ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ডি মারিয়ার জোড়া গোলে রোসারিওর ৫-০ ব্যবধানের জয়

ডি মারিয়ার জোড়া গোলে রোসারিওর ৫-০ ব্যবধানের জয়

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের প্রত্যাশা থাকলেও মাঠে দেখা গেল একতরফা লড়াই। ঘরের মাঠে ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে রিভাদাভিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রোসারিও সেন্ট্রাল। স্বাগতিকদের বড় জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। করেছেন জোড়া গোল।রোববার রাতে আর্জেন্টিনার লিগা প্রফেশনাল ডি ফুটবলের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় গিগান্তে দে আরোইয়িতো স্টেডিয়ামে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা রোসারিও প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে যায়। গোলটি করেন ডি মারিয়া।প্রথমার্ধের শেষ দিকে বড় ধাক্কা খায় সফরকারী ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে রিভাদাভিয়া। গ্যাস্টন আভিলার ওপর কঠোর ফাউলের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন অ্যালেক্স আর্সে। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় মেনডোজার দলটিকে।সংখ্যায় পিছিয়ে পড়ার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি সফরকারীরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াতে থাকে রোসারিও।ম্যাচের ৫৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন ডি মারিয়া। এরপর একে একে গোল করেন জামিন্টন কামপাজ, এনজো কোপেত্তি ও মার্কো রুবেন। তাতে ৫-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় রোসারিও সেন্ট্রালের।এই জয়ে লিগের জোন ‘বি’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে রোসারিও। পাশাপাশি সার্বিক পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান এখন চতুর্থ। চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে দলটির জয় ছয়টি, ড্র চারটি এবং হার দুটি।গত বছরের চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবারও কোপা লিবার্তোদোরেসে জায়গা করে নেওয়াই রোসারিও সেন্ট্রালের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে রিভাদাভিয়ার বিপক্ষে বড় জয় সেই লক্ষ্যে দলটিকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড, তবু দিওমান্দের গোলে রিয়ালের জয়

গোল বাতিল, ভিএআরের সিদ্ধান্ত, উত্তেজনা আর লাল কার্ড সব মিলিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নাটকীয় এক ম্যাচ দেখল দর্শকেরা। শেষ পর্যন্ত ইয়ান দিওমান্দের গোলে ভিয়ারিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে ম্যাচ শেষে আলোচনায় উঠে এসেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের চুল টানার ঘটনায় তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।শনিবারের ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। প্রথম দিকে ভিয়ারিয়ালের পাপে গুয়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে রিয়ালকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।পরে আলবার্তো মোলেইরো ও রেনাতো ভেইগার আক্রমণে চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা। এমবাপ্পের আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক পিটার গুলাকসি। ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের কর্নার থেকে ইব্রাহিম কোনাতের হেডও লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। আর্দা গুলারের শটও ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট।দিওমান্দের প্রথম গোলে এগিয়ে রিয়ালবিরতির পর দুই দলই আক্রমণের গতি বাড়ায়। ইয়ান দিওমান্দে শুরুতে একটি সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর ভিয়ারিয়ালের মোলেইরো ও গুয়ে একের পর এক আক্রমণে রিয়ালের রক্ষণকে চাপে ফেলেন। তবে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় গোল পায়নি সফরকারীরা।ম্যাচের এক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর এগিয়ে যায় রিয়াল। ভিয়ারিয়ালের রক্ষণ থেকে বল ফিরে এলে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। প্রতিপক্ষের বাধা কাটিয়ে তাঁর বাড়ানো থ্রু বল পেয়ে নিচু শটে দূরের কোণ দিয়ে জালে পাঠান দিওমান্দে।ক্লাবের হয়ে এটিই দিওমান্দের প্রথম গোল। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। শেষ পর্যন্ত গোলের স্বীকৃতি পায় রিয়াল।গোল বাতিল, সরাসরি লাল কার্ড ভিনিসিয়ুসেরগোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল রিয়াল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে এমবাপ্পের শট ঠেকিয়ে দেন গুলাকসি।এরপর জুড বেলিংহামের আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ভিনিসিয়ুস জালে বল পাঠালে রিয়ালের ডাগআউটে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কিন্তু ভিএআরের পর্যালোচনায় উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। গোলের আগে ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের নাথান সালিবার চুল টেনেছিলেন বলে দেখা যায়।ফলে গোলটি বাতিল করা হয়। একই ঘটনায় ৭২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। এতে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় রিয়ালকে।শেষ মুহূর্তের চাপ সামলে জয়ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ডের পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। রিয়ালের চার খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেন। অন্যদিকে বদলি হিসেবে নামা কার্লোস রোমেরো ও জেরার্ড মোরেনোর আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয় কোর্তোয়াকে।তবে শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয় রিয়াল। নাটকীয় ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।এই জয়ে আট ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। আর ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।

ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড, তবু দিওমান্দের গোলে রিয়ালের জয়

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখে রোনালদো

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় তাঁকে সাময়িকভাবে জাতীয় দল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত মেয়াদ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে ৪১ বছর বয়সী এই তারকার এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বিতর্কের শুরু উয়েফা নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে দীর্ঘ সময় ওয়ার্মআপ করলেও রোনালদোকে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয়নি। রোনালদোর দাবি, কোচ জর্জে জেসুস তাঁকে ৩০ মিনিট খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়ায় কোচের ওপর আস্থা হারান তিনি।এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোচের সঙ্গে তাঁর বিরোধ আরও তীব্র হয়। সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোকে নিয়ে কিছু বিষয় পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও জেসুস তা রাখেননি বলে অভিযোগ করেন এই পর্তুগিজ তারকা। এ ঘটনার পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান তিনি।ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের আচরণের জন্য সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান রোনালদো। তবে কোচের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ জানিয়ে বলেন, শাস্তি দেওয়া হলে তা ভোগ করার পরও পর্তুগালের হয়ে খেলতে প্রস্তুত থাকবেন।পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, যথাযথ অনুমতি ছাড়া জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করলে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না রোনালদো। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের মার্চে নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালেও তাঁর খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।তবে রোনালদোকে শেষ পর্যন্ত কত দিনের শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর ক্ষমা চাওয়া ও ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে শৃঙ্খলা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতার জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ এখন ফেডারেশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখে রোনালদো

বিদায়ী ম্যাচে মেসির হাতে লাল-হলুদ কার্ড

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দুটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি।তবে ম্যাচ শেষে মেসিকে ঘিরে তৈরি হয় অন্যরকম এক মুহূর্ত। বিদায়ী ম্যাচের স্মৃতি হিসেবে রেফারি তাঁর হাতে তুলে দেন একটি হলুদ ও একটি লাল কার্ড।অবশ্য কার্ড দুটি কোনো শাস্তির প্রতীক ছিল না। মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিকে বিশেষ করে তুলতেই রেফারির এই উদ্যোগ।ম্যাচ শেষে মাঠে মেসিকে ঘিরে সতীর্থ ও সমর্থকদের উদযাপন চলছিল। সেই সময় রেফারি তাঁর হাতে দুটি কার্ড তুলে দেন। ফুটবলে সতর্কতা ও বহিষ্কারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত কার্ড দুটি মেসির বিদায়বেলায় হয়ে ওঠে স্মারক উপহার।ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয় হাস্যরস। অনেকেই মজা করে বলছেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে মেসি শেষ পর্যন্ত ‘লাল-হলুদ’ দুই কার্ডই পেলেন।তবে এই উপহারের পেছনে ছিল প্রতীকী বার্তা। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে মেসিকে একটু ভিন্ন ধরনের স্মৃতি উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রেফারি।কার্ডের চেয়েও অবশ্য বেনিনের বিপক্ষে মেসির পারফরম্যান্সই ছিল বিদায়ের মূল আকর্ষণ। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সে ৩–০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা।এই জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলার ইতি ঘটল। আর বিদায়ের রাতে রেফারির দেওয়া লাল-হলুদ কার্ড জোড়া তাঁর স্মৃতির পাতায় যোগ করল এক অভিনব অধ্যায়।

