ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

আইন-কানুন

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি

ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন পরীমনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১১ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী। পরে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি এজলাসে প্রবেশ করেন। তাঁর উপস্থিতিতেই জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।বেলা ১২টার দিকে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনির দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। পরে গাড়িতে ওঠার সময় এক সাংবাদিক তাঁর গায়ে হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পরীমনি। এ নিয়ে ওই সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন তিনি। পরে অবশ্য ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাএর আগে বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হয়ে তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।তবে এ আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিলের আবেদন করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।পরে আদালত পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করে তাঁর জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন।তদন্তে পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতামামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।২০২১ সালে বোট ক্লাবে ঘটনার অভিযোগে মামলা২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি করেন। পরীমনিসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।মামলার এজাহারে নাছির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। তাঁরা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং পরে ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাছির উদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাঁকে ডাকেন এবং কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে বসতে বলেন। একপর্যায়ে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ করেন নাছির।মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমনি একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মুঠোফোন নাছির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। পাশাপাশি তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়।নাছির উদ্দিনের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে তাঁরসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।তবে মামলার এসব অভিযোগ বিচারাধীন। আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।

শেখ হাসিনা ও কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে আজই চিঠি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবারই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। চিঠিটি ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে সাজা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে আসামিদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল আর আপিলের সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা নেই।

শেখ হাসিনা ও কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে আজই চিঠি

শাপলা চত্বর মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও হতাহতের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ রোববার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ শুনানি হবে।ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।এর আগে গত ৭ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে ওই দিন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়।গ্রেপ্তার ১১, পলাতক ৩০ আসামিগত ২৭ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়।মামলায় বর্তমানে মোট ১১ জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা।গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁদের পলাতক বিবেচনায় নিয়ে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়।পলাতক আসামিদের তালিকায় যাঁরামামলায় পলাতক ৩০ আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক।এ ছাড়া সাবেক পরিবেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার এ তালিকায় রয়েছেন।পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মারুফ হাসান, অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম।এ ছাড়া তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অব.) এসএম শিবলী নোমান এবং মতিঝিল থানার তৎকালীন ওসি বিএম ফরমান আলীও রয়েছেন।প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছেমামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়েছিল। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন।অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের রাতের মধ্যেই শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়।প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নির্দেশের পর তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যৌথ সভা করেন। সেখানে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য বাহিনীগুলো আলাদা নাম ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, র‍্যাবের ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবির ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। পরে অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়।রাতের অভিযানে হতাহতের অভিযোগপ্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শাপলা চত্বরে সর্বোচ্চ মাত্রায় অভিযান শুরু হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমাবেশস্থলে থাকা হেফাজতের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট গ্রেনেড, খণ্ড-বল প্রজেক্টাইল ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেন।অভিযোগে বলা হয়েছে, এতে সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নেতাকর্মীরা জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে শর্টগান ও মারণাস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।প্রসিকিউশনের বর্ণনায়, হেফাজতের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পথে ঢাকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাতের অভিযান এবং দিনভর হামলা ও আক্রমণে শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩২ জন নেতাকর্মী শহীদ ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাধানীনগরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।এসব ঘটনার ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।অভিযোগ গঠনের শুনানি কেন গুরুত্বপূর্ণআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানি মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পর্যায়ে প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পায়।ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত নিলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরবর্তী ধাপে এগোবে। তবে অভিযোগ গঠন বা অভিযোগপত্র দাখিলের অর্থ এই নয় যে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা এই মামলায় আজকের শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল কী সিদ্ধান্ত দেন, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

