ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড, তবু দিওমান্দের গোলে রিয়ালের জয়

ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড, তবু দিওমান্দের গোলে রিয়ালের জয়

গোল বাতিল, ভিএআরের সিদ্ধান্ত, উত্তেজনা আর লাল কার্ড সব মিলিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নাটকীয় এক ম্যাচ দেখল দর্শকেরা। শেষ পর্যন্ত ইয়ান দিওমান্দের গোলে ভিয়ারিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে ম্যাচ শেষে আলোচনায় উঠে এসেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের চুল টানার ঘটনায় তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।শনিবারের ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। প্রথম দিকে ভিয়ারিয়ালের পাপে গুয়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে রিয়ালকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।পরে আলবার্তো মোলেইরো ও রেনাতো ভেইগার আক্রমণে চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা। এমবাপ্পের আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক পিটার গুলাকসি। ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের কর্নার থেকে ইব্রাহিম কোনাতের হেডও লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। আর্দা গুলারের শটও ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট।দিওমান্দের প্রথম গোলে এগিয়ে রিয়ালবিরতির পর দুই দলই আক্রমণের গতি বাড়ায়। ইয়ান দিওমান্দে শুরুতে একটি সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর ভিয়ারিয়ালের মোলেইরো ও গুয়ে একের পর এক আক্রমণে রিয়ালের রক্ষণকে চাপে ফেলেন। তবে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় গোল পায়নি সফরকারীরা।ম্যাচের এক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর এগিয়ে যায় রিয়াল। ভিয়ারিয়ালের রক্ষণ থেকে বল ফিরে এলে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। প্রতিপক্ষের বাধা কাটিয়ে তাঁর বাড়ানো থ্রু বল পেয়ে নিচু শটে দূরের কোণ দিয়ে জালে পাঠান দিওমান্দে।ক্লাবের হয়ে এটিই দিওমান্দের প্রথম গোল। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। শেষ পর্যন্ত গোলের স্বীকৃতি পায় রিয়াল।গোল বাতিল, সরাসরি লাল কার্ড ভিনিসিয়ুসেরগোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল রিয়াল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে এমবাপ্পের শট ঠেকিয়ে দেন গুলাকসি।এরপর জুড বেলিংহামের আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ভিনিসিয়ুস জালে বল পাঠালে রিয়ালের ডাগআউটে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কিন্তু ভিএআরের পর্যালোচনায় উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। গোলের আগে ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের নাথান সালিবার চুল টেনেছিলেন বলে দেখা যায়।ফলে গোলটি বাতিল করা হয়। একই ঘটনায় ৭২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। এতে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় রিয়ালকে।শেষ মুহূর্তের চাপ সামলে জয়ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ডের পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। রিয়ালের চার খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেন। অন্যদিকে বদলি হিসেবে নামা কার্লোস রোমেরো ও জেরার্ড মোরেনোর আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয় কোর্তোয়াকে।তবে শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয় রিয়াল। নাটকীয় ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।এই জয়ে আট ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। আর ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।

এমবাপ্পের জোড়া গোলে রায়োকে উড়িয়ে জয়ে ফিরল রিয়াল

চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে জয়ের পর লা লিগাতেও জয়ের ধারায় ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলের সঙ্গে জুড বেলিংহ্যামের এক গোলে রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।লা লিগার সর্বশেষ ম্যাচে রিয়াল বেটিসের কাছে হারের পর পয়েন্ট টেবিলে ধাক্কা খেয়েছিল রিয়াল। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার পর এবার ঘরের মাঠে দারুণ জয় পেল দলটি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শুরু থেকেই রায়োর ওপর চাপ তৈরি করে খেলতে থাকে রিয়াল। ম্যাচের ১৩ মিনিটে বক্সে আলভারো কারেয়াস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকেরা। স্পটকিক থেকে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। এর তিন মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে রিয়াল। এমবাপ্পের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর গোল করেন কারেয়াস নিজেই। মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যেই গোল ও অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েন এমবাপ্পে। ২০১৬ সালের পর এই প্রথম রিয়ালের কোনো খেলোয়াড় ম্যাচের এত দ্রুত সময়ে গোল ও অ্যাসিস্ট করলেন। ৩৫ মিনিটে রিয়ালের তৃতীয় গোলটি করেন জুড বেলিংহ্যাম। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছ থেকে পাওয়া দারুণ পাস প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠান ইংলিশ মিডফিল্ডার। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে স্বাগতিকেরা।দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে রায়ো। ৫১ মিনিটে রিয়াল ডিফেন্ডার অ্যান্টোনিও রুডিগারের ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন সার্জিও কামেলো। এতে ব্যবধান কমে হয় ৩-১। এরপর রায়ো একাধিকবার আক্রমণে উঠলে রিয়ালের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে রক্ষা করেন।ম্যাচের শেষ দিকে আর্দা গুলার মাঠে নামার পর রিয়ালের আক্রমণে আবারও গতি আসে। যোগ করা সময়ে গুলারের পাস থেকে বক্সে বল পেয়ে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। একই সঙ্গে এটি রিয়ালের চতুর্থ গোল। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে জোড়া গোল করে চলতি মৌসুমে লা লিগায় এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ৬-এ নিয়ে গেলেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৭।শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

