ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ওবায়দুল কাদের ও হানিফ সহ ৭ জনের মামলার রায় ৮ সেপ্টেম্বর

ওবায়দুল কাদের ও হানিফ সহ ৭ জনের মামলার রায় ৮ সেপ্টেম্বর

জুলাই আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলার রায় চলতি সেপ্টেম্বরেই ঘোষণা হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করার জন্য প্রাথমিকভাবে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রোববার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির মামলার রায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঘোষণা করা হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রমই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলাগুলো রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির।ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলাওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।গত ১৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দমন, হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এ বিষয়ে বিভিন্ন অডিও ও ভিডিও প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বাহাউদ্দিন নাছিমও উপস্থিত ছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।এ ছাড়া যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিখিলের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একটি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের কথাও জানিয়েছে প্রসিকিউশন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের নেতৃত্বের বিষয়টিও প্রসিকিউশনের যুক্তিতে উঠে আসে।মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছেন।চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, সাত আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের যাবতীয় প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলো যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা করছেন।গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছিল।কুষ্টিয়ার মামলায় চার আসামিজুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মামলায় মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামি রয়েছেন।হানিফ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।এই মামলায় ১৯ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর গত ১০ জুন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও দুজন সাক্ষী উপস্থাপনের আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে। গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং পরদিন তা আমলে নেওয়া হয়।

সালাহউদ্দিনকে গুম ও নির্যাতনের মামলা: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে বিএনপির নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ১০ আগস্ট প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ এ মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করবে প্রসিকিউশন।এর আগে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গিয়ে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগটি দাখিল করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।মামলার নথিতে জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা এবং সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।উত্তরার বাসা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগমামলার ঘটনার বিবরণে সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়।সে সময় সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়।পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।আরও যাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছেএদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার থাকা দীপু মনি ও আমির হোসেন আমুসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক ১০ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকেও বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।আজ এসব আসামির বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিন রয়েছে।এ ছাড়া ২০১৩ সালে হাফেজ জাকির হোসেনকে গুমের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায় র‌্যাব-১-এর সাবেক অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল মোমেনকেও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিনকে গুম ও নির্যাতনের মামলা: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে

জুলাই বিপ্লব চলাকালে রাজশাহীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তাঁকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হান, সহিদুল ইসলাম সরদার ও তারেক আবদুল্লাহ।শুনানিতে তিনটি ভিডিও উপস্থাপনশুনানিতে মামলার অভিযোগ ও ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় ট্রাইব্যুনালে তিনটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ভিডিওগুলোতে কয়েকজন আসামিকে অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে জহিরুলসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করার কথা জানান প্রসিকিউটর।পরে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি বা প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করে প্রসিকিউশন।শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং চারজনকে হাজিরের নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।যাঁদের হাজিরের নির্দেশপ্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হওয়া চারজন হলেন রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া ৩৪ জন হলেন—খায়রুজ্জামান লিটন, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির এবং শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লব চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে আনজুম সাকিব নিহত হন।এ ছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও অনেকে ওই সময় আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।এর আগে গত ৩০ জুলাই এই ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার তা আমলে নিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে

ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা : চিফ প্রসিকিউটর

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কোন স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, তা বাংলাদেশ জানে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো সম্ভব।সোমবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।এর আগে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিমান দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। ওই দিন সন্ধ্যায় বিমানঘাঁটিতে শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানাকে স্বাগত জানান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।পরদিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দেশটির পার্লামেন্টে জানান, ভারত সরকারের কাছে শেখ হাসিনা ‘সাময়িকভাবে’ ভারতে আসার অনুমোদন চেয়েছিলেন। সেই অনুমোদন পাওয়ার পরই তিনি ভারতের মাটিতে পা রাখেন বলে জানান জয়শঙ্কর।এরপর থেকে শেখ হাসিনা ভারতেই অবস্থান করছেন। তবে তিনি ঠিক কোন ‘ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে’ ভারতে রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।তবে শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কী ধরনের আইনি বা অভিবাসন মর্যাদায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানান তিনি।

ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা : চিফ প্রসিকিউটর