ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

নেপালের বন্যায় পুনর্গঠনে খরচ হতে পারে ৫০০ কোটি ডলার: বিনোদ চৌধুরী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেপালের বন্যায় পুনর্গঠনে খরচ হতে পারে ৫০০ কোটি ডলার: বিনোদ চৌধুরী
নেপালের একমাত্র ধনকুবের ও শিল্পপতি বিনোদ চৌধুরী

নেপালের চলতি সপ্তাহের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও মানুষের পুনর্বাসনে অন্তত ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির একমাত্র ধনকুবের ও শিল্পপতি বিনোদ চৌধুরী।

ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসলিন্ডা আমিনের সঙ্গে আলাপকালে চৌধুরী বলেন, শেষ পর্যন্ত পুনর্গঠনের ব্যয় ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালে তিনি অবাক হবেন না। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু বিপুল অর্থের প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, নেপালের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগাও বড় চ্যালেঞ্জ।

চৌধুরী গ্রুপের চেয়ারম্যান বিনোদ চৌধুরী বলেন, খাদ্য, টেলিকম, অবকাঠামো ও ব্যাংকিংসহ ১২টি খাতে তাদের ব্যবসা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং দুর্যোগে থমকে যাওয়া অর্থনীতি পুনরায় সচল করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

গত ২৬ আগস্ট চীনের সীমান্তবর্তী নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। পাহাড়ি ঢল ও প্লাবনে মুহূর্তের মধ্যে কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক ও সেতু। বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণেও এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে বিনোদ চৌধুরী বলেন, দুর্যোগের কারণে নেপালজুড়ে চরম বিপর্যয় ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

চৌধুরী গ্রুপ জানিয়েছে, তারা সরকার, স্থানীয় অংশীদার ও নেপালি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন মানুষের জন্য আগামী দুই দিনের মধ্যে অস্থায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরিতে কর্মীদের মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত করা হয়েছে।

জরুরি সহায়তার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় চালু করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো খুলে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করবে চৌধুরী গ্রুপ।

বিনোদ চৌধুরী আরও বলেন, এবারের দুর্যোগ মোকাবিলায় তাঁর ব্যবসায়িক গোষ্ঠী যে পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করতে যাচ্ছে, তা ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময়ের ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি হবে। ওই ভূমিকম্পের পরও চৌধুরী গ্রুপ নেপালজুড়ে পুনর্নির্মাণ ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়েছিল।

সূত্র: এনডিটিভি

বিষয় : নেপাল আকস্মিক বন্যা পুনর্বাসন বিনোদ চৌধুরী চৌধুরী গ্রুপ প্রাকৃতিক দুর্যোগ

দৈনিক নবকাল

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


নেপালের বন্যায় পুনর্গঠনে খরচ হতে পারে ৫০০ কোটি ডলার: বিনোদ চৌধুরী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপালের চলতি সপ্তাহের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও মানুষের পুনর্বাসনে অন্তত ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির একমাত্র ধনকুবের ও শিল্পপতি বিনোদ চৌধুরী।

ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসলিন্ডা আমিনের সঙ্গে আলাপকালে চৌধুরী বলেন, শেষ পর্যন্ত পুনর্গঠনের ব্যয় ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালে তিনি অবাক হবেন না। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু বিপুল অর্থের প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, নেপালের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগাও বড় চ্যালেঞ্জ।

চৌধুরী গ্রুপের চেয়ারম্যান বিনোদ চৌধুরী বলেন, খাদ্য, টেলিকম, অবকাঠামো ও ব্যাংকিংসহ ১২টি খাতে তাদের ব্যবসা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং দুর্যোগে থমকে যাওয়া অর্থনীতি পুনরায় সচল করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

গত ২৬ আগস্ট চীনের সীমান্তবর্তী নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। পাহাড়ি ঢল ও প্লাবনে মুহূর্তের মধ্যে কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক ও সেতু। বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণেও এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে বিনোদ চৌধুরী বলেন, দুর্যোগের কারণে নেপালজুড়ে চরম বিপর্যয় ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

চৌধুরী গ্রুপ জানিয়েছে, তারা সরকার, স্থানীয় অংশীদার ও নেপালি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন মানুষের জন্য আগামী দুই দিনের মধ্যে অস্থায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরিতে কর্মীদের মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত করা হয়েছে।

জরুরি সহায়তার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় চালু করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো খুলে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করবে চৌধুরী গ্রুপ।

বিনোদ চৌধুরী আরও বলেন, এবারের দুর্যোগ মোকাবিলায় তাঁর ব্যবসায়িক গোষ্ঠী যে পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করতে যাচ্ছে, তা ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময়ের ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি হবে। ওই ভূমিকম্পের পরও চৌধুরী গ্রুপ নেপালজুড়ে পুনর্নির্মাণ ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়েছিল।

সূত্র: এনডিটিভি


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
নেপালের বন্যায় পুনর্গঠনে খরচ হতে পারে ৫০০ কোটি ডলার: বিনোদ চৌধুরী
0:00 0:00
1.0x