শাপলা চত্বর মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

তাহসিফ হত্যা মামলা: সিসিটিভি ফুটেজে নতুন তথ্য, রহস্যের কেন্দ্রে সেই তরুণী

বিমানবাহিনীর বরখাস্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার রাতে টঙ্গীতে দায়িত্ব পালন করা টহল পুলিশের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোডের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় অবস্থান করেছিলেন তাহসিফ ও তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার জামান দীপ। তাঁদের সঙ্গে ২৪ থেকে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীও ছিলেন। ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।এদিকে তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, দীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, টহল পুলিশের সদস্যদের বর্ণনা এবং স্থানীয়দের তথ্যের কিছু অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে। তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।নেস্ট বারে এক ঘণ্টার বেশিতদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার দিন উত্তরার নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে তাহসিফের সঙ্গে ওই তরুণীকে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস পরা অবস্থায় দেখা গেছে। বারে প্রবেশের সময় তাঁর হাতে একটি সাদা পলিথিন ছিল। এ সময় হেলমেট পরা দীপও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার রাতে মোটরসাইকেলে করে তাহসিফ নেস্ট বারে আসেন এবং পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। ওই সময় তাঁর সঙ্গে একজন তরুণী ছিলেন। তাঁরা বার থেকে তিন বোতল মদ কিনে পান করেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। পরে তাঁরা টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকার দিকে যান।তদন্তকারীরা ওই তরুণীকে খুঁজছেন। তাঁদের ধারণা, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।ছায়া তদন্তে যুক্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্য অন্যান্য আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।মামলার তদন্ত করছে নৌপুলিশ। সংস্থাটির পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মাসুমা আক্তার বলেন, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।টহল পুলিশের বক্তব্যে নতুন প্রশ্নতাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের যে দলটি টহলে ছিল, তাদের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় দীপের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়েছিল। তখন তাঁর শরীরে কাদা ও নোংরা আবর্জনা লেগে ছিল।টহল দলের এক সদস্য তদন্তকারীদের জানান, দীপের প্যান্টের নিচের অংশ ও জুতায় কাদা, ময়লা পানি এবং মলমূত্রের মতো পদার্থ লেগে ছিল। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে দীপ নিজেকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন বলে পরিচয় দেন। পরে তাঁকে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়।পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দীপের শরীরে ময়লা লাগার বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কী কারণে তাঁর পোশাকে এসব লেগেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।দীপের দাবি, ঘটনার রাতে মাদক সেবনের অভিযোগে টহল পুলিশ তাঁদের ধাওয়া করেছিল। এ সময় তিনি একদিকে এবং তাহসিফ অন্যদিকে দৌড়ে চলে যান।তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীপের এই বর্ণনার সঙ্গে অন্যান্য তথ্যের কিছু গরমিল রয়েছে। বিশেষ করে টহল পুলিশের সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার আগের সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা।হাজী মাজার বস্তিতে কী ঘটেছিলতদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঘটনার রাতে তাহসিফ ও দীপকে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তির প্রবেশপথ এলাকায় দেখা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা একাধিকবার ওই এলাকায় যাওয়া-আসা করেছিলেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।তদন্তকারীরা ওই এলাকায় মাদক সেবনের সম্ভাব্য ঘটনাও খতিয়ে দেখছেন। তাঁদের প্রাথমিক ধারণা, তাহসিফ ও দীপ সেখানে ইয়াবা অথবা হেরোইন সেবন করে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা জানায়নি তদন্ত সংস্থা।দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, টহল পুলিশ তাঁদের মাদক সেবনকারী সন্দেহে ধাওয়া করলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। আর দীপ ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পাশে লুকিয়ে থেকে পরে সেখান থেকে চলে যান।তবে পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখছেন তাঁরা। ঘটনার প্রকৃত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ঘটনার কাছাকাছি সময়ে তাহসিফ ও দীপের ফোনে করা যোগাযোগগুলো। সূত্রের দাবি, ওই সময় তাহসিফের ফোন থেকে তাঁর মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে দীপও মোহাম্মদপুরে তাঁর বাসার দারোয়ানকে ফোন করে ফিরতে দেরি হবে জানিয়ে গেট খোলা রাখার অনুরোধ করেছিলেন।এই যোগাযোগগুলোর সময় ও ঘটনার অন্যান্য তথ্যের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।দুই বন্ধুর ফোন ফরেনসিক পরীক্ষায়তাহসিফ ও দীপের মোবাইল ফোনের কললিস্ট এবং হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অ্যাপের যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের জন্য তাঁদের ফোন ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, দীপের বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য আলামতের অসংগতি থাকায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে। তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে দীপের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ বা দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।চার দিনের রিমান্ডে দীপতাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা এনায়েতুল করিম গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে থাকা দীপকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।গত শনিবার দুপুরে দীপকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।সংস্থাটির ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, তাহসিফের বাবার করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।আদালত থেকে বেরিয়ে আইনজীবী আজিজুল হক দিদার সাংবাদিকদের বলেন, তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাঁকে কেন হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং এর পেছনে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আসামির সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।আইনজীবী আরও বলেন, তাহসিফকে হত্যার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিকভাবে আলোচিত একটি ছবি বা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।তাহসিফের ব্যক্তিগত জীবনও তদন্তেতদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তাহসিফের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও পরিচিতজনদের সম্পর্কের বিষয়গুলোও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখতেন, ঘটনার আগে কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন—এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে সেগুলোকে মৃত্যুর কারণের সঙ্গে যুক্ত করা যাচ্ছে না বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে।নৌপুলিশের তদন্তে পিবিআই সহযোগিতা করছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ফোনের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত মিলিয়ে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।তাহসিফের বাসায় রাওয়ার প্রতিনিধিদলএদিকে গত শনিবার রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) একটি প্রতিনিধিদল তাহসিফের বাসায় যায়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন রাওয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু নাওয়াজ খুরশিদ আলম। এ সময় সংগঠনটির সদস্য মেজর (অব.) আল-আমিনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।তাঁরা তাহসিফের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সান্ত্বনা দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও রহস্য উদ্‌ঘাটনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।উত্তরার বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজগত মঙ্গলবার উত্তরার রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের বাসা থেকে বের হন বিমানবাহিনীর বরখাস্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। পরদিন বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ।উদ্ধারের সময় তাঁর পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁর বাবা উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন।এখন পর্যন্ত তদন্তে নেস্ট বারে অবস্থান, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় যাতায়াত, টহল পুলিশের সঙ্গে দীপের সাক্ষাৎ এবং দুই বন্ধুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে তাহসিফের মৃত্যু কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে কারও অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্তের ফল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা করতে হবে।

