ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

রাজধানী

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুর-১০-এ শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুর-১০-এ শ্রমিকদের বিক্ষোভ

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ।আজ রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকদের এই কর্মসূচির কারণে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রীরা।শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এই দাবিতে তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

পদোন্নতি, নিয়োগ ও সম্পদ অর্জন সহ নানা অভিযোগ সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এক দিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসেন সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামের একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই সাবেক আমলাকে ঘিরে এখন তাঁর পদোন্নতির প্রক্রিয়া, কথিত প্রভাবশালী বলয়ের কার্যক্রম, সম্পদ অর্জন এবং রাজধানীর কয়েকটি আবাসিক এলাকায় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে ওঠে। এই বলয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার, বদলি ও পদায়নে সুবিধা আদায়, আত্মীয়স্বজনকে প্রশাসনিক সুযোগ পাইয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচংয়ে কথিত এই বলয়ের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, সরকারি নথি এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।এক দিনে চার পদোন্নতি, কীভাবে সচিবঅভিযোগকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে বিসিএস ক্যাডারে যোগ দেন। ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এক দিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার বিষয়টি তাঁর প্রশাসনিক উত্থান নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।অভিযোগকারীদের দাবি, নিজেকে বৈষম্যের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করে পদোন্নতির সুযোগ নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষে সভা ও মিলনমেলার আয়োজন করতেন।পদোন্নতির বিষয়ে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট আদেশের তারিখ, পদ, গ্রেড, পদোন্নতির ভিত্তি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই দিনে চারটি পদোন্নতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ তোফায়েলকে ঘিরে অভিযোগনজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তোফায়েলকে ঘিরেও অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, তোফায়েলকে নজরুল ইসলামের কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ এবং সিন্ডিকেটের আর্থিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।অভিযোগকারীদের দাবি, আর্টসের শিক্ষার্থী হয়েও তোফায়েল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন।তোফায়েলের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানকে নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বুড়িচং উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে নিজ গ্রাম যদুপুরে রাতের বেলায় মদ ও গাঁজার আসর বসাতেন তিনি। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি জামায়াত-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এ ছাড়া তোফায়েল ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন এবং পরে মামলা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে—এমন অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।শিক্ষা ভবনের কর্মচারী কবিরের পদায়ন নিয়ে প্রশ্নশিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদের পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুনের সময়ে ঘুষের বিনিময়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মরত তাঁর ভগ্নিপতি ইকবালের সহায়তায় কবির আহমেদ সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হন।এ ছাড়া নজরুল ইসলামের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদকে নিজ উপজেলা বুড়িচংয়ে পদায়নের জন্য মান্নান নামের আরেক কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কবির আহমেদের আত্মীয়স্বজনদেরও বিভিন্ন সুবিধাজনক পদে পদায়ন করানোর অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা।এসব অভিযোগ যাচাই করতে নিয়োগ ও রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির আদেশ, চাকরির যোগ্যতা, পদ সৃষ্টির অনুমোদন এবং বদলি-পদায়নের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।তুষারধারায় ২৪ কাঠা জমিতে ভবনরাজধানীর তুষারধারা আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বহুতল ভবন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সেখানে ২৪ কাঠা জমির ওপর নজরুল ইসলামের একটি বহুতল ভবন রয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), সেটব্যাকসহ প্রযোজ্য নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ অনুমোদনের শর্ত পূরণ এবং অকুপেন্সি সনদ গ্রহণের আগেই ভবনটিতে বসবাস শুরু করার অভিযোগও রয়েছে।ভবনটির মালিকানা, অনুমোদিত ও সংশোধিত নকশা, নির্মাণকাজ পরিদর্শনের প্রতিবেদন এবং অকুপেন্সি সনদ যাচাই ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ারে রাজউকের অভিযানের পরও নির্মাণের অভিযোগতুষারধারা আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সেক্টরে বায়তুশ শরীয়ত মসজিদের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত ‘ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার’ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২২ সালে রাজউক ভবনটিতে অভিযান চালিয়ে কিছু অংশ ভেঙে দেয় এবং মুচলেকা নিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভবনটির নির্মাণকাজ আবার সম্পন্ন করা হয় এবং অকুপেন্সি সনদ ছাড়াই সেখানে বসবাস শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে রাজউকের অভিযানসংক্রান্ত নথি, মুচলেকা, নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ, পরবর্তী পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ভবনটির বর্তমান অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্টে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান-ফ্ল্যাটতুষারধারা আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সেক্টরের ‘মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট’ নিয়েও মালিকানা বিরোধ ও নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর আবু সেলিম ও মো. শাহাজাহান ২০১৭ সাল থেকে ভবনটির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ ও নির্মাণ অনিয়ম নিয়ে রাজউক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দিয়ে আসছেন।