নেপালে বুধবারের আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যার স্রোতে ভেসে অনেক লাশ দূরের জেলাগুলোতে চলে যাওয়ায় উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫৫২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার দক্ষিণে চিতওয়ানে ২২১টি এবং প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে নওয়ালপরাসি পূর্ব এলাকায় ১৩৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।চিতওয়ানের চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার গণেশ আরিয়াল বিবিসিকে বলেন, অনেক লাশের অবস্থা ভালো নেই। ফলে সেগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়েছে।স্থানীয় হাসপাতালের মর্গগুলোতেও লাশ রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ কারণে নিহতদের মরদেহ রাখার জন্য একটি সরকারি ভবন নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।এ পরিস্থিতিতে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।সূত্র: বিবিসি
নেপালের চলতি সপ্তাহের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও মানুষের পুনর্বাসনে অন্তত ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির একমাত্র ধনকুবের ও শিল্পপতি বিনোদ চৌধুরী।ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসলিন্ডা আমিনের সঙ্গে আলাপকালে চৌধুরী বলেন, শেষ পর্যন্ত পুনর্গঠনের ব্যয় ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালে তিনি অবাক হবেন না। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু বিপুল অর্থের প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, নেপালের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগাও বড় চ্যালেঞ্জ।চৌধুরী গ্রুপের চেয়ারম্যান বিনোদ চৌধুরী বলেন, খাদ্য, টেলিকম, অবকাঠামো ও ব্যাংকিংসহ ১২টি খাতে তাদের ব্যবসা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং দুর্যোগে থমকে যাওয়া অর্থনীতি পুনরায় সচল করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।গত ২৬ আগস্ট চীনের সীমান্তবর্তী নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। পাহাড়ি ঢল ও প্লাবনে মুহূর্তের মধ্যে কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক ও সেতু। বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।পুলিশের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণেও এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে বিনোদ চৌধুরী বলেন, দুর্যোগের কারণে নেপালজুড়ে চরম বিপর্যয় ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।চৌধুরী গ্রুপ জানিয়েছে, তারা সরকার, স্থানীয় অংশীদার ও নেপালি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন মানুষের জন্য আগামী দুই দিনের মধ্যে অস্থায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরিতে কর্মীদের মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত করা হয়েছে।জরুরি সহায়তার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় চালু করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো খুলে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করবে চৌধুরী গ্রুপ।বিনোদ চৌধুরী আরও বলেন, এবারের দুর্যোগ মোকাবিলায় তাঁর ব্যবসায়িক গোষ্ঠী যে পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করতে যাচ্ছে, তা ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময়ের ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি হবে। ওই ভূমিকম্পের পরও চৌধুরী গ্রুপ নেপালজুড়ে পুনর্নির্মাণ ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়েছিল। সূত্র: এনডিটিভি
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ঢাকা।বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে শোকাহত। ভয়াবহ এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পর্যটকসহ আরও অনেকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপাল সরকার এবং দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশাও জানিয়েছে ঢাকা।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নিহতদের জন্য আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।’এদিকে নেপালের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।’নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানাল বাংলাদেশ।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।