ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

ভারী বৃষ্টিতে তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে সড়ক, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে, আটকে পড়েছে যানবাহন। বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরজুড়ে উদ্ধারকর্মী, যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।আল-জাজিরার যাচাই করা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলার বালাত এলাকায় একটি গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবেশপথে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে হাঁটছিল কিশোরটি। হঠাৎ সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পানিতে পা দেওয়ার পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়।ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোরটিকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মীদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাভুত গুল। বেসমেন্ট ও নিচতলার ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের রাতে ভবনের ওপরের তলায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে খাল ও ছোট নদীর তীর, আন্ডারপাস এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলেছেন।স্কুল বন্ধ, মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞাঅ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলের স্কুলগুলোতে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচলও নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মচারী এবং ছোট শিশুর মায়েদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ৯টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি প্রদেশে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর ইস্তাম্বুলে প্রায় ৮ হাজার উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।আড়াই হাজারের বেশি জরুরি খবরতুরস্কের আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইস্তাম্বুলে বৃষ্টি শুরু হয়। পরে শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও আন্ডারপাস পানিতে ডুবে যায়। এসেনইউর্ট ও সুলতানগাজিসহ কয়েকটি এলাকায় যানবাহন আটকে পড়ে। বাড়িঘর, দোকানপাট ও বেসমেন্টেও পানি ঢুকে পড়ে।ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবহাওয়াজনিত ঘটনায় জরুরি সেবাকেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি খবর আসে। কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ২৭৭টি বন্যার ঘটনা এবং ১৫টি ভূমিধসের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। বন্যার পানিতে ৪৭ জন আটকা পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০০টির বেশি বাড়ি, ২৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৭৬টি যানবাহন।তুরস্ক টুডের খবরে বলা হয়েছে, শহরের আইয়ুপসুলতান ও গাজিওসমানপাশা জেলায় সড়কের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসেনইউর্ট এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীকে উদ্ধার করেন পথচারীরা।বন্যার পানি দুটি হাসপাতালেও পৌঁছেছে। হাচিওসমান মেট্রো স্টেশনের ছাদ থেকেও পানি ঢুকে পড়ে। সুলতানগাজি এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের ঠেকনাদেয়াল ধসে পড়ে। তবে এতে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি।১২ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিইস্তাম্বুলের এশীয় অংশের বেইকোজ জেলার ওমেরলি এলাকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ডেইলি সাবাহর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত ইস্তাম্বুল মেয়র নুরি আসলান জানিয়েছেন, শহরের কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় কর্মব্যস্ত সময়ে শহরের যানজটের মাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

নেপালের বন্যায় পুনর্গঠনে খরচ হতে পারে ৫০০ কোটি ডলার: বিনোদ চৌধুরী

নেপালের চলতি সপ্তাহের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও মানুষের পুনর্বাসনে অন্তত ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির একমাত্র ধনকুবের ও শিল্পপতি বিনোদ চৌধুরী।ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসলিন্ডা আমিনের সঙ্গে আলাপকালে চৌধুরী বলেন, শেষ পর্যন্ত পুনর্গঠনের ব্যয় ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালে তিনি অবাক হবেন না। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু বিপুল অর্থের প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, নেপালের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগাও বড় চ্যালেঞ্জ।চৌধুরী গ্রুপের চেয়ারম্যান বিনোদ চৌধুরী বলেন, খাদ্য, টেলিকম, অবকাঠামো ও ব্যাংকিংসহ ১২টি খাতে তাদের ব্যবসা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং দুর্যোগে থমকে যাওয়া অর্থনীতি পুনরায় সচল করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।গত ২৬ আগস্ট চীনের সীমান্তবর্তী নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। পাহাড়ি ঢল ও প্লাবনে মুহূর্তের মধ্যে কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক ও সেতু। বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।পুলিশের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণেও এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে বিনোদ চৌধুরী বলেন, দুর্যোগের কারণে নেপালজুড়ে চরম বিপর্যয় ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।চৌধুরী গ্রুপ জানিয়েছে, তারা সরকার, স্থানীয় অংশীদার ও নেপালি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন মানুষের জন্য আগামী দুই দিনের মধ্যে অস্থায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরিতে কর্মীদের মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত করা হয়েছে।জরুরি সহায়তার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় চালু করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো খুলে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করবে চৌধুরী গ্রুপ।বিনোদ চৌধুরী আরও বলেন, এবারের দুর্যোগ মোকাবিলায় তাঁর ব্যবসায়িক গোষ্ঠী যে পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করতে যাচ্ছে, তা ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময়ের ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি হবে। ওই ভূমিকম্পের পরও চৌধুরী গ্রুপ নেপালজুড়ে পুনর্নির্মাণ ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়েছিল। সূত্র: এনডিটিভি

নেপালের বন্যায় পুনর্গঠনে খরচ হতে পারে ৫০০ কোটি ডলার: বিনোদ চৌধুরী