তাঁদের অভিযোগ, ২০১৯ ও ২০২২ সালে দুদকে করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানা ও মুচলেকা আদায় করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া একটি ফ্ল্যাট বিক্রির পর কাগজপত্র পরিবর্তনের কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এসব অভিযোগ যাচাই করতে দুদকের অভিযোগের মূল কপি, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন, জরিমানা ও মুচলেকার নথি, অনুমোদিত নকশা এবং ফ্ল্যাটের দলিল পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দনজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বুড়িচংয়ের যদুপুর গ্রামের ওমর ফারুককে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।অভিযোগ অনুযায়ী, ওমর ফারুক পলিটেকনিক্যালের কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট একটি পদে কর্মরত। তাঁকে বরাদ্দ দেওয়া আবাসনটি নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদ, চাকরির ধরন, যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে আবেদন, বরাদ্দপত্র এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।সম্পদ অর্জন ও নিয়োগ নিয়ে আরও অভিযোগঅভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যদুপুর গ্রামের রফিক, তোফায়েল, মুমিন ও হাবিবকে নজরুল ইসলামকে ঘিরে থাকা কথিত বলয়ের সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁদের দাবি, প্রায় চার দশক আগে নোয়াখালী থেকে আসা এই পরিবারটি পরবর্তী সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। তবে সম্পদের পরিমাণ ও অর্জনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে জমির দলিল, আয়কর নথি, কোম্পানির মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।অভিযোগে বলা হয়েছে, মুমিন ঘুষের বিনিময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকের পদ পেয়েছেন। অল্প সময়ে আদাবর, উত্তরা, বসুন্ধরা, কুমিল্লা, দৌলতপুর ও বুড়িচংয়ে প্লটের পাশাপাশি স্কুল ও হাসপাতালের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া মুমিনের আত্মীয় দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে সোহেল রানাকে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সিস্টেম অ্যানালিস্ট শাহিনের মাধ্যমে নিয়োগ-সংক্রান্ত জালিয়াতি করা হয়। এসব অভিযোগের পক্ষে নিয়োগ নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।খিলক্ষেতের স্টক এক্সচেঞ্জে কর্মরত কাজী মামনের বিরুদ্ধেও একাধিক ভবনের ফ্ল্যাটের মালিক হওয়া এবং প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ দখল, বদলি-বাণিজ্য ও ঠিকাদারি কাজের তদবির করার অভিযোগ উঠেছে। এসব দাবি যাচাই করতে তাঁর সম্পদ অর্জনের উৎস, ফ্ল্যাটের দলিল, চাকরি থেকে প্রাপ্ত আয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক পরীক্ষা করা প্রয়োজন।ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবিঅভিযোগকারীরা নজরুল ইসলামকে ঘিরে থাকা কথিত বলয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছেন। তালিকায় রয়েছে কনটেক ডেভেলপার, ওয়নল্যান্ড ডেভেলপার, কনফিডেন্স গ্রুপ, রোজ গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন, মিশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট, বুড়িচং পলিটেকনিক, বুড়িচং আধুনিক হাসপাতাল, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, রওশন-সিরাজ ফাউন্ডেশন, মিশন শ্যামলিমা, মিশন লাইট হাউজ, মিশন গার্ডেন ঢাকা এবং কনফিডেন্স সফটওয়্যার।অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি ভবন নির্মাণ, সম্পদ অর্জন এবং প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তুষারধারা আবাসিক এলাকার একটি ঠিকানা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন আড়ালে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।তবে সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত বলা যায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, প্রকৃত মালিকানা, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ভবনের অনুমোদন আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিঅভিযোগকারীরা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা ভবনগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।তাঁদের দাবি, সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের পদোন্নতি-সংক্রান্ত আদেশ, তুষারধারার ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশা, অকুপেন্সি সনদ, রাজউকের অভিযানসংক্রান্ত নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ ও পদায়নের বৈধতা এবং সম্পদ অর্জনের উৎস যাচাই করা হোক।একজন সরকারি কর্মকর্তার পদোন্নতি, সম্পদ অর্জন কিংবা কোনো ভবনের মালিক হওয়া নিজে থেকেই অপরাধের প্রমাণ নয়। তবে সরকারি পদে থেকে প্রভাব খাটানো, বিধিবহির্ভূত নির্মাণে সহায়তা, অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা নিয়োগ ও বদলি-পদায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।নজরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি পর্যালোচনা, অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাট ক্রেতাদের অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

