১৩৩ জন, গুলশানে ২৩ জন এবং উত্তরা বিভাগে ৫০ জন রয়েছেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।অভিযানে অস্ত্র ও গুলির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬ হাজার ৩২৪টি ইয়াবা ও ৩৩ পুরিয়া গাঁজা। এ ছাড়া নগদ ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৪২

নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ ১২ দফা দাবি

কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স ফেডারেশন। সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সভাপতি মো. আব্দুল মতিন লিখিত বক্তব্যে নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, শ্রম অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।আব্দুল মতিন বলেন, দেশে প্রায় ৮০ লাখ নির্মাণ শ্রমিক বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা বহুতল ভবন, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, সেতু ও আধুনিক মার্কেটসহ নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে যুক্ত থাকেন। কিন্তু এসব শ্রমিকের সার্বিক জীবনযাপন ও কর্মপরিবেশ অত্যন্ত করুণ এবং মানবেতর।তিনি বলেন, অধিকাংশ নির্মাণ শ্রমিককে সেফটি হেলমেট, সেফটি বেল্ট, বুট ও গ্লাভসের মতো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হয়। ফলে কর্মক্ষেত্রে তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।ফেডারেশনের সভাপতি আরও বলেন, জাতীয় শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৮০ লাখ নির্মাণ শ্রমিকের অধিকাংশই এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। নিয়োগপত্র না থাকায় তাঁরা নিয়মিত বঞ্চনা ও মালিকপক্ষের হয়রানির শিকার হন।১২ দফা দাবিসংবাদ সম্মেলনে নির্মাণ শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ১২ দফা দাবি জানানো হয়, সেগুলো হলো—১. শ্রম আইন অনুযায়ী নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান করা।২. কর্মক্ষেত্রে নির্মাণ শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।৩. নির্মাণ শ্রমিকদের জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নির্ধারণ করা।৪. শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা এবং অবসরকালীন সময়ের জন্য ‘অবসর কল্যাণ’ ভাতা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে আলাদা কল্যাণ ফান্ড গঠন করা।৫. কর্মক্ষেত্রে নিহত ও আহত নির্মাণ শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।৬. নির্মাণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কর্মস্থল ও শ্রম আইন বাস্তবায়নে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।৭. নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য জেলা ভিত্তিক সরকারি হাসপাতাল চালু করা।৮. যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজের জন্য সরকারি অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা এবং নির্মাণ ব্যয়ের ১ শতাংশ নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে জমা দেওয়া।৯. নির্মাণ শ্রমিকদের সংশ্লিষ্ট শ্রম আইনের ধারা সংশোধন করে শ্রমিকবান্ধব আইন প্রণয়ন করা।১০. প্রতিটি নির্মাণ শ্রমিককে গ্রুপ বিমার আওতায় আনা।১১. নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সব ধরনের সরকারি ছুটি কার্যকর করা।১২. নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে সার্বিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সংগঠনটি বলেছে, দেশের অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ ১২ দফা দাবি

গ্যাস নেই ৭ দিন, এলপিজি কিনতেও হিমশিম কেরানীগঞ্জবাসীর

ঢাকার কেরানীগঞ্জে টানা সাত দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের সংকট থাকলেও গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার কার্যক্রম।গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য বিদ্যুৎ ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। তবে সংকটের কারণে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার।এদিকে গ্যাসসংকট নিয়ে চাপের মুখে পড়েছেন তিতাস গ্যাসের জোন-৫ (জিনজিরা) কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রতিদিন গ্যাসের দাবিতে বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ কার্যালয়ে ভিড় করছেন। গ্যাস না পাওয়ার ক্ষোভে কেউ কেউ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন। ফলে হামলার আশঙ্কায় দিন কাটছে তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।গত বৃহস্পতিবার জিনজিরার তিতাস কার্যালয়ে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।অবৈধ সংযোগ নিয়ে অভিযোগএলাকাবাসীর অভিযোগ, কেরানীগঞ্জে তিতাসের বৈধ গ্রাহকের তুলনায় অবৈধ সংযোগের সংখ্যা বেশি। ২০১৬ সালে কেরানীগঞ্জে বৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ১৫ বছরে মিল-কারখানা, ওয়াশিং প্ল্যান্ট ও বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ সংযোগের কারণে সারা বছরই কেরানীগঞ্জে গ্যাসের সংকট থাকে। তবে গত সাত দিনে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে কোনো কোনো এলাকায় একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।গ্যাস সরবরাহ না থাকায় তিতাসের ৫ হাজার ৬৭৩টি শিল্প গ্রাহকের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।১২ কেজির সিলিন্ডারে বাড়তি দামগ্যাসের বিকল্প হিসেবে কেরানীগঞ্জবাসীর একটি বড় অংশ এখন এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতে সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও সংকট তৈরি হয়েছে।সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। কিন্তু কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।আগানগর, শুভাঢ্যা ও কালিন্দী ইউনিয়নের কয়েকটি দোকানে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, যমুনা এলপিজি, মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি, ইউনাইটেড আইগ্যাস, পেট্রোম্যাক্স এলপিজি, নাভানা এলপিজি ও টোটালগ্যাসের সিলিন্ডার ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।‘গ্যাসের জন্য হাহাকার’জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেরানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ফাতেমা আমিন একা বলেন, গত সাত দিন ধরে জিনজিরাসহ কেরানীগঞ্জের নয়টি ইউনিয়নের কোথাও গ্যাস নেই। গ্যাসের জন্য মানুষের মধ্যে হাহাকার চলছে।তিনি বলেন, এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে বিদ্যুতের চুলা ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছেন। অনেকে লাকড়ির চুলায় রান্না করছেন। আবার কেউ কেউ রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। এ পরিস্থিতির জন্য তিনি সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।গ্যাসের চাপ মাত্র ২তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জোন-৫, জিনজিরা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র মৈত্র বলেন, বাসাবাড়ির চুলার জন্য সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ সাধারণত অনেক কম থাকে। গৃহস্থালির ক্ষেত্রে চাপ প্রায় ২০ থেকে ৩০ এমবিএআর বা পাইপলাইনের প্রেসার ১০ থেকে ১২ থাকে।কিন্তু বর্তমানে কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইনে প্রেসার মাত্র ২। এ কারণে বাসাবাড়িতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বড় বড় কারখানাও বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।গ্যাস না পাওয়ার পেছনে বার্নারের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, রেগুলেটরের সমস্যা, পাইপ ভাঁজ বা লিক হওয়া, নিচু এলাকা হওয়া, গ্যাস লাইনে পানি ঢুকে যাওয়া এবং লাইনে চাপ কমে যাওয়ার মতো কারণও থাকতে পারে বলে জানান তিতাসের এই কর্মকর্তা।‘গত এক বছরে অর্ধশত অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন’কেরানীগঞ্জে অসংখ্য অবৈধ তিতাস গ্যাস সংযোগ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বিধান চন্দ্র মৈত্র বলেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গত এক বছরে প্রায় অর্ধশত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।এলাকায় প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার অবৈধ গ্যাসের লাইন ও চুলা কীভাবে চলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের অজান্তেই এগুলো হয়েছে।’তাঁর দাবি, অতীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এসব অবৈধ সংযোগ স্থাপন করেছেন।পাইপলাইন পরিবর্তনের পরও মিলছে না গ্যাসগ্যাস ঠিকাদার শাহ আলম জানান, কেরানীগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে কোন্ডা ইউনিয়নের পানগাঁও এলাকায় ডিআরএসএ ভালভ পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে পরিবর্তনের পরও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।ঢাকা শহরের গ্যাস সরবরাহ ঠিক রাখতে কেরানীগঞ্জের গ্যাস পাইপলাইন বন্ধ রাখা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।টানা সাত দিন গ্যাস না থাকায় কেরানীগঞ্জের বাসিন্দাদের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানাগুলোও বিপাকে পড়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গ্যাস নেই ৭ দিন, এলপিজি কিনতেও হিমশিম কেরানীগঞ্জবাসীর

ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আজ বৃষ্টি, তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে

ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দিনের কোনো একসময় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে সাময়িকভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।আবহাওয়া অধিদপ্তরের দুপুর ১টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজধানীতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে।আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ।গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।নদীবন্দরে নেই সতর্কসংকেতআবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য কোনো সতর্কসংকেত নেই। ফলে এ সময় নদীবন্দরগুলোকে কোনো সংকেত দেখাতে হবে না।অন্যদিকে, গতকাল রাতে দেওয়া আবহাওয়ার সার্বিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে। আগামীকাল শুক্রবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে।

ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আজ বৃষ্টি, তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে

ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৬

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৫৫টি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।কোন বিভাগে কতজন গ্রেপ্তারডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২৫ জন, লালবাগে ৪৫, ওয়ারীতে ৬৫, মতিঝিলে ৪৭, তেজগাঁওয়ে ৪১, মিরপুরে ১২০, গুলশানে ৯৩ এবং উত্তরা বিভাগে ৬৩ জন রয়েছেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।যা উদ্ধার হয়েছেঅভিযানে দুটি সুইচ গিয়ার, ২৭ কেজি ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ২৩১টি ইয়াবা ও ৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ ছাড়া একটি এনা বাস, একটি ট্রাক, ১৭টি মোটরসাইকেল ও আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।পুলিশের অভিযানে ৫৯৭ দশমিক ৭৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা চোরাই টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪ ভরি ১৫ আনা ৫ রতি চোরাই স্বর্ণালংকার এবং দুজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।ডিএমপির কর্মকর্তা নিয়াজ মেহেদী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৬

টানা ১২ বার ডিএমপির সেরা ওসি হাফিজুর

ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তায় ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জুলাই মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিট ও কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এ মূল্যায়নে মিরপুর বিভাগ শ্রেষ্ঠ বিভাগ এবং মিরপুর মডেল থানা শ্রেষ্ঠ থানা নির্বাচিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে জুলাই মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় শ্রেষ্ঠদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান (পিপিএম) এবারও শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন। এ নিয়ে ডিএমপির শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে টানা ১২ বার পুরস্কার পেলেন তিনি।ডিএমপিতে যোগদানের পর উত্তরা পশ্চিম, গুলশান, হাজারীবাগ ও বর্তমানে মিরপুর মডেল থানায় দায়িত্ব পালনকালে নিজ নিজ এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার জন্য তিনি এ স্বীকৃতি পেয়েছেন।অন্যান্য ক্যাটাগরিতে যারা সেরাঅপরাধ বিভাগের মূল্যায়নে দ্বিতীয় হয়েছে উত্তরা-পশ্চিম থানা এবং তৃতীয় হয়েছে বাড্ডা থানা।সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন ডেমরা জোনের এসি মো. শামীম হোসেন। দ্বিতীয় হয়েছেন মোহাম্মদপুর জোনের এসি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে প্রথম হয়েছেন পল্লবী থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম। দ্বিতীয় ভাটারা থানার এসআই দেবাশীষ মন্ডল এবং তৃতীয় পল্টন মডেল থানার এসআই অমিত কুমার বিশ্বাস।এএসআইদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই নাজমুল ইসলাম এবং দ্বিতীয় হয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার এএসআই নাদের আলী।ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম।ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্টদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মিরপুর ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. সামসুদ্দীন সরকার এবং দ্বিতীয় হয়েছেন যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. শাহরিয়ার খান।পুরস্কার কাজের স্পৃহা বাড়িয়ে দেয়টানা ১২ বার ডিএমপির শ্রেষ্ঠ ওসি হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে হাফিজুর রহমান (পিপিএম) বলেন, ‘জনগণের সেবা দেওয়া আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমি সেই দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। এ ধরনের পুরস্কার কাজের প্রতি স্পৃহা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।’তিনি এ অর্জনের জন্য ডিএমপি কমিশনার, সংশ্লিষ্ট ডিসি এবং মিরপুর মডেল থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।হাফিজুর রহমান বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও ভালো কাজের মাধ্যমে ডিএমপির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, সব থানার ওসি এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টানা ১২ বার ডিএমপির সেরা ওসি হাফিজুর

গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন: রিজভী

সরকারের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আমলাতন্ত্রের কেউ হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি- দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান সম্পাদিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ মাসের উন্নয়নযাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। এই সময়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, ঘটনা ও পরিসংখ্যান বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। সব তথ্য একত্র করে সুগ্রন্থিতভাবে উপস্থাপন করায় এটি ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং ভবিষ্যতে হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ রয়েছে। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তারও একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।রিজভী বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো বাস্তবায়নে তিনি মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। দিন-রাত কাজ করার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিজেই পর্যবেক্ষণ করছেন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি করছেন না। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলা কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—যেই হোক না কেন, দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে তিনি শক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে যারা ভালো কাজ করছেন, তাঁদের উৎসাহিত করছেন।সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, বইটিতে সরকারের কর্মকাণ্ডের তথ্য, উপাত্ত ও পরিসংখ্যান তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে ভূমিকা রাখবে।বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন তত্ত্ব ও আবিষ্কারের তথ্য বই আকারে সংরক্ষিত হয়েছে বলেই পরবর্তী প্রজন্ম সেগুলো পড়তে ও চর্চা করতে পেরেছে।রিজভী আরও বলেন, বই না পড়লে জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। বই মানুষের মনের জগতের অন্ধকার দূর করার পাশাপাশি বহির্বিশ্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে।আলোচনা সভায় সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ও ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদ আউয়াল।

গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন: রিজভী

ভারতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে জামায়াতের নিন্দা

ভারতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় দেশটির সরকারের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।শুক্রবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সুযোগ দেওয়া ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী’ এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির লঙ্ঘন।বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতসহ সব দেশের সঙ্গে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য উদ্বেগজনক।মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারত সরকার বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়টিও বিবেচনায় নিচ্ছে না।জামায়াতের এই নেতা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া এবং জাতিসংঘের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার যদি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনের পর দেশে পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির পুনরুত্থান ঠেকাতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভারতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে জামায়াতের নিন্দা

সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৯) নামের এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের ধাওয়ার কারণে ছাদ থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারের একটি পাঁচতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের বাবা জাফর আলীর ভাষ্য, রাতে পুলিশের একটি দল তাঁদের বাসার চারতলায় প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। পুলিশ তাঁর ভাগনের খোঁজ করছিল। এ সময় এক পুলিশ সদস্য ছাদের দিকে গেলে কিছুক্ষণ পর নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যায়। পরে নিচে গিয়ে মনোয়ারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান তিনি।তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় মনোয়ারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।তবে পুলিশের দাবি, একটি অপহরণ মামলার আসামিকে ধরতে অভিযান চালানোর সময় মনোয়ার ছাদ থেকে লাফ দিলে তাঁর মৃত্যু হয়।সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, রংপুরের পীরগাছায় ১৫ বছর বয়সী এক তরুণী অপহরণের মামলায় মনোয়ারের ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিক আসামি ছিলেন। ওই মামলায় মনোয়ারও আসামি ছিলেন।তিনি বলেন, পীরগাছা থানার এসআই মনোরঞ্জন বর্মণ আসামি ধরতে সাভার থানার সহায়তা নিয়ে অভিযান চালান। এ সময় আসামি ছাদ থেকে লাফ দিলে তিনি মারা যান।এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেছে। ঢাকা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তমিজ উদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদারও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু