ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই অভ্যুত্থান দমনে নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রোববার সকালে প্রকাশ করা হয়েছে।রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। এর আগে গত ৫ জুলাই বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।যে তিন অভিযোগে সাজা৩ নম্বর অভিযোগে সাক্ষী রাইসুল হকসহ ভুক্তভোগীদের রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও আহত করার দায়ে ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।৬ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের দায়ে তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।৭ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্রের দায়ে তাঁকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর ওপর আরোপিত সব সাজা যুগপৎ চলবে। ফলে সব মিলিয়ে তাঁকে ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, এ রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।আট অভিযোগের বিবরণইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। এতে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়।প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাও’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বল প্রয়োগের উসকানি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন ইনু।দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় সারা দেশে সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্তে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে দমন ও হত্যার নির্দেশ দেন তিনি।চতুর্থ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ২৭ জুলাই ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’-এ আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন ইনু।ষষ্ঠ অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।সপ্তম অভিযোগে ৪ আগস্ট আন্দোলনকারীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে কারফিউ জারি, গুলি বর্ষণের কঠোর সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা এলাকায় ইনুর নির্দেশে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।তবে রায়ে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়াপ্রসিকিউশনের তদন্ত দল ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কৌঁসুলি আব্দুস সোবহান তরফদারের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ১ ডিসেম্বর প্রথম সাক্ষী হিসেবে মেহেরপুরের বাসিন্দা রাইসুল হকের জবানবন্দি নেওয়া হয়।বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। আসামিপক্ষের দুজন সাফাই সাক্ষীও সাক্ষ্য দেন। মামলায় ২০ সিরিজের নথি ও পাঁচটি বস্তুগত আলামত উপস্থাপন করা হয়।গত ১১ মার্চ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য দেন ইনু। সেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে কাল্পনিক, বিদ্বেষপ্রসূত ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।২ এপ্রিল তাঁর পুনর্তদন্ত ও সাক্ষী তলবের আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর আসামিপক্ষ টানা নয় দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। ৬ মে ইনুর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী যুক্তিতর্ক শেষ করে খালাস দাবি করেন। ১৪ মে প্রসিকিউশনও যুক্তিতর্ক শেষ করে। পরে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক জীবন২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসা থেকে হাসানুল হক ইনুকে আটক করা হয়। শুরুতে নিউ মার্কেট থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্যে ২১ আগস্ট কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানো মামলার সংখ্যা ৮৭টি। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।১৯৪৬ সালের ১২ নভেম্বর জন্ম নেওয়া হাসানুল হক ইনু ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি করেন। ১৯৭২ সালে জাসদ গঠনের সময় তিনি প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০২ সাল থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

জুলাইয়ের গণহত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই আন্দোলন ঘিরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাঁদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জুলাইয়ে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয়জন হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড, প্রতিটি কথোপকথনের ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য সহায়ক প্রমাণও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। তাঁর দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।এর আগে ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত যুক্তিতে সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম দাবি করেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ ওবায়দুল কাদের দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে আইনজীবী এম হাসান ইমাম বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর তিন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসিবিলিটির ক্ষেত্রে তিনি শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, তাঁর মক্কেলরা কাউকে হত্যা করেননি এবং হত্যার নির্দেশও দেননি।ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তাঁর মক্কেলদের নাম আসেনি। অধীনস্থ নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হলেও মামলায় কোনো নারী সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং তাঁর মক্কেলদের খালাস চান।রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম যুক্তি দেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’-এর নীতি প্রযোজ্য। একই উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠী অপরাধ করলে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও ওই গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য দায়ী হতে পারেন। তাঁর দাবি, ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশের পর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় যুক্ত হন।মামলাটি প্রথমে ৫/২০২৫ নম্বর মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত বছরের ১৮ জুন তদন্ত শুরু করে এবং ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং একই দিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ২৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২ আগস্ট। ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