পদোন্নতি, নিয়োগ ও সম্পদ অর্জন সহ নানা অভিযোগ সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে

কয়েক সেকেন্ডে লক ভেঙে মোটরসাইকেল চুরি, গ্রেপ্তার ৬

রাজধানীতে বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি দিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে চুরির অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। তাঁদের কাছ থেকে চুরি হওয়া নয়টি মোটরসাইকেল, লক ভাঙার দুটি বিশেষ চাবি ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেল (৩০), মো. আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বি (৩০), ফয়সাল (২৫), সৌরভ (২২), জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু (২৯) ও মোজাম্মেল হক মাসুম (২২)।ডিবি-লালবাগ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি লক করে আসরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে প্রবেশ করেন। এ সময় চক্রের সদস্যরা বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি দিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লক ভেঙে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যান।চুরির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশের নজরে আসে। পরে ডিবি-লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে।এরপর সবুজবাগ থানার নন্দীপাড়া ও মাদারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে লক ভাঙার দুটি বিশেষ চাবি ও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানার সাদ্দাম মার্কেটের সামনে থেকে আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকেও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।ডিবি জানায়, পরবর্তী সময়ে কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় ফয়সাল ও সৌরভকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর নোয়াখালীর চাটখিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু ও মোজাম্মেল হক মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল ও রাব্বি জানিয়েছেন, তাঁরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে একই কৌশলে মোটরসাইকেল চুরি করতেন। পরে চুরি করা মোটরসাইকেলগুলো কুমিল্লার লাকসামের ফয়সাল ও সৌরভ এবং নোয়াখালীর চাটখিলের পাপ্পু ও মাসুমের কাছে সরবরাহ করতেন।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাসেলের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির ১৫টি মামলা রয়েছে। আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বির বিরুদ্ধে রয়েছে চুরির সাতটি মামলা। এ ছাড়া রাসেলের বিরুদ্ধে একটি জিআর সাজা পরোয়ানা এবং রাব্বির বিরুদ্ধে দুটি জিআর পরোয়ানা রয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

কয়েক সেকেন্ডে লক ভেঙে মোটরসাইকেল চুরি, গ্রেপ্তার ৬

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করলেন সাদিক কায়েম

রাজধানীর চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।এ সময় অগ্নিকাণ্ডে মানুষের সর্বস্ব হারানোর জন্য সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রের উদাসীনতাকে দায়ী করেন সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যথাযথভাবে তদারকি করছে না সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, উন্নত প্রশিক্ষণ ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে।সাদিক কায়েম আরও বলেন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের অভাবে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার ফাইটারদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অনেকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, আবার অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।সোমবার রাতে চকবাজারে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে চারজন ফায়ার ফাইটার আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের অভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই ফায়ার ফাইটাররা আহত ও নিহত হচ্ছেন। বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি ফায়ার সার্ভিসের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রশিক্ষিত কর্মী গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।নগরবাসীর উদ্দেশে সাদিক কায়েম বলেন, আগামীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পেলে ঢাকাকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান, চকবাজার-বংশাল জোনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যক্ষ এস এম আহসান উল্লাহ, চকবাজার দক্ষিণ থানা আমির আনিছুর রহমান, পূর্ব থানা আমির রফিকুল ইসলাম সিকদারসহ চকবাজার থানা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও ব্যবসায়ীরা।

