ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ



৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
ছবি: সংগ্রহ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বুধবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি হবে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

গত ২৭ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে এ মামলায় মোট ১১ আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। পরে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ৩০ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।

গ্রেপ্তার ১১ আসামি

মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।

যাঁরা পলাতক

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ।

এ তালিকায় আরও রয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বিএম ফরমান আলী।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে তৎকালীন সরকার পরিকল্পিতভাবে হেফাজতে ইসলামের নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের ওপর গণহত্যা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, ওই বৈঠক থেকে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের যেকোনো উপায়ে রাতের মধ্যে শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বৈঠক হয়। সেখানে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য বাহিনীগুলো আলাদা নাম ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, র‍্যাবের ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবির ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। পরে পুরো অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু হয়। সমাবেশস্থলে থাকা হেফাজতের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট গ্রেনেড, রাবার বল প্রজেক্টাইল ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এতে সেখানে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন এবং আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শর্টগান ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালান। শাপলা চত্বর থেকে বের হয়ে ঢাকা ছাড়ার চেষ্টা করার সময় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হামলারও শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, রাতের অভিযান এবং দিনব্যাপী হামলা ও সংঘর্ষে শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩২ জন নেতা-কর্মী নিহত ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাধানীনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আশপাশে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।

বিষয় : ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন মানবতাবিরোধী

দৈনিক নবকাল

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বুধবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি হবে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

গত ২৭ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে এ মামলায় মোট ১১ আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। পরে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ৩০ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।

গ্রেপ্তার ১১ আসামি

মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।

যাঁরা পলাতক

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ।

এ তালিকায় আরও রয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বিএম ফরমান আলী।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে তৎকালীন সরকার পরিকল্পিতভাবে হেফাজতে ইসলামের নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের ওপর গণহত্যা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, ওই বৈঠক থেকে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের যেকোনো উপায়ে রাতের মধ্যে শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বৈঠক হয়। সেখানে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য বাহিনীগুলো আলাদা নাম ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, র‍্যাবের ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবির ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। পরে পুরো অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু হয়। সমাবেশস্থলে থাকা হেফাজতের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট গ্রেনেড, রাবার বল প্রজেক্টাইল ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এতে সেখানে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন এবং আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শর্টগান ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালান। শাপলা চত্বর থেকে বের হয়ে ঢাকা ছাড়ার চেষ্টা করার সময় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হামলারও শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, রাতের অভিযান এবং দিনব্যাপী হামলা ও সংঘর্ষে শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩২ জন নেতা-কর্মী নিহত ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাধানীনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আশপাশে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
0:00 0:00
1.0x