ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ইরানে মহানবী (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে তরুণীর মৃত্যুদণ্ড

ইরানে মহানবী (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে তরুণীর মৃত্যুদণ্ড

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে ইরানের ২৩ বছর বয়সী তরুণী নাজমেহ আমিনিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করা ও সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর ছয় মাস এক দিন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ রায়ের বিরুদ্ধে ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে।অ্যাকাউন্টিংয়ের শিক্ষার্থী নাজমেহ আমিনি বর্তমানে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দী রয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে মহানবীকে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইন অনুযায়ী, এ অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিক্ষোভে হাজারো মানুষের নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।আমিনির বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ করা এবং সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর ছয় মাস এক দিন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।কারাগার থেকে ধারণ করা এক অডিও বার্তায় আমিনি জাতিসংঘ, আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে তাঁর মামলাটি তদন্তের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর অনেক আশা ও স্বপ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, তাঁকে হারানোর আশঙ্কায় তাঁর পরিবার প্রতিনিয়ত উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।আদালতে যে যুক্তি দিয়েছিলেন আমিনিইরানের সংবাদপত্র খোরাসানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতে আমিনি দাবি করেন, বন্ধুদের সঙ্গে হ্যালুসিনেশন সৃষ্টিকারী মাশরুম গ্রহণের পর বিভ্রমের মধ্যে তিনি ওই পোস্ট দিয়েছিলেন। তাঁর আইনজীবীও ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।তবে বিচারক এ যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিভ্রমের মধ্যে থাকলে আমিনি কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতো অন্য ব্যক্তি বা সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের মন্তব্য করেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারক।ইরানের ইসলামি দণ্ডবিধির ২৬২ ধারায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ২৬৩ ধারায় অনিচ্ছাকৃত বক্তব্য, ভুলবশত বলা কথা কিংবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্যের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে। আমিনির মামলায় এসব আইনি ব্যতিক্রম কেন প্রযোজ্য হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।মৃত্যুদণ্ড নিয়ে উদ্বেগনরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ইরানে ৬০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে এক তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক নজির তৈরি করতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কঠোর প্রতিক্রিয়া না জানালে শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ আরও বাড়তে পারে।ইরানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। এর আগে ২০২৩ সালের ৮ মে ইউসুফ মেহরদাদ ও সদরোল্লাহ ফাজেলি-জারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত অভিযোগে তাঁদের দণ্ড দেওয়া হয়।আমিনির মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় মামলাটি আপিলের পর্যায়ে রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাঁর সাজা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি এবং মৃত্যুদণ্ডের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।

সুইডেনের বিপিসিএন অ্যাওয়ার্ড পেলেন আইনজীবী শিশির মনির

আইনের শাসন, মানবাধিকার ও বিচারপ্রার্থীদের মর্যাদা রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সুইডেনের পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশি প্রফেশনালস অ্যান্ড কমিউনিটি নেটওয়ার্কের (বিপিসিএন) ২০২৬ সালের অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।গত শনিবার ‘জুলাই-পরবর্তী স্টকহোমে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার শেষে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন সংগঠনটির সভাপতি ড. আকতার হোসাইন। আইনের শাসন, মানবাধিকার ও বিচারপ্রার্থী মানুষের মর্যাদা রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শিশির মনিরকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় প্রবাসী পেশাজীবীদের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রবাসী দক্ষ পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন।ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ড. আকতার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারটি পরিচালনা করেন বিপিসিএনের সেক্রেটারি ও স্নায়ুবিজ্ঞানী ড. তৌহিদুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে বিপিসিএন সুইডেনের বোর্ড সদস্যরা ছাড়াও বিভিন্ন পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রবাসী দক্ষ পেশাজীবীদের অবদান রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অনুষ্ঠানে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

