ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গু, হিটস্ট্রোক ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গু, হিটস্ট্রোক ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও বায়ুদূষণের কারণে ডেঙ্গু, লেপ্টোস্পাইরোসিসসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক এবং হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে আগাম সতর্কতা এবং আধুনিক রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যে পড়তে শুরু করেছে। সুপার এল নিনোর মতো চরম আবহাওয়াগত পরিস্থিতি এ ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা।মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী দাতুক ডা. জাইনাল আরিফিন ওমর বলেন, তাপমাত্রা বাড়লে এডিস মশার প্রজননচক্র দ্রুত হতে পারে। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, অতিবৃষ্টি ও বন্যার সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব ঝুঁকি আগাম অনুমান করা সম্ভব।ডা. জাইনালের ভাষ্য, মালয়েশিয়ায় বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় গরমের শারীরিক প্রভাব আরও তীব্র হয়। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা হিটস্ট্রোকের বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তীব্র গরমে হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে। আবার ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণে হাঁপানির উপসর্গও তীব্র হতে পারে।রোগ শনাক্তে আধুনিক নজরদারির পরামর্শজলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডা. জাইনাল। তিনি বলেন, ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা (জিআইএস) ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো রোগের সংক্রমণপ্রবণ এলাকা আগেই শনাক্ত করা যেতে পারে। এ জন্য সংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণব্যবস্থার সঙ্গে জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা প্রয়োজন।ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোনো এলাকায় রোগী শনাক্ত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে মশার লার্ভা ধ্বংস ও থার্মাল ফগিংয়ের মতো কার্যক্রম শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে দল গঠনও জরুরি।এ ছাড়া তাপপ্রবাহের বিষয়ে আগাম সতর্কতা জোরদার, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য শীতল আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ডা. জাইনাল। তাঁর মতে, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও রোগীর আকস্মিক চাপ মোকাবিলায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সক্ষমতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা দরকার। স্বাস্থ্যনীতি ও পরিকল্পনা তৈরির সময়ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে।ডেঙ্গুর পাশাপাশি বাড়ছে অন্যান্য রোগের উদ্বেগমালয়েশিয়ার মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স কোয়ালিশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. রাজ কুমার মহারাজা বলেন, ডেঙ্গু এখনো দেশটির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত মশার বেঁচে থাকা, প্রজনন এবং ভাইরাস সংক্রমণে প্রভাব ফেলে।ডেঙ্গুর পাশাপাশি লেপ্টোস্পাইরোসিস, ডায়রিয়াজনিত রোগ, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ, তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ডা. রাজের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগের উপসর্গ বাড়তে পারে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।তিনি আরও বলেন, তাপজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। রোগ নজরদারির সঙ্গে আবহাওয়া ও পরিবেশের তথ্য সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিকল্প বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং চরম আবহাওয়ার মধ্যেও চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে ওষুধ ও টিকা সুরক্ষিত রাখা জরুরি।বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মতো উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের আগেই শনাক্ত করে নিয়মিত চিকিৎসা ও খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আগাম সতর্কতার প্রস্তাবমালায়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ভিক্টর হো আবহাওয়া, পরিবেশ, রোগের বিস্তার ও হাসপাতালসংক্রান্ত তথ্য একত্র করে সমন্বিত জলবায়ু-স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।জরুরি জনসতর্কতা পৌঁছে দিতে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার ‘মাইসেজাতেরা’ অ্যাপকে ব্যক্তিগত জলবায়ু-স্বাস্থ্য সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। এ ব্যবস্থায় তাপপ্রবাহ, ধোঁয়াশা কিংবা বন্যার পানির সংস্পর্শে আসার পর ব্যবহারকারীরা নিজেদের উপসর্গ যাচাই করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা পেতে পারেন।ডা. হোর মতে, এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, তাপজনিত অসুস্থতা এবং বন্যার পর সংক্রমণের ঝুঁকি আগাম অনুমান করতে সহায়তা করবে। ফলে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয় ভিত্তি রয়েছে। তবে জলবায়ুসংক্রান্ত সতর্কবার্তার সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ, শ্রমিকদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটাতে হবে। দেশটিতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।ঝুঁকিতে গিগ অর্থনীতির কর্মীরাডা. ভিক্টর হো বিশেষ করে গিগ অর্থনীতির কর্মীদের সুরক্ষা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। খাবার সরবরাহকারী কর্মী, মোটরসাইকেল চালক ও গাড়িচালকেরা তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও খারাপ বায়ুমানের কারণে বাড়তি ঝুঁকিতে থাকেন।তাঁর পরামর্শ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বায়ুমানের তথ্য যুক্ত করা উচিত। এতে বিপজ্জনক এলাকায় কাজের দায়িত্ব কমানো, নিরাপদ পথের পরামর্শ দেওয়া এবং বিশ্রাম ও পানি পানের বিরতি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, নিয়োগকর্তা ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।সূত্র: দ্য স্টার

দুর্যোগের আগেই ঝুঁকি কমিয়ে সহনশীল সমাজ গড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি

দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পাশাপাশি দুর্যোগের আগেই ঝুঁকি কমিয়ে একটি সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রতিটি ঘর ও পরিবারকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করার মাধ্যমেই টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা।এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘রিজিলিয়েন্স স্টার্টস অ্যাট হোম’ বা ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগসহনশীল দেশ গড়ি’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি পরিবারকে নিজ এলাকার দুর্যোগঝুঁকি, আগাম সতর্কবার্তা এবং আশ্রয়কেন্দ্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। একই সঙ্গে অপরিকল্পিত বসতি নিয়ন্ত্রণ ও ভবন নির্মাণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেন তিনি।জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের দায় সামান্য হলেও এর বড় মূল্য দিতে হচ্ছে দেশের জনগণকে। তবে বাংলাদেশ এখন শুধু দুর্যোগঝুঁকিতে থাকা দেশ নয়, দুর্যোগ মোকাবিলা ও সহনশীলতা অর্জনেও বিশ্বজুড়ে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ।সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, নদী ও খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভূমিকম্প ও বজ্রপাতের মতো উদীয়মান দুর্যোগঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বেচ্ছাসেবক তৈরি এবং ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রত্যেককে নিজের ঘর নিরাপদ করতে হবে, পরিবারকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখতে হবে এবং আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।রাষ্ট্র ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

দুর্যোগের আগেই ঝুঁকি কমিয়ে সহনশীল সমাজ গড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি

বিভাজন ও মতপার্থক্যে চাপে যুক্তরাষ্ট্রের জি-২০ সম্মেলন

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক বিরোধ ও সদস্যদেশগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জি-২০-এর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতিত্বে ২০২৬ সালের সম্মেলন সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল হয়ে পড়লে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্প্রতি এক মতামত নিবন্ধে এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলএসই আইডিয়াসের সহযোগী অ্যান্ড্রু হ্যামন্ড।জি-২০-এর এবারের আয়োজন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার, দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক এবং রাশিয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি রূপান্তরের মতো বিষয়ে সদস্যদেশগুলোর অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।সংকট মোকাবিলায় জি-২০-এর ভূমিকা১৯৯৮ সালের এশীয় অর্থনৈতিক সংকটের পর ১৯৯৯ সালে জি-২০ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো ছিল এই ফোরাম গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় জি-২০ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০০৯ সালের এপ্রিলে লন্ডন সম্মেলনে চাহিদা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজে সম্মত হন বিশ্বনেতারা। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের কূটনৈতিক উদ্যোগ ওই সমঝোতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।সেই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছিল, বড় অর্থনীতিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব কমানো সম্ভব। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পথ কঠিন করে তুলছে।দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে বিরোধযুক্তরাষ্ট্রের এবারের জি-২০ আয়োজন নিয়ে বিতর্কের অন্যতম বিষয় দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ কার্যক্রম বর্জন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে হত্যা ও জমি কেড়ে নেওয়ার শিকার হিসেবে তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অভিযোগ করেছিলেন, তা এই বিরোধের পটভূমির অংশ। তবে তাঁর এসব অভিযোগ ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।এবার যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে জি-২০-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে পোল্যান্ডকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইউরোপের কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণ হয়েছে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের উদ্বেগ, জি-২০-এর পূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে আয়োজনের বাইরে রাখলে ফোরামটির অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র প্রশ্নের মুখে পড়বে।এ বিরোধ কেবল দুটি দেশের সম্পর্কের বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক ফোরামে সদস্যদের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ, আয়োজক দেশের দায়িত্ব এবং বৈশ্বিক আলোচনার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও এটি প্রশ্ন তুলেছে।‘নতুন জি-২০’ এজেন্ডায় জলবায়ু নিয়ে উদ্বেগমার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বর্ণিত ‘নতুন জি-২০’ এজেন্ডা নিয়েও সদস্যদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এজেন্ডায় জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি, অভিবাসন, নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিবিধান কমানো এবং বিদেশি বিনিয়োগের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জ্বালানি রূপান্তরের মতো বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ অগ্রাধিকার ডিসেম্বরের যৌথ ঘোষণার খসড়াতেও প্রভাব ফেলছে।ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন ও জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে সদস্যদেশগুলোর অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা কঠিন হতে পারে। তবে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। যৌথ ঘোষণায় কোন বিষয়গুলো স্থান পাবে, তা নিয়ে দর-কষাকষি এবারের সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।রাশিয়ার অভিযোগ, যৌথ বিবৃতি ছাড়াই বৈঠকজি-২০-এর আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে রাশিয়াও অসন্তোষ জানিয়েছে। জি-২০ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত-অ্যাট-লার্জ মারাত বেরদিয়েভের অভিযোগ, ভিসা প্রত্যাখ্যান ও স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণে রাশিয়ার প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত আর্থিক বৈঠকগুলোতে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নিতে পারেননি।এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সেখানে সংবাদ সম্মেলনও হয়নি।রাশিয়ার অভিযোগগুলো মস্কোর বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগের সত্যতা ও পরিসর নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ, প্রতিনিধিদের স্বীকৃতি এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বহুপক্ষীয় কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।জি-২০-এর কার্যকারিতা শুধু বৈঠক আয়োজনের ওপর নির্ভর করে না। সদস্যদের মধ্যে আলোচনা, মতবিনিময় ও গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর সক্ষমতাও এ ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ।ভূরাজনৈতিক বিভাজনে দুর্বল বহুপক্ষীয় সহযোগিতাকোভিড-১৯ মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা, রাশিয়াকে ঘিরে বিরোধ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠকে কূটনৈতিক সংঘাত জি-২০-এর কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে।এ পরিস্থিতিতে এবারের সম্মেলনের গুরুত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। জি-২০ ও জি-৭-এর মতো বহুপক্ষীয় ফোরাম ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর জি-৭-এরও আয়োজন করবে। ফলে এবারের জি-২০ সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, আলোচনার পদ্ধতি এবং যৌথ অবস্থান তৈরির অভিজ্ঞতা পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোর জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।বৈশ্বিক সংকটে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেইমহামারি, আর্থিক বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো সমস্যা কোনো একক দেশের পক্ষে পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এসব ক্ষেত্রে তথ্য বিনিময়, অর্থনৈতিক নীতির সমন্বয়, যৌথ সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।জি-২০-এর মতো ফোরাম এসব বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও সদস্যদেশগুলোর মতপার্থক্যের কারণে সব সময় অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, তবু সহযোগিতার কাঠামো সচল রাখা জরুরি।যুক্তরাষ্ট্রের এবারের জি-২০ সভাপতিত্ব তাই ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ হওয়ার পাশাপাশি বহুপক্ষীয় কূটনীতির কার্যকারিতা ধরে রাখার পরীক্ষাও। সদস্যদেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, মতপার্থক্য গ্রহণযোগ্যভাবে সামাল দেওয়া এবং যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জি-২০ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিভাজন ও মতপার্থক্যে চাপে যুক্তরাষ্ট্রের জি-২০ সম্মেলন

উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে ইকোভা ফাউন্ডেশন

উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইকোভা ফাউন্ডেশন। দীর্ঘদিন ধরে বরগুনা, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, দুর্যোগের সময় করণীয় এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি।ইকোভা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই কৃষি নিয়েও সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।ইকোভা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মতিন সাগর বলেন, সংগঠনের সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন ছাড়াই সদস্যদের সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।মতিন সাগর বলেন, আমরা পৃথিবীকে ভালোবেসে কাজ করি। আমাদের লক্ষ্য হলো উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ যেন অন্য সবার মতো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার পায়।তিনি বলেন, উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগঝুঁকি কমাতে শুধু দুর্যোগের সময় সহায়তা দেওয়াই যথেষ্ট নয়। দুর্যোগের আগেই মানুষকে প্রস্তুত করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। এ কারণে ইকোভা ফাউন্ডেশন সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছে।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সংগঠনের প্রয়োজনইকোভা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ইকোভার মতো আরও সংগঠন গড়ে উঠা প্রয়োজন।তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর মানুষ যে প্রভাব ভোগ করছে, তার বড় একটি অংশই মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সচেতন মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত সংগঠন খুবই প্রয়োজন।মো. বেলাল হোসেন আরও বলেন, ইকোভা ফাউন্ডেশন নিজেদের অর্থায়নে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, ইকোভা ফাউন্ডেশন নিজেদের অর্থায়নে কাজ করছে। তাই আমি আশা করছি, খুব দ্রুত তারা সরকার অথবা কোনো বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে অর্থায়ন নিয়ে আরও শক্তিশালী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।কৃষি ও জলবায়ু বিষয়ে পরামর্শইকোভা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি একজন বিজ্ঞানী। কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সংগঠনটিকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।সংগঠনটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে কৃষি, পানি ও পরিবেশের বিষয়গুলো সরাসরি সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন তৈরি হচ্ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হচ্ছে।ইকোভা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে দুর্যোগ মোকাবিলা ও সচেতনতার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই কৃষির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাবর্তমানে বরগুনা, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে পরিচালিত কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইকোভা ফাউন্ডেশন। বিশেষ করে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্যোগের প্রস্তুতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করতে চায় সংগঠনটি।ইকোভা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি এবং জনগণকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করার কাজ অব্যাহত রাখতে চায় সংগঠনটি।নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হওয়া কার্যক্রমকে ভবিষ্যতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে ইকোভা ফাউন্ডেশনের।  

উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে ইকোভা ফাউন্ডেশন

মোংলায় কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে ৯ হাজার ৪০০ চারা রোপণ

উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাগেরহাটের মোংলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’-এর আওতায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৯ হাজার ৪০০টি চারা রোপণ করা হবে।বুধবার ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।এনরুট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। মোংলা ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে এ কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, রোপণ করা চারাগুলো উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে মাটি ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এসব গাছ সহায়ক হবে।তিনি আরও বলেন, মোংলা ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কোস্ট গার্ডের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মোংলায় কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে ৯ হাজার ৪০০ চারা রোপণ