আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সংঘটিত গুমের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার স্পষ্ট সুযোগ না থাকলে এ–সংক্রান্ত আইন বা কমিশন না থাকাই ভালো বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার কর্মী ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) উপদেষ্টা নূর খান লিটন।
শনিবার বিকেলে
জাতীয়
প্রেসক্লাবে এইচআরএসএস আয়োজিত
এক
গোলটেবিল আলোচনায় তিনি
এ
কথা
বলেন।
নূর খান
লিটন
বলেন,
গুমের
অভিযোগের তদন্তে
কার্যকর এখতিয়ার ও
স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
জরুরি।
তিনি
নিখোঁজ
মিরাজ
শেখসহ
গুমের
শিকার
ব্যক্তিদের সন্ধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার
দাবি
জানান।
আলোচনায় আলোকচিত্রী ও
মানবাধিকার কর্মী
শহীদুল
আলম
বলেন,
কোনো
বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
থাকলে
সেই
বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে
তদন্ত
করা
হলে
স্বার্থের সংঘাত
তৈরি
হতে
পারে।
জনগণের
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে
হবে
বলেও
মন্তব্য করেন
তিনি।
ড. নাবিলা
ইদ্রিস
গুম–সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা
তুলে
ধরেন।
তাঁর
মতে,
এক
বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য
বাহিনী
তদন্ত
করলেও
স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা
থেকে
যায়।
এ
ছাড়া
তদন্তে
সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে চিঠির
জবাব
দেওয়ার
নির্দিষ্ট সময়সীমা না
থাকায়
আইনটি
সাধারণ
ও
প্রান্তিক মানুষের জন্য
কতটা
কার্যকর হবে,
তা
নিয়েও
প্রশ্ন
রয়েছে।
গোলটেবিল আলোচনা
থেকে
গুমের
ঘটনায়
স্বাধীন তদন্ত,
অতীতের
গুমের
বিচার,
কমান্ড
রেসপনসিবিলিটি নির্ধারণ, গুম
কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়নে রোডম্যাপ এবং
‘গুম
প্রতিরোধ ও
প্রতিকার আইন,
২০২৬’
সংশোধনসহ ১২
দফা
দাবি
ও
সুপারিশ তুলে
ধরে
এইচআরএসএস।
সংগঠনটি নিখোঁজ
ব্যক্তিদের সন্ধান,
ভুক্তভোগী ও
পরিবারের ‘সত্য
জানার
অধিকার’,
ক্ষতিপূরণ ও
পুনর্বাসন, সাক্ষী
ও
অভিযোগকারীর সুরক্ষায় আইন
এবং
‘আয়ানাঘর’সহ
গোপন
আটককেন্দ্রগুলোর তথ্য
সংরক্ষণেরও দাবি
জানায়।
সভায় এইচআরএসএসের সাধারণ
সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল
ইসলাম,
নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল
ইসলাম,
সংসদ
সদস্য
ব্যারিস্টার মীর
আহমদ
বিন
কাশেম
এবং
‘মায়ের
ডাক’-এর সমন্বয়ক ও
সংসদ
সদস্য
সানজিদা ইসলাম
তুলি
বক্তব্য দেন।