বিদায়ী ম্যাচে মেসির হাতে লাল-হলুদ কার্ড

মেসির বিদায়, আর্জেন্টিনা শিবিরে আনন্দের সঙ্গে বিষাদ

আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের শিবিরে এখন আবেগঘন পরিবেশ। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ৩৯ বছর বয়সী মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি। বিদায়ের ক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, সতীর্থদের কথায় ততই ফুটে উঠছে আনন্দ, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের বেদনা।কয়েক দিন আগেই বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই জয়ের উচ্ছ্বাসের চেয়েও এখন দলের ভেতরে বড় হয়ে উঠেছে মেসির বিদায়ের মুহূর্ত।মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের কাছে এই সময়টা মেসির সঙ্গে কাটানোর। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে বারবিকিউ খাব, এই দিনগুলো ওর সঙ্গে উপভোগ করব। এটা ওর প্রাপ্য। আমরা চাই, ওর বিদায়টা হোক দারুণ, যেন সে সত্যিই উপভোগ করতে পারে।’তরুণ সান্তিয়াগো কাস্ত্রোর জন্য মুহূর্তটি আরও বিশেষ। ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার প্রথমবারের মতো মেসির সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম আমি মেসির সঙ্গে দেখা করব। আগে কখনো একসঙ্গে ড্রেসিংরুমে থাকা হয়নি। অনুভূতিটা খুবই বিশেষ। তবে একটু দুঃখও আছে... তিনিই আমাকে বলের প্রেমে ফেলেছেন, জাতীয় দলকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন।’রাইটব্যাক অগাস্তিন হিয়াইয়ের অনুভূতিতেও আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের ছাপ। তাঁর ভাষায়, ‘খুব বিশেষ একটা রাত হতে যাচ্ছে, আবেগ থাকবে। দিনটা দুঃখের, আবার আনন্দেরও; কারণ, ও এভাবে বিদায় জানাতে পারছে।’মেসিকে ছোটবেলা থেকে দেখে বেড়ে ওঠা মিডফিল্ডার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি মনে করেন, তাঁর বিদায়ে আর্জেন্টিনা দলে তৈরি হবে বড় শূন্যতা। তিনি বলেন, ‘ওকে দেখে বড় হয়েছি। বিদায়ের সময় উপস্থিত থাকাটা দারুণ ব্যাপার হবে। আবার বিশাল দুঃখেরও। আর ও জাতীয় দলে থাকবে না, এ এক বিশাল শূন্যতা।’২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মাতিয়াস সুলের কাছেও মেসির বিদায় একই সঙ্গে আনন্দ ও কষ্টের। তিনি বলেন, ‘ও সারা বিশ্বের আইডল, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নায়ক। ব্যাপারটা আমার জন্য দুঃখের, আবার একই সঙ্গে চমৎকার।’মেসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। কথা বলার সময় চোখ মুছতে দেখা যায় তাঁকে। মার্তিনেজ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব ও যেন যতটা সম্ভব উপভোগ করতে পারে। তাকে ভালোবাসায় ভাসাবো, চুমুতে ভরিয়ে দেব। সে যাতে খুশিমনে বিদায় নিতে পারে, সব চেষ্টা করব।’আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা, গড়েছেন বহু রেকর্ড, করেছেন অগণিত গোল। তাঁর বিদায়ের আগে সতীর্থদের চাওয়াটা তাই খুব বড় কিছু নয়—শেষ ম্যাচটিতে মেসি যেন উপভোগ করেন মুহূর্তগুলো, আর মাঠ ছাড়েন তাঁর চেনা সেই লাজুক হাসি নিয়ে।তবে সেই বিদায়ের রাতে সতীর্থদের চোখের জল হয়তো মেসিকেও আবেগাপ্লুত করবে। ফুটবলকে বিদায় জানানোর পথে প্রিয় সতীর্থদের সঙ্গে এই কান্নাটুকুও হয়তো তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে।

