ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারি করা পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করা হয়েছে।রোববার ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির রিট আবেদনটি দায়ের করেন।রিটের আবেদনকারীরা হলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শানেওয়াস, অ্যাডভোকেট ছাব্বির রহমান, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষার্থী শামীম শাহিদী, মো. রাফিউল সাব্বির ও হাবিবুর রহমান আল হাসান।আবেদনে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা পরিপত্রটি বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, ওই পরিপত্র বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এবং ‘বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য’ মামলায় আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।রিট আবেদনে ২০২৫ সালের একটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বছরের ২ মার্চ একই ধরনের একটি পরিপত্র জারি করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ৬ মার্চ সুয়োমোটো রুল নং ৩/২০২৫-এ এর কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।পরে ৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে ওই পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, আদালতের আগের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নতুন করে এ ধরনের পরিপত্র জারি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, এতে বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।রিটে নতুন পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিত করার পাশাপাশি এটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারপতি ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য পূর্ববর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে পাঠানো কয়েক বাংলাভাষীকে ভারতে ফেরানো হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া কয়েকজন বাংলাভাষীকে আবার ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে এ তথ্য জানিয়েছে। এরপর আদালত সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করেছেন। তবে নাগরিকত্ব ও বহিষ্কারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত রাখা হয়েছে।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শর্মার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশে পাঠানো কয়েকজনকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিষয়টি নথিভুক্ত করে আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতে ফিরে আসায় আপাতত মামলাগুলো চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।হাইকোর্টের নির্দেশের পর ফেরানোর উদ্যোগএর আগে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সুনালি খাতুন, সুইটি বিবিসহ কয়েকজনকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে বাংলাদেশে পাঠানোর কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। একই সঙ্গে তাঁদের এক মাসের মধ্যে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।সুনালি খাতুনের পরিবারের অভিযোগ ছিল, তাঁকে স্বামী ও সন্তানসহ আটক করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। একই ধরনের অভিযোগ ওঠে সুইটি বিবি ও তাঁর সন্তানদের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশে পাঠানোর পর তাঁদের কয়েকজনকে স্থানীয় পুলিশ আটক করেছিল।নাগরিকত্ব যাচাই করবে ভারতগত ২২ মে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশে পাঠানো কয়েকজনকে ভারতে ফিরিয়ে এনে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবি যাচাই করা হবে। সরকার তখন জানিয়েছিল, এ সিদ্ধান্ত কোনো নজির হিসেবে বিবেচিত হবে না। যাচাই শেষে তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এর আগে গত ডিসেম্বরে মানবিক কারণে সুনালি খাতুন ও তাঁর আট বছর বয়সী সন্তানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। অন্তঃসত্ত্বা সুনালির চিকিৎসা ও প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশও দিয়েছিলেন আদালত।সর্বশেষ শুনানিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনজীবী জানান, সলিসিটর জেনারেলের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং সবাই ভারতে ফিরে এসেছেন।তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নাগরিকত্ব এবং কাউকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

বাংলাদেশে পাঠানো কয়েক বাংলাভাষীকে ভারতে ফেরানো হয়েছে