ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

আইন-কানুন

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই অভ্যুত্থান দমনে নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রোববার সকালে প্রকাশ করা হয়েছে।রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। এর আগে গত ৫ জুলাই বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।যে তিন অভিযোগে সাজা৩ নম্বর অভিযোগে সাক্ষী রাইসুল হকসহ ভুক্তভোগীদের রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও আহত করার দায়ে ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।৬ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের দায়ে তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।৭ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্রের দায়ে তাঁকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর ওপর আরোপিত সব সাজা যুগপৎ চলবে। ফলে সব মিলিয়ে তাঁকে ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, এ রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।আট অভিযোগের বিবরণইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। এতে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়।প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাও’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বল প্রয়োগের উসকানি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন ইনু।দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় সারা দেশে সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্তে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে দমন ও হত্যার নির্দেশ দেন তিনি।চতুর্থ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ২৭ জুলাই ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’-এ আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন ইনু।ষষ্ঠ অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।সপ্তম অভিযোগে ৪ আগস্ট আন্দোলনকারীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে কারফিউ জারি, গুলি বর্ষণের কঠোর সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা এলাকায় ইনুর নির্দেশে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।তবে রায়ে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়াপ্রসিকিউশনের তদন্ত দল ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কৌঁসুলি আব্দুস সোবহান তরফদারের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ১ ডিসেম্বর প্রথম সাক্ষী হিসেবে মেহেরপুরের বাসিন্দা রাইসুল হকের জবানবন্দি নেওয়া হয়।বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। আসামিপক্ষের দুজন সাফাই সাক্ষীও সাক্ষ্য দেন। মামলায় ২০ সিরিজের নথি ও পাঁচটি বস্তুগত আলামত উপস্থাপন করা হয়।গত ১১ মার্চ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য দেন ইনু। সেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে কাল্পনিক, বিদ্বেষপ্রসূত ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।২ এপ্রিল তাঁর পুনর্তদন্ত ও সাক্ষী তলবের আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর আসামিপক্ষ টানা নয় দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। ৬ মে ইনুর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী যুক্তিতর্ক শেষ করে খালাস দাবি করেন। ১৪ মে প্রসিকিউশনও যুক্তিতর্ক শেষ করে। পরে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক জীবন২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসা থেকে হাসানুল হক ইনুকে আটক করা হয়। শুরুতে নিউ মার্কেট থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্যে ২১ আগস্ট কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানো মামলার সংখ্যা ৮৭টি। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।১৯৪৬ সালের ১২ নভেম্বর জন্ম নেওয়া হাসানুল হক ইনু ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি করেন। ১৯৭২ সালে জাসদ গঠনের সময় তিনি প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০২ সাল থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

জুলাইয়ের গণহত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই আন্দোলন ঘিরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাঁদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জুলাইয়ে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয়জন হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড, প্রতিটি কথোপকথনের ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য সহায়ক প্রমাণও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। তাঁর দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।এর আগে ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত যুক্তিতে সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম দাবি করেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ ওবায়দুল কাদের দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে আইনজীবী এম হাসান ইমাম বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর তিন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসিবিলিটির ক্ষেত্রে তিনি শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, তাঁর মক্কেলরা কাউকে হত্যা করেননি এবং হত্যার নির্দেশও দেননি।ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তাঁর মক্কেলদের নাম আসেনি। অধীনস্থ নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হলেও মামলায় কোনো নারী সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং তাঁর মক্কেলদের খালাস চান।রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম যুক্তি দেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’-এর নীতি প্রযোজ্য। একই উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠী অপরাধ করলে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও ওই গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য দায়ী হতে পারেন। তাঁর দাবি, ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশের পর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় যুক্ত হন।মামলাটি প্রথমে ৫/২০২৫ নম্বর মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত বছরের ১৮ জুন তদন্ত শুরু করে এবং ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং একই দিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ২৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২ আগস্ট। ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