মেসির বিদায়, আর্জেন্টিনা শিবিরে আনন্দের সঙ্গে বিষাদ

এমবাপ্পের জোড়া গোলে রায়োকে উড়িয়ে জয়ে ফিরল রিয়াল

চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে জয়ের পর লা লিগাতেও জয়ের ধারায় ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলের সঙ্গে জুড বেলিংহ্যামের এক গোলে রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।লা লিগার সর্বশেষ ম্যাচে রিয়াল বেটিসের কাছে হারের পর পয়েন্ট টেবিলে ধাক্কা খেয়েছিল রিয়াল। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার পর এবার ঘরের মাঠে দারুণ জয় পেল দলটি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শুরু থেকেই রায়োর ওপর চাপ তৈরি করে খেলতে থাকে রিয়াল। ম্যাচের ১৩ মিনিটে বক্সে আলভারো কারেয়াস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকেরা। স্পটকিক থেকে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। এর তিন মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে রিয়াল। এমবাপ্পের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর গোল করেন কারেয়াস নিজেই। মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যেই গোল ও অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েন এমবাপ্পে। ২০১৬ সালের পর এই প্রথম রিয়ালের কোনো খেলোয়াড় ম্যাচের এত দ্রুত সময়ে গোল ও অ্যাসিস্ট করলেন। ৩৫ মিনিটে রিয়ালের তৃতীয় গোলটি করেন জুড বেলিংহ্যাম। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছ থেকে পাওয়া দারুণ পাস প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠান ইংলিশ মিডফিল্ডার। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে স্বাগতিকেরা।দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে রায়ো। ৫১ মিনিটে রিয়াল ডিফেন্ডার অ্যান্টোনিও রুডিগারের ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন সার্জিও কামেলো। এতে ব্যবধান কমে হয় ৩-১। এরপর রায়ো একাধিকবার আক্রমণে উঠলে রিয়ালের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে রক্ষা করেন।ম্যাচের শেষ দিকে আর্দা গুলার মাঠে নামার পর রিয়ালের আক্রমণে আবারও গতি আসে। যোগ করা সময়ে গুলারের পাস থেকে বক্সে বল পেয়ে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। একই সঙ্গে এটি রিয়ালের চতুর্থ গোল। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে জোড়া গোল করে চলতি মৌসুমে লা লিগায় এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ৬-এ নিয়ে গেলেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৭।শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

এমবাপ্পের জোড়া গোলে রায়োকে উড়িয়ে জয়ে ফিরল রিয়াল

মেসির বিদায়ে স্ত্রী আন্তোনেলার পোষ্ট

আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির অবসরের খবরে বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে নিজের বিদায়ের ঘোষণা দেওয়ার পর মেসির সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠজনেরা তাঁকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন। এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো।জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলার উত্থান-পতনের অনেকটাই কাছ থেকে দেখেছেন আন্তোনেলা। প্রেমিকা থেকে স্ত্রী হয়ে ওঠার এই সময়ে মেসির সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতা ও কঠিন সময়ও দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার কথাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন আন্তোনেলা।ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় মেসির জাতীয় দলের অধ্যায়ের সমাপ্তি দেখে নিজের গর্বের কথা জানান তিনি। মেসির দীর্ঘ যাত্রার স্মৃতিচারণ করে আন্তোনেলা লেখেন, ‘কত বছর, কত মুহূর্ত, কত আনন্দ; আবার কত হতাশা ও কঠিন সময়ও ছিল। আমি তোমাকে কষ্ট পেতে দেখেছি, পড়ে যেতে দেখেছি, আবার উঠে দাঁড়াতেও দেখেছি। যখন কিছুই তোমার পক্ষে যাচ্ছিল না, তখনও তোমাকে লড়াই করে যেতে এবং বারবার চেষ্টা করতে দেখেছি।’মেসির স্বপ্নপূরণের সাক্ষী হতে পারাকে নিজের জন্য সৌভাগ্যের বলে উল্লেখ করেছেন আন্তোনেলা। তিনি বলেন, ‘এত বছর পর আমি সৌভাগ্যবান যে তোমাকে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে দেখেছি এবং আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর কিছু মুহূর্ত তোমার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরেছি।’মেসির ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরিবারের উপস্থিতি ছিল। সম্প্রতি মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর পরিবারটিও শোকের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেই মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বাবা হিসেবে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন আন্তোনেলা।তিনি লেখেন, ‘এই পুরো গল্পের একটি বিষয় আমাকে বিশেষভাবে আবেগাপ্লুত করে; আমাদের সন্তানরা সবকিছু নিজেদের চোখের সামনে থেকে দেখেছে। তারা দেখেছে, তাদের বাবা কীভাবে নিজের লক্ষ্যের জন্য লড়াই করেছে, কখনো হাল ছাড়েনি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রেখেছে। এরপর তারা নিজের চোখে দেখেছে, সে কীভাবে সব অর্জন করেছে এবং বিশ্বকাপ উচিয়ে ধরেছে।’মেসি ও আন্তোনেলার তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও চিরো। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৩, ১০ ও ৮ বছর। বাবার অর্জনের ব্যাপকতা তারা এখনো পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও তাঁকে নিয়ে গর্বিত বলে জানান আন্তোনেলা।তিনি লেখেন, হয়তো একদিন তারা সত্যিই বুঝতে পারবে তোমার গল্প কতটা বিশাল। কিন্তু আজ তারা শুধু তাদের বাবাকে নিয়ে গর্বিত।বার্তার শেষ দিকে মেসির প্রতি ভালোবাসা ও গর্বের কথা জানিয়ে আন্তোনেলা লেখেন, ‘আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত; তোমার পথচলা, তুমি যা কিছু অতিক্রম করে এসেছ এবং সবচেয়ে বেশি গর্বিত সেই মানুষটির জন্য, যে প্রতিটি মুহূর্তের পেছনে ছিল। তোমার পাশে থেকে এসব অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারা কত বড় সৌভাগ্য! আমরা তোমাকে অসীম ভালোবাসি।’ সূত্র: টিওয়াইসি স্পোর্টস