এমবাপ্পের জোড়া গোলে রায়োকে উড়িয়ে জয়ে ফিরল রিয়াল

এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে হারাল রিয়াল

লা লিগায় দারুণ ছন্দে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এক গোলে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে তারা। জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন জুড বেলিংহ্যামও।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে প্রথম বড় সুযোগ পেয়েছিল সোসিয়েদাদ। ১১ মিনিটে মিকেল ওইয়ারজাবালের শট দারুণ দক্ষতায় পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।একই মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪০ মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। ফেদে ভালভার্দের বাড়ানো চমৎকার পাস নিয়ন্ত্রণ করে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড।তবে বিরতির ঠিক আগে রিয়ালের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নেয় সোসিয়েদাদ। দারুণ এক শটে গোল করে লুকা সুসিক ম্যাচে সমতা ফেরান।দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে রিয়াল। ৬০ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে।৮ মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ায় স্বাগতিকরা। সোসিয়েদাদের রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে বাইলাইন থেকে বেলিংহ্যামের বাড়ানো পাসে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ৩-১ করেন।ম্যাচের ৮০ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। ভিনিসিয়ুসের চমৎকার থ্রু পাস পেয়ে ছয় গজ বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি।শেষ দিকে ব্রাহিম দিয়াজের একটি গোল ভিএআরে বাতিল হয়ে যায়। গোলটি বৈধ হলে রিয়ালের জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বার জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ। ৪-১ গোলের দাপুটে জয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানও আরও শক্ত করেছে দলটি।

এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে হারাল রিয়াল

বার্সার গোলবন্যায় এলচে বিধ্বস্ত, রাফিনহার জোড়া গোল

স্প্যানিশ ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার লক্ষ্যেই নতুন লা লিগা মৌসুম শুরু করেছে বার্সেলোনা। মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই এলচেকে ৫-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে হান্সি ফ্লিকের দল। জয়ের রাতে জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনহা।ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। ম্যাচের ১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনহা। ফেরমিন লোপেজের থ্রু-বল ধরে বক্সে ঢোকার সময় এলচের ভিক্তর চুস্ত তাঁকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় বার্সা। স্পট-কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন রাফিনহা।এই গোলের মাধ্যমে বার্সেলোনার হয়ে পেনাল্টিতে শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড ধরে রাখেন তিনি। ক্লাবটির জার্সিতে নেওয়া ৯টি পেনাল্টির সব কটিতেই গোল করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান। ২০২২-২৩ মৌসুমে বার্সায় যোগ দেওয়ার পর স্প্যানিশ ফুটবলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পেনাল্টি থেকে তাঁর চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি কোনো খেলোয়াড়।প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রাফিনহার পাস থেকে লা লিগায় অভিষেক ম্যাচেই গোলের খাতা খোলেন করিম আদেয়েমি। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।বিরতির পরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে স্বাগতিকরা। ৬৭ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনহা। নতুন ক্লাবের হয়ে লা লিগা অভিষেকেই নজর কাড়েন গর্ডন। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি।৭১ মিনিটে গর্ডনের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে বার্সেলোনার চতুর্থ গোলটি করেন ফেরমিন লোপেজ। ম্যাচের শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ৫-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন ফেরমিন।এলচের পক্ষে ম্যাচে উল্লেখযোগ্য সুযোগ খুব বেশি ছিল না। বুয়োনানোত্তের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।তবে বড় জয়ের রাতেও বার্সেলোনার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে এসেছে গাভির চোট। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডান হাঁটুতে সমস্যা নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর জায়গায় মাঠে নামেন পেদ্রি। চোটের মাত্রা জানতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন কোচ হান্সি ফ্লিক।নতুন সাইনিং রদ্রি এই ম্যাচের স্কোয়াডে না থাকলেও এলচের বিপক্ষে বড় জয় দিয়ে লা লিগার নতুন মৌসুম শুরু করেছে বার্সেলোনা।

বার্সার গোলবন্যায় এলচে বিধ্বস্ত, রাফিনহার জোড়া গোল