জুলাইয়ের গণহত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারি করা পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করা হয়েছে।রোববার ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির রিট আবেদনটি দায়ের করেন।রিটের আবেদনকারীরা হলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শানেওয়াস, অ্যাডভোকেট ছাব্বির রহমান, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষার্থী শামীম শাহিদী, মো. রাফিউল সাব্বির ও হাবিবুর রহমান আল হাসান।আবেদনে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা পরিপত্রটি বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, ওই পরিপত্র বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এবং ‘বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য’ মামলায় আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।রিট আবেদনে ২০২৫ সালের একটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বছরের ২ মার্চ একই ধরনের একটি পরিপত্র জারি করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ৬ মার্চ সুয়োমোটো রুল নং ৩/২০২৫-এ এর কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।পরে ৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে ওই পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, আদালতের আগের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নতুন করে এ ধরনের পরিপত্র জারি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, এতে বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।রিটে নতুন পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিত করার পাশাপাশি এটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারপতি ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য পূর্ববর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

ওবায়দুল কাদের ও হানিফ সহ ৭ জনের মামলার রায় ৮ সেপ্টেম্বর

জুলাই আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলার রায় চলতি সেপ্টেম্বরেই ঘোষণা হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করার জন্য প্রাথমিকভাবে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রোববার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির মামলার রায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঘোষণা করা হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রমই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলাগুলো রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির।ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলাওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।গত ১৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দমন, হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এ বিষয়ে বিভিন্ন অডিও ও ভিডিও প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বাহাউদ্দিন নাছিমও উপস্থিত ছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।এ ছাড়া যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিখিলের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একটি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের কথাও জানিয়েছে প্রসিকিউশন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের নেতৃত্বের বিষয়টিও প্রসিকিউশনের যুক্তিতে উঠে আসে।মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছেন।চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, সাত আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের যাবতীয় প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলো যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা করছেন।গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছিল।কুষ্টিয়ার মামলায় চার আসামিজুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মামলায় মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামি রয়েছেন।হানিফ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।এই মামলায় ১৯ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর গত ১০ জুন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও দুজন সাক্ষী উপস্থাপনের আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে। গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং পরদিন তা আমলে নেওয়া হয়।

ওবায়দুল কাদের ও হানিফ সহ ৭ জনের মামলার রায় ৮ সেপ্টেম্বর

গুমের বিচার নিশ্চিত না হলে আইন-কমিশন না থাকাই ভালো: নূর খান

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সংঘটিত গুমের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার স্পষ্ট সুযোগ না থাকলে এ–সংক্রান্ত আইন বা কমিশন না থাকাই ভালো বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার কর্মী ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) উপদেষ্টা নূর খান লিটন।শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এইচআরএসএস আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।নূর খান লিটন বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্তে কার্যকর এখতিয়ার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি নিখোঁজ মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।আলোচনায় আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহীদুল আলম বলেন, কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেই বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে তদন্ত করা হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ড. নাবিলা ইদ্রিস গুম–সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এক বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য বাহিনী তদন্ত করলেও স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা থেকে যায়। এ ছাড়া তদন্তে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে চিঠির জবাব দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় আইনটি সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।গোলটেবিল আলোচনা থেকে গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত, অতীতের গুমের বিচার, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি নির্ধারণ, গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়নে রোডম্যাপ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ সংশোধনসহ ১২ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরে এইচআরএসএস।সংগঠনটি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, ভুক্তভোগী ও পরিবারের ‘সত্য জানার অধিকার’, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, সাক্ষী ও অভিযোগকারীর সুরক্ষায় আইন এবং ‘আয়ানাঘর’সহ গোপন আটককেন্দ্রগুলোর তথ্য সংরক্ষণেরও দাবি জানায়। সভায় এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম এবং ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বক্তব্য দেন।

গুমের বিচার নিশ্চিত না হলে আইন-কমিশন না থাকাই ভালো: নূর খান

নানা অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজন পদত্যাগ করেছেন। গত ১০ আগস্ট ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। আমিনুল ইসলাম সুজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইশতিয়াক রনি বলেন, গত ১০ আগস্ট বেড়াখলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম একটি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।গত ৩১ মার্চ ‘প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মারা সেই আওয়ামী লীগ নেতা সুজনের বিরুদ্ধে মামলা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল আমার দেশ।পদত্যাগপত্রে যা বলেছেন সুজনপদত্যাগপত্রে আমিনুল ইসলাম সুজন উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তিনি ওই নোটিশের জবাব দেন।সুজনের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ায় ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট তিনি পুনরায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের জন্য বিদ্যালয়ের সভাপতি বরাবর আবেদন করেন।পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চিঠি দেওয়া হলেও তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি বলে দাবি করেন সুজন।আরও যেসব অভিযোগ রয়েছেআমিনুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাল সনদে চাকরি নেওয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতার প্রভাবে পাঁচ বছরের ছুটি নেওয়া এবং এমপিওভুক্ত হওয়ার পর দুই কর্মস্থল থেকে বেতন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া ভুয়া রেজল্যুশন তৈরি ও ডিজির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে চাকরি হারানোর পর আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পুনরায় যোগদান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এবং জোর করে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখলের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর বিদ্যালয়ে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে আমিনুল ইসলাম সুজন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ হাসিনা ইসলামের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগে আমিনুল ইসলাম সুজনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলা করেন হাসিনা ইসলাম।হাইকোর্টের নির্দেশের কথাও উল্লেখপদত্যাগপত্রে সুজন দাবি করেন, তাঁর চাকরি ও দায়িত্ব গ্রহণসংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনও করা হয়েছিল।রিট পিটিশন নম্বর ২০৭৭০/২০২৫-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁর আবেদন আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।সুজন আরও বলেন, বিষয়টি পুনরায় হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় তিনি স্বেচ্ছায় প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তবে স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম সুজন তড়িঘড়ি বিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মামলা থেকে বাঁচতে তিনি দ্রুত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে তাঁদের দাবি।বক্তব্য পাওয়া যায়নিএসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমিনুল ইসলাম সুজনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম বলেন, আমিনুল ইসলাম সুজন পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে গেছেন। কেন জমা দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। পদত্যাগপত্র কার্যকর করার জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নানা অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ

সালাহউদ্দিনকে গুম ও নির্যাতনের মামলা: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে বিএনপির নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ১০ আগস্ট প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ এ মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করবে প্রসিকিউশন।এর আগে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গিয়ে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগটি দাখিল করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।মামলার নথিতে জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা এবং সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।উত্তরার বাসা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগমামলার ঘটনার বিবরণে সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়।সে সময় সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়।পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।আরও যাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছেএদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার থাকা দীপু মনি ও আমির হোসেন আমুসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক ১০ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকেও বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।আজ এসব আসামির বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিন রয়েছে।এ ছাড়া ২০১৩ সালে হাফেজ জাকির হোসেনকে গুমের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায় র‌্যাব-১-এর সাবেক অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল মোমেনকেও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিনকে গুম ও নির্যাতনের মামলা: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুই ছাত্রলীগের নেতা গ্রেপ্তার

নরসিংদীর বেলাবোয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) উপজেলার বিন্নাবাইদ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বেলাবো উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম (৩৬) এবং পাটুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম টুটুল। সাইফুল ইসলাম বিন্নাবাইদ এলাকার মৃত আবদুল মজিদ মিয়ার ছেলে। রফিকুল ইসলাম টুটুল একই এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলাবো থানায় দায়ের করা ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির ১৬ নম্বর মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় তাঁদের আসামি করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলাবো থানার একটি দল শুক্রবার বিন্নাবাইদ গ্রামে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সাইফুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম টুটুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বেলাবো থানা পুলিশ।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুই ছাত্রলীগের নেতা গ্রেপ্তার

ওসমান হাদি হত্যা: ১৯ বার পেছাল অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১৯ বারের মতো পেছাল। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।যেভাবে হত্যাগত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে ঢাকার পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন। গুরুতর আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ ডিসেম্বর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা, অর্থাৎ হত্যার ধারা সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।ডিবির চার্জশিটে ১৭ আসামিএর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।তবে ডিবির দেওয়া ওই চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।ডিবির চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ছয়জন পলাতক বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওসমান হাদি হত্যা: ১৯ বার পেছাল অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন

১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারাগারের বাইরে থাকার অনুমতিস্বামীর মৃত্যুর পর ১২ ঘণ্টার জন্য কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি।বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম।তিনি জানান, দীপু মনির মেয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাঁকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।মো. রেজাউল করিম বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাবলে দিনের আলোয় সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার জন্য কাউকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যায়। এর বেশি সময়ের জন্য মুক্তি দিতে হলে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।দীপু মনির মেয়ের আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।মঙ্গলবার রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ।