মেসির বিদায়ে স্ত্রী আন্তোনেলার পোষ্ট

হালান্ড-চেরকির জোড়া গোল, ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ গোলে হারাল সিটি

প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবার ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে গোলের উৎসব করে ৪-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। জোড়া গোল করেছেন আর্লিং হালান্ড ও রায়ান চেরকি।ম্যাচজুড়ে বল দখল, আক্রমণ ও লক্ষ্যে শট—সবদিকেই ছিল সিটির আধিপত্য। ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল সফরকারীরা। সিটির ৯টি শট লক্ষ্যে থাকলেও প্যালেসের অন-টার্গেট শট ছিল মাত্র একটি।শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে এডি এনকেটিয়ার কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা। চার মিনিট পর সিটির এলিয়ট অ্যান্ডারসনের জোরালো শটও এক হাতে ফিরিয়ে দেন প্যালেস গোলরক্ষক ডিন হ্যান্ডারসন।হেডারে হালান্ডের গোল১৭তম মিনিটে এগিয়ে যায় ম্যানচেস্টার সিটি। অ্যান্তোয়নে সেমেনিওর ক্রস থেকে ছয় গজ বক্সের বাইরে দাঁড়িয়ে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান হালান্ড। ক্রসবার ঘেঁষে নেওয়া তাঁর এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিটি।চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল সফরকারীরা। ফাঁকায় বল পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি ফিল ফোডেন। তাঁর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানেই।চেরকির দুই গোলদ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে প্যালেস। তবে এনকেটিয়ার শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।৫৪তম মিনিটে সিটির ব্যবধান বাড়ান রায়ান চেরকি। ফিল ফোডেনের পাস পেয়ে ডি-বক্সে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুই খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান তিনি।তবে দুই মিনিট পরই ভাগ্যের সহায়তায় ম্যাচে ফিরে আসে প্যালেস। ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর বলটি সিটির গোলরক্ষক দোন্নারুমার পিঠে লেগে জালে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-১।কিন্তু প্যালেসের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোল করে সিটির ব্যবধান আবার বাড়িয়ে দেন চেরকি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া জোরালো শট এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে হ্যান্ডারসনকে পরাস্ত করে।শেষ গোল হালান্ডেরম্যাচের ৮৪তম মিনিটে সিটির বড় জয় নিশ্চিত করেন হালান্ড। দূর থেকে এগিয়ে এসে ডি-বক্সে বল বাড়িয়ে দেন ফোডেন। সেই পাস পেয়ে কোনাকুনি শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন নরওয়ের এই ফরোয়ার্ড।শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি।এই ম্যাচে জোড়া গোল করে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে নিজের দুর্দান্ত রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন হালান্ড। প্যালেসের বিপক্ষে ছয় ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টি। প্রিমিয়ার লিগে নির্দিষ্ট কোনো দলের বিপক্ষে এটি তাঁর সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।এই জয়ে টানা দুই ম্যাচ অপরাজিত থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের তিন অবস্থানে রয়েছে ব্রাইটন, ব্রেন্টফোর্ড ও আর্সেনাল।

হালান্ড-চেরকির জোড়া গোল, ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ গোলে হারাল সিটি