তাহসিফ হত্যা মামলা: সিসিটিভি ফুটেজে নতুন তথ্য, রহস্যের কেন্দ্রে সেই তরুণী

সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চার্জশিটের অনুমোদন দিল দুদক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।রোববার দুদকের এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগ পেতে সিভিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে। অন্য মামলাটি সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগে।দুদকের অভিযোগ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য জমা দেওয়া সিভিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ‘অনারারি স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট’ হিসেবে কাজ করার তথ্য দেন সায়মা ওয়াজেদ। দুদকের দাবি, ওই তথ্য ছিল মিথ্যা ও বানোয়াট। এ তথ্য ব্যবহার করেই তিনি সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।সিভিতে অভিজ্ঞতা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগদুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, সায়মা ওয়াজেদ ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এসব কার্যক্রম চালান। সিভিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে দুদক।তদন্তসংশ্লিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি খোলা ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ না দিয়েই চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, জাতিসংঘের কার্যালয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তরে এসব তথ্য পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ওই পদে নিয়োগ পান বলে দুদকের তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।শিক্ষকতা ও শিক্ষা ম্যানুয়েল পর্যালোচনার দাবিদুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ওরফে সায়মা ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আবেদন করার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরি বা পর্যালোচনাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তবে এসব কাজে তিনি অংশ নেননি বলে অভিযোগ করেছে দুদক।এজাহারে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমে ২০১৭ সালে অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন নিযুক্ত হন সায়মা ওয়াজেদ। ওই দায়িত্বে থাকার সময় ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় জমা দেওয়া সিভিতে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও শিক্ষা ম্যানুয়েল পর্যালোচনার কাজে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত কারিগরি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেন।দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার মাধ্যমে তিনি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।এখন সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে মামলাটিতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চার্জশিটের অনুমোদন দিল দুদক

বাসচালকের চোখ হারানোর মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে বাসচালক মামুনের (২৫) বাম চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক আওলাদ হুসাইন এ মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।আবেদনে বলা হয়, দুই আসামি বর্তমানে অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁরা আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ মামলার তদন্তেও তাঁদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ অন্য আইনজীবীরা গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।যেভাবে চোখ হারান বাসচালক মামুনমামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকাল নয়টা থেকে মামুনের বন্ধু হোসেন, খোকন, আরিফসহ অনেকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। ওই দিন বিকেল তিনটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ফ্লাইওভারের ওপর অবস্থান করছিলেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।গুলিতে মামুনের শরীরের বিভিন্ন স্থান, বাম চোখ ও মাথা জখম হয়। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ইসলামিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বাম চোখের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসার একপর্যায়ে তাঁর বাম চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।আগে যেভাবে গ্রেপ্তার হন আনিসুল হক ও পলক২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে রয়েছেন।অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানীর খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে পল্টন থানায় করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনিও কারাগারে রয়েছেন।