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করলেন সাদিক কায়েম

চাঁদা না পেয়ে হামলা, বন্ধ নির্মাণকাজ; কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে উদ্বেগ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ৪০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এ হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। কোথাও নির্মাণশ্রমিকদের মারধর, কোথাও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কারও কারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।কেরানীগঞ্জে কার্যালয়ে হামলা, লুটের অভিযোগকেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় আফসানা হাউজিংয়ের কার্যালয়ে গত রোববার সকাল ১১টা ২৬ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন যুবক দেশি অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন। তাঁরা প্রথমে দরজা ভাঙচুর করেন। পরে আসবাব, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল ভেঙে একটি ছোট ট্রাকে তুলে নিয়ে যান।প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক নাসিরের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁদের কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।এ ঘটনায় পরদিন প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিব ব্যাপারী ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও স্থানীয় একটি যুবক দলের সদস্যরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।হামলার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্মীরাও।রূপনগরে চাঁদা দাবিতে থমকে নির্মাণকাজরাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে জমি ও ভবন নির্মাণ ঘিরে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দাবিমতো টাকা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে।এলাকাটিতে একাধিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে। এর মধ্যে পরিচিত এক কনটেন্ট নির্মাতার স্টুডিও এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হামলার ঘটনাও আলোচনায় রয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।রূপনগরের একটি প্লটের মালিক মোদাসসের হোসেন জানান, চার কাঠা জমিতে নিজের বাড়ি নির্মাণের জন্য চার মাস আগে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। এ সময় একটি দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।গ্রামে থাকা জমি বিক্রি করে ঢাকায় নিজের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মোদাসসের। কিন্তু চাঁদা দাবির ঘটনায় সেই উদ্যোগ এখন থমকে গেছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি তিনি।মোদাসসেরের ধারণা, অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না।১০ তলা ভবনের কাজ এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধরূপনগরের সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকায় চাঁদা দাবির আরেকটি অভিযোগ করেছেন ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। তিনি জানান, তাঁদের একটি ১০ তলা ভবনের চার তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। খননকাজ শুরুর সময় থেকেই চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আবদুল মান্নান বলেন, বিভিন্ন সময়ে অন্তত চারবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।এ ঘটনায় মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আবদুল মান্নানের অভিযোগ, চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে।৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগসম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিকদের কল্যাণ সমিতি গত রোববার সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরে।সমিতির দাবি, এলাকায় প্রায় ৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। নির্মাণশ্রমিকদের হুমকি দেওয়া ও মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে অনেক স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।সমিতির নেতাদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কোথাও কোথাও পুলিশ উপস্থিত থাকলেও চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা যাচ্ছে না।সমিতির সহসভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলের ঘটনা বেড়েছে।এ বিষয়ে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পুলিশের দাবি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থাপুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মামলা করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে।তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা করার পরও সব ক্ষেত্রে প্রতিকার মিলছে না। চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে।রাজনৈতিক পরিচয় কি অপরাধ দমনে বাধা?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. তৌহিদুল হকের মতে, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় প্রশ্রয় অপরাধ দমনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।তাঁর ভাষ্য, কোনো দল ক্ষমতায় এলে সেই দলের কিছু সদস্য অতীতে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দখল ও চাঁদাবাজির পথ বেছে নিতে পারেন।অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দল থেকে বহিষ্কার করলেই অপরাধ বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না। তবে ক্ষমতাসীন দলের কিছু সদস্য অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন, সেই সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে মানুষ নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে সরকার সচেতন বলেও জানান তিনি।কেরানীগঞ্জে আবাসন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটের অভিযোগ এবং রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার ঘটনা নগর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীরা কার্যকর প্রতিকার চাইছেন। পুলিশ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও অভিযোগের পরও কেন কোথাও নির্মাণকাজ বন্ধ থাকছে, কেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনা ঘটছে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রস্তাবিত হ্যাশট্যাগ: #চাঁদাবাজি #জমিদখল #কেরানীগঞ্জ #মিরপুর #রূপনগর #রাজধানী #আইনশৃঙ্খলা #বাংলাদেশচাঁদা না পেয়ে হামলা, বন্ধ নির্মাণকাজ; কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে উদ্বেগ টপিক: চাঁদাবাজি, জমি দখল, নির্মাণকাজ বন্ধ, কেরানীগঞ্জ, মিরপুর, আইনশৃঙ্খলা ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ৪০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এ হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। কোথাও নির্মাণশ্রমিকদের মারধর, কোথাও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কারও কারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেরানীগঞ্জে কার্যালয়ে হামলা, লুটের অভিযোগ কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় আফসানা হাউজিংয়ের কার্যালয়ে গত রোববার সকাল ১১টা ২৬ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন যুবক দেশি অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন। তাঁরা প্রথমে দরজা ভাঙচুর করেন। পরে আসবাব, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল ভেঙে একটি ছোট ট্রাকে তুলে নিয়ে যান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক নাসিরের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁদের কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিব ব্যাপারী ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও স্থানীয় একটি যুবক দলের সদস্যরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। হামলার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্মীরাও। রূপনগরে চাঁদা দাবিতে থমকে নির্মাণকাজ রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে জমি ও ভবন নির্মাণ ঘিরে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দাবিমতো টাকা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে। এলাকাটিতে একাধিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে। এর মধ্যে পরিচিত এক কনটেন্ট নির্মাতার স্টুডিও এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হামলার ঘটনাও আলোচনায় রয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রূপনগরের একটি প্লটের মালিক মোদাসসের হোসেন জানান, চার কাঠা জমিতে নিজের বাড়ি নির্মাণের জন্য চার মাস আগে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। এ সময় একটি দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। গ্রামে থাকা জমি বিক্রি করে ঢাকায় নিজের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মোদাসসের। কিন্তু চাঁদা দাবির ঘটনায় সেই উদ্যোগ এখন থমকে গেছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি তিনি। মোদাসসেরের ধারণা, অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না। ১০ তলা ভবনের কাজ এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রূপনগরের সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকায় চাঁদা দাবির আরেকটি অভিযোগ করেছেন ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। তিনি জানান, তাঁদের একটি ১০ তলা ভবনের চার তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। খননকাজ শুরুর সময় থেকেই চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আবদুল মান্নান বলেন, বিভিন্ন সময়ে অন্তত চারবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। এ ঘটনায় মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আবদুল মান্নানের অভিযোগ, চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। ৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিকদের কল্যাণ সমিতি গত রোববার সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরে। সমিতির দাবি, এলাকায় প্রায় ৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। নির্মাণশ্রমিকদের হুমকি দেওয়া ও মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে অনেক স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। সমিতির নেতাদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কোথাও কোথাও পুলিশ উপস্থিত থাকলেও চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা যাচ্ছে না। সমিতির সহসভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলের ঘটনা বেড়েছে। এ বিষয়ে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মামলা করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা করার পরও সব ক্ষেত্রে প্রতিকার মিলছে না। চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে। রাজনৈতিক পরিচয় কি অপরাধ দমনে বাধা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. তৌহিদুল হকের মতে, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় প্রশ্রয় অপরাধ দমনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাঁর ভাষ্য, কোনো দল ক্ষমতায় এলে সেই দলের কিছু সদস্য অতীতে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দখল ও চাঁদাবাজির পথ বেছে নিতে পারেন। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দল থেকে বহিষ্কার করলেই অপরাধ বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না। তবে ক্ষমতাসীন দলের কিছু সদস্য অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন, সেই সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে মানুষ নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে সরকার সচেতন বলেও জানান তিনি। কেরানীগঞ্জে আবাসন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটের অভিযোগ এবং রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার ঘটনা নগর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীরা কার্যকর প্রতিকার চাইছেন। পুলিশ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও অভিযোগের পরও কেন কোথাও নির্মাণকাজ বন্ধ থাকছে, কেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনা ঘটছে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

চাঁদা না পেয়ে হামলা, বন্ধ নির্মাণকাজ; কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে উদ্বেগ

