সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারি করা পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করা হয়েছে।
রোববার
১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির রিট আবেদনটি
দায়ের করেন।
রিটের
আবেদনকারীরা হলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ
সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হক,
অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ, অ্যাডভোকেট
মোহাম্মদ শানেওয়াস, অ্যাডভোকেট ছাব্বির রহমান, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের
শিক্ষার্থী শামীম শাহিদী, মো. রাফিউল সাব্বির
ও হাবিবুর রহমান আল হাসান।
আবেদনে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা পরিপত্রটি বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, ওই পরিপত্র বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এবং ‘বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য’ মামলায় আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রিট
আবেদনে ২০২৫ সালের একটি
ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই
বছরের ২ মার্চ একই
ধরনের একটি পরিপত্র জারি
করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ
৬ মার্চ সুয়োমোটো রুল নং ৩/২০২৫-এ এর
কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম
কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া
হয়েছিল।
পরে
৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে ওই
পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।
আবেদনকারীরা
দাবি করেছেন, আদালতের আগের নির্দেশনা থাকা
সত্ত্বেও নতুন করে এ
ধরনের পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
তাঁদের মতে, এতে বিচার
বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন
হয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক
কাঠামো লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি
করেন।
রিটে নতুন পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিত করার পাশাপাশি এটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারপতি ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য পূর্ববর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।