বাসচালকের চোখ হারানোর মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

সুইডেনের বিপিসিএন অ্যাওয়ার্ড পেলেন আইনজীবী শিশির মনির

আইনের শাসন, মানবাধিকার ও বিচারপ্রার্থীদের মর্যাদা রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সুইডেনের পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশি প্রফেশনালস অ্যান্ড কমিউনিটি নেটওয়ার্কের (বিপিসিএন) ২০২৬ সালের অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।গত শনিবার ‘জুলাই-পরবর্তী স্টকহোমে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার শেষে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন সংগঠনটির সভাপতি ড. আকতার হোসাইন। আইনের শাসন, মানবাধিকার ও বিচারপ্রার্থী মানুষের মর্যাদা রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শিশির মনিরকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় প্রবাসী পেশাজীবীদের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রবাসী দক্ষ পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন।ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ড. আকতার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারটি পরিচালনা করেন বিপিসিএনের সেক্রেটারি ও স্নায়ুবিজ্ঞানী ড. তৌহিদুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে বিপিসিএন সুইডেনের বোর্ড সদস্যরা ছাড়াও বিভিন্ন পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রবাসী দক্ষ পেশাজীবীদের অবদান রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অনুষ্ঠানে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

সুইডেনের বিপিসিএন অ্যাওয়ার্ড পেলেন আইনজীবী শিশির মনির

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা, আয়াসসহ চারজন রিমান্ডে

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আ ন ম আয়াস ও সাকিবুল হাসানের তিন দিন করে এবং সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।শাহবাগ থানার তদন্ত কর্মকর্তা চার আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এর আগে শনিবার শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দিয়ে মোছার চেষ্টা করেন আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় পুলিশ বাধা দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের আটক করা হয়।এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হক বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।যেভাবে শুরুগত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ফুটপাতসংলগ্ন দেয়ালে ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি পেজ থেকে প্রতিকৃতিগুলোর সমালোচনা করা হয়। এর পরদিন আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একটি দল দেয়ালে আঁকা প্রতিকৃতিগুলো মোছার চেষ্টা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। মামলার অভিযোগগুলো বিচারাধীন; আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা, আয়াসসহ চারজন রিমান্ডে

৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বুধবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি হবে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।গত ২৭ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে এ মামলায় মোট ১১ আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। পরে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ৩০ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।গ্রেপ্তার ১১ আসামিমামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।যাঁরা পলাতকপলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ।এ তালিকায় আরও রয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বিএম ফরমান আলী।প্রসিকিউশনের অভিযোগমামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে তৎকালীন সরকার পরিকল্পিতভাবে হেফাজতে ইসলামের নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের ওপর গণহত্যা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।প্রসিকিউশনের দাবি, ওই বৈঠক থেকে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের যেকোনো উপায়ে রাতের মধ্যে শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বৈঠক হয়। সেখানে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য বাহিনীগুলো আলাদা নাম ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, র‍্যাবের ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবির ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। পরে পুরো অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়।প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু হয়। সমাবেশস্থলে থাকা হেফাজতের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট গ্রেনেড, রাবার বল প্রজেক্টাইল ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এতে সেখানে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন এবং আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শর্টগান ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালান। শাপলা চত্বর থেকে বের হয়ে ঢাকা ছাড়ার চেষ্টা করার সময় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হামলারও শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রসিকিউশনের দাবি, রাতের অভিযান এবং দিনব্যাপী হামলা ও সংঘর্ষে শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩২ জন নেতা-কর্মী নিহত ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাধানীনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আশপাশে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।

৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ১ দিনের রিমান্ডে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত শুনানি শেষে এই রিমান্ড আদেশ দেন।এর আগে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ঢাকার বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম।পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থানে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আঘাত করার মাধ্যমে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাভাবিক আগমন ও সেবা প্রাপ্তি ব্যাহত হয়।আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো কুচক্রী মহলের ইন্ধন ছিল কি না, তা উদঘাটন করা প্রয়োজন। সময় স্বল্পতার কারণে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনার পেছনের মূল রহস্য ও কারণ উদঘাটনে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন। উল্লেখ্য, গতকাল ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন ধামাল কোট এলাকার ১০ নম্বর রোডের ৩৫ নম্বরের নিজ বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ১ দিনের রিমান্ডে