মেয়ের জন্মদিনে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, মাহিরার জন্য দোয়া চাইলেন বাবা-মা

আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন মাহিরা ফাতেমা পিউ। প্রিয় মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফের আয়োজন করা হয়েছে। মিলাদে মাহিরার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু, সুন্দর ভবিষ্যৎ ও জীবনের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।জন্মদিনে মিলাদ ও দোয়ামাহিরা ফাতেমা পিউয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ শরীফে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। এ সময় মহান আল্লাহর কাছে মাহিরার জীবনের প্রতিটি পথ সুন্দর ও কল্যাণময় করার জন্য দোয়া করা হয়। মিলাদ শেষে মাহিরা ফাতেমা পিউয়ের সুস্থতা, নেক হায়াত, সুখ-শান্তি এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সফলতার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।বাবার অনুভূতিমাহিরার বাবা বলেন, সন্তানের জন্ম একজন বাবা-মায়ের জীবনে সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর একটি। আজকের এই দিনে মহান আল্লাহ আমাদের মাহিরাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এ জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ, সুন্দর ও নেক জীবন দান করেন।তিনি আরও বলেন, মাহিরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়, ভালোভাবে লেখাপড়া করে এবং ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ হিসেবে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করতে পারে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।মায়ের আবেগমাহিরার মা বলেন, একজন মায়ের কাছে সন্তানের প্রতিটি দিনই বিশেষ। তবে জন্মদিনের দিনটি আরও বেশি আবেগের। আজ মাহিরার জন্মদিনে মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।তিনি বলেন, আল্লাহ যেন মাহিরাকে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন, সুস্থ রাখেন এবং তার জীবনে সুখ ও শান্তি দান করেন। সে যেন ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হয় এটাই একজন মা হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।সবার কাছে দোয়া প্রার্থনামাহিরা ফাতেমা পিউয়ের জন্মদিনে পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তাঁর জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন মাহিরা ফাতেমা পিউকে নেক হায়াত, সুস্থতা, ঈমান, সুখ-শান্তি ও সুন্দর ভবিষ্যৎ দান করেন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা দান করেন এই প্রার্থনা করেছেন তাঁর বাবা-মা।

মেয়ের জন্মদিনে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, মাহিরার জন্য দোয়া চাইলেন বাবা-মা

মদিনা থেকে ঢাকায় এসে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা, জমজমের পানি পাননি যাত্রীরা

মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে ঢাকায় আসা যাত্রীরা জমজমের পানির লাগেজ না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পানির লাগেজ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর চার সংসদ সদস্য বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে চার দিনের মধ্যে হয়রানির কারণ জানতে চেয়েছেন।অভিযোগকারী সংসদ সদস্যরা হলেন শেরপুর-১ আসনের মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজীপুর-৪ আসনের সালাহউদ্দিন এবং খুলনা-২ আসনের জাহাঙ্গীর হুসাইন।লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে মদিনা থেকে ঢাকায় আসা যাত্রীদের অধিকাংশই ট্যাগযুক্ত জমজমের পানির লাগেজ পাননি। তাঁদের মধ্যে ৩৪ জন সংসদ সদস্যও ছিলেন। ঢাকায় অবতরণের পর প্রায় তিন ঘণ্টা পার হলেও পানির লাগেজ সরবরাহ করা হয়নি। এ সময় যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে বিমানের পক্ষ থেকে যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করার উদ্যোগও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ৩৪ জন সংসদ সদস্য তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ মোট ৭৪ জন এবং অন্য সাধারণ যাত্রীরা বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছান। ইমিগ্রেশন শেষে লাগেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রথমেই ট্রলির সংকটে পড়েন অনেকে। একই সময়ে দুই-তিনটি ফ্লাইটের যাত্রীরা নামলেও পর্যাপ্ত ট্রলি ছিল না। যেসব ট্রলি পাওয়া গেছে, সেগুলোর অনেকগুলোই পুরোনো ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।কামাল হোসেন আরও বলেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী মূল লাগেজের সঙ্গে জমজমের পানির লাগেজও পাওয়ার কথা। কিন্তু পানির জন্য অপেক্ষা করতে করতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। পরে বিমানের স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খোঁজ নিয়ে জানান, পানির লাগেজ বিমানে লোড করা হয়নি এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের কাছে ট্যাগ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা পানি পাননি। তিনি জানান, পরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাঁরা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বিমান কর্তৃপক্ষ জমজমের পানি বাসায় পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা এ ধরনের ভোগান্তির কারণ জানতে চেয়েছেন। প্রয়োজনে বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

মদিনা থেকে ঢাকায় এসে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা, জমজমের পানি পাননি যাত্রীরা

রাজধানীতে দখল-ভাঙচুরের হিড়িক, চাঁদাবাজি নাকি জমির বিরোধ?