সুইডেনের বিপিসিএন অ্যাওয়ার্ড পেলেন আইনজীবী শিশির মনির

যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচারে ভূমিকা, নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ও বিচারক নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে নরওয়ের নোবেল কমিটির ঘোষণার বরাতে।নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পরিচিত একটি নাম। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে আইনি লড়াইনাভি পিল্লাই ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নাটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে এলএলএম ও ডক্টর অব জুরিডিক্যাল সায়েন্স (এসজেডি) ডিগ্রি অর্জন করেন। হার্ভার্ড থেকে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনকারী প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান নারী হিসেবে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়।কর্মজীবনের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা রাজনৈতিক বন্দি ও অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই করেন তিনি। বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর আইনজীবীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়।আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাদক্ষিণ আফ্রিকায় বিচারকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায়ও যুক্ত ছিলেন নাভি পিল্লাই। তিনি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।২০০৮ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই পদে থেকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষা ও লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো মোকাবিলায় কাজ করেন।যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবন মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।নোবেল শান্তি পুরস্কারের পটভূমিসুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইল অনুযায়ী নোবেল পুরস্কারের সূচনা হয়। তাঁর নির্দেশনায় শান্তি পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, যারা জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি, স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলুপ্ত বা হ্রাস এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচারে ভূমিকা, নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা বিশ্বজুড়ে পরিচিত।তবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁকে দেওয়া হয়েছে এমন তথ্যের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যাচাই না করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়।১৮৯৫ সালে সুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের উইলের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কারের সূচনা হয়। নোবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, যারা জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি, স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলুপ্ত বা হ্রাস এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ও অবদানের বিস্তারিত জানতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

গুমের শিকারদের খুঁজে পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি নাহিদ ইসলামের

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে তাঁদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরা এবং প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব দাবি জানান। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ আইনে গুমের অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখার আহ্বান জানান তিনি।বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান।নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী দল ও মতের অনেক নাগরিক এর শিকার হয়েছেন এবং তাঁদের অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে স্বজনদের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।‘আয়নাঘর’-এ মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা মানবতার জন্য লজ্জাজনক।বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশেও অনেক পরিবার প্রিয়জনের সন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের শিকার অনেক ব্যক্তির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। মোংলার কারাগারে মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগও উদ্বেগের বিষয়।বর্তমান সরকারের সংসদে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর আশঙ্কা, এসব উদ্যোগে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়মুক্তির সুযোগও থেকে যেতে পারে।নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত না হলে দেশে গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়।তিনি চারটি দাবি তুলে ধরেন- মোংলায় গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ আমলে নিখোঁজ সবাইকে খুঁজে বের করা, তাঁদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরা, গুমের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং গুম প্রতিরোধ আইনে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখা। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের ঘটনা না ঘটে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।

গুমের শিকারদের খুঁজে পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি নাহিদ ইসলামের

গুমের বিচার নিশ্চিত না হলে আইন-কমিশন না থাকাই ভালো: নূর খান

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সংঘটিত গুমের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার স্পষ্ট সুযোগ না থাকলে এ–সংক্রান্ত আইন বা কমিশন না থাকাই ভালো বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার কর্মী ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) উপদেষ্টা নূর খান লিটন।শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এইচআরএসএস আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।নূর খান লিটন বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্তে কার্যকর এখতিয়ার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি নিখোঁজ মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।আলোচনায় আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহীদুল আলম বলেন, কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেই বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে তদন্ত করা হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ড. নাবিলা ইদ্রিস গুম–সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এক বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য বাহিনী তদন্ত করলেও স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা থেকে যায়। এ ছাড়া তদন্তে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে চিঠির জবাব দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় আইনটি সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।গোলটেবিল আলোচনা থেকে গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত, অতীতের গুমের বিচার, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি নির্ধারণ, গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়নে রোডম্যাপ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ সংশোধনসহ ১২ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরে এইচআরএসএস।সংগঠনটি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, ভুক্তভোগী ও পরিবারের ‘সত্য জানার অধিকার’, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, সাক্ষী ও অভিযোগকারীর সুরক্ষায় আইন এবং ‘আয়ানাঘর’সহ গোপন আটককেন্দ্রগুলোর তথ্য সংরক্ষণেরও দাবি জানায়। সভায় এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম এবং ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বক্তব্য দেন।