জুলাইয়ের গণহত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

ওবায়দুল কাদের ও হানিফ সহ ৭ জনের মামলার রায় ৮ সেপ্টেম্বর

জুলাই আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলার রায় চলতি সেপ্টেম্বরেই ঘোষণা হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করার জন্য প্রাথমিকভাবে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রোববার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির মামলার রায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঘোষণা করা হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রমই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলাগুলো রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির।ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলাওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।গত ১৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দমন, হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এ বিষয়ে বিভিন্ন অডিও ও ভিডিও প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বাহাউদ্দিন নাছিমও উপস্থিত ছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।এ ছাড়া যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিখিলের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একটি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের কথাও জানিয়েছে প্রসিকিউশন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের নেতৃত্বের বিষয়টিও প্রসিকিউশনের যুক্তিতে উঠে আসে।মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছেন।চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, সাত আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের যাবতীয় প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলো যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা করছেন।গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছিল।কুষ্টিয়ার মামলায় চার আসামিজুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মামলায় মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামি রয়েছেন।হানিফ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।এই মামলায় ১৯ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর গত ১০ জুন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও দুজন সাক্ষী উপস্থাপনের আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে। গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং পরদিন তা আমলে নেওয়া হয়।

ওবায়দুল কাদের ও হানিফ সহ ৭ জনের মামলার রায় ৮ সেপ্টেম্বর

সালাহউদ্দিনকে গুম ও নির্যাতনের মামলা: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে বিএনপির নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ১০ আগস্ট প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ এ মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করবে প্রসিকিউশন।এর আগে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গিয়ে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগটি দাখিল করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।মামলার নথিতে জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা এবং সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।উত্তরার বাসা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগমামলার ঘটনার বিবরণে সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়।সে সময় সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়।পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।আরও যাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছেএদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার থাকা দীপু মনি ও আমির হোসেন আমুসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক ১০ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকেও বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।আজ এসব আসামির বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিন রয়েছে।এ ছাড়া ২০১৩ সালে হাফেজ জাকির হোসেনকে গুমের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায় র‌্যাব-১-এর সাবেক অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল মোমেনকেও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিনকে গুম ও নির্যাতনের মামলা: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে

জুলাই বিপ্লব চলাকালে রাজশাহীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তাঁকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হান, সহিদুল ইসলাম সরদার ও তারেক আবদুল্লাহ।শুনানিতে তিনটি ভিডিও উপস্থাপনশুনানিতে মামলার অভিযোগ ও ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় ট্রাইব্যুনালে তিনটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ভিডিওগুলোতে কয়েকজন আসামিকে অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে জহিরুলসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করার কথা জানান প্রসিকিউটর।পরে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি বা প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করে প্রসিকিউশন।শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং চারজনকে হাজিরের নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।যাঁদের হাজিরের নির্দেশপ্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হওয়া চারজন হলেন রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া ৩৪ জন হলেন—খায়রুজ্জামান লিটন, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির এবং শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লব চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে আনজুম সাকিব নিহত হন।এ ছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও অনেকে ওই সময় আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।এর আগে গত ৩০ জুলাই এই ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার তা আমলে নিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে

ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা : চিফ প্রসিকিউটর

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কোন স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, তা বাংলাদেশ জানে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো সম্ভব।সোমবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।এর আগে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিমান দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। ওই দিন সন্ধ্যায় বিমানঘাঁটিতে শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানাকে স্বাগত জানান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।পরদিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দেশটির পার্লামেন্টে জানান, ভারত সরকারের কাছে শেখ হাসিনা ‘সাময়িকভাবে’ ভারতে আসার অনুমোদন চেয়েছিলেন। সেই অনুমোদন পাওয়ার পরই তিনি ভারতের মাটিতে পা রাখেন বলে জানান জয়শঙ্কর।এরপর থেকে শেখ হাসিনা ভারতেই অবস্থান করছেন। তবে তিনি ঠিক কোন ‘ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে’ ভারতে রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।তবে শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কী ধরনের আইনি বা অভিবাসন মর্যাদায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানান তিনি।

ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা : চিফ প্রসিকিউটর