লা লিগায় দারুণ ছন্দে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এক গোলে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে তারা। জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন জুড বেলিংহ্যামও।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে প্রথম বড় সুযোগ পেয়েছিল সোসিয়েদাদ। ১১ মিনিটে মিকেল ওইয়ারজাবালের শট দারুণ দক্ষতায় পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।একই মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪০ মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। ফেদে ভালভার্দের বাড়ানো চমৎকার পাস নিয়ন্ত্রণ করে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড।তবে বিরতির ঠিক আগে রিয়ালের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নেয় সোসিয়েদাদ। দারুণ এক শটে গোল করে লুকা সুসিক ম্যাচে সমতা ফেরান।দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে রিয়াল। ৬০ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে।৮ মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ায় স্বাগতিকরা। সোসিয়েদাদের রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে বাইলাইন থেকে বেলিংহ্যামের বাড়ানো পাসে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ৩-১ করেন।ম্যাচের ৮০ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। ভিনিসিয়ুসের চমৎকার থ্রু পাস পেয়ে ছয় গজ বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি।শেষ দিকে ব্রাহিম দিয়াজের একটি গোল ভিএআরে বাতিল হয়ে যায়। গোলটি বৈধ হলে রিয়ালের জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বার জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ। ৪-১ গোলের দাপুটে জয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানও আরও শক্ত করেছে দলটি।
স্প্যানিশ ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার লক্ষ্যেই নতুন লা লিগা মৌসুম শুরু করেছে বার্সেলোনা। মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই এলচেকে ৫-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে হান্সি ফ্লিকের দল। জয়ের রাতে জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনহা।ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। ম্যাচের ১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনহা। ফেরমিন লোপেজের থ্রু-বল ধরে বক্সে ঢোকার সময় এলচের ভিক্তর চুস্ত তাঁকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় বার্সা। স্পট-কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন রাফিনহা।এই গোলের মাধ্যমে বার্সেলোনার হয়ে পেনাল্টিতে শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড ধরে রাখেন তিনি। ক্লাবটির জার্সিতে নেওয়া ৯টি পেনাল্টির সব কটিতেই গোল করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান। ২০২২-২৩ মৌসুমে বার্সায় যোগ দেওয়ার পর স্প্যানিশ ফুটবলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পেনাল্টি থেকে তাঁর চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি কোনো খেলোয়াড়।প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রাফিনহার পাস থেকে লা লিগায় অভিষেক ম্যাচেই গোলের খাতা খোলেন করিম আদেয়েমি। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।বিরতির পরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে স্বাগতিকরা। ৬৭ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনহা। নতুন ক্লাবের হয়ে লা লিগা অভিষেকেই নজর কাড়েন গর্ডন। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি।৭১ মিনিটে গর্ডনের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে বার্সেলোনার চতুর্থ গোলটি করেন ফেরমিন লোপেজ। ম্যাচের শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ৫-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন ফেরমিন।এলচের পক্ষে ম্যাচে উল্লেখযোগ্য সুযোগ খুব বেশি ছিল না। বুয়োনানোত্তের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।তবে বড় জয়ের রাতেও বার্সেলোনার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে এসেছে গাভির চোট। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডান হাঁটুতে সমস্যা নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর জায়গায় মাঠে নামেন পেদ্রি। চোটের মাত্রা জানতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন কোচ হান্সি ফ্লিক।নতুন সাইনিং রদ্রি এই ম্যাচের স্কোয়াডে না থাকলেও এলচের বিপক্ষে বড় জয় দিয়ে লা লিগার নতুন মৌসুম শুরু করেছে বার্সেলোনা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।