১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে

জুলাই বিপ্লব চলাকালে রাজশাহীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তাঁকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হান, সহিদুল ইসলাম সরদার ও তারেক আবদুল্লাহ।শুনানিতে তিনটি ভিডিও উপস্থাপনশুনানিতে মামলার অভিযোগ ও ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় ট্রাইব্যুনালে তিনটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ভিডিওগুলোতে কয়েকজন আসামিকে অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে জহিরুলসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করার কথা জানান প্রসিকিউটর।পরে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি বা প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করে প্রসিকিউশন।শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং চারজনকে হাজিরের নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।যাঁদের হাজিরের নির্দেশপ্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হওয়া চারজন হলেন রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া ৩৪ জন হলেন—খায়রুজ্জামান লিটন, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির এবং শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লব চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে আনজুম সাকিব নিহত হন।এ ছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও অনেকে ওই সময় আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।এর আগে গত ৩০ জুলাই এই ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার তা আমলে নিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে

ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা : চিফ প্রসিকিউটর

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কোন স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, তা বাংলাদেশ জানে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো সম্ভব।সোমবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।এর আগে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিমান দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। ওই দিন সন্ধ্যায় বিমানঘাঁটিতে শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানাকে স্বাগত জানান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।পরদিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দেশটির পার্লামেন্টে জানান, ভারত সরকারের কাছে শেখ হাসিনা ‘সাময়িকভাবে’ ভারতে আসার অনুমোদন চেয়েছিলেন। সেই অনুমোদন পাওয়ার পরই তিনি ভারতের মাটিতে পা রাখেন বলে জানান জয়শঙ্কর।এরপর থেকে শেখ হাসিনা ভারতেই অবস্থান করছেন। তবে তিনি ঠিক কোন ‘ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে’ ভারতে রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।তবে শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কী ধরনের আইনি বা অভিবাসন মর্যাদায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানান তিনি।

ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা : চিফ প্রসিকিউটর

যানজটে আদালতে পৌঁছাতে পারেননি পরীমনি, জেরা পিছিয়ে ৩০ নভেম্বর

সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জেরা আবারও পিছিয়েছে। যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় রোববার (৯ আগস্ট) তার জেরা সম্পন্ন করা যায়নি।ঢাকার নবম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহাদাৎ হোসেন শুনানি শেষে আগামী ৩০ নভেম্বর পরীমনির জেরার নতুন দিন ধার্য করেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, সকালে শুনানি শুরু হলে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী আদালতকে জানান, তার মক্কেল পথে রয়েছেন এবং দুপুর ১২টার দিকে আদালতে পৌঁছাতে পারবেন। পরে আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক দুপুর ১২টায় জেরার সময় নির্ধারণ করেন।তবে দুপুর ১২টার পর দুবার ডাকলেও পরীমনি আদালতে পৌঁছাতে পারেননি। এদিকে অন্য মামলার শুনানি শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসামিরাও আদালত ত্যাগ করেন। আদালতের সময়সীমা পার হওয়ার কিছুক্ষণ পর পরীমনি আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান।পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, ‘মারাত্মক যানজটে আটকে পড়ার কারণেই পরীমনি নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে রোববার তার জেরা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।’মামলায় অভিযুক্ত তিন আসামি হলেন ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলম। তারা সবাই বর্তমানে জামিনে আছেন। শহীদুল আলম আদালতে উপস্থিত হতে না পেরে সময়ের আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করেন। নাসিরউদ্দিন ও অমি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।যেভাবে শুরু হয় মামলা২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন পরীমনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ও নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলেন।এরপর সাভার মডেল থানায় মামলা হলে গোয়েন্দা পুলিশ উত্তরা থেকে নাসিরউদ্দিন ও অমিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।২০২২ সালের ১৮ মে আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর পরীমনির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রুদ্ধদ্বার কক্ষে (ক্যামেরা ট্রায়াল) মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

