গোল বাতিল, ভিএআরের সিদ্ধান্ত, উত্তেজনা আর লাল কার্ড সব মিলিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নাটকীয় এক ম্যাচ দেখল দর্শকেরা। শেষ পর্যন্ত ইয়ান দিওমান্দের গোলে ভিয়ারিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে ম্যাচ শেষে আলোচনায় উঠে এসেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের চুল টানার ঘটনায় তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
শনিবারের
ম্যাচে শুরু থেকেই দুই
দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। প্রথম দিকে
ভিয়ারিয়ালের পাপে গুয়ের শট
লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে রিয়ালকে
এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি
কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর একটি শট
পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
পরে
আলবার্তো মোলেইরো ও রেনাতো ভেইগার
আক্রমণে চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা।
এমবাপ্পের আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক পিটার
গুলাকসি। ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের কর্নার থেকে ইব্রাহিম কোনাতের
হেডও লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। আর্দা গুলারের শটও ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট।
দিওমান্দের প্রথম
গোলে
এগিয়ে
রিয়াল
বিরতির
পর দুই দলই আক্রমণের
গতি বাড়ায়। ইয়ান দিওমান্দে শুরুতে
একটি সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর
ভিয়ারিয়ালের মোলেইরো ও গুয়ে একের
পর এক আক্রমণে রিয়ালের
রক্ষণকে চাপে ফেলেন। তবে
গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায়
গোল পায়নি সফরকারীরা।
ম্যাচের
এক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর এগিয়ে যায়
রিয়াল। ভিয়ারিয়ালের রক্ষণ থেকে বল ফিরে
এলে ডান দিক দিয়ে
আক্রমণে ওঠেন ফেদেরিকো ভালভার্দে।
প্রতিপক্ষের বাধা কাটিয়ে তাঁর
বাড়ানো থ্রু বল পেয়ে
নিচু শটে দূরের কোণ
দিয়ে জালে পাঠান দিওমান্দে।
ক্লাবের
হয়ে এটিই দিওমান্দের প্রথম
গোল। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিডিও
সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলানো
হয়। শেষ পর্যন্ত গোলের
স্বীকৃতি পায় রিয়াল।
গোল
বাতিল,
সরাসরি লাল
কার্ড
ভিনিসিয়ুসের
গোলের
পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল রিয়াল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে এমবাপ্পের
শট ঠেকিয়ে দেন গুলাকসি।
এরপর
জুড বেলিংহামের আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ভিনিসিয়ুস জালে বল পাঠালে
রিয়ালের ডাগআউটে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কিন্তু
ভিএআরের পর্যালোচনায় উঠে আসে ভিন্ন
চিত্র। গোলের আগে ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের
নাথান সালিবার চুল টেনেছিলেন বলে
দেখা যায়।
ফলে
গোলটি বাতিল করা হয়। একই
ঘটনায় ৭২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসকে
সরাসরি লাল কার্ড দেখানো
হয়। এতে ম্যাচের বাকি
সময় ১০ জন নিয়ে
খেলতে হয় রিয়ালকে।
শেষ
মুহূর্তের চাপ
সামলে
জয়
ভিনিসিয়ুসের
লাল কার্ডের পর ম্যাচে উত্তেজনা
আরও বেড়ে যায়। রিয়ালের
চার খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেন।
অন্যদিকে বদলি হিসেবে নামা
কার্লোস রোমেরো ও জেরার্ড মোরেনোর
আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয় কোর্তোয়াকে।
তবে
শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধান
ধরে রাখতে সক্ষম হয় রিয়াল। নাটকীয়
ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে
মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
এই জয়ে আট ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। আর ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।