জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় তাঁকে সাময়িকভাবে জাতীয় দল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত মেয়াদ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে ৪১ বছর বয়সী এই তারকার এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিতর্কের
শুরু উয়েফা নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে
ম্যাচ ঘিরে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর
অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে
দীর্ঘ সময় ওয়ার্মআপ করলেও
রোনালদোকে বদলি হিসেবে মাঠে
নামানো হয়নি। রোনালদোর দাবি, কোচ জর্জে জেসুস
তাঁকে ৩০ মিনিট খেলার
সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু
শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সুযোগ
না পাওয়ায় কোচের ওপর আস্থা হারান
তিনি।
এরপর
ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোচের সঙ্গে
তাঁর বিরোধ আরও তীব্র হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোকে নিয়ে কিছু বিষয়
পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও
জেসুস তা রাখেননি বলে
অভিযোগ করেন এই পর্তুগিজ
তারকা। এ ঘটনার পরই
জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে
চলে যান তিনি।
ঘটনার
পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের আচরণের জন্য সতীর্থ ও
সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান
রোনালদো। তবে কোচের বিরুদ্ধে
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একই
সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে খেলা
চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ জানিয়ে বলেন, শাস্তি দেওয়া হলে তা ভোগ
করার পরও পর্তুগালের হয়ে
খেলতে প্রস্তুত থাকবেন।
পর্তুগিজ
ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, যথাযথ অনুমতি ছাড়া জাতীয় দলের
ক্যাম্প ত্যাগ করলে এক থেকে
ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার
বিধান রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছয়
মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে আগামী নভেম্বরের
আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না রোনালদো। একই
সঙ্গে ২০২৭ সালের মার্চে
নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালেও তাঁর খেলা অনিশ্চিত
হয়ে পড়বে।
তবে রোনালদোকে শেষ পর্যন্ত কত দিনের শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর ক্ষমা চাওয়া ও ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে শৃঙ্খলা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতার জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ এখন ফেডারেশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।