জয়ের পর ড্রেসিংরুমে কেঁদেছিলেন রোনালদো

৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে আল-ইত্তিফাককে হারিয়েছে আল-নাসর। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আবেগ। সৌদি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব খালিদ আল-শানিফের দাবি, ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি পর্তুগিজ তারকা, ফুঁপিয়ে কেঁদেছেন তিনি।মঙ্গলবার চলতি মৌসুমে প্রথমবার আল-নাসরের শুরুর একাদশে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। ম্যাচের একপর্যায়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আল-নাসর। এর মধ্যে ১০ জনের দলে পরিণত হয় দলটি।প্রথমার্ধ শেষে রোনালদোকে তুলে নিয়ে আবদুল্লাহ আল-খাইবারিকে মাঠে নামানো হয়। সৌদি সাংবাদিক আল-শানিফ তার ‘দোরিনা গাইর’ অনুষ্ঠানে বলেন, ফিটনেসের কারণে প্রথমার্ধের পর মাঠ ছাড়ার অনুরোধ নিজেই করেছিলেন রোনালদো। তবে দল অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফিরে জয় পাওয়ার পর আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি তিনি।অন্যদিকে আল-নাসরের কোচ আঞ্জে পস্তেকোগলু রোনালদোকে তুলে নেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, রোনালদোর ৪৫ মিনিট খেলার পরিকল্পনাই ছিল।পস্তেকোগলু বলেন, প্রথম ম্যাচে রোনালদো ৩০ মিনিট খেলেছিলেন। এবার ধীরে ধীরে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যেই তাঁকে ৪৫ মিনিট খেলানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রোনালদো আরও কিছুক্ষণ মাঠে থাকতে চেয়েছিলেন। তারপরও তাঁকে তুলে নেওয়াটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে করেন কোচ।

জয়ের পর ড্রেসিংরুমে কেঁদেছিলেন রোনালদো

জোড়া অ্যাসিস্টে সমালোচনার জবাব নেইমারের

পারফরম্যান্স ও ফিটনেস নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ছিলেন নেইমার জুনিয়র। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সেই সমালোচনার জবাব দিলেন ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড। ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি।ম্যাচের শুরু থেকেই বল পায়ে বেশ সক্রিয় ছিলেন নেইমার। তাঁর ড্রিবলিং, গতি ও নিখুঁত পাসে প্রতিপক্ষের রক্ষণে একের পর এক চাপ তৈরি হয়। গোল না পেলেও সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।দুটি গোলই বানিয়ে দিয়ে ম্যাচে নিজের কার্যকারিতার প্রমাণ দেন নেইমার। তাঁর পাস ও মাঠের অবস্থান নেওয়ার দক্ষতা দলের আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করে তোলে।সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ফিটনেস ও পারফরম্যান্স নিয়ে ওঠা প্রশ্নের মধ্যে এমন পারফরম্যান্স নেইমারের জন্য স্বস্তির। মাঠের খেলায় নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তিনি।নেইমারের এই পারফরম্যান্সে ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, আগামী ম্যাচগুলোতেও তিনি এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখবেন।

জোড়া অ্যাসিস্টে সমালোচনার জবাব নেইমারের

ভারতের জায়গায় ‘আসিয়ান কাপে’ খেলতে চায় বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ‘ফিফা আসিয়ান কাপ’। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে ভারতের জায়গায় খেলার সুযোগ পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর বাইরে বিশেষ আমন্ত্রিত দল হিসেবে টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়েছিল ভারত। তবে শেষ পর্যন্ত তারা নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় শূন্যস্থান পূরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছে বাফুফে।বাফুফে কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, ‘এটি ফিফার টুর্নামেন্ট। ফিফার সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। সামনে ফিফা উইন্ডোতে আমাদের পরিকল্পনা তারা জানতে চেয়েছে। সুযোগ পেলে আমরা আসিয়ান কাপে খেলতে চাই।’সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোর জন্য এরই মধ্যে দুটি বিকল্প পরিকল্পনা করে রেখেছে বাফুফে। এর একটি ঘরের মাঠে বহুজাতিক টুর্নামেন্ট, অন্যটি কিরগিজস্তানে গিয়ে তিন জাতির টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া।তবে আসিয়ান কাপে খেলার সম্ভাবনা থাকায় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাফুফে। ফিফার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলে ঘরের মাঠের বহুজাতিক কিংবা কিরগিজস্তানের তিন জাতির টুর্নামেন্ট—কোনোটিতেই নাও খেলতে পারে বাংলাদেশ।ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আসিয়ান কাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়ার আশা করছে বাফুফে।আসিয়ান কাপে আটটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে চারটি দল। ভারতের পরিবর্তে বাংলাদেশ সুযোগ পেলে গ্রুপ পর্বে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলতে হবে হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমদের।

ভারতের জায়গায় ‘আসিয়ান কাপে’ খেলতে চায় বাংলাদেশ

এক দশক প্রেমের পর বিয়ের বন্ধনে রোনালদো-জর্জিনা

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। ১১ আগস্ট পর্তুগালের সৈকত শহর কাসকাইসে ঘরোয়া ও ব্যক্তিগত এক অনুষ্ঠানে তাঁদের বিয়ে হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের পাঁচ সন্তান।বিয়ের গুঞ্জন কয়েক দিন ধরেই চলছিল। শেষ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন রোনালদো ও জর্জিনা। প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, জর্জিনার হাতের ওপর রাখা রোনালদোর হাত। দুজনের অনামিকায় দেখা যায় বিয়ের আংটি। ছবির সঙ্গে ভালোবাসার প্রতীক এবং ‘সি’ ও ‘জি’ লিখেছেন রোনালদো।গত বছরের ১১ আগস্ট বাগদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন জর্জিনা। ঠিক এক বছর পর তাঁদের সম্পর্ক পেল নতুন পরিচয়। প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী হলেন তাঁরা।গুচি শোরুম থেকে শুরুরোনালদো ও জর্জিনার পরিচয় ২০১৬ সালে স্পেনের মাদ্রিদে। সে সময় জর্জিনা একটি গুচি শোরুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেখান থেকেই তাঁদের পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক।২০১৭ সালের শুরুতে প্রথমবার জনসমক্ষে একসঙ্গে দেখা যায় তাঁদের। একই বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনেন রোনালদো।এরপর থেকে ফুটবলের বাইরেও এই জুটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সম্মিলিত অনুসারীর সংখ্যা ৭৫ কোটির বেশি। ফ্যাশন ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতেও তাঁদের বিনিয়োগ রয়েছে।পাঁচ সন্তানকে ঘিরে পরিবাররোনালদোর বড় ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের জন্ম ২০১০ সালে। ২০১৭ সালে সারোগেসির মাধ্যমে যমজ সন্তান ইভা মারিয়া ও মাতেওর বাবা হন রোনালদো। একই বছর জর্জিনার ঘরে জন্ম নেয় তাঁদের মেয়ে অ্যালানা মার্টিনা।২০২২ সালে যমজ সন্তানের জন্মের সময় তাঁদের ছেলে অ্যাঞ্জেল মারা যায়। মেয়ে বেলা বেঁচে থাকে। বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁদের পাঁচ সন্তানই উপস্থিত ছিল।মাঠেও সাফল্যের দীর্ঘ তালিকাফুটবল ক্যারিয়ারে রোনালদোর অর্জনের তালিকাও দীর্ঘ। পেশাদার ক্যারিয়ারে তাঁর গোলসংখ্যা ৯৭৬। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের হয়ে সাফল্য পাওয়ার পর বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।ক্যারিয়ারে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর ও পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন রোনালদো। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়েও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও গোল করার রেকর্ড রয়েছে তাঁর।ফুটবল মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও দীর্ঘ সম্পর্কের পর নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন রোনালদো ও জর্জিনা।

এক দশক প্রেমের পর বিয়ের বন্ধনে রোনালদো-জর্জিনা

বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৬৮ বছর বয়সে মারা যাওয়া বাবা হোর্হে মেসিকে শেষ বিদায় জানাতে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ফিরেছেন লিওনেল মেসি।বাবার মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে রওনা দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা করে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রোজারিওতে পৌঁছান তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানরা। বিমানবন্দর থেকে পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে একটি ভ্যানে করে বের হন মেসি।রোজারিওর কাছের শহর পেরেজে হোর্হে মেসিকে সমাহিত করা হবে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, শেষকৃত্য হবে একান্ত পারিবারিক পরিসরে। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতেই বাবাকে শেষ বিদায় জানাবেন মেসি।তবে শেষকৃত্যের স্থান ঘিরে এরই মধ্যে ভিড় করেছেন মেসির অসংখ্য ভক্ত। প্রিয় তারকার কঠিন সময়ে পাশে থাকার বার্তা দিতেই সেখানে জড়ো হয়েছেন তাঁরা।মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারে হোর্হে মেসির অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছেলের পাশে ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে মেসির এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ফলে বাবার মৃত্যু মেসির ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারেও বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।হোর্হে মেসির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, রোজারিও সেন্ট্রাল ও নিউয়েলস ওল্ড বয়েজসহ ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাব ও প্রতিষ্ঠান মেসি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি

রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ফিওরেন্তিনায় ধারে মাস্তানতুয়োনো

