সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামরিক সহযোগিতার কারণে অনেকে এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বললেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ন্যাটোর মতো কোনো সামরিক জোট নয়।
তুরস্কের হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি
বিশ্লেষক মুরাত আসলাম বলেন, জোটটিকে আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত
সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ। এর
কোনো নির্দিষ্ট শত্রু দেশ নেই। একই
সঙ্গে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত এড়ানো এবং বাণিজ্যিক ও
ভূরাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোও এর লক্ষ্য।
প্রাথমিকভাবে তিন দেশ নিয়ে
চুক্তি হলেও ভবিষ্যতে আরও
দেশ এতে যুক্ত হতে
পারে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের নামও আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক। তবে
এখনো জোটে যোগ দেওয়ার
কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
জানিয়েছেন, বর্তমান সদস্যরা বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজের মতে, বাংলাদেশ এই
জোটে যুক্ত হলে যৌথ সামরিক
সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ
করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে
প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য
বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়তে পারে। তুরস্ক থেকে বাংলাদেশের বায়রাক্তার
ড্রোন ও অটোকার কোবরা
ভেহিকেল আমদানির বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে মুরাত আসলাম
মনে করেন, মক্কা জোটকে ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে
না। কারণ এর কোনো
ন্যাটো-ধাঁচের সামরিক কমান্ড কাঠামো বা যৌথ সেনাবাহিনী
নেই।
তবে জোটটি নিয়ে
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান
এই জোটের সদস্য হওয়ায় ভারত বিষয়টিকে সন্দেহের
চোখে দেখছে। ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তানের কোনো
সংঘাত হলে জোটটির অবস্থান
কী হবে এবং বাংলাদেশ
এতে যুক্ত হলে কোনো সামরিক
পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি
হবে কি না- এগুলো
এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা