এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় পেরুতে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহহীন হয়েছেন কয়েক শ মানুষ। বুধবার পেরুর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির
জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র (সিওইএন) জানায়, দাবানলে নিহত ব্যক্তিদের বেশির
ভাগই কৃষক। আগুন নেভানোর চেষ্টা
করতে গিয়ে তাঁরা আহত
হন। পরে তাঁদের মৃত্যু
হয়।
দাবানলে
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
পেরুর কুসকো অঞ্চল। চলতি মাসের শুরুর
দিকে ঐতিহাসিক ইনকা সভ্যতার নিদর্শন
মাচু পিচুর কাছেও একটি দাবানল ছড়িয়ে
পড়ে। জুন থেকে অক্টোবর
পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৪৫৭টি দাবানলের
ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
লিমার
সায়েন্টিফিক ইউনিভার্সিটি অব দ্য সাউথের
জীববিজ্ঞানী ড্যানিয়েল ভালে বলেন, এল
নিনোর কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শুষ্ক আবহাওয়া
তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে
পড়ছে।
বার্তা
সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘এল
নিনোর প্রভাবে পুরো পেরুর ওপর
প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক
বাতাসের বিশাল স্তর তৈরি হয়েছে।’
এদিকে
ফসল চাষের জন্য জমি প্রস্তুত
করতে কৃষকেরা প্রায়ই ঝোপঝাড়ে আগুন দেন। এসব
আগুন থেকেও অনেক সময় দাবানলের
সূত্রপাত হয়। দাবানলে দেশটিতে
এক হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পুড়ে
গেছে। পাশাপাশি ধ্বংস হয়েছে প্রায় ১০০টি বাড়ি।
সিওইএনের
তথ্য অনুযায়ী, বুধবার আন্দিজ পর্বতমালা ও পেরুর আমাজন
অঞ্চলে সাতটি দাবানল সক্রিয় ছিল।
এল
নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত
ঘটনা। এ সময় প্রশান্ত
মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব
অংশের উপরিভাগের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর
প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে
পরিবর্তন ঘটে।
চলতি
বছরের ‘সুপার’ এল নিনো ডিসেম্বরে
সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা
করা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে
মধ্য আমেরিকাসহ বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে এর প্রভাবে ব্যাপক
ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
সূত্র: বিএসএস