ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারি করা পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করা হয়েছে।রোববার ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির রিট আবেদনটি দায়ের করেন।রিটের আবেদনকারীরা হলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শানেওয়াস, অ্যাডভোকেট ছাব্বির রহমান, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষার্থী শামীম শাহিদী, মো. রাফিউল সাব্বির ও হাবিবুর রহমান আল হাসান।আবেদনে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা পরিপত্রটি বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, ওই পরিপত্র বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এবং ‘বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য’ মামলায় আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।রিট আবেদনে ২০২৫ সালের একটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বছরের ২ মার্চ একই ধরনের একটি পরিপত্র জারি করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ৬ মার্চ সুয়োমোটো রুল নং ৩/২০২৫-এ এর কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।পরে ৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে ওই পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, আদালতের আগের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নতুন করে এ ধরনের পরিপত্র জারি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, এতে বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।রিটে নতুন পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিত করার পাশাপাশি এটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারপতি ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য পূর্ববর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার মামলায় তাঁর শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।রোববার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মরিয়মের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর মো. নিজাম উদ্দিন।আদালত সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে নাঙ্গলকোট উপজেলার ছফুয়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে মরিয়ম বেগমকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরদিন তাঁর বাবা মো. সোলেমান নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা করেন।মামলায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিন, শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর নিজাম উদ্দিনকে আসামি করা হয়।তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলার নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আবদুল মতিনকে খালাস দেওয়া হয়।রায়ের পর বাদীপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. ইকরাম হোসেন এবং নিহতের স্বজনেরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এ রায়ের মাধ্যমে মরিয়ম হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন