ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
গুমের শিকারদের খুঁজে পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি নাহিদ ইসলামের

গুমের শিকারদের খুঁজে পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি নাহিদ ইসলামের

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে তাঁদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরা এবং প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব দাবি জানান। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ আইনে গুমের অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখার আহ্বান জানান তিনি।বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান।নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী দল ও মতের অনেক নাগরিক এর শিকার হয়েছেন এবং তাঁদের অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে স্বজনদের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।‘আয়নাঘর’-এ মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা মানবতার জন্য লজ্জাজনক।বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশেও অনেক পরিবার প্রিয়জনের সন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের শিকার অনেক ব্যক্তির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। মোংলার কারাগারে মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগও উদ্বেগের বিষয়।বর্তমান সরকারের সংসদে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর আশঙ্কা, এসব উদ্যোগে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়মুক্তির সুযোগও থেকে যেতে পারে।নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত না হলে দেশে গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়।তিনি চারটি দাবি তুলে ধরেন- মোংলায় গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ আমলে নিখোঁজ সবাইকে খুঁজে বের করা, তাঁদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরা, গুমের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং গুম প্রতিরোধ আইনে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখা। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের ঘটনা না ঘটে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।

গুমের বিচার নিশ্চিত না হলে আইন-কমিশন না থাকাই ভালো: নূর খান

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সংঘটিত গুমের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার স্পষ্ট সুযোগ না থাকলে এ–সংক্রান্ত আইন বা কমিশন না থাকাই ভালো বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার কর্মী ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) উপদেষ্টা নূর খান লিটন।শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এইচআরএসএস আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।নূর খান লিটন বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্তে কার্যকর এখতিয়ার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি নিখোঁজ মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।আলোচনায় আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহীদুল আলম বলেন, কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেই বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে তদন্ত করা হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ড. নাবিলা ইদ্রিস গুম–সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এক বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য বাহিনী তদন্ত করলেও স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা থেকে যায়। এ ছাড়া তদন্তে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে চিঠির জবাব দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় আইনটি সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।গোলটেবিল আলোচনা থেকে গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত, অতীতের গুমের বিচার, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি নির্ধারণ, গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়নে রোডম্যাপ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ সংশোধনসহ ১২ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরে এইচআরএসএস।সংগঠনটি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, ভুক্তভোগী ও পরিবারের ‘সত্য জানার অধিকার’, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, সাক্ষী ও অভিযোগকারীর সুরক্ষায় আইন এবং ‘আয়ানাঘর’সহ গোপন আটককেন্দ্রগুলোর তথ্য সংরক্ষণেরও দাবি জানায়। সভায় এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম এবং ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বক্তব্য দেন।

গুমের বিচার নিশ্চিত না হলে আইন-কমিশন না থাকাই ভালো: নূর খান

সালাহউদ্দিনকে গুম ও নির্যাতনের মামলা: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে বিএনপির নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ১০ আগস্ট প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ এ মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করবে প্রসিকিউশন।এর আগে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গিয়ে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগটি দাখিল করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।মামলার নথিতে জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা এবং সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।উত্তরার বাসা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগমামলার ঘটনার বিবরণে সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়।সে সময় সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়।পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।আরও যাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছেএদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার থাকা দীপু মনি ও আমির হোসেন আমুসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক ১০ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকেও বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।আজ এসব আসামির বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিন রয়েছে।এ ছাড়া ২০১৩ সালে হাফেজ জাকির হোসেনকে গুমের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায় র‌্যাব-১-এর সাবেক অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল মোমেনকেও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিনকে গুম ও নির্যাতনের মামলা: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে লংমার্চ: নাহিদ ইসলাম

সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে ১১ দলীয় ঐক্য কী করবে এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তাঁদের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এ কর্মসূচি পালন করা হবে।এ ছাড়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথাও জানান তিনি।বুধবার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, ‘দেশে এই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট চলছে। এমনকি মন্ত্রী-এমপিরা যখন কথা বলছেন, তখনও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অবশ্য, তাঁরা ইনিয়ে-বিনিয়ে বলার চেষ্টা করছেন, দেশে এই মুহূর্তে কোনো সংকট নেই।’গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পদযাত্রাসংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিগত সময়ে বিচারবহির্ভূতভাবে অনেক মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার বিচার এখনো হয়নি।এসব বিষয় সামনে রেখে আগামী ৩০ আগস্ট রোববার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে লংমার্চ: নাহিদ ইসলাম