রাজধানীতে হঠাৎ বেড়েছে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের ঘটনা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও, মোহাম্মদপুরের চাঁদ হাউজিং ও আদাবরের একটি বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও চাঁদাবাজির অভিযোগ, কোথাও আবার জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধ।মাটিকাটায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ হামলার সময় গুলি ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সালমানের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় হামলা হয়েছে। তবে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রায় ৩৫ কাঠা জমির বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।মোহাম্মদপুরের চাঁদ হাউজিংয়েও জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই পক্ষই জমির মালিকানা দাবি করছে। পুলিশ বলছে, বিষয়টি মূলত জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি বিরোধ।আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে অস্ত্রধারীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে একটি বাড়িতে। বাড়ির মালিকপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা দখলের চেষ্টা করে এবং গেট, সিসিটিভি ও জানালায় ভাঙচুর চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটি নিয়ে আগেও বিরোধ ছিল।সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের জমি দখল নিয়ে একাধিক পক্ষের বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। ঘটনায় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম অভিযোগ হিসেবে এলেও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। একাধিক ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের নাম উঠে এলেও পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনাই আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাড্ডা হাসপাতালে হামলার ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রাজধানীতে দখল-ভাঙচুরের হিড়িক, চাঁদাবাজি নাকি জমির বিরোধ?

ক্ষমতার পালাবদলে বদলে গেল পরিচয়, রিকশা বশির এখন বিএনপিতে

একসময় দিনমজুরি ও রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন বশির আহমেদ। বাড্ডা এলাকায় এখন তিনি ‘রিকশা বশির’ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাব ও রিকশা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি বেড়েছে। চাঁদাবাজি, অবৈধ অটোরিকশা পরিচালনা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাড্ডা থানা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি ছিলেন বশির। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ওই সময় মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট, পোস্ট অফিস রোড, আফতাবনগর ও পুলিশ প্লাজা এলাকায় অবৈধ অটোরিকশা পরিচালনা ও চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে বশিরের নিয়ন্ত্রণে ২০০টির বেশি অবৈধ অটোরিকশা ও ৩০০টির বেশি ম্যানুয়েল রিকশা রয়েছে। পুরো ওয়ার্ডের হাজার হাজার রিকশা থেকেও চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদার অর্থের একটি অংশ ট্রাফিক পুলিশ, থানা ও প্রভাবশালী মহলের কাছে যেত বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।বশিরের রিকশার গ্যারেজ ঘিরে মাদক ব্যবসার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বশিরের শ্যালক আলাচন ও আক্তারের নেতৃত্বে একটি মাদক সিন্ডিকেট এসব গ্যারেজ ব্যবহার করে। মাদক সংরক্ষণ ও কেনাবেচার পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি ও রিকশা চোর চক্রের সদস্যদের যাতায়াত ও আশ্রয়ের স্থান হিসেবেও গ্যারেজগুলো ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বশিরের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আন্দোলন দমনে অংশ নেওয়া এবং সরকারের পক্ষে মাইকিং করার অভিযোগে বাড্ডা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বশিরের দলীয় পরিচয়ও বদলেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর সাবেক সংগঠনের নেতারা। বাড্ডা থানা রিকশা শ্রমিক লীগের সভাপতি মকবুল আহমেদ বলেন, বশির আগে আমাদের সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল এবং সহসভাপতি ছিল। তবে পটপরিবর্তনের পর সে এখন বিএনপি করছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিচয় বদলের পরও কীভাবে বশির তাঁর প্রভাব ও রিকশা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও মামলার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ক্ষমতার পালাবদলে বদলে গেল পরিচয়, রিকশা বশির এখন বিএনপিতে

ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিনিং ডে’, চলবে তিন মাস

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।ডিএসসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে নগরীর আবাসিক এলাকা, সড়ক, অলিগলি, ড্রেন, নালা, নির্মাণাধীন ভবন, পার্কিং এলাকা, ছাদ ও পরিত্যক্ত স্থাপনায় বিশেষভাবে তদারকি করা হয়।কর্মসূচির আওতায় কোথাও জমে থাকা পানি পাওয়া গেলে তা অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়। পানি জমতে পারে এমন ডাব ও নারকেলের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, পুরোনো টায়ার, ফুলের টবসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রীও পরিষ্কার করা হয়।অভিযানের সময় নির্ধারিত এলাকায় লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়ক, ফুটপাত ও আশপাশের এলাকা থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন।ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে ৭৫টি ওয়ার্ডেই সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মশক নিধনকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয় নাগরিকেরা অংশ নেন। র‌্যালি থেকে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়।ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নগরবাসীকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করা জরুরি। এ কারণে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি আগামী তিন মাস প্রতি শনিবার ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে বিশেষ অভিযান ও মাঠপর্যায়ের তদারকি অব্যাহত থাকবে।ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে ডিএসসিসি। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিনিং ডে’, চলবে তিন মাস

খিলক্ষেতের আবাসিক বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানা, আটক ১