মরিয়মের মৃত্যুর মামলা আপসে, জামিন পেলেন গাজী নজরুলের স্ত্রী

নিহত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আপস-মীমাংসা করেছেন তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। তবে আপসের পরও জামিন পাননি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। এ মামলায় কারাগারে থাকা তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেয়েছেন।বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে আসামিদের পক্ষে হলফনামা দেন মরিয়মের বাবা। পরে আদালত তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন।আদালতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর জামিনের আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান নজরুল। তবে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ওই আবেদনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করা হয়।এর আগে গত সোমবার দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেদিন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে শয়নকক্ষে থাকতেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে মাঝেমধ্যে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় রাত কাটাতে হতো। মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়ার কথা আদালতকে জানিয়েছিল পুলিশ।গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে কিছু চিরকুটও পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মরিয়মের মৃত্যুর মামলা আপসে, জামিন পেলেন গাজী নজরুলের স্ত্রী

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই অভ্যুত্থান দমনে নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রোববার সকালে প্রকাশ করা হয়েছে।রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। এর আগে গত ৫ জুলাই বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।যে তিন অভিযোগে সাজা৩ নম্বর অভিযোগে সাক্ষী রাইসুল হকসহ ভুক্তভোগীদের রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও আহত করার দায়ে ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।৬ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের দায়ে তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।৭ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্রের দায়ে তাঁকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর ওপর আরোপিত সব সাজা যুগপৎ চলবে। ফলে সব মিলিয়ে তাঁকে ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, এ রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।আট অভিযোগের বিবরণইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। এতে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়।প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাও’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বল প্রয়োগের উসকানি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন ইনু।দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় সারা দেশে সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্তে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে দমন ও হত্যার নির্দেশ দেন তিনি।চতুর্থ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ২৭ জুলাই ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’-এ আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন ইনু।ষষ্ঠ অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।সপ্তম অভিযোগে ৪ আগস্ট আন্দোলনকারীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে কারফিউ জারি, গুলি বর্ষণের কঠোর সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা এলাকায় ইনুর নির্দেশে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।তবে রায়ে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়াপ্রসিকিউশনের তদন্ত দল ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কৌঁসুলি আব্দুস সোবহান তরফদারের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ১ ডিসেম্বর প্রথম সাক্ষী হিসেবে মেহেরপুরের বাসিন্দা রাইসুল হকের জবানবন্দি নেওয়া হয়।বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। আসামিপক্ষের দুজন সাফাই সাক্ষীও সাক্ষ্য দেন। মামলায় ২০ সিরিজের নথি ও পাঁচটি বস্তুগত আলামত উপস্থাপন করা হয়।গত ১১ মার্চ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য দেন ইনু। সেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে কাল্পনিক, বিদ্বেষপ্রসূত ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।২ এপ্রিল তাঁর পুনর্তদন্ত ও সাক্ষী তলবের আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর আসামিপক্ষ টানা নয় দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। ৬ মে ইনুর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী যুক্তিতর্ক শেষ করে খালাস দাবি করেন। ১৪ মে প্রসিকিউশনও যুক্তিতর্ক শেষ করে। পরে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক জীবন২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসা থেকে হাসানুল হক ইনুকে আটক করা হয়। শুরুতে নিউ মার্কেট থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্যে ২১ আগস্ট কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানো মামলার সংখ্যা ৮৭টি। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।১৯৪৬ সালের ১২ নভেম্বর জন্ম নেওয়া হাসানুল হক ইনু ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি করেন। ১৯৭২ সালে জাসদ গঠনের সময় তিনি প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০২ সাল থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাইয়ের গণহত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই আন্দোলন ঘিরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাঁদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জুলাইয়ে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয়জন হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড, প্রতিটি কথোপকথনের ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য সহায়ক প্রমাণও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। তাঁর দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।এর আগে ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত যুক্তিতে সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম দাবি করেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ ওবায়দুল কাদের দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে আইনজীবী এম হাসান ইমাম বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর তিন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসিবিলিটির ক্ষেত্রে তিনি শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, তাঁর মক্কেলরা কাউকে হত্যা করেননি এবং হত্যার নির্দেশও দেননি।ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তাঁর মক্কেলদের নাম আসেনি। অধীনস্থ নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হলেও মামলায় কোনো নারী সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং তাঁর মক্কেলদের খালাস চান।রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম যুক্তি দেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’-এর নীতি প্রযোজ্য। একই উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠী অপরাধ করলে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও ওই গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য দায়ী হতে পারেন। তাঁর দাবি, ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশের পর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় যুক্ত হন।মামলাটি প্রথমে ৫/২০২৫ নম্বর মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত বছরের ১৮ জুন তদন্ত শুরু করে এবং ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং একই দিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ২৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২ আগস্ট। ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