আর্জেন্টিনার তরুণ প্রতিভা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোকে এক মৌসুমের জন্য ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্তিনায় ধারে পাঠিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই ক্লাব পৃথক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ফিওরেন্তিনায় থাকবেন ১৮ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। তবে ধারের চুক্তিতে তাকে স্থায়ীভাবে দলে নেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে আগামী মৌসুম শেষে ফিওরেন্তিনা চাইলেও মাস্তানতুয়োনোকে কিনতে পারবে না; তাঁকে রিয়াল মাদ্রিদেই ফিরতে হবে।বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় তরুণ হিসেবে গত বছর আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেট থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন মাস্তানতুয়োনো। তবে স্প্যানিশ ক্লাবটিতে তাঁর অভিষেক মৌসুম প্রত্যাশা অনুযায়ী উজ্জ্বল ছিল না। ৩৫ ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি গোল করেছেন মাত্র তিনটি। বেশির ভাগ ম্যাচেই বদলি হিসেবে খেলেছেন তিনি।জাতীয় দলের হয়ে অবশ্য এরই মধ্যে ইতিহাস গড়েছেন মাস্তানতুয়োনো। গত বছরের জুনে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর ২৯৬ দিন। এর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি।রিয়ালে নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়া এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারার কারণে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা দলেও জায়গা হয়নি তাঁর। ফিওরেন্তিনায় এক মৌসুম নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে ক্যারিয়ার নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য আরও মেলে ধরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মাস্তানতুয়োনো। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য এটি বিশেষ একটি দিন। দারুণ ইতিহাসসমৃদ্ধ এই ক্লাবে যোগ দেওয়ার জন্য আমি মুখিয়ে ছিলাম।’রিয়াল মাদ্রিদের প্রত্যাশা, ফিওরেন্তিনায় নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়ে এই তরুণ আর্জেন্টাইন আরও পরিণত হয়ে উঠবেন এবং ভবিষ্যতে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ফিওরেন্তিনায় ধারে মাস্তানতুয়োনো

২০৩২ সাল পর্যন্ত রিয়ালেই থাকছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নবায়ন করেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে খেলবেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটি জানায়, ভিনিসিয়াস চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছেন এবং আগামী ছয় বছর বার্নাব্যুতেই থাকবেন।নতুন চুক্তির আগে রিয়ালের সঙ্গে ভিনিসিয়াসের চুক্তির মেয়াদ ছিল আর মাত্র এক বছর। এ সময় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আর্সেনালও তাকে দলে ভেড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের পছন্দের ক্লাবেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা।২০১৮ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ভিনিসিয়াস। এর আগে ২০২২ সালেও একবার তাঁর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছিল ক্লাবটি।রিয়ালের হয়ে এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭৫ ম্যাচ খেলেছেন ভিনিসিয়াস। করেছেন ১২৮ গোল। ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, তিনটি লা লিগা এবং একটি কোপা দেল রে শিরোপা।

২০৩২ সাল পর্যন্ত রিয়ালেই থাকছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র

ফিফা বয়কটে অনড় উয়েফা, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে অনাস্থা

ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা হলেও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে তাদের ৫৫টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এখনো অনড় রয়েছে।এক বিবৃতিতে উয়েফা বলেছে, ফিফায় স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো এখনো পূরণ হয়নি। তাদের দাবি, শুধু বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা প্রত্যাহার করাই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে ফুটবলের কাঠামো ও প্রতিযোগিতার মালিকানা বিক্রির মতো উদ্যোগ আর না নেওয়ার নিশ্চয়তাও প্রয়োজন ছিল।বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতার স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণার পর উয়েফা সর্বসম্মতিক্রমে ফিফার সব ইভেন্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ওই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করেন এবং বুধবার মরক্কোয় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন পান।তবে উয়েফা বলছে, সেই সিদ্ধান্ত তাদের উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আস্থা নেই এবং এ অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।অন্যদিকে, ফিফা দাবি করেছে, তাদের কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলো সভাপতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে অতীতের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।এদিকে উয়েফা আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে, সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে তারা ফিফার কাছে একটি 'ডকুমেন্ট প্রিজারভেশন লেটার' পাঠিয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট কোনো নথি বা সম্ভাব্য প্রমাণ নষ্ট না করা হয়।সংকটের মধ্যেই উয়েফার ভাইস প্রেসিডেন্ট লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার বলেছেন, ফিফার পরবর্তী সভাপতিকে এমন একজন হতে হবে, যিনি বিশ্ব ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন এবং সত্যিকার অর্থে এই খেলার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করবেন।উয়েফার ঘোষিত বয়কটের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে পারে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর, যেদিন পোল্যান্ডে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা।

ফিফা বয়কটে অনড় উয়েফা, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে অনাস্থা