খিলক্ষেতের পিংক সিটি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৫০০ ইয়াবা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা তৈরির মেশিন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।রাজধানীর খিলক্ষেতের ৩০০ ফিটসংলগ্ন পিংক সিটি আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোড-২-এর ১২ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানায়, অভিযানে ৩ হাজার ৫০০টি ইয়াবা, ৩০ বোতল ফেনসিডিল, ফেনসিডিলের ৩৫০টি খালি বোতল এবং ইয়াবা তৈরির একটি মেশিন জব্দ করা হয়েছে।অভিযানকালে ইয়াসিন আরাফাত (৩৭) নামের একজনকে আটক করা হয়। তিনি যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ইয়াসিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত জাকারিয়া দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে ঠিক কত দিন ধরে ইয়াবা তৈরির কার্যক্রম চলছিল, কীভাবে মাদক তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম আনা হতো এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাব আল হোসাইন বলেন, আবাসিক এলাকার একটি বাসাকে ব্যবহার করে মাদক তৈরির কারখানা চালানোর বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।ওসি বলেন, অভিযানে তৈরি মাদকের পাশাপাশি ইয়াবা তৈরির মেশিন ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল উদ্ধার হয়েছে। তাই ঘটনাটি শুধু মাদক মজুতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, খিলক্ষেতের মাটিতে মাদক তৈরি, মজুত কিংবা ব্যবসার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিসহ এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।পুলিশ বলছে, জাকারিয়াকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদক তৈরির এই কারখানার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কাঁচামাল কোথা থেকে এসেছে এবং এর পেছনে বড় কোনো চক্র রয়েছে কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।আবাসিক এলাকার একটি বাসার ভেতর মাদক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় এই কারখানার নেপথ্যে কারা এবং মাদকের এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত।

খিলক্ষেতের আবাসিক বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানা, আটক ১

দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও বোর্ড সভা ছাড়াই সিনেমা হলের প্লটে শান্তাকে বাণিজ্যিক অনুমতি

রাজধানীর গুলশান-১–এর সিনেমা হলের জন্য বরাদ্দ করা চারটি প্লট একীভূত করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছে বেসরকারি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান শান্তা হোল্ডিংস। অভিযোগ উঠেছে, এ অনুমোদন দিতে রাজউকের প্রচলিত দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও বোর্ড সভার নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আপত্তি থাকলেও রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে রাজউকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।রাজধানীর গুলশান (দক্ষিণ) বাণিজ্যিক এলাকার ১৪, ৩৭, ৪১ ও ৪৩ নম্বর প্লট ১৯৭৫ সালে ৯৯ বছরের জন্য ‘বাণীচিত্র’ ও ‘চলচ্চিত্র’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বরাদ্দের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, সেখানে সিনেমা হল নির্মাণ করতে হবে। অন্য কোনো কাজে জমিগুলো ব্যবহার করা যাবে না।তবে প্রায় পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও ওই প্লটগুলোতে সিনেমা হল নির্মাণ হয়নি। পরে আম-মোক্তারনামার মাধ্যমে প্লটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় শান্তা হোল্ডিংস। ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি ১৪ নম্বর প্লটসহ চারটি প্লট একীভূত করার আবেদন করে। বড় আকারের একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণই ছিল এর লক্ষ্য।আপত্তি ছিল রাজউকের কর্মকর্তাদেরচারটি প্লট একীভূত করার আবেদনটি রাজউকের বিভিন্ন শাখায় দীর্ঘদিন ঘুরেছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আম-মোক্তারনামা নিয়ে বিরোধ, আদালতের নির্দেশ এবং প্লটের ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়সহ বিভিন্ন আইনি জটিলতা নিয়ে কর্মকর্তাদের আপত্তি ছিল।রাজউকের একাধিক সূত্রের দাবি, শুরু থেকেই ফাইলটি নিয়ে চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের বিশেষ আগ্রহ ছিল। কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও ফাইলটি এগিয়ে নিতে ওপরের মহল থেকে তৎপরতা ছিল বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ফাইলটি পাস করিয়ে নিতে শান্তা হোল্ডিংস রাজউক ভবনে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা খরচ করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।নথি অনুযায়ী, ২১ জুলাই চারটি প্লট একীভূত করার অনুমোদনপত্র জারি এবং প্রয়োজনীয় ফি গ্রহণে আইনগত বাধা আছে কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইমাম হাছানের মতামত চায় রাজউক। জবাবে তিনি জানান, এতে আইনগত বাধা নেই।এর পরদিন, ২২ জুলাই, রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম অনুমতিপত্র জারির নির্দেশ দেন। একই দিনে চারটি প্লট একীভূত করার ফি জমা দেওয়ার অনুমোদনপত্র জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) মো. নজরুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. আশরাফ আলী।চারটি প্লটের মোট আয়তন প্রায় ২২ বিঘা ১৮ কাঠা। এ জমির বিপরীতে একীভূতকরণ ফি রাজউক কোষাগারে জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে শান্তা হোল্ডিংস।আইন শাখা ও বোর্ড সভা নিয়ে প্রশ্নরাজউকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, আইনগত বিষয়ে মতামতের জন্য সংস্থাটির নিজস্ব আইন শাখা রয়েছে। কোনো আবেদনে আইনি জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তা আইন শাখায় পাঠিয়ে মতামত নেওয়ার পর প্রশাসনিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এরপর বিষয়টি বোর্ড সভায় উপস্থাপনেরও বিধান রয়েছে।কিন্তু শান্তা হোল্ডিংসের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট এস্টেট ও ভূমি-১ শাখার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাসুম আলী বেগ লিখিতভাবে আপত্তি জানানোর পরও বিষয়টি বোর্ড সভায় তোলা হয়নি। বরং একজন বেসরকারি আইনজীবীর মতামতের ভিত্তিতে অনুমোদনপত্র জারি করা হয়েছে।চারটি প্লট একীভূত হওয়ায় সেখানে বড় আকারের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গুলশানের বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত বিনোদন সুবিধা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।শান্তা হোল্ডিংসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ভবনটির উচ্চতা ৩৫ থেকে ৪০ তলার বেশি হতে পারে। প্রতি তলায় প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে। শুরুতে প্রতি বর্গফুটের দাম ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ধরা হলে প্রকল্পটির সম্ভাব্য মোট বাণিজ্যিক মূল্য দাঁড়াতে পারে হাজার কোটি টাকার বেশি।রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, অনুমোদনপত্র জারি করার জন্য কে কী করেছে, তা ফাইলেই লেখা আছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বাইরে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।অভিযোগের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখানে কোনো কিছু ব্যক্তিগত না। আইনগত উপায়ে সবকিছু করা হয়েছে।

দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও বোর্ড সভা ছাড়াই সিনেমা হলের প্লটে শান্তাকে বাণিজ্যিক অনুমতি

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

আলহাজ্ব গ্রুপের বিরুদ্ধে হিন্দু মালিকের জমি আত্মসাতের অভিযোগ

ঢাকার নন্দীপাড়া মৌজার ৪১ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের মালিকানা বিরোধ নতুন করে জটিল হয়েছে। ১৯৬০ ও ১৯৭১ সালের দুটি দলিল এবং ২০২৬ সালের নামজারিকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিষয়টি এখন ভূমি আপিল বোর্ডে রিভিশন পর্যায়ে রয়েছে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিএস দাগ ৭৬৯-এর আরএস রেকর্ডীয় মালিক নীরদ বালা দাস ১৯৬০ সালের ১৮ জুলাই ৯২৯২ নম্বর দলিলে জমিটি রূপচাঁদ মন্ডল ও গোপীচাঁদ মন্ডলের কাছে বিক্রি করেন। রূপচাঁদ ১৯৬৭ সালে মারা গেলে তাঁর ছেলে রাম আনন্দ মন্ডল ওয়ারিশসূত্রে জমিটির মালিকানা ও দীর্ঘদিনের দখলের দাবি করেন।পরে তিনি জানতে পারেন, একই জমি ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের নামে নামজারি রয়েছে। ২৪/২৫ নম্বর মিস কেসের মাধ্যমে ওই নামজারি বাতিলের পর ২০২৫–২৬ সনের ১২৬৯১ (IX-I) নম্বর নামজারি ২৯ এপ্রিল ২০২৬ রাম আনন্দের নামে সম্পন্ন হয় বলে তাঁর পক্ষ জানিয়েছে।অন্যদিকে, আলহাজ্ব গ্রুপের মালিক আব্দুল আলী গং ১৯৭১ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের ৭৬৮১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে জমিটির মালিকানা দাবি করছেন বলে অভিযোগ রাম আনন্দের পক্ষের। তাঁদের প্রশ্ন, ১৯৬০ সালে জমি বিক্রি হয়ে থাকলে রূপচাঁদ ও গোপীচাঁদের ভাই লেবুচাঁন মন্ডল ১৯৭১ সালে একই জমি কীভাবে বিক্রি করলেন।লেবুচাঁন জমি বিক্রি করেননি এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দু মালিকদের জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ভুয়া দলিল তৈরির অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই হয়নি।এদিকে নামজারি বাতিল ও জমি দখলের জন্য চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ করেছে রাম আনন্দের পক্ষ। মিস আপিল ৪৩৮/২০২৪-এর পর ভূমি আপিল বোর্ডে রিভিশন মামলা ৩-২১১/২০২৬ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে ১৯৬০ ও ১৯৭১ সালের মূল দলিল, রেজিস্ট্রি রেকর্ড, উত্তরাধিকার, নামজারি এবং ভূমি কর্তৃপক্ষের আদেশ যাচাই করা জরুরি।

আলহাজ্ব গ্রুপের বিরুদ্ধে হিন্দু মালিকের জমি আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে ডেমরার এসিল্যান্ডের প্রতিবাদ

ডেমরা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি)–এর সরকারি দায়িত্ব পালন ও নামজারি কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ডের পক্ষ।একটি জাতীয় দৈনিক ও একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আদালতের স্থগিতাদেশের পরও নামজারি এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগকে একপেশে ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে এসিল্যান্ডের পক্ষ।প্রতিবাদে বলা হয়, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে আসছেন। বিভিন্ন অভিযানে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের পর সেখানে সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও পরে তা সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।সংশ্লিষ্ট পক্ষের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করছে। সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি এবং আর্থিক সুবিধা চাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড বলেন, ভালো কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। সব বাধা অতিক্রম করে রাষ্ট্র ও জনস্বার্থে কাজ করে যাব। প্রতিবাদে আরও বলা হয়, কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নথি, আদালতের আদেশ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকাশিত অভিযোগ ও আর্থিক সুবিধা দাবির বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে ডেমরার এসিল্যান্ডের প্রতিবাদ