গুমের বিচার নিশ্চিত না হলে আইন-কমিশন না থাকাই ভালো: নূর খান

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সরকারের সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ করা ও সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জনগণ যেন নির্ভয়ে কথা বলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলেও জানিয়েছেন তিনি।সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে কিছু জটিলতা থাকায় যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর তা সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান যতদিন বহাল থাকবে, ততদিন প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রস্তাব ও নাম এখনো পাওয়া যায়নি।তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে যেতে চাই না। আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা জুলাই সনদের পথ ধরেই এগিয়ে যেতে চাই।’আইনমন্ত্রী বলেন, অনেকে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে যা কিছুই করা হোক না কেন, বাহাত্তরের সংবিধান সামনে রেখেই এগোতে হবে। কারণ এই সংবিধান এখনো কার্যকর রয়েছে।সংবিধান সংস্কারে বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া মতামত বিবেচনায় নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হলে তা গ্রহণ করা হবে। সংবিধান ও সংস্কারের বিষয়ে বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে হবে।

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সরকারের সমালোচনার অধিকার সবার: আইনমন্ত্রী

সরকারি নথিতে ভারতীয় নাগরিক, তবু সাহিদাকে ‘পুশইন’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী সাহিদা ফকিরকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে আটক করার পর বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে তাঁর জন্মনিবন্ধন, ভোটার পরিচয়পত্র, আয়কর বিভাগের স্থায়ী অ্যাকাউন্ট নম্বর (প্যান) কার্ড এবং নিজের নামে স্বরূপনগর ব্লকের একটি জমির দলিলসহ একাধিক সরকারি নথি রয়েছে বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠন।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২০ বছর ধরে স্বামী জুম্মান ফকিরের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন গৃহকর্মী সাহিদা। তাঁর স্বামী ও দুই ছেলে এখনো ভারতে রয়েছেন। ছোট ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে এবং বড় ছেলে মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করেন। সাহিদা বর্তমানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা এলাকায় একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।আটকের পর বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগসাহিদার পরিবারের দাবি, গত ১৯ জুলাই মুম্বাইয়ের সানপাড়ায় রাতের খাবারের জন্য বাজার করতে গেলে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে তাঁকে চেম্বুরের একটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়।পরিবারের পক্ষ থেকে সেখানে সাহিদার জন্মনিবন্ধন, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের জমির দলিলসহ বিভিন্ন নথি দেখানো হয়। তবে কয়েক দিন পর পরিবারকে জানানো হয়, তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।সাহিদা ফোনে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, তাঁকে আসামের সীমান্ত দিয়ে রাতে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। এরপর কাদাময় জমির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় হেঁটে সড়কে পৌঁছান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে খাবার, পোশাক ও আশ্রয় দেন।সাহিদা বলেন, “আমি ভারতের নাগরিক এবং দেশে ফিরে পরিবারের কাছে যেতে চাই। আমার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের দেখাশোনা কে করবে!”হাইকোর্টে মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগমানবাধিকার সংগঠন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (MASUM) কলকাতা হাইকোর্টে দেওয়া অভিযোগে সাহিদার নাগরিকত্বের পক্ষে একাধিক নথির কথা উল্লেখ করেছে।অভিযোগে বলা হয়েছে, সাহিদার বাবা আমানউদ্দিন গাজী ও মা মাজিদা বিবির নাম ২০০২ সালের স্বরূপনগর বিধানসভা এলাকার ভোটার তালিকায় ছিল। সাহিদার জন্ম ১৯৯৫ সালের ১২ অক্টোবর বিথারি হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে নিবন্ধিত হয়।এসব নথি থাকা সত্ত্বেও সাহিদাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।MASUM-এর অভিযোগ অনুযায়ী, সাহিদাকে আটকের পর প্রায় ৯০ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি। তাঁকে আটকের কারণ জানানো হয়নি এবং পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হয়নি।মানবাধিকার সংগঠনটি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে দেওয়া আবেদনে বিষয়টিতে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে। একই সঙ্গে সাহিদাকে অবিলম্বে আদালতে হাজির করা, বেআইনি আটক হয়ে থাকলে মুক্তি দেওয়া, ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।এর আগেও এমন অভিযোগএর আগেও পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা সুনালি খাতুন ও সুইটি বিবিকে দিল্লিতে আটক করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আইনি পদক্ষেপের পর তাঁরা ভারতে ফেরেন।একই বছর মুম্বাইয়ে আটক পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন শ্রমিককেও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-এর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁদের ফেরত আনা হয়।সূত্র: মাকতুব ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

সরকারি নথিতে ভারতীয় নাগরিক, তবু সাহিদাকে ‘পুশইন’