যানজটে আদালতে পৌঁছাতে পারেননি পরীমনি, জেরা পিছিয়ে ৩০ নভেম্বর

ব্যবসায়ীর ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ: নিজাম হাজারীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের ৯ কোটি ২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পারসিত চাকমা আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর আনোয়ার হোসেন ফেনী মডেল থানায় মামলাটি করেন। এতে ৯ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং আরও ৫ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।চার্জশিটে নিজাম হাজারী ছাড়াও জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান, জিনাত রেজওয়ানা, নিজাম হাজারীর নিকটাত্মীয় আবদুল আউয়াল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাকিব মিঞা, ঝালকাঠির আলিম তালুকদার, ফেনী শহরের বারাহিপুরের কহিনুর আক্তার এবং সুলতানপুরের ফারহানা আক্তারকে আসামি করা হয়েছে।মামলার তদন্তে যা বলা হয়েছেতদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে জিনাত রেজওয়ানার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের সূত্রে জিনাতের কাছে আনোয়ারের টাকা পাওনা ছিল।পাওনা টাকা ফেরত চাইলে জিনাত তাঁর কোম্পানির প্যাড ও চেক চুরির অভিযোগ তুলে থানায় দুটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় আনোয়ারকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মামলার সাক্ষীদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।পরে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের বিষয়টি আবদুল আউয়াল, কহিনুর আক্তার ও ফারহানা আক্তারের মাধ্যমে আহসান আদেলুর রহমানকে জানানো হয়। পরে তিনি বিষয়টি নিজাম হাজারীকে জানান বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগঅভিযোগপত্র অনুযায়ী, একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেনকে নিজাম হাজারীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবার থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয় এবং বাকি টাকা পরদিন দেওয়ার শর্তে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।জিনাত রেজওয়ানাকে ঘিরে তদন্তে যা উঠে এসেছেতদন্তে জিনাত রেজওয়ানার সঙ্গে নিজাম হাজারীর ঘনিষ্ঠতার বিষয়ও উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর প্রভাব ব্যবহার করে জিনাত কয়েকবার ফেনী সার্কিট হাউসে রাতযাপন করেছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, জিনাত রেজওয়ানার বিরুদ্ধে সিলেট, হবিগঞ্জ ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশত মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি করে তাঁদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বক্তব্য জানা যায়নি।

ব্যবসায়ীর ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ: নিজাম হাজারীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে অবস্থান বদল, ‘আইনি প্রক্রিয়াতেই ফিরতে হবে’

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পর আবারও আলোচনায় আসেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। এর পর রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চান।সাকিবের এ বক্তব্যের পর নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাকিবের দেশে ফেরার আর সুযোগ নেই।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক নমনীয় ও সহনশীলভাবেই বিষয়টি দেখছিলাম। এরপর আর মনে হয় না, ওইভাবে চিন্তা করার সুযোগ আছে।’তিনি আরও বলেন, সাকিবকে দেশে ফিরতে হলে আইনি প্রক্রিয়াই অনুসরণ করতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘যে স্বৈরাচারের স্টেজে উঠেছে, তার তো আর আসার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমরা নমনীয় ছিলাম। এখন আর সেই সুযোগ নেই। সে যদি আসে, তাহলে আইনগতভাবেই আসবে।’এর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হলে তাঁরা আবারও ক্রিকেটে ফিরতে পারেন। সে সময় তাঁদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান নমনীয় ও সহনশীল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তবে সর্বশেষ বক্তব্যে সাকিবকে ঘিরে সরকারের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে অবস্থান বদল, ‘আইনি প্রক্রিয়াতেই ফিরতে হবে’

এমপি বিথীকাকে আইনি নোটিশ পাঠালেন আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন অথবা অভিযোগ প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনির মাধ্যমে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়।নোটিশে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তিনি সম্প্রতি এক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করছেন।নোটিশ অনুযায়ী, বিথীকা বিনতে হোসেন এক সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে তাঁর নিয়োগ সহজ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে আসিফ মাহমুদ ৩ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। অভিযোগটি পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।নোটিশে দাবি করা হয়, অভিযোগ প্রকাশের পর আসিফ মাহমুদের প্রতিনিধিরা একাধিকবার বিথীকা বিনতে হোসেনের কাছে অভিযোগের পক্ষে নথি, অডিও, ভিডিও বা অন্য কোনো প্রমাণ চাইলেও এখন পর্যন্ত তা উপস্থাপন করা হয়নি। এ কারণে অভিযোগটি ভিত্তিহীন, মনগড়া ও বিদ্বেষপ্রসূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।এতে আরও বলা হয়, মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্যের কারণে প্রচলিত আইনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের প্রমাণ উপস্থাপন, অথবা অভিযোগ প্রত্যাহার করে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং একই মাধ্যমে তা প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসিফ মাহমুদ আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের জবাব আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এমপি বিথীকাকে আইনি নোটিশ পাঠালেন আসিফ মাহমুদ