জুলাইয়ের গণহত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারি করা পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করা হয়েছে।রোববার ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির রিট আবেদনটি দায়ের করেন।রিটের আবেদনকারীরা হলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শানেওয়াস, অ্যাডভোকেট ছাব্বির রহমান, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষার্থী শামীম শাহিদী, মো. রাফিউল সাব্বির ও হাবিবুর রহমান আল হাসান।আবেদনে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা পরিপত্রটি বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, ওই পরিপত্র বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এবং ‘বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য’ মামলায় আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।রিট আবেদনে ২০২৫ সালের একটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বছরের ২ মার্চ একই ধরনের একটি পরিপত্র জারি করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ৬ মার্চ সুয়োমোটো রুল নং ৩/২০২৫-এ এর কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।পরে ৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে ওই পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, আদালতের আগের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নতুন করে এ ধরনের পরিপত্র জারি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, এতে বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।রিটে নতুন পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিত করার পাশাপাশি এটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারপতি ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য পূর্ববর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

ওবায়দুল কাদের ও হানিফ সহ ৭ জনের মামলার রায় ৮ সেপ্টেম্বর

জুলাই আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলার রায় চলতি সেপ্টেম্বরেই ঘোষণা হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করার জন্য প্রাথমিকভাবে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রোববার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির মামলার রায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঘোষণা করা হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রমই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলাগুলো রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির।ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলাওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।গত ১৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দমন, হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এ বিষয়ে বিভিন্ন অডিও ও ভিডিও প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বাহাউদ্দিন নাছিমও উপস্থিত ছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।এ ছাড়া যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিখিলের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একটি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের কথাও জানিয়েছে প্রসিকিউশন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের নেতৃত্বের বিষয়টিও প্রসিকিউশনের যুক্তিতে উঠে আসে।মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছেন।চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, সাত আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের যাবতীয় প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলো যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা করছেন।গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছিল।কুষ্টিয়ার মামলায় চার আসামিজুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মামলায় মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামি রয়েছেন।হানিফ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।এই মামলায় ১৯ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর গত ১০ জুন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও দুজন সাক্ষী উপস্থাপনের আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে। গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং পরদিন তা আমলে নেওয়া হয়।

ওবায়দুল কাদের ও হানিফ সহ ৭ জনের মামলার রায় ৮ সেপ্টেম্বর

গুমের বিচার নিশ্চিত না হলে আইন-কমিশন না থাকাই ভালো: নূর খান

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সংঘটিত গুমের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার স্পষ্ট সুযোগ না থাকলে এ–সংক্রান্ত আইন বা কমিশন না থাকাই ভালো বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার কর্মী ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) উপদেষ্টা নূর খান লিটন।শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এইচআরএসএস আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।নূর খান লিটন বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্তে কার্যকর এখতিয়ার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি নিখোঁজ মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।আলোচনায় আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহীদুল আলম বলেন, কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেই বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে তদন্ত করা হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ড. নাবিলা ইদ্রিস গুম–সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এক বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য বাহিনী তদন্ত করলেও স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা থেকে যায়। এ ছাড়া তদন্তে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে চিঠির জবাব দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় আইনটি সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।গোলটেবিল আলোচনা থেকে গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত, অতীতের গুমের বিচার, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি নির্ধারণ, গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়নে রোডম্যাপ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ সংশোধনসহ ১২ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরে এইচআরএসএস।সংগঠনটি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, ভুক্তভোগী ও পরিবারের ‘সত্য জানার অধিকার’, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, সাক্ষী ও অভিযোগকারীর সুরক্ষায় আইন এবং ‘আয়ানাঘর’সহ গোপন আটককেন্দ্রগুলোর তথ্য সংরক্ষণেরও দাবি জানায়। সভায় এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম এবং ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বক্তব্য দেন।

গুমের বিচার নিশ্চিত না হলে আইন-কমিশন না থাকাই ভালো: নূর খান