ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

শাপলা চত্বর মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ


শেখ মো: বেলায়েত হোসেন
শেখ মো: বেলায়েত হোসেন রিপোর্টার

শাপলা চত্বর মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
ছবি: সংগ্রহ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও হতাহতের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ রোববার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ শুনানি হবে।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে ওই দিন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার ১১, পলাতক ৩০ আসামি

গত ২৭ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলায় বর্তমানে মোট ১১ জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা।

গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁদের পলাতক বিবেচনায় নিয়ে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়।

পলাতক আসামিদের তালিকায় যাঁরা

মামলায় পলাতক ৩০ আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এ ছাড়া সাবেক পরিবেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার এ তালিকায় রয়েছেন।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মারুফ হাসান, অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম।

এ ছাড়া তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অব.) এসএম শিবলী নোমান এবং মতিঝিল থানার তৎকালীন ওসি বিএম ফরমান আলীও রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়েছিল। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের রাতের মধ্যেই শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নির্দেশের পর তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যৌথ সভা করেন। সেখানে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য বাহিনীগুলো আলাদা নাম ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, র‍্যাবের ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবির ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। পরে অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়।

রাতের অভিযানে হতাহতের অভিযোগ

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শাপলা চত্বরে সর্বোচ্চ মাত্রায় অভিযান শুরু হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমাবেশস্থলে থাকা হেফাজতের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট গ্রেনেড, খণ্ড-বল প্রজেক্টাইল ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এতে সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নেতাকর্মীরা জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে শর্টগান ও মারণাস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের বর্ণনায়, হেফাজতের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পথে ঢাকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাতের অভিযান এবং দিনভর হামলা ও আক্রমণে শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩২ জন নেতাকর্মী শহীদ ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাধানীনগরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব ঘটনার ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।

অভিযোগ গঠনের শুনানি কেন গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানি মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পর্যায়ে প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পায়।

ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত নিলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরবর্তী ধাপে এগোবে। তবে অভিযোগ গঠন বা অভিযোগপত্র দাখিলের অর্থ এই নয় যে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা এই মামলায় আজকের শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল কী সিদ্ধান্ত দেন, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

বিষয় : শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধ হেফাজতে ইসলাম শাপলা চত্বর

দৈনিক নবকাল

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


শাপলা চত্বর মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও হতাহতের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ রোববার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ শুনানি হবে।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে ওই দিন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার ১১, পলাতক ৩০ আসামি

গত ২৭ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলায় বর্তমানে মোট ১১ জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা।

গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁদের পলাতক বিবেচনায় নিয়ে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়।

পলাতক আসামিদের তালিকায় যাঁরা

মামলায় পলাতক ৩০ আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এ ছাড়া সাবেক পরিবেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার এ তালিকায় রয়েছেন।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মারুফ হাসান, অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম।

এ ছাড়া তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অব.) এসএম শিবলী নোমান এবং মতিঝিল থানার তৎকালীন ওসি বিএম ফরমান আলীও রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়েছিল। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের রাতের মধ্যেই শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নির্দেশের পর তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যৌথ সভা করেন। সেখানে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য বাহিনীগুলো আলাদা নাম ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, র‍্যাবের ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবির ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। পরে অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়।

রাতের অভিযানে হতাহতের অভিযোগ

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শাপলা চত্বরে সর্বোচ্চ মাত্রায় অভিযান শুরু হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমাবেশস্থলে থাকা হেফাজতের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট গ্রেনেড, খণ্ড-বল প্রজেক্টাইল ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এতে সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নেতাকর্মীরা জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে শর্টগান ও মারণাস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের বর্ণনায়, হেফাজতের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পথে ঢাকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাতের অভিযান এবং দিনভর হামলা ও আক্রমণে শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩২ জন নেতাকর্মী শহীদ ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাধানীনগরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব ঘটনার ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।

অভিযোগ গঠনের শুনানি কেন গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানি মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পর্যায়ে প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পায়।

ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত নিলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরবর্তী ধাপে এগোবে। তবে অভিযোগ গঠন বা অভিযোগপত্র দাখিলের অর্থ এই নয় যে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা এই মামলায় আজকের শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল কী সিদ্ধান্ত দেন, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
শাপলা চত্বর মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
0:00 0:00
1.0x